📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 হজ আদায়কারী হাজী সাহেবদের কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত রূপ

📄 হজ আদায়কারী হাজী সাহেবদের কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত রূপ


তিন. 'ইফরাদ' অথবা 'কিরান' হজ আদায়কারী হাজী সাহেবাদের কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত রূপ:

📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 ‘কিরান’ হজ আদায়কারী এবং ‘ইফরাদ’ হজ আদায়কারীর মধ্যে পার্থক্য

📄 ‘কিরান’ হজ আদায়কারী এবং ‘ইফরাদ’ হজ আদায়কারীর মধ্যে পার্থক্য


কিরান হজ আদায়কারী হাজী সাহেবা উমরাহ এবং হজকে একসাথে আদায় করবেন। কিন্তু ইফরাদ হজ আদায়কারী শুধু হজ করবেন, হজের আগে কোনো উমরাহ আদায় করবেন না。

📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 কিরান হজ আদায়কারীর কর্মকাণ্ড

📄 কিরান হজ আদায়কারীর কর্মকাণ্ড


কিরান হজকারী নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে হজ করবেন,
হজের মাওসুমে মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা।
ইহরামের সময় বলবে: “লাববাইকা উমরাতান ওয়া হাজ্জান” অর্থাৎ, আমি উমরাহ ও হজ আদায় করার জন্য হাযির হয়েছি, হাযির হয়েছি।
তাওয়াফে কুদূম বা আগমনি তাওয়াফ: মক্কা পৌঁছে হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে সাতবার বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ করা।
সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহীম ও কা'বাকে সামনে নিয়ে নতুবা মসজিদে হারামের অন্যত্র দু'রাকাত সালাত পড়া।
সাফা ও মারওয়া পাহাড় দ্বয়ের মাঝখানে সা'ঈ করা। তবে সাফা থেকে সা'ঈ শুরু করতে হবে।
তাওয়াফ এবং সা'ঈ শেষ হওয়ার পরে ইহরাম অবস্থাতেই থাকবেন। হালাল হতে পারবেন না।
তারপর ৮ ই জিলহজ হতে নিম্নোক্ত ছক অনুসরণ করুন:
যেহেতু তিনি পূর্ব থেকেই ইহরাম অবস্থায় আছেন, তাই তিনি হজের তালবিয়া পড়তে পড়তে মিনায় যাবেন।

যিলহজের ৮ (তালবীয়ার দিন)
মিনাতে অবস্থান করে জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজরের সালাতসমূহ সুনির্দিষ্ট ওয়াক্তে আদায় করা। চার রাকা'আতের ফরয সালাত দু'রাকাত পড়া।

যিলহজের ৯ (আরাফাহর দিন)
জোহরের পর থেকে সূর্য ডোবা পর্যন্ত 'আরাফা'র ময়দানে অবস্থান করা।
৯ তারিখের দিন-গত রাত তথা ১০ তারিখের রাতে কমপক্ষে মধ্যরাত পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করা।

যিলহজের ১০ (ঈদের দিন)
মিনায় যাওয়া।
জামারাতুল আকাবায় সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
হাদী জবাই করা।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সেঃমিঃ) পরিমাণ চুল ছোট করা।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ করা।
হজের সা'ঈ করা। তবে যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে অনেক আলিমদের নিকটই তার আর সাঙ্গী নেই।
মিনাতে রাত্রি যাপন করার জন্য ফিরে যাওয়া।

যিলহজের ১১ (আইয়ামে তাশরীকের ১ম দিন)
সূর্য হেলে যাওয়ার পর প্রথমে ছোট জাম্রা, তারপর মধ্য এবং সর্বশেষে বড় জামরায় প্রতিটিতে পরপর সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
হাদী জবাই করা (দশ তারিখে না করলে)।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সেঃমিঃ) পরিমাণ চুল ছোট করা (যদি ১০ তারিখে না করে থাকে)।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ ও সা'ঈ করা। (যদি ১০ তারিখে না করে থাকে। তবে যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে অনেক আলিমদের নিকটই তার আর সা'ঈ নেই)।
মিনাতে রাত্রি যাপন করা।

