📄 কিরান হজ আদায়কারীর কর্মকাণ্ড
কিরান হজকারী নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে হজ করবেন,
হজের মাওসুমে মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা।
ইহরামের সময় বলবে: “লাববাইকা উমরাতান ওয়া হাজ্জান” অর্থাৎ, আমি উমরাহ ও হজ আদায় করার জন্য হাযির হয়েছি, হাযির হয়েছি।
তাওয়াফে কুদূম বা আগমনি তাওয়াফ: মক্কা পৌঁছে হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে সাতবার বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ করা।
সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহীম ও কা'বাকে সামনে নিয়ে নতুবা মসজিদে হারামের অন্যত্র দু'রাকাত সালাত পড়া।
সাফা ও মারওয়া পাহাড় দ্বয়ের মাঝখানে সা'ঈ করা। তবে সাফা থেকে সা'ঈ শুরু করতে হবে।
তাওয়াফ এবং সা'ঈ শেষ হওয়ার পরে ইহরাম অবস্থাতেই থাকবেন। হালাল হতে পারবেন না।
তারপর ৮ ই জিলহজ হতে নিম্নোক্ত ছক অনুসরণ করুন:
যেহেতু তিনি পূর্ব থেকেই ইহরাম অবস্থায় আছেন, তাই তিনি হজের তালবিয়া পড়তে পড়তে মিনায় যাবেন।
যিলহজের ৮ (তালবীয়ার দিন)
মিনাতে অবস্থান করে জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজরের সালাতসমূহ সুনির্দিষ্ট ওয়াক্তে আদায় করা। চার রাকা'আতের ফরয সালাত দু'রাকাত পড়া।
যিলহজের ৯ (আরাফাহর দিন)
জোহরের পর থেকে সূর্য ডোবা পর্যন্ত 'আরাফা'র ময়দানে অবস্থান করা।
৯ তারিখের দিন-গত রাত তথা ১০ তারিখের রাতে কমপক্ষে মধ্যরাত পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করা।
যিলহজের ১০ (ঈদের দিন)
মিনায় যাওয়া।
জামারাতুল আকাবায় সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
হাদী জবাই করা।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সেঃমিঃ) পরিমাণ চুল ছোট করা।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ করা।
হজের সা'ঈ করা। তবে যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে অনেক আলিমদের নিকটই তার আর সাঙ্গী নেই।
মিনাতে রাত্রি যাপন করার জন্য ফিরে যাওয়া।
যিলহজের ১১ (আইয়ামে তাশরীকের ১ম দিন)
সূর্য হেলে যাওয়ার পর প্রথমে ছোট জাম্রা, তারপর মধ্য এবং সর্বশেষে বড় জামরায় প্রতিটিতে পরপর সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
হাদী জবাই করা (দশ তারিখে না করলে)।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সেঃমিঃ) পরিমাণ চুল ছোট করা (যদি ১০ তারিখে না করে থাকে)।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ ও সা'ঈ করা। (যদি ১০ তারিখে না করে থাকে। তবে যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে অনেক আলিমদের নিকটই তার আর সা'ঈ নেই)।
মিনাতে রাত্রি যাপন করা।
যিলহজের ১২ (আইয়ামে তাশরীকের ২য় দিন)
সূর্য হেলে যাওয়ার পর প্রথমে ছোট জামরা, তারপর মধ্য এবং সর্বশেষে বড় জামরায় প্রতিটিতে পরপর সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
হাদী জবাই করা (দশ বা এগারো তারিখে না করলে)।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সে.মি.) পরিমাণ চুল ছোট করা (যদি ১০ বা ১১ তারিখে না করে থাকে)।
যারা তাড়াতাড়ি করে দু'দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে চায়, তারা এ দিনে অর্থাৎ, ১২ তারিখে সূর্যাস্তের পূর্বে পাথর মেরে মিনা পরিত্যাগ করা।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ ও সা'ঈ করা। (যদি ১০ বা ১১ তারিখে না করে থাকে। তবে যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে অনেক আলিমদের নিকটই তার আর সা'ঈ নেই)।
