📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 মহিলা হাজী সাহেবা ও মদিনা শরীফের যিয়ারত

📄 মহিলা হাজী সাহেবা ও মদিনা শরীফের যিয়ারত


(১) মসজিদে নববীর যিয়ারত এবং তাতে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় আপনার জন্য মদিনায় যাত্রা করা সুন্নাত। কারণ, মসজিদে নববীতে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, মসজিদে হারাম ছাড়া অন্য যে কোনো মসজিদে হাজার ওয়াক্ত সালাত আদায় করা অপেক্ষা শ্রেয়।
(২) মসজিদে নববীর যিয়ারতের জন্য ইহরাম বাঁধা বা তালবিয়া পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই। মসজিদে নববীর যিয়ারতের সঙ্গে হজের কোনো রকম সম্পর্ক নেই।
(৩) মসজিদে নববীতে প্রবেশের সময় প্রথম ডান পা রাখবেন এবং বিসমিল্লাহ বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করবেন। আর আল্লাহর নিকট এ প্রার্থনা করবেন যে, তিনি যেন তাঁর রহমতের দ্বারসমূহ আপনার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এরপর নিম্নোক্ত দো'আ পড়বেন:
أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ ، اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ»
অর্থাৎ বিতাড়িত শয়তানের প্ররোচনা হতে মহান আল্লাহ, তাঁর সম্মানিত সত্তা ও প্রাচীন বাদশাহির নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য তোমার রহমতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দাও।
এ দো'আ যে কোনো মসজিদে প্রবেশের সময়ও পাঠ করা যায়।
মসজিদে প্রবেশ করেই তাহিয়্যাতুল মসজিদের দু'রাকাত সালাত পড়বেন।
(৫) তারপর যখন মহিলাগণ 'রাওদাহ' নামক জান্নাতের বাগানে যাবেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্যে দুরুদ ও সালাম পেশ করতে পারেন।
(৬) পবিত্রতা অর্জন করতঃ মসজিদে কোবা যিয়ারত করে সেখানে সালাত পড়া আপনার জন্য সুন্নাত। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম নিজে তা করেছেন এবং অন্যদেরকেও উদ্বুদ্ধ করেছেন।
উল্লিখিত স্থানগুলো ছাড়া মদিনার আর কোনো মসজিদ বা অন্য কোনো জায়গা যিয়ারত করা শরী'আত সম্মত নয়। অতএব, বিনা কারণে নিজেকে কষ্ট দেওয়া ও নিজের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে নেওয়া যাতে কোনই সাওয়াব নেই, বরং উল্টো পাপের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন কাজ করা কারো উচিৎ নয়। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে এগুলো মেনে চলার তাওফীক দান করুন।

📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 আল্লাহর দরবারে কবুল না হওয়ার ভয় থাকা

📄 আল্লাহর দরবারে কবুল না হওয়ার ভয় থাকা


প্রিয় বোন!
মহান আল্লাহ আপনাকে এ হজ আদায়ের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য কবুল করেছেন এবং তাওফীক দিয়েছেন আর আপনাকে হজের সফরে এ পবিত্র ভূমিতে, উত্তম দিনগুলোতে যিকির, দো'আ করার মতো সৌভাগ্যের অধিকারী করেছে এটাই তো একটি বিরাট নেয়ামত। এ নেয়ামতের কথা স্মরণ করে অন্য ধরনের ভয়ও আপনার মনে আসা উচিৎ আর তা হলো, আমার আমলগুলো কি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে?
কত মানুষ এমনও আছে যারা হজ থেকে শুধু কষ্ট ও মুসিবতই কুড়িয়েছে। তাদের অনেক আবার এমনও আছে তারা যখন বলেছে, “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” হে আল্লাহ! আমি আপনার দরবারে হাযির, তখন তাকে বলা হয়েছে, না তোমার হাজিরা গ্রহণ করা হয়নি। তোমার হজ সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহের জন্ম দিয়েছে।
এ জন্য সালফে সালেহীন সব সময় নেক আমল করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতেন। আমল করার পর তাদের ভয় হতো যে, আমলটি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে কি না? আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলতেন: "তোমরা নেক কাজ করার চেয়ে কাজটি কবুল হয়েছে কি না এ দিকে বেশি গুরুত্ব দাও, তোমরা কি শোন না মহান আল্লাহর কথা, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকীদের থেকে কবুল করে থাকেন।"
প্রিয় বোন!
