📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 যদি কেউ নিষিদ্ধ বিষয়গুলো করে ফেলে তার কি করা উচিৎ?

📄 যদি কেউ নিষিদ্ধ বিষয়গুলো করে ফেলে তার কি করা উচিৎ?


কোনো মহিলা যদি ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বস্তুগুলো করে ফেলে তখন তার তিনটি অবস্থা থাকতে পারে:
- সে তা ভুলে বা অসাবধানতাবশত, অথবা জোরকৃত হয়ে বা ঘুমন্ত অবস্থায় করে ফেলে তবে তার কিছুই করার নেই। সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। এ সব অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে যে দো'আ শিখিয়ে দিয়েছেন তা হলো: দো'আ
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا [البقرة: ٢٨٦]
“হে আমাদের রব! আমরা যদি বিস্মৃত হই বা ভুল করে বসি তবে সে জন্য আপনি আমাদের পাকড়াও করবে না" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬] কিন্তু যখনই সেই ওজর শেষ হয়ে যাবে তখন থেকে আর তা করা যাবে না। যেমন মূর্খ ব্যক্তি জানার পর, ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়ার পর, বিস্মৃত ব্যক্তি মনে হওয়ার পর সে ধরনের গুনাহ আর করতে পারবে না।

- আর যদি কেউ ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো কোনো ওজর থাকার কারণে করে তবে সে গুনাহ থেকে মুক্তি পেলেও তাকে সেগুলোর জন্য ফিদিয়া দিতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَحْلِقُوا رُهُ وسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْى تَحِلَّةٌ، فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكِ فَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجَ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ﴾ [البقرة: ١٩٦]
“আর যে পর্যন্ত কুরবানীর পশু তার স্থানে না পৌঁছে তোমরা মাথা মুণ্ডন করো না। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় বা মাথায় ব্যথা হয় তবে সিয়াম কিংবা সাদকা অথবা কুরবানীর দ্বারা ওটার ফিদিয়া দেবে। যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজের পূর্বে 'উমরা দ্বারা লাভবান হতে চায় সে সহজলভ্য 'হাদী' জবেহ করবে। কিন্তু যদি কেউ তা না পায় তবে তাকে হজের সময় তিন দিন এবং ঘরে ফেরার পর সাত দিন এ পূর্ণ দশ দিন সিয়াম পালন করতে হবে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৬]

আর যদি কেউ ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে করে তবে সে গুনাহগার হওয়ার পাশাপাশি সেগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট ফিদিয়া দিতে হবে।
ফিদয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বস্তুগুলোকে আমরা চারভাগে ভাগ করতে পারি:
যে নিষিদ্ধ কাজ করলে শুধু গুনাহ হয় ফিদিয়া দেওয়ার বিধান রাখা হয়নি এবং তা হলো, বিয়ে করা বা দেওয়া। এতে ব্যক্তি গুনাহগার, হবে এবং সে বিয়ে বাতিল বা ফাসেদ হবে কিন্তু কোনো ফিদিয়া দিয়ে মুক্তি পাওয়ার বিধান রাখা হয় নি।
যে নিষিদ্ধ কাজ করলে একটি পূর্ণ উট, অথবা গরু ফিদয়া হিসেবে জবাই করতে হয় তা হলো, পাথর মেরে প্রাথমিক হালাল হওয়ার পূর্বে সহবাস করা। মূলত: এ ধরনের সহবাসের কারণে মোট চারটি কাজ করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়:
এক. হজ বাতিল হয়ে যাবে।
দুই. ফিদিয়া দিতে হবে, আর তা হলো, একটি পূর্ণ উট, বা গরু।
তিন. যে হজটি করছে তা পূর্ণ করতে হবে।
চার. আগামীতে সে হজের কাজা করতে হবে।
যে নিষিদ্ধ কাজ করলে এর সমপরিমাণ প্রতিবিধান করতে হয়। আর তা হলো, কোনো স্থল প্রাণী শিকার করা। যেমন, হরিণ শিকার বা খরগোশ শিকার করা। এটা করলে শিকারকৃত প্রাণীর অনুপাতে জন্তু জবাই করতে হবে।
যে নিষিদ্ধ কাজ করলে সাওম (রোযা) বা সাদকা বা একটি ছাগল/দুম্বা জবাই করতে হবে। আর তা হলো, উল্লেখিত নিষিদ্ধ কাজগুলো ব্যতীত ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ অন্যান্য কাজগুলোর কিছু করা। যেমন, বিনা ওজরে মাথা কামানো, আতর লাগানো। ইত্যাদি। রোজার পরিমাণ হলো, তিনদিন। আর সাদকার পরিমাণ হলো, ছয়জন মিসকিনকে তিন সা' পরিমাণ খাবার দেওয়া। (এক সা'= কমপক্ষে ২০৪০ গ্রাম)।

📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 মহিলা হাজী সাহেবার ইহরামের পোশাক

📄 মহিলা হাজী সাহেবার ইহরামের পোশাক


মহিলাদের ইহরামের পোশাকের ক্ষেত্রে শরী'আত কোনো পোশাক নির্দিষ্ট করে দেয়নি। অনেকেই মনে করে থাকে মহিলারা সেলোয়ার কামিজ পড়তে হবে বা তাদের পোশাক সাদা হতে হবে। এ ধরনের কোনো নিয়ম শরী'আত নির্ধারণ করে দেয় নি।
সুতরাং মহিলা ইহরামের জন্য তার স্বাভাবিক পোশাকই পরতে পারবে। তবে তাকে অবশ্যই শরী'আত নিষিদ্ধ পোশাক পরিত্যাগ করতে হবে। তার পোশাক আঁটসাট, এমন মিহি যেন না হয় যাতে শরীর স্পষ্ট হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় এমন পোশাক পরা যা মানুষের দৃষ্টি কাড়বে না। কেননা, এখানে পুরুষ মহিলা কাছাকাছি অবস্থান করে থাকে। সৌন্দর্যময় পোশাক পরার মধ্যে ফিতনায় পড়ে যাওয়া এবং ফেলে দেওয়ার ভয় আছে।
তারপরও মহিলারা কয়েকটি পোশাক পরতে পারবে না:
১ ও ২- ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য হাত মোজা ও নেকাব পড়া হারাম:
কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ইহরাম অবস্থায় মহিলারা নেকাবও পরবে না, আবার হাত মোজাও পরবে না।” সহীহ বুখারি: ১৭৪১ কিন্তু যদি অপরিচিত পুরুষ মহিলাদের পাশ দিয়ে যায়, তবে মাথার ওড়না দ্বারা মুখ ঢেকে রাখতে হবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “পুরুষরা আমাদের পাশ দিয়ে যেত যখন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম, তখন আমাদের নিকটবর্তী হলে আমাদের প্রত্যেকে মাথার ওড়না মুখের উপর দিতাম। যখন তারা আমাদের পাশ দিয়ে চলে যেত, তখন আবার মুখের থেকে কাপড় সরিয়ে নিতাম।”
৩- ইহরাম অবস্থায় মহিলারা সুগন্ধিযুক্ত কাপড় ব্যবহার করতে পারবে না। 'আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা ইহরাম অবস্থায় বলেন, “ঠোঁটের ওপর কোনো কাপড় দেবে না, নেকাব পরবে না এবং যে কাপড়ে জাফরান ও ওয়ার্স (এক ধরনের সুগন্ধি) লেগে আছে, সে কাপড় পরিধান করবে না।”
৪- ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য যেকোনো রঙের পোশাক পরা জায়েয আছে। যেমন, কালো, লাল, সবুজ, হলুদ ইত্যাদি। অন্য রঙের চেয়ে সবুজ বা সাদা রঙের কোনো বিশেষত্ব নেই।
৫- ইহরাম অবস্থায় মহিলারা তাদের কাপড় বদলিয়ে পরিষ্কার অন্য কোনো কাপড় পরতে পারবে।
৬- ইহরাম অবস্থায় যদি কোনো মহিলা ভুলে অথবা অজ্ঞাতবশত নেকাব পরে, তবে তার ওপর কোনো কাফ্ফারা নেই এবং তার হজ বা উমরাহ সঠিক হবে। কেননা, কাফ্ফারা শুধুমাত্র ঐ ব্যক্তির জন্য, যে হুকুম জানার পরও নিষিদ্ধ কাজে হাত দেয়।
৭- ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য পা-মোজা পরা জায়েয আছে। বরং তা উত্তম। কেননা এর দ্বারা তার পা ঢেকে রাখা যাবে।