যারা এ দিন মক্কা ত্যাগ করতে চায় তাদের জন্য বিদায়ি তাওয়াফ করা।
যারা ১৩ তারিখে পাথর নিক্ষেপ করতে চায়, তাদের জন্য মিনাতে রাত্রি যাপন করা।
যিলহজের ১৩ (আইয়ামে তাশরীকের ৩য় দিন)
সূর্য হেলে যাওয়ার পর প্রথমে ছোট জামরা, তারপর মধ্য এবং সর্বশেষে বড় জামরায় প্রতিটিতে পরপর সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
হাদী জবাই করা (দশ, এগারো বা বার তারিখে না করলে)।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সে.মি.) পরিমাণ চুল ছোট করা (যদি ১০, ১১ বা ১২ তারিখে না করে থাকে)।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ ও সা'ঈ করা। (যদি ১০, ১১ বা ১২ তারিখে না করে থাকে। তবে যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে অনেক আলিমদের নিকটই তার আর সা'ঈ নেই)।
যারা এ দিন মক্কা ত্যাগ করতে চায় তাদের জন্য বিদায়ি তাওয়াফ করা।
তবে মহিলাগণ যদি মক্কা ত্যাগ করার সময় হায়েয ও নেফাস অবস্থায় থাকে, তাদের বিদায়ি তাওয়াফ করা লাগবে না।
আর এভাবেই কিরান হজকারী হাজী সাহেবার হজের কাজ শেষ হয়ে যাবে。
📄 ইফরাদ হজ আদায়কারীর কর্মকাণ্ড
ইফরাদ হজকারী নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে হজ করবেন:
হজের মাওসুমে মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা।
ইহরামের সময় বলবে: "লাববাইকা হাজ্জান" অর্থাৎ আমি হজ আদায় করার জন্য হাযির হয়েছি, হাযির হয়েছি।
তাওয়াফে কুদুম বা আগমনি তাওয়াফ: মক্কা পৌঁছে হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে সাতবার বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা।
সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহীম ও কা'বাকে সামনে নিয়ে নতুবা মসজিদে হারামের অন্যত্র দু'রাকাত সালাত পড়া।
ইচ্ছা হলে সাফা ও মারওয়া পাহাড় দ্বয়ের মাঝখানে সা'ঈ করা। তবে সাফা থেকে সা'ঈ শুরু করতে হবে। এ সা'ঈটি হজের তাওয়াফের অগ্রিম সা'ঈ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যদি না করা হয়, পরবর্তীতে হজের তাওয়াফের পরে তা আদায় করতে হবে।
তাওয়াফ এবং সা'ঈ শেষ হওয়ার পরে ইহরাম অবস্থাতেই থাকবেন। হালাল হতে পারবেন না।
তারপর ৮ই যিলহজ থেকে নিম্নোক্ত ছক অনুসারে পালন করুন:
যেহেতু তিনি পূর্ব থেকেই ইহরাম অবস্থায় আছেন, তাই তিনি হজের তালবিয়া পড়তে পড়তে মিনায় যাবেন।
যিলহজের ৮ (তারওয়ীয়াহর দিন)
মিনাতে অবস্থান করে জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজরের সালাতসমূহ সুনির্দিষ্ট ওয়াক্তে আদায় করা। চার রাকাতের ফরয সালাত দু'রাকাত পড়া।
জোহরের পর থেকে সূর্য ডোবা পর্যন্ত আরাফাহর ময়দানে অবস্থান করা।
যিলহজের ৯ (আরাফাহর দিন)
৯ তারিখের দিন-গত রাত তথা ১০ তারিখের রাতে কমপক্ষে মধ্যরাত পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করা।
যিলহজের ১০ (ঈদের দিন)
মিনায় যাওয়া।
জামারাতুল আকাবায় সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সে.মি.) পরিমাণ চুল ছোট করা।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ করা।
হজের সা'ঈ করা। তবে যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে আর সা'ঈ করা লাগবে না।
মিনাতে রাত্রি যাপন করার জন্য ফিরে যাওয়া।
যিলহজের ১১ (আইয়ামে তাশরীকের ১ম দিন)