যিলহজের ১২ (আইয়ামে তাশরীকের ২য় দিন)
সূর্য হেলে যাওয়ার পর প্রথমে ছোট জামরা, তারপর মধ্য এবং সর্বশেষে বড় জামরায় প্রতিটিতে পরপর সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
হাদী জবাই করা (দশ বা এগারো তারিখে না করলে)।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সে.মি.) পরিমাণ চুল ছোট করা (যদি ১০ বা ১১ তারিখে না করে থাকে)।
যারা তাড়াতাড়ি করে দু'দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে চায়, তারা এ দিনে অর্থাৎ, ১২ তারিখে সূর্যাস্তের পূর্বে পাথর মেরে মিনা পরিত্যাগ করা।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ ও সা'ঈ করা। (যদি ১০ বা ১১ তারিখে না করে থাকে। তবে যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে অনেক আলিমদের নিকটই তার আর সা'ঈ নেই)।
যারা এ দিন মক্কা ত্যাগ করতে চায় তাদের জন্য বিদায়ি তাওয়াফ করা।
যারা ১৩ তারিখে পাথর নিক্ষেপ করতে চায়, তাদের জন্য মিনাতে রাত্রি যাপন করা।

যিলহজের ১৩ (আইয়ামে তাশরীকের ৩য় দিন)
সূর্য হেলে যাওয়ার পর প্রথমে ছোট জামরা, তারপর মধ্য এবং সর্বশেষে বড় জামরায় প্রতিটিতে পরপর সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
হাদী জবাই করা (দশ, এগারো বা বার তারিখে না করলে)।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সে.মি.) পরিমাণ চুল ছোট করা (যদি ১০, ১১ বা ১২ তারিখে না করে থাকে)।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ ও সা'ঈ করা। (যদি ১০, ১১ বা ১২ তারিখে না করে থাকে। তবে যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে অনেক আলিমদের নিকটই তার আর সা'ঈ নেই)।
যারা এ দিন মক্কা ত্যাগ করতে চায় তাদের জন্য বিদায়ি তাওয়াফ করা।
তবে মহিলাগণ যদি মক্কা ত্যাগ করার সময় হায়েয ও নেফাস অবস্থায় থাকে, তাদের বিদায়ি তাওয়াফ করা লাগবে না।
আর এভাবেই কিরান হজকারী হাজী সাহেবার হজের কাজ শেষ হয়ে যাবে。

📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 ইফরাদ হজ আদায়কারীর কর্মকাণ্ড

📄 ইফরাদ হজ আদায়কারীর কর্মকাণ্ড


ইফরাদ হজকারী নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে হজ করবেন:
হজের মাওসুমে মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা।
ইহরামের সময় বলবে: "লাববাইকা হাজ্জান" অর্থাৎ আমি হজ আদায় করার জন্য হাযির হয়েছি, হাযির হয়েছি।
তাওয়াফে কুদুম বা আগমনি তাওয়াফ: মক্কা পৌঁছে হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে সাতবার বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা।
সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহীম ও কা'বাকে সামনে নিয়ে নতুবা মসজিদে হারামের অন্যত্র দু'রাকাত সালাত পড়া।
ইচ্ছা হলে সাফা ও মারওয়া পাহাড় দ্বয়ের মাঝখানে সা'ঈ করা। তবে সাফা থেকে সা'ঈ শুরু করতে হবে। এ সা'ঈটি হজের তাওয়াফের অগ্রিম সা'ঈ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যদি না করা হয়, পরবর্তীতে হজের তাওয়াফের পরে তা আদায় করতে হবে।
তাওয়াফ এবং সা'ঈ শেষ হওয়ার পরে ইহরাম অবস্থাতেই থাকবেন। হালাল হতে পারবেন না।
তারপর ৮ই যিলহজ থেকে নিম্নোক্ত ছক অনুসারে পালন করুন:
যেহেতু তিনি পূর্ব থেকেই ইহরাম অবস্থায় আছেন, তাই তিনি হজের তালবিয়া পড়তে পড়তে মিনায় যাবেন।