আল্লাহর নিকট কোনো আমল কবুল হওয়ার বড় প্রমাণ হলো:
যাবতীয় গুনাহের কাজ থেকে খাঁটি তাওবাহ করার তাওফীক হওয়া এবং ভবিষ্যতে আল্লাহর দীন ও রাসূলের আনুগত্যের ওপর দৃঢ় থাকতে পারা। গুনাহ করার পর সৎকাজ করা কতই না উত্তম তার থেকে উত্তম হলো সৎকাজের পর সৎকাজ করতে সক্ষম হওয়া এবং এর ওপর দৃঢ় থাকা। অপরদিকে সবচেকে দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক কাজ হলো, সৎ কাজের পর অসৎ কাজের মাধ্যমে সে সৎকাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।
সম্মানিতা বোন!
আজ আপনি আল্লাহর আনুগত্যে অবগাহন করে সম্মানিত হচ্ছেন সুতরাং এ ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন যেন কাল সে আনুগত্যের সম্মানকে অপরাধ ও অলসতা দ্বারা অপমানিত না করেন।
প্রিয় বোন!
আপনার মনে করা উচিৎ যে, আপনি নবী স্ত্রী আয়েশার গোষ্ঠীভুক্ত। আপনার সম্মান ও প্রতিপত্তি নবী পত্নীদের মত। আপনি সামান্য নাটক ও খারাপ পত্রিকার খপ্পরে পড়ে নিজেকে, নিজের আত্মসম্মানকে কোনো ক্রমেই নীচু হতে দেবেন না। আপনার কান আজ আজানের ধ্বনিতে কুহরিত, মুখ কুরআনের বাণীতে মুখরিত। আপনি আপনার এ কান ও মুখকে গান-বাদ্যের মত শয়তানি কর্মকাণ্ডের মধ্যে রেখে বিষাক্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না।
প্রিয় বোন!
আপনার সন্তানগুলো আপনার কাঁধে আমানতস্বরূপ। তাদেরকে দ্বীনের ওপর পরিচালনা করা এবং তাদের মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং দীনের মহব্বত জাগ্রত করা ও তাতে বলীয়ান করা আপনার ঈমানী দায়িত্ব। তাদেরকে কখনো অন্যায় করার সুযোগ করে দেওয়া। খারাপ বন্ধু-বান্ধব, সঙ্গীদের সংশ্রব থেকে তাদের মুক্ত রাখুন।
আপনি নিজেকে তাদের জন্য আল্লাহর ইবাদত, আনুগত্য ও সচ্চরিত্রতার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বরূপে পেশ করুন।
প্রিয় বোন!
আপনার স্বামী আপনাকে একজন নেক স্ত্রী রূপে দেখতে চায়। যার দিকে তাকালে তার অন্তর খুশিতে ভরে যায়। যাকে কোনো নির্দেশ দিলে সে তা খুশি মনে করতে সদা প্রস্তুত থাকে। সুতরাং সে রকম হওয়ার চেষ্টা করুন। তাকে সৎকাজের আদেশ দিন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করুন আর এর কুফল থেকে সাবধান করুন।
প্রিয় দীনি বোন!
আপনি নিজে ব্যক্তিত্বসম্পন্না হোন। সৎ বান্ধবীদেরকে আপনার সাথী বানান। যাদেরকে সাথী বানালে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের কথা আপনার স্মরণ হবে তাদেরকে বন্ধু বানান। খারাপ মহিলা ও দুষ্ট প্রকৃতির মেয়েদের সাথে মিশে নিজেকে অপমানিত করবেন না।
সবশেষে, এ দো'আ করব যে, আল্লাহ আপনাকে হিফাযত করুন। তিনি তো হিফাযতকারী। দয়াশীল। তিনি আপনার হজ, উমরাহ ও যিয়ারত কবুল করুন। আমীন। আমীন।

টিকাঃ
৫০. সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ২৭; হিলইয়াতুল আওলিয়া ১/৭৫।

📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 মহিলা হাজী সাহেবার জন্য সহীহ হাদীস থেকে নির্বাচিত কিছু মাসনুন দো‘আ

📄 মহিলা হাজী সাহেবার জন্য সহীহ হাদীস থেকে নির্বাচিত কিছু মাসনুন দো‘আ


নিম্ন লিখিত দো'আসমূহ অথবা তন্মধ্যে থেকে যতটুকু সম্ভব 'আরাফাত, মুযদালিফা ও অন্যান্য দো'আর স্থানে পড়া উচিৎ:-
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ العَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي، وَمَالِي
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা এবং দুনিয়া ও আখরাতে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা এবং আমার দীন ও দুনিয়া, পরিজন ও সম্পত্তির ব্যাপারে নিরাপত্তা চাচ্ছি।
«اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أَغْتَالَ مِنْ تَحْتِي».