সূর্য হেলে যাওয়ার পর প্রথমে ছোট জামরা, তারপর মধ্য এবং সর্বশেষে বড় জামরায় প্রতিটিতে পরপর সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সে.মি.) পরিমাণ চুল ছোট করা (যদি ১০ তারিখে না করে থাকে)।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ ও সা'ঈ করা। (যদি ১০ তারিখে না করে থাকেন। কিন্তু যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে আর সা'ঈ করা লাগবে না)।
মিনাতে রাত্রি যাপন করা।
যিলহজের ১২ (আইয়ামে তাশরীকের ২য় দিন)
সূর্য হেলে যাওয়ার পর প্রথমে ছোট জামরা, তারপর মধ্য এবং সর্বশেষে বড় জামরায় প্রতিটিতে পরপর সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সে.মি.) পরিমাণ চুল ছোট করা (যদি ১০ বা ১১ তারিখে না করে থাকে)।
যারা তাড়াতাড়ি করে দু’দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে চায়, তারা এ দিনে অর্থাৎ ১২ তারিখে সূর্যাস্তের পূর্বে পাথর মেরে মিনা পরিত্যাগ করা।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ ও সা’ঈ করা। (যদি ১০ বা ১১ তারিখে না করে থাকে। কিন্তু যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা’ঈ করে থাকেন, তাহলে আর সা’ঈ করা লাগবে না)।
যারা এ দিন মক্কা ত্যাগ করতে চায় তাদের জন্য বিদায়ি তাওয়াফ করা।
যারা ১৩ তারিখে পাথর নিক্ষেপ করতে চায়, তাদের জন্য মিনাতে রাত্রি যাপন করা।
যিলহজের ১৩ (আইয়ামে তাশরীকের ৩য় দিন)
সূর্য হেলে যাওয়ার পর প্রথমে ছোট জামরা, তারপর মধ্য এবং সর্বশেষে বড় জামরায় প্রতিটিতে পরপর সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সেঃমিঃ) পরিমাণ চুল ছোট করা (যদি ১০, ১১ বা ১২ তারিখে না করে থাকে)।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ ও সা'ঈ করা। (যদি ১০, ১১ বা ১২ তারিখে না করে থাকে। কিন্তু যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে আর সা'ঈ করা লাগবে না)।
যারা এ দিন মক্কা ত্যাগ করতে চায় তাদের জন্য বিদায়ি তাওয়াফ করা।
তবে মহিলাগণ যদি মক্কা ত্যাগ করার সময় হায়েয ও নেফাস অবস্থায় থাকে, তাদের বিদায়ি তাওয়াফ করা লাগবে না।
আর এভাবেই ইফরাদ হজকারী হাজী সাহেবার হজের কাজ শেষ হয়ে যাবে。
📄 হায়েয বা নেফাস ওয়ালী মহিলা হাজী সাহেবানিদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড
হজে যদি আপনার হায়েয বা নেফাস এসে যায় তবে তা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই। কারণ, এটা আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক নারীর জন্যই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমাদের দ্বীনে কঠিন ও সমস্যাসংকুল কিছু নেই। সব ধরনের সমস্যার সমাধান এতে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু মাসলা-মাসায়েল জেনে নেওয়া আবশ্যক।
এখানে একটি সাধারণ নিয়ম হলো: সাধারণ হাজী সাহেবরা যা যা করেন হায়েয বা নেফাস ওয়ালী মহিলাও সেগুলো করবেন। তবে হায়েয ও নেফাস-ওয়ালী মহিলাগণ পবিত্রতা অর্জন পর্যন্ত আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ করবেন না। এর প্রমাণ, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহার হাদীস। হজের সফরে বের হওয়ার পর তার হায়েয এসেছিল। তিনি বলেন,
«فدخل علي النبي صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي فقال: ما يبكيك قلت لوددت أني لم أحج هذا العام قال: لعلك نفست»
(আয়ি হাদ্বত) قلت: نعم قال: فان ذلك شئ كتبه الله على بنات আদম . فافعلي ما يفعل الحاج، غير ألا تطوفي بالبيت حتى تطهري».
“তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে প্রবেশ করে দেখলেন আমি কাঁদছি। তিনি বললেন: তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম: হায়! আমি যদি এ বছর হজ না করতাম। তিনি বললেন: তোমার বোধ হয় হায়েয হয়েছে। আমি বললাম: হাঁ। তিনি বললেন: এটা তো মহান আল্লাহ আদমের প্রতিটি কন্যার ওপর লিখে রেখেছেন। সুতরাং তুমি পবিত্র হওয়া ব্যতীত তাওয়াফ না করে অপরাপর হাজীদের মত হজের যাবতীয় কাজ করে যাও”।
সুতরাং হায়েয ও নেফাস হলে মহিলাদের হজ আদায়ে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয় না। তাদের জ্ঞাতার্থে নিম্নোক্ত মাসআলাগুলোকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হলো:
হায়েয বা নেফাস অবস্থায় একজন মহিলা উমরাহ বা হজের ইহরাম বাঁধতে পারবে।
ইহরামের সময় হায়েয ও নেফাসওয়ালী মহিলা গোসল করবে। কারণ হজের সফরে আসমা বিনতে উমাইসের সন্তান হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গোসল করা এবং কাপড় বেঁধে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
হায়েয ও নেফাস ওয়ালী মহিলা তালবিয়াহ পাঠ করতে কোনো বাধা নেই। অনুরূপভাবে যাবতীয় দো'আও করতে পারবে। এমনকি কুরআন স্পর্শ না করে মুখস্থ পড়ার অনুমতিও কোনো কোনো ইমাম দিয়েছেন। কারণ, হায়েয বা নেফাস অবস্থায় কুরআন পড়তে নিষেধ করার ব্যাপারে সহীহ কোনো হাদীস নেই।
যদি তামাতু হজ আদায়কারী হয় আর উমরাহ অবস্থায় কোনো মহিলার হায়েয আসে তাহলে সে উমরার ইহরাম নিয়েই ৯ তারিখ অর্থাৎ, আরাফার দিন পর্যন্ত কাটিয়ে দেবে। তারপর যদি ৯ তারিখ সে পবিত্র হয়ে যায় তবে দেখতে হবে যে সে উমরাহ আদায় করার পর আরাফার মাঠে হাযির হওয়া সম্ভব হবে তাহলে উমরাহ পুরা করে নেবে। আর যদি ৯ তারিখ পর্যন্ত পবিত্র না হয় বা ৯ তারিখে এমন সময় পবিত্র হয়েছে যে, তার আর উমরাহ আদায় করার সময় নেই তখন তিনি উমরাকে হজে রূপান্তরিত করে ফেলবেন এবং বলবেন: হে আল্লাহ! আমি আমার উমরার সাথেই হজ করার জন্য ইহরাম করছি। এভাবে তিনি কিরান হজ আদায়কারী রূপে গণ্য হবেন এবং মানুষের সাথে আরাফাহর ময়দানে অবস্থান করবেন এবং অন্যান্য হাজীদের মত হজের বাকি কাজ সম্পন্ন করবেন। তবে তিনি তাওয়াফ ও সা'ঈকে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত দেরি করে আদায় করবেন। পবিত্র হওয়ার পর তিনি হজের তাওয়াফ ও সা'ঈ আদায় করলেই তার উমরার তাওয়াফ ও উমরার সা'ঈ করার প্রয়োজন পড়বে না। তবে তার ওপর হাদী জবাই করা ওয়াজিব হবে।
যদি বিদায়ি তাওয়াফ করার পূর্বে কোনো মহিলার হায়েয আসে এবং তাকে মক্কা ছাড়তে হয় তবে তার জন্য বিদায়ি তাওয়াফ করার আবশ্যকতা থাকবে না। তিনি বিদায়ি তাওয়াফ না করেই মক্কা ছেড়ে যেতে পারবেন। কিন্তু হজের তাওয়াফ না করলে হজ সম্পন্ন হবে না।
যদি হজের তাওয়াফ অর্থাৎ তাওয়াফে ইফাযা বা তাওয়াফে যিয়ারাহ করার পূর্বে কারও হায়েয বা নেফাস আসে তাহলে তিনি পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। আর যদি মক্কায় অপেক্ষা করা তার জন্য দুষ্কর হয়ে পড়ে তবে তিনি তার এলাকায় চলে গেলেও যে পর্যন্ত পবিত্র হওয়ার পর আবার মক্কায় এসে তাওয়াফ না করবেন সে পর্যন্ত তার হজ পূর্ণ হবে না। আর এ সময়ে তিনি তার স্বামীর সাথে সহবাসও করতে পারবেন না। তারপর যখন তিনি মক্কায় এসে হজের তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন তখন তার হজ পূর্ণ হবে। কিন্তু যদি অবস্থা এমন হয় যে, তার জন্য আবার মক্কায় আসা কষ্টসাধ্য বা মক্কায় অবস্থান করা অসম্ভব। যেমন, দূর দেশের লোক হয়, মাহরাম সফর সঙ্গী না পাওয়ার ভয় থাকে তাহলে তিনি উম্মতের বিজ্ঞ আলিমদের মতে, হায়েয বা নেফাসের স্থানে কাপড় বেঁধে তাওয়াফ করে ফেলবেন। অথবা যদি এমন কোনো ইঞ্জেকশন পাওয়া যায় যার মাধ্যমে তার রক্ত বন্ধ করা যাবে তাহলে সেটাও গ্রহণ করতে পারেন।
