📄 ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজসমূহ
1) মাথার চুল কামানো বা উঠানো অথবা যে কোনোভাবে তা দূর করা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿وَلَا تَحْلِقُوا رُءُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْى مَحِلَّهُ ﴾ [البقرة: ١٩٦]
“আর যতক্ষণ পর্যন্ত হাদী তার স্থানে না পৌঁছাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের মাথা মুণ্ডন করো না”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৬]
অধিকাংশ আলিমের মতে, শরীরের অন্যান্য অংশের চুলের বিধানও একই প্রকার। সুতরাং ইহরাম অবস্থায় শরীরের কোনো অংশের চুলই কাটতে বা ছাঁটতে পারবে না।
2) নখ কাটা:
আলিমগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, ইহরাম অবস্থায় চুল কাটা যেমন হারাম তেমনি নখ কাটাও হারাম। তবে যদি কোনো কারণে নখ ভেঙে যায় তবে সেটা ফেলে দেওয়ায় কোনো দোষ নেই।
3) গায়ে বা কাপড়ে সুগন্ধি লাগানো:
ইহরাম অবস্থায় গায়ে বা কাপড়ে সুগন্ধি লাগানো যাবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"لا تلبسوا من الثياب شيئا مسه الزعفران. ولا الورس
“তোমরা এমন কাপড় পরিধান করো না যাতে জাফরান বা ওয়ারস সুগন্ধি লেগেছে।”
অনুরূপভাবে এক সাহাবি হজের সময় তার বাহন থেকে পড়ে মারা যায় তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাফন দেওয়ার নিয়ম বলে দেওয়ার সময় বলেছিলেন:
«ولا تقربوه طيبا»
“তোমরা একে আতর বা সুগন্ধি লাগিও না”।
তাই সুগন্ধিযুক্ত বস্তু পরিত্যাগ করতে হবে। যেমন, সুগন্ধিযুক্ত সাবান, সুগন্ধিযুক্ত পানীয় ও খাবার ইত্যাদিও পরিত্যাজ্য।
4) নেকাব ও হাত মোজা পরিধান করা পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لا تتنقب المرأة الحرم (أي المحرمة) ولا تلبس القفازين»
“ইহরাম অবস্থায় কোনো মহিলা নেকাব পরবে না, অনুরূপভাবে হাত মোজাও লাগাবে না”।
5) বিয়ে-শাদি করা বা করানো কোনটাই করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لا ينكح المحرم ولا ينكح ولا يخطب»
“ইহরাম অবস্থায় কেউ বিয়ে করবে না, বিয়ে দেবে না, বিয়ের প্রস্তাবও করবে না”। ১৯ যদি কেউ এ ধরনের কাজ করে তবে তা ফাসেদ/বাতিল বলে পরিগণিত হবে।
6) সহবাস বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক কর্মকাণ্ড যেমন প্রবল আকাঙ্খা জনিত স্পর্শ, চুমু ইত্যাদি থেকেও দূরে থাকতে হবে। যদি কেউ প্রাথমিক হালাল হওয়ার (পাথর মারার) পূর্বে সহবাস করে তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই হজ বাতিল হয়ে যাবে।
7) স্থল ভূমির শিকার করা বা শিকারে সহায়তা করাও নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنتُمْ حُرُمٌ﴾ [المائدة: ٩٥]
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকার করো না”। [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৯৫] পুরুষ ও মহিলা উভয়ই এ ধরনের শিকার থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখতে হবে। তবে যে সমস্ত প্রাণী কষ্টদায়ক সেগুলো মারতে কোনো দোষ নেই। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন,
أمر الرسول صلى الله عليه وسلم بقتل خمس فواسق في الحل والحرم الحدأة والغراب والفأرة والعقرب والكلب العقور
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ ধরনের প্রাণীকে হালাল এলাকা এবং হারাম এলাকা উভয় স্থানেই হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন, তা হলো: চিল, কাক, ইঁদুর, সাপ-বিচ্ছু এবং হিংস্র কুকুর”।
টিকাঃ
১৫. ইবন মুনযির কৃত আল-ইজমা'
১৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৭৭।
১৭. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২০৬।
১৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৪১।
১৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪০৯।
২০. মুসনাদে আহমাদ ২/৬৫
📄 যদি কেউ নিষিদ্ধ বিষয়গুলো করে ফেলে তার কি করা উচিৎ?