হে আল্লাহ! তুমি আমার গোপন দোষসমূহ ঢেকে রাখ। আমার ভয় ভীতিকে নিরাপত্তায় পরিণত কর। আমার অগ্র-পশ্চাৎ, ডান-বাম এবং উর্ধ হতে আপতিত বিপদ থেকে আমাকে হেফাজত কর। নিম্ন দিক হতে মৃত্যুমুখে পতিত হওয়া থেকে তোমার মহত্ত্বের আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
«اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ».
হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দৈহিক নিরাপত্তা দাও, আমার শ্রবণেন্দ্রিয় ও দৃষ্টিশক্তিকে নিরাপদ রাখ। তুমি ছাড়া আর কোনো প্রকৃত মা'বুদ নেই।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالْفَقْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ الْقَبْرِ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ».
হে আল্লাহ! আমি কুফুরী, দরিদ্র ও কবরের আযাব হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তুমি ছাড়া আর কোনো হক মা'বুদ নেই।
«اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلا أَنْتَ».
হে আল্লাহ! তুমি আমার রব, তুমি ছাড়া আর কোনো সত্যিকার মা'বুদ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার দাস। আমি সাধ্যানুসারে তোমার সাথে কৃত ওয়াদার ওপর রয়েছি। আমি যা করেছি, তার অপকারিতা হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমাকে যে সব নেয়ামত দান করেছ আমি তার স্বীকৃতি প্রদান করছি। আমি আমার সমুদয় গুনাহ স্বীকার করছি। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ আমার গুনাহসমূহ মাফ করতে পারবে না।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمَّ وَالْحُزْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَمِنَ الْبُخْل والجبن، وأعوذ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرجال».
হে আল্লাহ! আমি চিন্তা ও উদ্বেগ, অক্ষমতা ও অলসতা, কৃপণতা ও কাপুরুষতা, ঋণের গুরুভার ও মানুষের অধীনতা হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
«اللَّهُمَّ اجْعَلْ أَوَّلَ هَذَا الْيَوْمِ صَلاحاً، وَأَوْسَطَهُ فَلاحاً، وَآخِرَهُ نجاحاً، وَأَسْأَلُكَ خَيْرَي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ».
হে আল্লাহ! আজকের দিনের প্রথম অংশকে সততা, মধ্যভাগকে কল্যাণ এবং শেষ-ভাগকে সফলতায় ভরে দাও। হে পরম দয়ালু! আমি তোমার কাছে দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ কামনা করছি।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكُ الرَّضَى بَعْدَ الْقَضَاءِ، وَبَرَدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَلَدَةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ الكَرِيمَ، وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءِ مُضِرَّةٍ وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أَظْلَم، أَوْ أَعْتَدِيَ أَوْ يُعْتَدَى عَلَيَّ، أَوْ أَكْتَسِبَ خَطِيئَةً أَوْ ذَنْباً لَا تَغْفِرُهُ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ».
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি তোমার ফয়সালার পর খুশি থাকার মনোবৃত্তি, মৃত্যুর পর সুখময় জীবন, তোমার চেহারা মুবারাক দর্শনের স্বাদ গ্রহণ, তোমার সাথে সাক্ষাতের প্রবল আকাঙ্ক্ষা-কোন ক্ষতিকর স্বাচ্ছন্দ্য ও বিভ্রান্তিকর ফিতনা ছাড়াই। কারো প্রতি যুলুম করা কিংবা কেউ আমার প্রতি জুলুম করা থেকে আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাচ্ছি কারো প্রতি সীমালংঘন করা থেকে বা কেউ আমার ওপর সীমালংঘন করা থেকে, ক্ষমার অযোগ্য কোনো ভুল বা পাপ-কাজ থেকে। বার্ধক্যের শেষ পর্যায়ে উপনীত হওয়া থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।
«اللَّهُمَّ اهْدِنِي لَأَحْسَنِ الْأَعْمَالِ وَالْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لَأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا، لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ».
হে আল্লাহ! আমাকে সর্বোত্তম কাজ ও চরিত্রের দিকে হিদায়াত দাও। তুমি ছাড়া আর কেউ এ ব্যাপারে হিদায়াত দিতে পারবে না। আর আমা হতে নিকৃষ্ট কাজ ও চরিত্রকে ফিরিয়ে রাখ। তুমি ছাড়া আর কেউ তা ফিরিয়ে রাখতে পারবে না।
«اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي، وَوَسْعُ لِي فِي دَارِي، وَبَارِكْ لِي فِي رِزْقِي».