মহিলা হাজী সাহেবানরা হায়েয বন্ধ করার জন্য যদি কোনো ঔষধ গ্রহণ করতে চায় তবে তাও জায়েয হবে। কেননা এতে তার জন্য প্রভূত কল্যাণ ও সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় রয়েছে। তবে কোনো শারীরিক ক্ষতিকারক কিছু করা যাবে না।
হায়েয বা নেফাস ওয়ালী মহিলা সা'ঈ করার স্থানে বসে কারও জন্য অপেক্ষা করতে কোনো দোষ নেই। কারণ, সা'ঈ করার স্থানটি মসজিদুল হারামের বাইরের অংশ।
টিকাঃ
৪২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯০, ২৯৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১১।
📄 হজে মহিলাদের সৌন্দর্যচর্চা সংক্রান্ত বিভিন্ন হুকুম আহকাম
সৌন্দর্যচর্চা মেয়েদের একটি প্রাকৃতিক রীতি। কিন্তু ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের মূল অবস্থা কেমন হওয়া উচিৎ তা সহজেই অনুমেয়। কারণ, মক্কা-মদিনার মত পবিত্র স্থানে সবাই হজ, যিয়ারত ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সদা সচেষ্ট থাকে। সেখানে সৌন্দর্যচর্চার সুযোগ কোথায়? পবিত্র কুরআনে হাজীদেরকে হজের তাওয়াফের পূর্বে নিজেদের যাবতীয় ধুলি-মলিনতা ও ময়লা অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে হজের তাওয়াফ করতে বলা হয়েছে,
﴿ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُواْ نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ﴾ [الحج: ٢٩]
"তারপর তারা যেন তাদের অপরিচ্ছন্নতা দূর করে এবং তাদের মানত পূর্ণ করে এবং তাওয়াফ করে প্রাচীন ঘরের।” [সূরা আল-হজ, আয়াত: ২৯]
তাছাড়া হাদীসে এসেছে,
إن الله يباهي بأهل عرفات أهل السماء فيقول لهم انظروا إلى عبادي جاءوني شعثا غبراً».
"মহান আল্লাহ আরাফাতে অবস্থানকারীদের নিয়ে আসমানের অধিবাসী (ফেরেশতা) দের নিকট গর্ব করে বলেন, দেখ, আমার বান্দাগণ আমার নিকট উস্কাখুস্কু ধুলি-মলিন অবস্থায় এসে হাযির হয়েছে।"
আলিমগণ কুরআনের উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে এটাই বুঝেছেন যে, হজের সফর সৌন্দর্যচর্চার জন্য নয়। তবে সৌন্দর্য চর্চার শ্রেণিভেদে হুকুমেরও পার্থক্য হয়ে থাকে। মূলতঃ ইসলাম এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছে:
ইহরাম অবস্থায় কোনো মহিলা হাজী সাহেবার জন্য তার নিজের চুল কাটা হারাম। চাই সেটা মাথার হোক, কিংবা শরীরের অন্য কোনো অংশের চুল।
ইহরাম অবস্থায় কোনো মহিলা হাজী সাহেবের জন্য শরীরে কিংবা কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম। তাছাড়া কোনো মহিলার জন্য শরীরে কিংবা কাপড়ে সুগন্ধি বা আতর লাগিয়ে বেগানা পুরুষের সাথে মেলা-মেশা করা হারাম। চাই তা ইহরাম অবস্থায় হোক অথবা না হোক, আবার তা হজের স্থানে হোক কিংবা অন্য কোনো স্থানে হোক। কেননা, এটি খুব বড় অন্যায় এবং এতে রয়েছে বড় ফেতনা। আর যদি মহিলাদের জন্য মসজিদে সুগন্ধি লাগিয়ে যাওয়া হারাম হয়, তবে অন্যান্য স্থানে কী হবে? কিন্তু যখন ইহরাম অবস্থায় না থাকে, তখন ঘরের মধ্যে সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে। যেমনটি করেছিলেন 'আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা।
ইহরামকারী মহিলা ইহরাম অবস্থায় শরীরে এমন তেল লাগাতে পারে, যাতে কোনো সুগন্ধি নেই।
মহিলা হাজী সাহেবা হাতের চুড়ি, আংটি ইত্যাদি পরে ইহরাম বাঁধতে পারেন। তবে সে যেন তা মাহরাম নয় এমন পুরুষ অর্থাৎ, বেগানা পুরুষের সামনে প্রকাশ না করে।
□ ইহরাম অবস্থায় মহিলা হাজী সাহেবা আয়নার দিকে তাকাতে পারবেন।
□ ইহরামকারী মহিলা ইহরাম অবস্থায় মেহেদি ব্যবহার করতে পারবেন।
□ ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য সুর্মা লাগানো মাকরূহ।
টিকাঃ
৪৩. মুসনাদে আহমাদ: ২/২২৪, ৩০৫।