📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 এক নজরে মহিলা ও পুরুষ হাজীদের মধ্যে পার্থক্যসমূহ

📄 এক নজরে মহিলা ও পুরুষ হাজীদের মধ্যে পার্থক্যসমূহ


মহান আল্লাহ মহিলা পুরুষের মাঝে সৃষ্টিগত যেমন কিছু পার্থক্য রেখেছেন তেমনিভাবে তাদের সৃষ্টি ও শক্তি-সামর্থ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবাদতের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয়ে পার্থক্য করেছেন।
আমরা যদি হজের আহকামসমূহের প্রতি তাকাই তাহলে দেখতে পাব যে, এ পার্থক্যের মূল ভিত্তি হচ্ছে তিনটি বিষয়:
1- মহিলাদের ওপর পুরুষদের দায়িত্বশীলতা।
2- মহিলাদের হায়েয ও নেফাস জনিত সমস্যা।
3- মহিলাদের পর্দা ও অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণ।

1- মহিলাদের ওপর পুরুষদেরকে মহান আল্লাহ দায়িত্বশীল ঘোষণা করেছেন। আর সে কারণে যে যে বিষয়ে মহিলারা পুরুষদের থেকে ভিন্ন তা হচ্ছে:
নফল হজের জন্য মহিলাদেরকে তাদের স্বামীর অনুমতি নিতে হবে।
ফরয হজের জন্য মহিলাদেরকে তাদের স্বামীর অনুমতি নেওয়া মুস্তাহাব।
কোনো মহিলা ইদ্দতে থাকলে সে হজের সফরে যেতে পারবে না।

2- মহিলাদের হায়েয ও নেফাসজনিত সমস্যার কারণে যে যে বিষয়ে মহিলারা পুরুষদের থেকে ভিন্ন তা হচ্ছে:
হায়েয-নেফাস অবস্থায় মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে পারবে না।
হায়েয-নেফাস অবস্থায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারবে না। (তবে যে অবস্থা সম্পর্কে পূর্বে আলোচিত হয়েছে সেটা ভিন্ন)
মক্কা ছাড়ার সময় কোনো মহিলা হায়েয-নেফাস অবস্থায় থাকলে তার আর বিদায়ি তাওয়াফ করা লাগবে না।

3- মহিলাদের পর্দা, ইজ্জত আব্রুর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তারা পুরুষদের থেকে যে যে বিষয়ে ভিন্ন তা হচ্ছে:
মাহরাম ব্যতীত সফর করা মহিলাদের জন্য জায়েয নয়।
যদি হজের কর্মকাণ্ড শুরু করার পর কারও মাহরাম মারা যায় তবে তিনি তার হজ কমপ্লিট করে নেবেন।
মহিলাগণ হাত মোজা ব্যবহার করতে পারবেন না।
এমন বোরকা ব্যবহার করা যাবে না যাতে মুখ ঢাকা পড়ে যায়।
মহিলাগণ হজে স্বাভাবিক অবস্থায় মুখ ঢাকতে পারবেন না।
যদি গায়রে মাহরাম তাদের সামনে এসে যায় তখন তারা মুখ ঢেকে ফেলবেন।
মাথার ওপর থেকে ঢেকে রাখার মত কাপড় রাখা যাবে যা প্রয়োজনের সময় নীচে নামিয়ে ফেলা যায়।
নেকাব পরতে পারবে না।
মহিলাগণ অলংকার ব্যবহার করতে পারবেন।
সুগন্ধি নেই এমন সৌন্দর্যমূলক কিছু পরতে পারবেন। তবে না পরা ভালো।
মেহেদি ও খেজাব ব্যবহার করতে পারবেন। তবে সুগন্ধি মিশ্রিত হতে পারবে না।
বড় ও উঁচু স্বরে তালবিয়া পাঠ করবে না।
অনুরূপভাবে তাওয়াফ, সা'ঈ ও অন্যান্য দো'আর সময়ও তার স্বর উঁচু হবে না।
মহিলাগণ রমল করবে না।
মহিলাগণের ওপর 'ইযতেবা' নেই।
মহিলাগণ পুরুষদের ভিড় থেকে বাঁচার জন্য প্রান্তদিক থেকে তাওয়াফ করবেন।
ভিড় থাকলে হাজরে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানী ধরার চেষ্টা না করাই ভালো।
সা'ঈর সময় মহিলাগণ দুই সবুজ গম্বুজের মাঝখানে দৌড়াবেন না।
সা'ঈর সময় মহিলাগণ সাফা পাহাড়ের উপরে উঠে উঠার চেষ্টা করবেন না।
মহিলা হাজী সাহেবা নিজের 'হাদী' নিজে জবাই করার চেয়ে অন্যের মাধ্যমে তা করানো উত্তম।
মহিলা চুল খাট করবে, যার পরিমাণ পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা মাথা কামাতে পারবে না। এটা জায়েয নেই।

📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 শরী‘আত নিষিদ্ধ কিছু কর্মকাণ্ড থেকে সাবধানকরণ

📄 শরী‘আত নিষিদ্ধ কিছু কর্মকাণ্ড থেকে সাবধানকরণ


সাবধান! কোনো ক্রমেই বেপর্দা হওয়া যাবে না, যে কাপড় শরীর ঢাকে না সে কাপড় পরা যাবে না। ইহরাম অবস্থায় থাকলেও কোনো বেগানা পুরুষের সামনে মুখ খোলা রাখা যাবে না।
সাবধান! যতটুকু সম্ভব নারী-পুরুষের অবাধ মিলন হয় এমন অবস্থা থেকে দূরে থাকতে হবে। আর যে সময়গুলোতে ভিড় বেশি হয় না, সে সময়গুলোতে হজের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে। যেমন: রাতের বেলায় পাথর নিক্ষেপ।
সাবধান! শির্ক ও বিদ'আত থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। অনুরূপভাবে না জেনে কারও অন্ধ অনুকরণ থেকে বিরত থাকুন এবং হজের আহকামসমূহ সঠিক পদ্ধতিতে জেনে নিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার থেকে তোমাদের হজের নিয়ম-কানুন শিখে নাও।” তাই কোনো একটি গ্রহণযোগ্য হজের বই সাথে নেয়ার জন্য নসীহত করছি।
সাবধান! গিবত, পরনিন্দা, পরচর্চা, ঝগড়া ও দুনিয়াবী ব্যাপারে অধিক কথাবার্তা বলা থেকে নিজেকে হেফাযত করতে হবে। বিশেষ করে এ পবিত্র ভূমির দাবি হচ্ছে যিকির এবং দো'আ, তাই এখানে এ সমস্ত কাজে সময় নষ্ট করার মত গুনাহ আর হতে পারে না।
সাবধান! সাধারণ লোকদেরকে দীনি ব্যাপারে প্রশ্ন করা থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রশ্ন করতে হবে আলিমদেরকে। মহান আল্লাহ বলেন, "তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর।"
সাবধান! অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ যেন না হয়। অনুরূপভাবে হায়েয, নেফাস অবস্থায় মসজিদেও প্রবেশ করবেন না। এ ব্যাপারে লজ্জা যেন আপনাকে সঠিক পথে চলতে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।
সাবধান! যে সমস্ত কর্মকাণ্ডে কোনো উপকার নেই তা পরিত্যাগ করুন। অকারণে বাজারে বাজারে ঘোরা-ফেরা ত্যাগ করুন। যদি যেতেও হয় খুব সামান্য সময়ের জন্য এবং নিজ মাহরামকে সাথে নিয়ে যান।
সাবধান: অপর মুসলিম বোনদের ওপর অহংকার করে থাকবেন না। তাদের নিয়ে ঠাট্টা করা থেকে বিরত থাকুন। দীনদার মুসলিম বোনদের সাথী হওয়ার চেষ্টা করুন।
সাবধান! হজের সফর এমনিতেই কষ্টের সফর। এতে ধৈর্য ধরে রাখা একটি বিরাট গুণ। তাই অতি সামান্যতেই রাগান্বিত হওয়া, বিরক্ত হওয়া, অভিযোগ দেওয়া থেকে নিজেকে সংযত রাখুন। আর মনে রাখুন, হজের সফরে কষ্ট হবেই। কষ্টের কারণে সাওয়াব পাওয়া যাবে এবং গুনাহ মাফ হবে। তবে যদি ধৈর্য রাখতে না পারেন তবে তাতে গুনাহগার, হতে পারেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা তার উমরাহর সফরে কষ্ট হচ্ছে জানালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমার কষ্ট ও খরচ অনুপাতে তোমার সওয়াব রয়েছে"।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য হাদীসে আরো বলেছেন: "মুসলিম কোনো কষ্ট, ব্যথা, চিন্তা, পেরেশান ইত্যাদি যাতেই নিপতিত হোক না কেন আল্লাহ এর দ্বারা তার গুনাহের কাফফারা করে থাকেন"।
সাবধান! নিজের নেক আমলের ব্যাপারে খুব বেশি আশাবাদী হয়ে গর্ববোধ করবেন না। তাছাড়া লোক দেখানো বা লোকরা জানতে পারুক এমন প্রবণতা যেন আপনার মনে না থাকে। কেননা, সামান্য লোক দেখানোর প্রবণতাও ছোট শির্ক। যা অপরাপর কবিরা গুনাহ থেকে বড় ধরনের গুনাহ। যারা এ ধরনের কাজ করে হা শরের মাঠে তাদের বলা হবে "যাদেরকে তোমরা দুনিয়ায় দেখানোর জন্য কাজ করেছিলে তাদের কাছে যাও এবং দেখ সেখানে তোমাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিদান পাও কি না?"