হে আল্লাহ! আমার জন্য আমার দীনকে সংশোধন করে দাও। আমার বাসস্থানকে প্রশস্ত করে দাও এবং আমার রুজিতে বরকত দাও।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْقَسْوَةِ وَالْغَفْلَةِ وَالذَّلَةِ وَالْمَسْكَنَةِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفُسُوقِ وَالشَّقَاقِ وَالنَّفَاقِ وَالسُّمْعَةِ وَالرِّيَاءِ. وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الصَّمَمِ، وَالْبُكْمِ، وَالْجُذَامِ، وَسَيَّء الْأَسْقَامِ».
হে আল্লাহ! আমি অন্তরের পাষণ্ডতা, গাফলতী, অবমাননা ও অভাব-অভিযোগ হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি কুফুরী, ফাসেকী, সত্যের বিরুদ্ধাচরণ এবং লোক শোনানো ও দেখানো হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি বধিরতা, বাকশক্তি-হীনতা, কুষ্ঠ ও অন্যান্য দুরারোগ্য ব্যাধি হতে।
«اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكَّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلاهَا».
হে আল্লাহ আমার আত্মাকে তাকওয়া দান কর এবং একে পবিত্র কর। তুমি তো সর্বোত্তম পবিত্রকারী। তুমিই এর অভিভাবক ও প্রভু।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ، وَقَلْبٍ لَا يَخْشَعُ، وَنَفْسٍ لَا تَشْبَعُ، وَدَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا».
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উপকারহীন জ্ঞান, নির্ভয় অন্তর, অতৃপ্ত আত্মা এবং কবুল হয় না এমন দো'আ হতে আশ্রয় চাই।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ، وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَلِمْتُ، وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْلَمُ».
হে আল্লাহ! যে কাজ আমি করেছি এবং যা করি নি, তার অমঙ্গল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। যে বিষয় আমি জেনেছি এবং যা জানি নি, এত দু ভয়ের অমঙ্গল থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيعِ سَخْطِكَ».
হে আল্লাহ! আমার প্রতি তোমার নেয়ামতের অবক্ষয়, অনাবিল শানিবতর অপসারণ, শাস্তির আকস্মিক আক্রমণ এবং তোমার সকল অসন্তোষ হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَدَمِ وَالتَّرَدِّي وَمِنَ الْغَرَقِ وَالْحَرْقِ وَالْهَرَمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ يَتَخَبَّطَنِيَ الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغاً، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ طَمَعٍ يَهْدِي إِلَى طَبْع».
হে আল্লাহ! আমার মাথার ওপর কিছু ধসে পড়ার কারণে অথবা অন্য যে কোনো কারণে আমি ধ্বংস হয়ে যাই, অথবা পানিতে ডুবে কিংবা আগুনে জ্বলে মারা যাই- এ থেকে এবং বার্ধক্যজনিত কষ্টের হাত হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আশ্রয় চাচ্ছি শয়তান যেন মৃত্যুর সময় আমাকে গুমরাহ না করে। আশ্রয় চাচ্ছি দংশিত হয়ে মারা যাওয়া এবং লোভ-লালসা হতে যা মানুষকে কুপ্রবৃত্তির দিকে নিয়ে যায়।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الْأَخْلَاقِ وَالْأَعْمَالِ وَالْأَهْوَاءِ وَالْأَدْوَاءِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ، وَقَهْرِ الْعَدُوِّ، وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاء».
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি ঘৃণিত স্বভাব এবং অবাঞ্ছিত আচরণ হতে, আর আমাকে রক্ষা কর কুপ্রবৃত্তির তাড়না এবং দৈহিক রুগ্নতা হতে এবং আশ্রয় চাচ্ছি ঋণের গুরুভার, শত্রুর দুর্দম অপ প্রভাব ও উপহাস হতে।
«اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِيَ الَّذِي هُوَ عِصْمَةٌ أَمْرِي، وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي، وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِيَ الَّتِي فِيهَا مَعَادِي، وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ، وَالْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٌّ».
হে আল্লাহ! আমার দীনকে আমার জন্য পরিশুদ্ধ করে দাও যার মধ্যে রয়েছে আমার সমুদয় কার্যাদির আত্মরক্ষার নিশ্চিত উপায়। আর সংশোধন করে দাও আমার পার্থিব জীবনকে যার মধ্যে রয়েছে আমার জীবিকা। আর আমার আখেরাতকে তুমি করে দাও বিশুদ্ধ, যেখানে আমাকে অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আমার দীর্ঘ জীবনকে অধিকতর মঙ্গল কাজের ওসিলা করে দাও। আর আমার মৃত্যুকে প্রত্যেক অনিষ্ট হতে আমার জন্য শান্তির উসীলা করে দাও।
رَبِّ أَعِنِّي وَلَا تُعِنْ عَلَى، وَانْصُرْنِي وَلَا تَنْصُرْ عَلَيَّ، وَاهْدِنِي وَيَسْر الْهُدَي علي».
