📘 নারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি বৈধ > 📄 আসুন আমরা “আল-আইয়েমু” শব্দের ব্যাখ্যা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানি

📄 আসুন আমরা “আল-আইয়েমু” শব্দের ব্যাখ্যা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানি


قال الفيومي في المصباح ( ص ۱۳ ) : " الأيم " : العرب : رجلا كان أو امرأة ، قال الصنعاني : وسواء تزوج من قبل أو لم يتزوج فيقال : رجل أيم وامرأة أيم ..
وقال ابن السكيت أيضاً : فلانة أيم إذا لم يكن لها زوج بكراً كانت أو ثيباً ، ويقال أيضاً : أيمة للأنثى ...
আল-ফায়ূমী “আল-মিসবাহ্” গ্রন্থে (পৃ ১৩) বলেন: "আল-আইয়েমু" শব্দের অর্থ অবিবাহিত নারী অথবা পুরুষ। সন'আনী বলেনঃ পূর্বে বিয়ে হয়ে থাক অথবা পূর্বে বিয়ে না হয়ে থাক এরূপ পুরুষকে 'রাজুলুন আইয়েমুন' আর নারীকে 'ইমরাআতুন আইয়েমুন' বলা হয়।
ইবনুস সিক্কীতও বলেন: যখন কোন নারীর স্বামী থাকে না চাই সে পূর্ব বিবাহিতা হোক কিংবা কুমারী যুবতী হোক তখন তাকে বলা হয়ঃ অমুক নারী আইয়েম এবং আইয়েমাহ্-ও বলা হয়।
وتأيم : مكث زماناً لا يتزوج ، والحرب مأيمة ؛ لأن الرجال تقتل فيها فتبقى النساء بلا أزواج ، ورجل أيمان ماتت امرأته ، وامرأة أيمى مات زوجها ، والجمع فيهما أيامي .
আরবী পরিভাষায় বলা হয় : 'তাআইয়‍্যামা' : অর্থাৎ সে কিছু সময়কাল অপেক্ষায় আছে, বিয়ে করেনি। বলা হয় "আল-হারবু মাআইয়‍্যামাহ্' কারণ যুদ্ধে পুরুষদেরকে হত্যা করা হয় ফলে নারীরা স্বামী বিহীন অবস্থায় রয়ে যায়। যে ব্যক্তির স্ত্রী মারা গেছে তাকে 'রাজুলুন আয়মান' বলা হয় আর যে নারীর স্বামী মারা গেছে তাকে 'ইমরাআতুন আয়মা' বলা হয়। এ ক্ষেত্রে শব্দটির বহুবচন আসে 'আইয়‍্যামা'।
وقال السندي في حاشيته (٨٤/٦) : " الأيم، بفتح، فتشديد تحتية مكسورة في الأصل : من لا زوج لها بكراً كانت أو ثيباً.
সিন্দী তার "হাশিয়‍্যাহ্” তে (৬/৮৪) বলেন: 'আল-আইয়েমু' আসলে সেই নারীকে বলা হয় যার স্বামী নেই সে কুমারী যুবতী নারী হোক অথবা পূর্ব বিবাহিতা বিধবা নারী হোক।
وقال الزرقاني : في شرحه على الموطأ ( ١٦٤/٣) : " الأيم " بكسر التحتية لغة : من لا زوج له رجلاً كان أو امرأة ، بكراً أو ثيباً ".
যারকানী "শারহুল মুওয়াত্তা” গ্রন্থে (৩/১৬৪) বলেন: 'আল-আইয়েমু" সেই ব্যক্তিকে বলা হয় যার স্ত্রী নেই (অথবা স্বামী নেই) পুরুষ হোক কিংবা নারী, কুমারী যুবতী নারী হোক কিংবা বিধবা নারী হোক।
وأمت المرأة إذا مات عنها زوجها أو قتل وأقامت لا تتزوج يقال امرأة أيم وقد تأيمت إذا كانت بغير زوج وقيل ذلك إذا كان لها زوج فمات عنها وهي تصلح للأزواج.
ইবনুল মুনযূর আফরীকী "লিসানুল আরাব” গ্রন্থে বলেন: যখন কোন মহিলার স্বামী মারা যায় অথবা তাকে হত্যা করা হয় এবং সে নারী বিয়ে না করে অবস্থান করে তখন তার ক্ষেত্রে বলা হয় 'আমাতিল মারআতু'। যখন কোন নারী স্বামী ছাড়া থাকে তখন তাকে امرأة أَيَّم আইয়েম মহিলা বলা হয়। আর তা এ কারণেই বলা হয় যে, তার স্বামী ছিল কিন্তু সে তাকে রেখে মারা গেছে। এ অবস্থায় সে (অন্যের সাথে) বিয়ের উপযুক্ত।
وفي الحديث امرأة أمت من زوجها ذات منصب وجمال أي صارَتْ أَيماً لا زوج لها.
ইবনুল মানযূর আরো বলেন: হাদীসের মধ্যে এসেছে: সুন্দরের অধিকারী সম্ভ্রান্ত এক মহিলা তার স্বামী থেকে বিধবা হয়ে গেছে, 'আইয়েম' হয়ে গেছে অর্থাৎ এরূপ হয়ে গেছে যে, তার স্বামী নেই।
ومنه حديث حفصة أنها تأيمت من حُنَيْس زَوْجِها قبل النبي ﷺ.
