📄 মহিলাদের হজের গুরুত্ব
মহিলাদের হজের গুরুত্ব পুরুষদের থেকে আলাদা। কারণ, তা তাদের জন্য জেহাদের সমতুল্য। হাদীসে এসেছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো দেখছি জিহাদই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল, তাহলে আমরা (নারীরা) জিহাদ করব না কেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন: "তোমাদের জন্য মাবরুর হজই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ জিহাদ”।
এ হাদীস থেকে আমরা মহিলাদের জন্য হজের আলাদা গুরুত্ব বুঝতে পারি। এটি ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হওয়ার পাশাপাশি মহিলাদের জন্য জিহাদ। সুতরাং যে মহিলা হজের জন্য বের হয়েছেন সে হাজী সাহেবাকে আমরা আমাদের অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ এমন অনেক মহিলা আছে যাদের ওপর হজ ফরয হয়েছে অথচ তারা তা জানে না। আবার এমন অনেক মহিলাও আছেন যাদের ওপর হজ ফরয হওয়ার পরে তা করতে গড়িমসি করতে করতে অপারগ অবস্থায় উপনীত হয়েছে। এরা অবশ্যই গুনাহগার হবে। আপনাকে আল্লাহ তার আনুগত্যের জন্য বাছাই করে নিয়েছেন সে জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন এবং বলুন: আল-হামদুলিল্লাহ।
টিকাঃ
৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫২০।
📄 হজের শর্তসমূহ
অন্যান্য এবাদতের মতো হজেরও কিছু শর্ত রয়েছে, তন্মধ্যে এমন কিছু শর্ত রয়েছে যা না পাওয়া গেলে হজ শুদ্ধই হবে না। যেমন,
1- মুসলিম হওয়া।
2- বিবেকবান হওয়া।
এ ছাড়া আরো কিছু শর্ত রয়েছে যা হজ ফরয হওয়ার জন্য শর্ত। শুদ্ধ হওয়ার জন্য নয়। যেমন,
3- বালেগ হওয়া। যদি কোনো শিশু হজ করে তবে তা তার নিজের ফরয হজ হিসেবে আদায় হবে না।
4- স্বাধীন হওয়া। দাসের ওপর হজ করা ফরয নয়। কিন্তু যদি কোনো দাস হজ করে তবে তা শুদ্ধ হবে। এ শর্তগুলোর ক্ষেত্রে নারী পুরুষ সমান।
5- মক্কায় যাওয়ার ক্ষমতা থাকা।
📄 আর্থিক সংগতি বলতে কী বুঝায়? তার পরিমাণ কত?
যদি কেউ ঋণ পরিশোধ করা, যাদের খাবার দেওয়া তার ওপর ওয়াজিব তাদের খাবার দেওয়া, নিজের অত্যাবশ্যক সামগ্রী যেমন, খাবার, পানীয়, পরিধেয়, বাসস্থান ও এতদসংক্রান্ত অতি প্রয়োজনীয় বস্তু যেমন বাহন, বইপত্র ইত্যাদির বাইরে হজে যাওয়া আসা করা এবং সেখানে খরচ করার মত সম্পদ থাকে তবে সে অবশ্যই হজের জন্য ক্ষমতাবান। তাকে হজ করতে হবে। আর এটাই শরী'আতের দৃষ্টিতে আর্থিক সংগতি ধরা হবে। এর পরিমাণ সময়, কাল, অবস্থা ও ব্যক্তির ভিন্ন হওয়া সাপেক্ষে ভিন্ন ভিন্ন হতে বাধ্য।
📄 মাহরাম কারা?
এখানে মাহরাম তারাই যাদের সাথে বিয়ে হওয়া স্থায়ীভাবে হারাম। তারা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
এক. বংশীয় মাহরাম।
দুই. দুধ খাওয়াজনিত মাহরাম।
তিন. বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে মাহরাম।