রব হে! আমাকে সাহায্য কর, আমার প্রতিপক্ষকে সাহায্য করো না। আমাকে সফলতা দান কর, আমার প্রতিপক্ষকে দান করো না। আমাকে হিদায়াত দাও এবং হিদায়াত লাভ আমার জন্য সহজ করে দাও।
«اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي ذَكَاراً لَكَ، شَكَاراً لَكَ، مِطْوَاعاً لَكَ، مُخْبِنَا إِلَيْكَ، أَوَّاماً مُنِيباً، رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي، وَاغْسِلْ حَوْبَتِي، وَأَجِبْ دَعْوَتِي، وَثَبِّتْ حُجَّتِي، وَاهْدِ قَلْبِي، وَسَدَّدْ لِسَانِي، وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ صَدْرِي».
হে আল্লাহ! আমাকে এমন তাওফীক দান কর যাতে আমি তোমার খুব বেশি স্মরণকারী, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী ও অনুগত হতে পারি এবং তোমারই নিকট বিনম্র হই এবং তোমারই নিকট দুঃখ প্রকাশ করতে শিখি। হে আমার রব! আমার তাওবাকে তুমি কবুল কর। আমার গুনাহরাশি ধুয়ে মুছে দাও। আমার দো'আ কবুল কর। আমার প্রমাণ দৃঢ় কর। আমার অন্তরকে হেদায়েত দাও। আমার জিহবাকে ঠিক রাখ। আমার অন্তরের কলুষ কালিমাকে বিদূরিত করে দাও।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الْأَمْرِ، وَالْعَزِيمَةَ عَلَى الرُّشْدِ، وَأَسْأَلُكَ شُكْرَ نِعْمَتِكَ، وَحُسْنَ عِبَادَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ قَلْباً سَلِيماً، وَلِسَاناً صَادِقاً، وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ، وَاسْتَغْفِرُكَ لِمَا تَعْلَمُ، إِنَّكَ عَلامُ الْغُيُوبِ».
হে আল্লাহ! আমি কর্মে অবিচলতা, সৎ পথে দৃঢ় নিষ্ঠা, তোমার নেয়ামতের শুকরগুজারী ও তোমার ইবাদতকে সুষ্ঠু সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার তাওফীক তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি নির্ভেজাল ও প্রশান্ত হৃদয় এবং সত্যনিষ্ঠ রসনা। আমি সেই মঙ্গলের প্রার্থনা জানাই যা তুমি আমার জন্য ভালো মনে কর। আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই সে অমঙ্গল হতে যে সম্পর্কে তুমি সুবিদিত। আর আমি মাগফিরাত চাই সে অন্যায় অপকর্ম হতে যা একমাত্র তুমিই জান। নিশ্চয় তুমি গায়েব সম্পর্কে সুবিদিত।
«اللَّهُمَّ الْهِمْنِي رُشْدِي وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي».
হে আল্লাহ! আমাকে তুমি হিদায়াত দ্বারা অনুগৃহীত কর। আর আমার প্রবৃত্তির অনিষ্ট হতে আমাকে রক্ষা কর।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعَلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنكَرَاتِ، وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ، وَأَنْ تَغْفِرَ لِي وَتَرْحَمْنِي، وَإِذَا أَرَدْتَ بِعِبَادِكَ فِتْنَةً، فَتَوَفَّنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مَفْتُونِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ، وَحُبَّ كُلِّ عَمَلٍ يُقَرِّبُنِي إِلَى حُبِّكَ».
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ভালো কাজ সম্পাদন, মন্দ কাজ পরিহার এবং গরবীদেরকে ভালোবাসার তাওফীক কামনা করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর। আমার প্রতি রহমত বর্ষণ কর। তোমার বান্দাদেরকে কোনো পরীক্ষায় নিপতিত করতে ইচ্ছা করলে আমাকে ফেতনামুক্ত অবস্থায় উঠিয়ে নিও। হে আল্লাহ! আমি তোমার ভালোবাসা প্রার্থনা করি, আর ঐ ব্যক্তির ভালোবাসা যে তোমাকে ভালো বাসে এবং এমন কাজের ভালোবাসা যা আমাকে তোমার ভালোবাসার নিকটবর্তী করে দেয়।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَسْأَلَةِ، وَخَيْرَ الدُّعَاءِ، وَخَيْرَ النَّجَاحِ، وَخَيْرَ الثَّوَابِ، وَتَبَّتْنِي وَثَقَّلْ مَوَازِينِي، وَحَقَّقُ إِيْمَانِي، وَارْفَعْ دَرَجَتِي وَتَقَبَّلْ صَلَاتِي، وَعِبَادَاتِي، وَاغْفِرْ خَطِيئَاتِي، وَأَسْأَلُكَ الدَّرَجَاتِ الْعُلَى مِنَ الْجَنَّةِ».
