📘 নারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি বৈধ > 📄 কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

📄 কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর


(১) যদি কোন মেয়ে তার অভিভাবকের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়া বিয়ে করে ফেলে তাহলে এখন সে কি করবে?
উত্তর: প্রথমত, সে মেয়ে ছেলের সাথে আর ছেলে মেয়ের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করবে। দ্বিতীয়ত, এ অবৈধ সম্পর্কের জন্য আল্লাহর দরবারে অনুতপ্ত হয়ে তাওবাহ্ করবে, ক্ষমা প্রার্থনা করবে। তৃতীয়ত, সে মেয়ে তার বৈধ অভিভাবককে বিষয়টি অবহিত করবে। চতুর্থত, যদি অভিভাবক বিয়েতে সম্মতি প্রদান করে তাহলে নতুন করে তারা বিয়ে করবে।
(২) বর্তমানে ছেলে এবং মেয়ে অভিভাবককে না-জানিয়ে তার সম্মতি ছাড়াই কোর্টে গিয়ে বিয়ে করছে (যাকে কোর্ট ম্যারিজ বলা হচ্ছে) এ বিয়ে কি বৈধ?
উত্তর : এ বিয়ে বৈধ নয়। এ বিয়েও বাতিল। কারণ এটিও অভিভাবকহীন বিয়ে। অর্থাৎ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কাজির নিকট গিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করা হোক আর কোর্টে গিয়ে রেজিস্ট্রি করা হোক অথবা কোন আলেমের নিকট গিয়ে বিয়ে পড়িয়ে নেয়া হোক, এসব বিয়ে যেহেতু অভিভাবকহীন বিয়ে সেহেতু এসব বিয়ে বাতিল। এ সব বিয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
(৩) কোন কোন ব্যক্তি মেয়ের অভিভাবক হওয়ার যোগ্য?
নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ ধারাবাহিকভাবে মেয়ের অভিভাব হতে পারবেন:
(১) মেয়ের পিতা (২) পিতার পক্ষ থেকে অসিয়্যাতের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি। (৩) মেয়ের দাদা (নানা নয়, কারণ মায়ের পক্ষের কোন ব্যক্তি অভিভাবক হতে পারে না) (৪) প্রস্তাবিতা মহিলার ছেলে (যদি থাকে) (৫) প্রস্তাবিতা মহিলার ছেলের ছেলে (৬) প্রস্তাবিতা মেয়ের আপন ভাই (৭) প্রস্তাবিতা মেয়ের পিতার পক্ষের ভাই (৮) মেয়ের আপন চাচা (৯) মেয়ের পিতার পক্ষের চাচা (১০) আট এবং নয় নম্বরে উল্লেখিত চাচাদের ছেলেরা (১১) অতঃপর যারা প্রস্তাবিতা মেয়ের পিতার দিকের নিকট আত্মীয় স্বজন (১২) উপরোক্ত কোন অভিভাবক না থাকলে শাসক অথবা ইসলামী রাষ্ট্রের সরকারী দায়িত্বশীল ব্যক্তি অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করবেন (বর্তমানে আমাদের দেশে স্থানীয় গ্রাম্য সৎ মাতাব্বরের উপর দায়িত্ব বর্তাতে পারে)।
(৪) অভিভাবক কর্তৃক কোন মেয়ের অনুমতি ছাড়ায় বিয়ে দেয়া হলে সে বিয়ের ব্যাপারে শর'ঈ বিধান কি?
যেমন কোন মেয়ে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করতে পারে না তেমনিভাবে কোন অভিভাবক মেয়ের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াও বিয়ে দিতে পারবে না। এর প্রমাণ উপরে আলোচিত মেয়ের সম্মতি বা অনুমতি গ্রহণ সংক্রান্ত হাদীসগুলো। আর যদি কোন মেয়ের অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিয়ে দেয়া হয় এমতাবস্থায় যে, সে মেয়ে বিয়েতে রাজি ছিল না। তাহলে সে মেয়ের এ বিয়ে ঠিক রাখার অথবা শাসক বা বিচারকের দারস্থ হয়ে তার মাধ্যমে বিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ বিয়ে ঠিক রাখা অথবা ভেঙ্গে দেয়ার তার স্বাধীনতা রয়েছে। কারণ, রসূল (ﷺ) মেয়ের অনুমতি ছাড়া সংঘটিত বিয়ে মেয়ের আপত্তির কারণে ভেঙ্গে দিয়েছিলেন। [দেখুন: বুখারী (৬৯৬৯)]।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00