টিকাঃ
৪৫. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৯৭।
৪৬. সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৭
৪৭. মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদীস নং ১৭৩৩, ১৭৩৪০
৪৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৩১৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৭৩।
৪৯. মুসনাদে আহমাদ ৪/৪২৯।

📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 মহিলা হাজী সাহেবা ও মদিনা শরীফের যিয়ারত

📄 মহিলা হাজী সাহেবা ও মদিনা শরীফের যিয়ারত


(১) মসজিদে নববীর যিয়ারত এবং তাতে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় আপনার জন্য মদিনায় যাত্রা করা সুন্নাত। কারণ, মসজিদে নববীতে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, মসজিদে হারাম ছাড়া অন্য যে কোনো মসজিদে হাজার ওয়াক্ত সালাত আদায় করা অপেক্ষা শ্রেয়।
(২) মসজিদে নববীর যিয়ারতের জন্য ইহরাম বাঁধা বা তালবিয়া পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই। মসজিদে নববীর যিয়ারতের সঙ্গে হজের কোনো রকম সম্পর্ক নেই।
(৩) মসজিদে নববীতে প্রবেশের সময় প্রথম ডান পা রাখবেন এবং বিসমিল্লাহ বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করবেন। আর আল্লাহর নিকট এ প্রার্থনা করবেন যে, তিনি যেন তাঁর রহমতের দ্বারসমূহ আপনার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এরপর নিম্নোক্ত দো'আ পড়বেন:
أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ ، اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ»
অর্থাৎ বিতাড়িত শয়তানের প্ররোচনা হতে মহান আল্লাহ, তাঁর সম্মানিত সত্তা ও প্রাচীন বাদশাহির নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য তোমার রহমতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দাও।
এ দো'আ যে কোনো মসজিদে প্রবেশের সময়ও পাঠ করা যায়।
মসজিদে প্রবেশ করেই তাহিয়্যাতুল মসজিদের দু'রাকাত সালাত পড়বেন।
(৫) তারপর যখন মহিলাগণ 'রাওদাহ' নামক জান্নাতের বাগানে যাবেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্যে দুরুদ ও সালাম পেশ করতে পারেন।
(৬) পবিত্রতা অর্জন করতঃ মসজিদে কোবা যিয়ারত করে সেখানে সালাত পড়া আপনার জন্য সুন্নাত। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম নিজে তা করেছেন এবং অন্যদেরকেও উদ্বুদ্ধ করেছেন।
উল্লিখিত স্থানগুলো ছাড়া মদিনার আর কোনো মসজিদ বা অন্য কোনো জায়গা যিয়ারত করা শরী'আত সম্মত নয়। অতএব, বিনা কারণে নিজেকে কষ্ট দেওয়া ও নিজের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে নেওয়া যাতে কোনই সাওয়াব নেই, বরং উল্টো পাপের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন কাজ করা কারো উচিৎ নয়। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে এগুলো মেনে চলার তাওফীক দান করুন।

📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 আল্লাহর দরবারে কবুল না হওয়ার ভয় থাকা