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সুন্দরতম প্রতিদান, উত্তম প্রার্থনা, ফলপ্রসূ সফলতা এবং শ্রেষ্ঠ পুরস্কার কামনা করছি। তুমি আমাতে দৃঢ়তা দান কর। আমার নেকির পাল্লা ভারী কর। আমার ঈমানকে মজবুত কর। আমার সম্মান ও মর্যাদা বর্ধিত কর। আমার সালাত ও এবাদত কবুল কর। আমার গুনাহ মার্জনা কর। হে আল্লাহ! জান্নাতে আমার পদমর্যাদা বৃদ্ধি কর।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فَوَاتِحَ الخَيْرِ، وَخَوَاتِمَهُ، وَجَوَامِعَهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَظَاهِرَهُ وَبَاطِنَهُ، وَالدَّرَجَاتِ الْعُلَى مِنَ الجَنَّةِ».
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট মঙ্গলের সূচনা, তার পরিসমাপ্তি, তার ব্যাপকতা, তার প্রথম ও শেষ, তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা যাচঞা করছি।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ أَنْ تُرْفَعَ ذِكْرِي، وَتَضَعَ وِزْرِي، وَتُطَهَّرَ قَلْبِي، وَتُحَصِّنُ فَرْجِي، وَتَغْفِرَ لِي ذُنُونِي، وَأَسْأَلُكَ الدَّرْجَاتِ العُلَى مِنَ الجنة».
হে আল্লাহ! আমার স্মরণকে গৌরবময়, আমার বোঝা অপসারিত, আমার অন্তরকে পবিত্র, আমার গুপ্ত অঙ্গকে সংরক্ষিত, আমার গুনাহগুলোকে মার্জনা এবং জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা প্রদানের জন্য আমি তোমার নিকট আবেদন করছি।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ أَنْ تُبَارِكَ فِي سَمْعِي، وَفِي بَصَرِي، وَفِي خَلْقِي، وَفِي خُلُقِي، وَفِي أَهْلِي وَفِي مَحْيَايَ، وَفِي عَمَلِي، وَتَقَبَّلْ حَسَنَاتِي، وَأَسْأَلُكَ الدَّرَجَاتِ العُلَى مِنَ الجَنَّةِ».
হে আল্লাহ! তুমি আমার নিকট আমার শ্রবণ-শক্তিতে, দৃষ্টিশক্তিতে, চেহারা ও আকৃতিতে, স্বভাব ও চরিত্রে, পরিবার-পরিজনে এবং জীবনে বরকত প্রদানের জন্য আবেদন করছি। আমার সৎকর্মগুলো কবুল করতে এবং জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা প্রদানের প্রার্থনা করছি।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ، وَدَرَكِ الشَّقَاءِ، وَسُوءِ القَضَاءِ، وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاء».
হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি বিপদের কষ্ট, দুর্ভোগের আক্রমণ, মন্দ ফয়সালা ও বিপদে শত্রুর উপহাস হতে।
«اللَّهُمَّ مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ، اللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِّفُ قُلُوبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ».
অন্তরসমূহের বিবর্তকারী হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত রাখ। অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরকে তোমার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দাও।
«اللَّهُمَّ زِدْنَا وَلَا تَنْقُصْنَا، وَأَكْرِمْنَا وَلَا تُهِنَّا، وَأَعْطِنَا وَلَا تَحْرِمْنَا، وَآثِرْنَا وَلَا تُؤْثِرُ عَلَيْنَا».
হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে বাড়িয়ে দিয়ো, কমিয়ে দিয়ো না। সম্মানিত কর, অসম্মানিত করো না। আমাদেরকে দাও, বঞ্চিত করো না। আমাদেরকে অগ্রাধিকার দাও, আমাদের ওপর কাউকে অগ্রাধিকার দিয়ো।
«اللَّهُمَّ أَحْسِنْ عَاقِبَتَنَا فِي الْأُمُورِ كُلَّهَا، وَأَجِرْنَا مِنْ خِزْيِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الآخِرة».