টিকাঃ
২১. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৮৩৩।
২২. সহীহ বুখারী ২/৫৫৯।

📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 মহিলা হাজী সাহেবারা কীভাবে হজ এবং উমরাহ সম্পন্ন করবেন

📄 মহিলা হাজী সাহেবারা কীভাবে হজ এবং উমরাহ সম্পন্ন করবেন


এতে তিনটি বিষয় আলোচনা করা হবে। আর তা হল:
এক. তামাতু হাজী সাহেবাদের জন্য বিস্তারিত পদক্ষেপসমূহ।
দুই. তামাতু হাজী সাহেবাদের জন্য সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট নকশা।
তিন, কিরান ও ইফরাদ হাজী সাহেবাদের জন্য সংক্ষিপ্ত নকশা।

এক. তামাতু' হাজী সাহেবাদের জন্য বিস্তারিত পদক্ষেপসমূহ:
এটা স্বীকৃত কথা যে, যে ব্যক্তি হাদী সাথে নিয়ে আসে নি তার জন্য সবচেয়ে উত্তম হজ হলো, তামাতু হজ। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা করার জন্য সাহাবায়ে কেরামকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "যদি আমি পিছনে যা করে এসেছি তা নতুন করে করতাম তবে আমি 'হাদী' নিয়ে আসতাম না।' অর্থাৎ যদি আমি এখন যা দেখছি তা আগে দেখতাম এবং আমার আবার নতুনকরে কাজ শুরু করার সুযোগ থাকত তবে আমি কিরান হজ না করে তামাত্তু হজ করতাম। এবং হজ ও উমরার মাঝখানে ইহরাম ছেড়ে হালাল হয়ে যেতাম।

টিকাঃ
২৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৬৮ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১৬

📘 নারীর হজ্জ ও উমরাহ > 📄 উমরা অথবা হজের ইহরাম হওয়ার আগে মহিলাদের জন্য যা কিছু মুস্তাহাব

📄 উমরা অথবা হজের ইহরাম হওয়ার আগে মহিলাদের জন্য যা কিছু মুস্তাহাব


গোসল করা: মহিলাদের মধ্যে কারও যদি হায়েয অথবা নিফাস থাকে, তবুও গোসল করা যাবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমা বিনতে 'উমাইসকে যখন তার সন্তান মুহাম্মাদ ইবন আবি বকরের জন্ম হলো তখন বললেন: “গোসল কর, কাপড় দিয়ে ভালো করে বেঁধে নাও এবং ইহরাম কর।”
গায়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী-গণ ইহরাম করার আগে গায়ে সুগন্ধি মেখে নিতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দেখতেন, কিন্তু কিছু বলতেন না। 'আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা বলেন, “আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কায় যেতাম তখন ইহরামের আগে আমাদের কপালে সুগন্ধি মেখে নিতাম। যদি কেউ ঘেমে যেত, তবে তা মুখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখতেন, কিন্তু নিষেধ করতেন না।”
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া: আর তা বিভিন্নভাবে হওয়া যায়। যেমন, নখ কাটা, বগলের চুল উঠিয়ে ফেলা, নাভির নিচের চুল কাটা ইত্যাদি।
মেহেদি লাগানো: ইহরামের আগে মেহেদি লাগানো যেতে পারে।
আর এ কাজগুলো মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়। সমস্ত উলামা একমত হয়েছেন যে, গোসল করা বাদে ইহরাম করা জায়েয এবং ইহরামের আগে গোসল করা ওয়াজিব নয়।

টিকাঃ
২৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১৮।
২৫. সুনান আবি দাউদ হাদীস নং ১৮৩০।
২৬. ইবনুল মুনযির, আল-ইজমা‘।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00