কোনো মহিলা যদি ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বস্তুগুলো করে ফেলে তখন তার তিনটি অবস্থা থাকতে পারে:
- সে তা ভুলে বা অসাবধানতাবশত, অথবা জোরকৃত হয়ে বা ঘুমন্ত অবস্থায় করে ফেলে তবে তার কিছুই করার নেই। সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। এ সব অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে যে দো'আ শিখিয়ে দিয়েছেন তা হলো: দো'আ
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا [البقرة: ٢٨٦]
“হে আমাদের রব! আমরা যদি বিস্মৃত হই বা ভুল করে বসি তবে সে জন্য আপনি আমাদের পাকড়াও করবে না" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬] কিন্তু যখনই সেই ওজর শেষ হয়ে যাবে তখন থেকে আর তা করা যাবে না। যেমন মূর্খ ব্যক্তি জানার পর, ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়ার পর, বিস্মৃত ব্যক্তি মনে হওয়ার পর সে ধরনের গুনাহ আর করতে পারবে না।
- আর যদি কেউ ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো কোনো ওজর থাকার কারণে করে তবে সে গুনাহ থেকে মুক্তি পেলেও তাকে সেগুলোর জন্য ফিদিয়া দিতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَحْلِقُوا رُهُ وسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْى تَحِلَّةٌ، فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكِ فَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجَ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ﴾ [البقرة: ١٩٦]
“আর যে পর্যন্ত কুরবানীর পশু তার স্থানে না পৌঁছে তোমরা মাথা মুণ্ডন করো না। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় বা মাথায় ব্যথা হয় তবে সিয়াম কিংবা সাদকা অথবা কুরবানীর দ্বারা ওটার ফিদিয়া দেবে। যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজের পূর্বে 'উমরা দ্বারা লাভবান হতে চায় সে সহজলভ্য 'হাদী' জবেহ করবে। কিন্তু যদি কেউ তা না পায় তবে তাকে হজের সময় তিন দিন এবং ঘরে ফেরার পর সাত দিন এ পূর্ণ দশ দিন সিয়াম পালন করতে হবে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৬]
আর যদি কেউ ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে করে তবে সে গুনাহগার হওয়ার পাশাপাশি সেগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট ফিদিয়া দিতে হবে।
ফিদয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বস্তুগুলোকে আমরা চারভাগে ভাগ করতে পারি:
যে নিষিদ্ধ কাজ করলে শুধু গুনাহ হয় ফিদিয়া দেওয়ার বিধান রাখা হয়নি এবং তা হলো, বিয়ে করা বা দেওয়া। এতে ব্যক্তি গুনাহগার, হবে এবং সে বিয়ে বাতিল বা ফাসেদ হবে কিন্তু কোনো ফিদিয়া দিয়ে মুক্তি পাওয়ার বিধান রাখা হয় নি।
যে নিষিদ্ধ কাজ করলে একটি পূর্ণ উট, অথবা গরু ফিদয়া হিসেবে জবাই করতে হয় তা হলো, পাথর মেরে প্রাথমিক হালাল হওয়ার পূর্বে সহবাস করা। মূলত: এ ধরনের সহবাসের কারণে মোট চারটি কাজ করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়:
এক. হজ বাতিল হয়ে যাবে।
দুই. ফিদিয়া দিতে হবে, আর তা হলো, একটি পূর্ণ উট, বা গরু।
তিন. যে হজটি করছে তা পূর্ণ করতে হবে।
চার. আগামীতে সে হজের কাজা করতে হবে।
যে নিষিদ্ধ কাজ করলে এর সমপরিমাণ প্রতিবিধান করতে হয়। আর তা হলো, কোনো স্থল প্রাণী শিকার করা। যেমন, হরিণ শিকার বা খরগোশ শিকার করা। এটা করলে শিকারকৃত প্রাণীর অনুপাতে জন্তু জবাই করতে হবে।
যে নিষিদ্ধ কাজ করলে সাওম (রোযা) বা সাদকা বা একটি ছাগল/দুম্বা জবাই করতে হবে। আর তা হলো, উল্লেখিত নিষিদ্ধ কাজগুলো ব্যতীত ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ অন্যান্য কাজগুলোর কিছু করা। যেমন, বিনা ওজরে মাথা কামানো, আতর লাগানো। ইত্যাদি। রোজার পরিমাণ হলো, তিনদিন। আর সাদকার পরিমাণ হলো, ছয়জন মিসকিনকে তিন সা' পরিমাণ খাবার দেওয়া। (এক সা'= কমপক্ষে ২০৪০ গ্রাম)।