হে আল্লাহ! আমাদের সকল কাজের পরিণতি শুভ কর, আমাদেরকে ইহজগতে লজ্জা ও অপমান এবং আখিরাতের আযাব হতে রক্ষা কর।
«اللَّهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا تَحُولُ بِهِ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعْصِيَتِكَ، وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ جَنَّتَكَ، وَمِنَ الْيَقِينِ مَا تُهَوِّنُ بِهِ عَلَيْنَا مَصَائِبَ الدُّنْيَا، وَمَتِّعْنَا بِأَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُوَّاتِنَا مَا أَحْيَتَنَا، وَاجْعَلْهَا الْوَارِثَ مِنَّا، وَاجْعَلْ ثَأْرَنَا عَلَى مَنْ ظَلَمَنَا، وَانْصُرْنَا عَلَى مَنْ عَادَانَا، وَلَا تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمَّنَا، وَلَا مَبْلَغَ عِلْمِنَا، وَلَا تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا، وَلَا تُسَلَّطُ عَلَيْنَا مَنْ لَا يَخَافُكَ وَلَا يَرْحَمْنَا».
হে আল্লাহ! তুমি আমাদের অন্তরে এমন ভীতির সঞ্চার করে দাও যা আমাদের ও পাপ কাজের মধ্যে প্রতিবন্ধক হতে পারে। আমাদেরকে এমন আনুগত্য প্রদান কর যা আমাদেরকে জান্নাতে পৌঁছে দেবার উপকরণ হয়। আর আমাদের অন্তরে এমন বিশ্বাস উদয় করে দাও যা আমাদের বাস্তব জীবনের অনিষ্টতা ও ক্ষতির প্রতিষেধক হতে পারে। আর তুমি যতদিন আমাদেরকে জীবিত রাখবে ততদিন আমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি অক্ষত রাখবে। যাতে আমরা লাভবান হতে সমর্থ হই। এ কল্যাণ আমাদের পরেও জারি রেখো। অধিকন্তু যে আমাদের প্রতি অত্যাচার করবে, আমাদের প্রতিশোধ তুমি তাদের ওপর গ্রহণ করো। আর আমাদেরকে আমাদের শত্রুদের ওপর সাহায্য কর। এই পার্থিব জীবনকে আমাদের একমাত্র লক্ষ্যে পরিণত করো না এবং সেটাকে জ্ঞানের শেষ পরিণতি করো না। দীনের ব্যাপারে আমাদেরকে বিপদে নিক্ষেপ করো না। আমাদের পাপের কারণে আমাদের ওপর এমন শাসক চাপিয়ে দিয়ো না, যার অন্তরে তোমার ভয় ভীতি নেই এবং যে আমাদের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করবে না।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مُوْجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرِّ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، وَالْفَوْزَ بِالْجَنَّةِ، وَالنَّجَاةَ مِنَ النَّار».
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমার রহমতের কারণসমূহ, তোমার ক্ষমা লাভের দৃঢ় ইচ্ছা, প্রত্যেক সৎ কাজের গণীমত এবং পাপ কাজ হতে নিরাপত্তা, জান্নাত লাভের সৌভাগ্য এবং জাহান্নাম হতে পরিত্রাণ লাভের প্রার্থনা করছি।
«اللَّهُمَّ لَا تَدَعْ لَنَا ذَنْبًا إِلَّا غَفَرْتَهُ، وَلَا عَيْبًا إِلَّا سَتَرْتَهُ، وَلَا هَمًّا إِلَّا فَرَّجْتَهُ، وَلَا دَيْنًا إِلَّا قَضَيْتَهُ، وَلَا حَاجَةً مِنْ حَوَائِجِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ هِيَ لَكَ رِضَى وَلَنَا صَلَاحٌ إِلَّا قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ».
হে আল্লাহ! তুমি আমাদের সর্বপ্রকার অপরাধ মার্জনা কর। সর্বপ্রকার দোষত্রুটি গোপন কর। সকল দুশ্চিন্তা অপসারিত কর। সকল ঋণ পরিশোধ করে দাও। দুনিয়া ও আখেরাতের সব প্রয়োজন পূর্ণ কর, যাতে তুমি সন্তুষ্ট থাক এবং যার মধ্যে আমাদের কল্যাণ নিহিত রয়েছে হে পরম দয়ালু!
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ رَحْمَةً مِنْ عِنْدَكَ، تَهْدِي بِهَا قَلْبِي، وَتَجْمَعُ بِهَا أَمْرِي، وَتُلِمُّ بِهَا شَعْثِي، وَتَحْفَظُ بِهَا غَائِبِي وَتَرْفَعُ بِهَا شَاهِدِي، وَتُبَيِّضُ بِهَا وَجْهِي، وَتُزَكِّيْ بِهَا عَمَلِي، وَتُلْهِمُنِي بِهَا رُشْدِي، وَتَرُدُّ بِهَا الْفِتَنَ عَنِّي، وَتَعْصِمُنِي بِهَا مِنْ كُلِّ سُوءٍ».