ইবনুল মানযূর আরো বলেন: আব্দুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের মধ্যে এসেছে যে হাফসা বিনতু উমার (রাঃ)-এর নাবী (ﷺ)-এর সাথে বিয়ে হওয়ার পূর্বে তার স্বামী খুনায়েস ইবনু হুযাফাহ্ থেকে (মারা যাওয়ার কারণে) 'তাআইয়্যামাত' অর্থাৎ বিধবা হয়ে যায়। [এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ্ দেখুন "সহীহ্ নাসাঈ" (৩২৪৮, ৩২৫৯)]।
وفي التنزيل العزيز وأنكحوا الأيامى منكم دخل فيه الذكر والأنثى والبكر والثيب وقيل في تفسيره الحرائر وقول النبي ﷺ الأيمُ أَحَقُّ بنفسها فهذه الثيب لا غير.
আরবী ভাষা পণ্ডিত ইবনুল মানযূর আরো বলেন: কুরআনের মধ্যে এসেছেঃ )وأنكحوا لأيامى منکم( এখানে 'আল-আইয়ামা' শব্দের মধ্যে পুরুষ, মহিলা, কুমারী যুবতী, পূর্বে বিবাহিতা বিধবাও অন্তর্ভুক্ত। এর তাফসীরে কেউ কেউ বলেছেন: এর দ্বারা (দাসী নয়) স্বাধীনদেরকে বুঝানো হয়েছে। আর আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর বাণী : )الأم أحق بنفسها( এর মধ্যে 'আল-আইয়েমু' দ্বারা বিধবা নারীকে বুঝানো হয়েছে অন্য কিছু বুঝানো হয়নি। [দেখুন "লিসানুল আরাব" 'আল-আইয়েম' শব্দের ব্যাখ্যা।
পাঠকবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলছি: 'আল-আইয়েমু' শব্দের ব্যাখ্যা দেয়ার কারণ, যারা বলছেন যে এ শব্দের দ্বারা পূর্ব বিবাহিতা বিধবা নারী এবং প্রাপ্তা বয়স্কা কুমারী উভয়কেই বুঝানো হয়ে থাকে। অতএব উভয়েই তাদের নিজেদের ব্যাপারে অভিভাবকের চেয়ে বিয়ের ব্যাপারে বেশী হক্বদার।
কিন্তু উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, 'আল-আইয়েম' দ্বারা কেউ কেউ বিধবা অথবা কুমারী যুবতী নারী উভয়কেই বুঝিয়েছেন আবার কেউ কেউ শুধুমাত্র পূর্ব বিবাহিতা বিধবা নারীকেই বুঝিয়েছেন আবার কেউ কেউ অবিবাহিত পুরুষকেও বুঝিয়েছেন। যাই হোক যদি এর দ্বারা উভয়কেই বুঝানো হয় তাহলে যখন একই হাদীসের মধ্যে কুমারী যুবতী নারীর বিষয়টি হাদীসের শেষাংশে পৃথকভাবে এসেছে তখন প্রথম অংশে অবশ্যই পূর্ব বিবাহিতা বিধবা নারীকেই বুঝানো হয়েছে এবং তাই বুঝতে হবে। অন্যথায় হাদীসের অপব্যাখ্যা করা হবে আর আরবী ভাষায় যে অর্থে 'আল-আইয়েমু' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে সেটিকেও এড়িয়ে যাওয়া হবে। কারণ 'আল-আইয়েমু' শব্দটি একই সাথে বিধবা এবং কুমারী যুবতী নারী উভয়কেই বুঝায় না। কারণ যদি এরূপ হতো তাহলে একজন নারীকেই একই সাথে বিধবা এবং কুমারী যুবতী নারী হিসেবে গণ্য করা অপরিহার্য হয়ে পড়তো, যা কোনক্রমেই হতে পারে না এবং বিবেক সম্পন্ন কোন ব্যক্তিও এরূপ বলতে পারেন না। আবার হাদীসের প্রথম অংশ দ্বারা যদি যুবতী কুমারী মেয়ে আর বিধবা উভয়কেই বুঝানো হয় তাহলে দ্বিতীয় অংশ অর্থহীন হয়ে যায়। অথচ রসূল (ﷺ) অর্থহীন বেকার কথা বলতে পারেন না।
এছাড়া নাসা'ঈতে বর্ণিত উপরোক্ত সহীহ্ হাদীসে শুধুমাত্র পূর্ব বিবাহিতা বিধবা নারীকেই 'আল-আইয়েমু' বলা হয়েছে। অতএব আলোচ্য হাদীসের মধ্যে যারা 'আল-আইয়েমু' দ্বারা বিধবা এবং কুমারী যুবতী উভয়কেই বুঝাতে চেয়েছেন তাদের সিদ্ধান্ত निःসন্দেহে ভুল। বরং সে হাদীসে 'আল-আইয়েমু' দ্বারা শুধুমাত্র বিধবা নারীকেই যে বুঝানো হয়েছে এটিই সঠিক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00