📄 আল্লাহর দরবারে কবুল না হওয়ার ভয় থাকা


প্রিয় বোন!
মহান আল্লাহ আপনাকে এ হজ আদায়ের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য কবুল করেছেন এবং তাওফীক দিয়েছেন আর আপনাকে হজের সফরে এ পবিত্র ভূমিতে, উত্তম দিনগুলোতে যিকির, দো'আ করার মতো সৌভাগ্যের অধিকারী করেছে এটাই তো একটি বিরাট নেয়ামত। এ নেয়ামতের কথা স্মরণ করে অন্য ধরনের ভয়ও আপনার মনে আসা উচিৎ আর তা হলো, আমার আমলগুলো কি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে?
কত মানুষ এমনও আছে যারা হজ থেকে শুধু কষ্ট ও মুসিবতই কুড়িয়েছে। তাদের অনেক আবার এমনও আছে তারা যখন বলেছে, “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” হে আল্লাহ! আমি আপনার দরবারে হাযির, তখন তাকে বলা হয়েছে, না তোমার হাজিরা গ্রহণ করা হয়নি। তোমার হজ সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহের জন্ম দিয়েছে।
এ জন্য সালফে সালেহীন সব সময় নেক আমল করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতেন। আমল করার পর তাদের ভয় হতো যে, আমলটি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে কি না? আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলতেন: "তোমরা নেক কাজ করার চেয়ে কাজটি কবুল হয়েছে কি না এ দিকে বেশি গুরুত্ব দাও, তোমরা কি শোন না মহান আল্লাহর কথা, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকীদের থেকে কবুল করে থাকেন।"
প্রিয় বোন!
আল্লাহর নিকট কোনো আমল কবুল হওয়ার বড় প্রমাণ হলো:
যাবতীয় গুনাহের কাজ থেকে খাঁটি তাওবাহ করার তাওফীক হওয়া এবং ভবিষ্যতে আল্লাহর দীন ও রাসূলের আনুগত্যের ওপর দৃঢ় থাকতে পারা। গুনাহ করার পর সৎকাজ করা কতই না উত্তম তার থেকে উত্তম হলো সৎকাজের পর সৎকাজ করতে সক্ষম হওয়া এবং এর ওপর দৃঢ় থাকা। অপরদিকে সবচেকে দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক কাজ হলো, সৎ কাজের পর অসৎ কাজের মাধ্যমে সে সৎকাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।
সম্মানিতা বোন!
আজ আপনি আল্লাহর আনুগত্যে অবগাহন করে সম্মানিত হচ্ছেন সুতরাং এ ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন যেন কাল সে আনুগত্যের সম্মানকে অপরাধ ও অলসতা দ্বারা অপমানিত না করেন।
প্রিয় বোন!
আপনার মনে করা উচিৎ যে, আপনি নবী স্ত্রী আয়েশার গোষ্ঠীভুক্ত। আপনার সম্মান ও প্রতিপত্তি নবী পত্নীদের মত। আপনি সামান্য নাটক ও খারাপ পত্রিকার খপ্পরে পড়ে নিজেকে, নিজের আত্মসম্মানকে কোনো ক্রমেই নীচু হতে দেবেন না। আপনার কান আজ আজানের ধ্বনিতে কুহরিত, মুখ কুরআনের বাণীতে মুখরিত। আপনি আপনার এ কান ও মুখকে গান-বাদ্যের মত শয়তানি কর্মকাণ্ডের মধ্যে রেখে বিষাক্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না।
প্রিয় বোন!
আপনার সন্তানগুলো আপনার কাঁধে আমানতস্বরূপ। তাদেরকে দ্বীনের ওপর পরিচালনা করা এবং তাদের মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং দীনের মহব্বত জাগ্রত করা ও তাতে বলীয়ান করা আপনার ঈমানী দায়িত্ব। তাদেরকে কখনো অন্যায় করার সুযোগ করে দেওয়া। খারাপ বন্ধু-বান্ধব, সঙ্গীদের সংশ্রব থেকে তাদের মুক্ত রাখুন।
আপনি নিজেকে তাদের জন্য আল্লাহর ইবাদত, আনুগত্য ও সচ্চরিত্রতার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বরূপে পেশ করুন।
প্রিয় বোন!
আপনার স্বামী আপনাকে একজন নেক স্ত্রী রূপে দেখতে চায়। যার দিকে তাকালে তার অন্তর খুশিতে ভরে যায়। যাকে কোনো নির্দেশ দিলে সে তা খুশি মনে করতে সদা প্রস্তুত থাকে। সুতরাং সে রকম হওয়ার চেষ্টা করুন। তাকে সৎকাজের আদেশ দিন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করুন আর এর কুফল থেকে সাবধান করুন।
প্রিয় দীনি বোন!
আপনি নিজে ব্যক্তিত্বসম্পন্না হোন। সৎ বান্ধবীদেরকে আপনার সাথী বানান। যাদেরকে সাথী বানালে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের কথা আপনার স্মরণ হবে তাদেরকে বন্ধু বানান। খারাপ মহিলা ও দুষ্ট প্রকৃতির মেয়েদের সাথে মিশে নিজেকে অপমানিত করবেন না।
সবশেষে, এ দো'আ করব যে, আল্লাহ আপনাকে হিফাযত করুন। তিনি তো হিফাযতকারী। দয়াশীল। তিনি আপনার হজ, উমরাহ ও যিয়ারত কবুল করুন। আমীন। আমীন।

টিকাঃ
৫০. সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ২৭; হিলইয়াতুল আওলিয়া ১/৭৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00