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এমন রহমত যাচঞা করছি যদ্বারা আমার হৃদয় সৎপথে পরিচালিত হয়, আমার কার্যাদি যথাযথভাবে সুসম্পন্ন হয়, অন্তরের অশান্তি বিদূরিত হয়, গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকে, লোকসমাজে মান উন্নত হয়, আমার চেহারা উজ্জ্বল হয়, আমার আমল নিষ্কলুষ হয়, আমি সুপথের দিশারি হতে পারি। আমার থেকে ফিতনা ফাসাদ দূরে থাকে এবং সর্বপ্রকার অমঙ্গল থেকে আমাকে বাঁচিয়ে রাখে।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْفَوْزَ يَوْمَ الْقَضَاءِ، وَعَيْشَ السُّعَدَاءِ، وَمَنْزِلَ الشُّهَدَاءِ، وَمُرَافَقَةِ الْأَنْبِيَاءِ، وَالنَّصْرَ عَلَى الْأَعْدَاءِ».
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট শেষ বিচার দিনের সফলতা, সুখী সজ্জনের ন্যায় জীবন যাপন, শহীদদের মর্যাদা, নবীদের সাহচর্য এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য কামনা করছি।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ صِحَةً فِي إِيْمَانٍ، وَإِيْمَانَا فِي حُسْنِ خُلُقٍ، وَنَجَاحًا يَتْبَعُهُ فَلَاحٌ، ورَحْمَةً مِنْكَ وَعَافِيَةٌ مِنْكَ وَمَغْفِرَةٌ مِنْكَ وَرِضْوَانًا».
হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি ঈমানের নিষ্কলুষতা প্রার্থনা করছি। আর এমন চরিত্র কামনা করি যার ভেতর ঈমানের প্রভাব কার্যকরী থাকবে এবং এমন সাফল্য আশা করি যদ্বারা পরকালে মুক্তি পেতে পারি। আর তোমার রহমত, বরকত, ক্ষমা ও মাগফিরাত এবং সন্তুষ্টি কামনা করছি।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصَّحَةَ وَالْعِفَّةَ، وَحُسْنَ الْخُلْقِ وَالرَّضَاءَ بِالْقَدْرِ».
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সুস্বাস্থ্য, পবিত্রতা, উত্তম চরিত্র এবং ভাগ্যের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার মনোবল কামনা করছি।
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهَا إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ.
হে আল্লাহ! আমি আমার অন্তরের অপকারিতা এবং পৃথিবীর বুকে চলমান জীবজন্তু- যাদের ভাগ্যরাশি তোমার হাতের মুঠোয় রয়েছে তাদের অপকারিতা হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক সহজ সরল পথে রয়েছেন।
«اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَسْمَعُ كَلَامِي، وَتَرَى مَكَانِي، وَتَعْلَمُ سِرِّي وَعَلَانِيَّتِي، ولا يَخْفَى عَلَيْكَ شَيْءٌ مِنْ أَمْرِي، وَأَنَا الْبَائِسُ الْفَقِيرُ، وَالْمُسْتَغِيثُ المُسْتَجِيرُ، وَالوَجِلُ الْمُشْفِقُ المُقِرُّ المُعْتَرِفُ إِلَيْكَ بِذَنْبِهِ، أَسْأَلُكَ مَسْأَلَةَ المِسْكِينِ، وَابْتَهِلْ إِلَيْكَ ابْتِهَالَ الْمُذْنِبِ الذَّلِيلِ، وَأَدْعُوْكَ دُعَاءَ الخَائِفِ الضَّرِيرِ ، دُعَاءَ مَنْ خَضَعَتْ لَكَ رَقَبَتُهُ، وَذَلَّ لَكَ جِسْمُهُ، وَرَغِمَ لَكَ أَنْفُهُ».
হে আল্লাহ! অবশ্যই তুমি আমার বক্তব্য শুনছ, আমার অবস্থান অবলোকন করছ, আমার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সবই অবগত আছ, আমার এমন কিছু নেই যা তোমার অজানা আছে। আমি নিঃস্ব সহায় সম্বলহীন ফকীর। তোমার দরবারে যাচঞা করছি ও প্রার্থনা করছি। আমি ভীত, সন্ত্রস্ত। আমি আমার কৃত অপরাধের কথা স্বীকার করছি। আমি নিঃস্ব মিসকিন, আমি নিকৃষ্ট পাপাচারীর ন্যায় অশ্রু সজল নয়নে ক্রন্দন করছি। লজ্জায় ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিনীতভাবে কাকুতি মিনতি করছি। আমি তোমার নিকট ঐ ব্যক্তির ন্যায় মিনতি জানাই যার স্কন্ধ তোমার নিকট বিনীত, যার দেহ তোমার নিকট অবনত এবং যার নাক তোমার নিকট ধূলি-ধূসরিত।
وَصَلَّى اللهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00