যিলহজের ৮ (তারওয়ীয়াহর দিন)
মিনাতে অবস্থান করে জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজরের সালাতসমূহ সুনির্দিষ্ট ওয়াক্তে আদায় করা। চার রাকাতের ফরয সালাত দু'রাকাত পড়া।
জোহরের পর থেকে সূর্য ডোবা পর্যন্ত আরাফাহর ময়দানে অবস্থান করা।

যিলহজের ৯ (আরাফাহর দিন)
৯ তারিখের দিন-গত রাত তথা ১০ তারিখের রাতে কমপক্ষে মধ্যরাত পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করা।

যিলহজের ১০ (ঈদের দিন)
মিনায় যাওয়া।
জামারাতুল আকাবায় সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সে.মি.) পরিমাণ চুল ছোট করা।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ করা।
হজের সা'ঈ করা। তবে যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে আর সা'ঈ করা লাগবে না।
মিনাতে রাত্রি যাপন করার জন্য ফিরে যাওয়া।

যিলহজের ১১ (আইয়ামে তাশরীকের ১ম দিন)
সূর্য হেলে যাওয়ার পর প্রথমে ছোট জামরা, তারপর মধ্য এবং সর্বশেষে বড় জামরায় প্রতিটিতে পরপর সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সে.মি.) পরিমাণ চুল ছোট করা (যদি ১০ তারিখে না করে থাকে)।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ ও সা'ঈ করা। (যদি ১০ তারিখে না করে থাকেন। কিন্তু যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে আর সা'ঈ করা লাগবে না)।
মিনাতে রাত্রি যাপন করা।

যিলহজের ১২ (আইয়ামে তাশরীকের ২য় দিন)
সূর্য হেলে যাওয়ার পর প্রথমে ছোট জামরা, তারপর মধ্য এবং সর্বশেষে বড় জামরায় প্রতিটিতে পরপর সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সে.মি.) পরিমাণ চুল ছোট করা (যদি ১০ বা ১১ তারিখে না করে থাকে)।
যারা তাড়াতাড়ি করে দু’দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে চায়, তারা এ দিনে অর্থাৎ ১২ তারিখে সূর্যাস্তের পূর্বে পাথর মেরে মিনা পরিত্যাগ করা।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ ও সা’ঈ করা। (যদি ১০ বা ১১ তারিখে না করে থাকে। কিন্তু যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা’ঈ করে থাকেন, তাহলে আর সা’ঈ করা লাগবে না)।
যারা এ দিন মক্কা ত্যাগ করতে চায় তাদের জন্য বিদায়ি তাওয়াফ করা।
যারা ১৩ তারিখে পাথর নিক্ষেপ করতে চায়, তাদের জন্য মিনাতে রাত্রি যাপন করা।

যিলহজের ১৩ (আইয়ামে তাশরীকের ৩য় দিন)
সূর্য হেলে যাওয়ার পর প্রথমে ছোট জামরা, তারপর মধ্য এবং সর্বশেষে বড় জামরায় প্রতিটিতে পরপর সাতটি ছোট পাথর নিক্ষেপ করা।
এক আঙ্গুলের মাথা (১ সেঃমিঃ) পরিমাণ চুল ছোট করা (যদি ১০, ১১ বা ১২ তারিখে না করে থাকে)।
তাওয়াফে ইফাযা বা হজের তাওয়াফ ও সা'ঈ করা। (যদি ১০, ১১ বা ১২ তারিখে না করে থাকে। কিন্তু যদি তিনি তাওয়াফে কুদূমের পরে সা'ঈ করে থাকেন, তাহলে আর সা'ঈ করা লাগবে না)।
যারা এ দিন মক্কা ত্যাগ করতে চায় তাদের জন্য বিদায়ি তাওয়াফ করা।
তবে মহিলাগণ যদি মক্কা ত্যাগ করার সময় হায়েয ও নেফাস অবস্থায় থাকে, তাদের বিদায়ি তাওয়াফ করা লাগবে না।
আর এভাবেই ইফরাদ হজকারী হাজী সাহেবার হজের কাজ শেষ হয়ে যাবে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00