📄 মহিলা হাজী সাহেবার ইহরামের পোশাক
মহিলাদের ইহরামের পোশাকের ক্ষেত্রে শরী'আত কোনো পোশাক নির্দিষ্ট করে দেয়নি। অনেকেই মনে করে থাকে মহিলারা সেলোয়ার কামিজ পড়তে হবে বা তাদের পোশাক সাদা হতে হবে। এ ধরনের কোনো নিয়ম শরী'আত নির্ধারণ করে দেয় নি।
সুতরাং মহিলা ইহরামের জন্য তার স্বাভাবিক পোশাকই পরতে পারবে। তবে তাকে অবশ্যই শরী'আত নিষিদ্ধ পোশাক পরিত্যাগ করতে হবে। তার পোশাক আঁটসাট, এমন মিহি যেন না হয় যাতে শরীর স্পষ্ট হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় এমন পোশাক পরা যা মানুষের দৃষ্টি কাড়বে না। কেননা, এখানে পুরুষ মহিলা কাছাকাছি অবস্থান করে থাকে। সৌন্দর্যময় পোশাক পরার মধ্যে ফিতনায় পড়ে যাওয়া এবং ফেলে দেওয়ার ভয় আছে।
তারপরও মহিলারা কয়েকটি পোশাক পরতে পারবে না:
১ ও ২- ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য হাত মোজা ও নেকাব পড়া হারাম:
কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ইহরাম অবস্থায় মহিলারা নেকাবও পরবে না, আবার হাত মোজাও পরবে না।” সহীহ বুখারি: ১৭৪১ কিন্তু যদি অপরিচিত পুরুষ মহিলাদের পাশ দিয়ে যায়, তবে মাথার ওড়না দ্বারা মুখ ঢেকে রাখতে হবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “পুরুষরা আমাদের পাশ দিয়ে যেত যখন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম, তখন আমাদের নিকটবর্তী হলে আমাদের প্রত্যেকে মাথার ওড়না মুখের উপর দিতাম। যখন তারা আমাদের পাশ দিয়ে চলে যেত, তখন আবার মুখের থেকে কাপড় সরিয়ে নিতাম।”
৩- ইহরাম অবস্থায় মহিলারা সুগন্ধিযুক্ত কাপড় ব্যবহার করতে পারবে না। 'আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা ইহরাম অবস্থায় বলেন, “ঠোঁটের ওপর কোনো কাপড় দেবে না, নেকাব পরবে না এবং যে কাপড়ে জাফরান ও ওয়ার্স (এক ধরনের সুগন্ধি) লেগে আছে, সে কাপড় পরিধান করবে না।”
৪- ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য যেকোনো রঙের পোশাক পরা জায়েয আছে। যেমন, কালো, লাল, সবুজ, হলুদ ইত্যাদি। অন্য রঙের চেয়ে সবুজ বা সাদা রঙের কোনো বিশেষত্ব নেই।
৫- ইহরাম অবস্থায় মহিলারা তাদের কাপড় বদলিয়ে পরিষ্কার অন্য কোনো কাপড় পরতে পারবে।
৬- ইহরাম অবস্থায় যদি কোনো মহিলা ভুলে অথবা অজ্ঞাতবশত নেকাব পরে, তবে তার ওপর কোনো কাফ্ফারা নেই এবং তার হজ বা উমরাহ সঠিক হবে। কেননা, কাফ্ফারা শুধুমাত্র ঐ ব্যক্তির জন্য, যে হুকুম জানার পরও নিষিদ্ধ কাজে হাত দেয়।
৭- ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য পা-মোজা পরা জায়েয আছে। বরং তা উত্তম। কেননা এর দ্বারা তার পা ঢেকে রাখা যাবে।
টিকাঃ
২১. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৮৩৩।
২২. সহীহ বুখারী ২/৫৫৯।
📄 মহিলা হাজী সাহেবারা কীভাবে হজ এবং উমরাহ সম্পন্ন করবেন
এতে তিনটি বিষয় আলোচনা করা হবে। আর তা হল:
এক. তামাতু হাজী সাহেবাদের জন্য বিস্তারিত পদক্ষেপসমূহ।
দুই. তামাতু হাজী সাহেবাদের জন্য সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট নকশা।
তিন, কিরান ও ইফরাদ হাজী সাহেবাদের জন্য সংক্ষিপ্ত নকশা।
এক. তামাতু' হাজী সাহেবাদের জন্য বিস্তারিত পদক্ষেপসমূহ:
এটা স্বীকৃত কথা যে, যে ব্যক্তি হাদী সাথে নিয়ে আসে নি তার জন্য সবচেয়ে উত্তম হজ হলো, তামাতু হজ। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা করার জন্য সাহাবায়ে কেরামকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "যদি আমি পিছনে যা করে এসেছি তা নতুন করে করতাম তবে আমি 'হাদী' নিয়ে আসতাম না।' অর্থাৎ যদি আমি এখন যা দেখছি তা আগে দেখতাম এবং আমার আবার নতুনকরে কাজ শুরু করার সুযোগ থাকত তবে আমি কিরান হজ না করে তামাত্তু হজ করতাম। এবং হজ ও উমরার মাঝখানে ইহরাম ছেড়ে হালাল হয়ে যেতাম।
টিকাঃ
২৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৬৮ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১৬