📘 নারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি বৈধ > 📄 এ মতের স্বপক্ষের দলীলগুলো উল্লেখ পূর্বক সংক্ষেপে তাদের ব্যাখ্যাগুলো খণ্ডন করা হলো

📄 এ মতের স্বপক্ষের দলীলগুলো উল্লেখ পূর্বক সংক্ষেপে তাদের ব্যাখ্যাগুলো খণ্ডন করা হলো


قال الترمذي : وَقَدْ احْتَجَّ بَعْضُ النَّاسِ فِي إِجَازَةِ النِّكَاحِ بِغَيْرِ وَلِي بحديث ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ (ﷺ) قَالَ : ((الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا، وَالْبِكْرُ تُستَأْذَنُ فِي نَفْسِهَا، وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا، وَلَيْسَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ مَا احْتَجُوا بِهِ، لِأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ (ﷺ) : ((لَا نِكَاحَ إِلَّا بِولي))، وَهَكَذَا أَفْتَى بِهِ ابْنُ عَبَّاسٍ بَعْدَ النَّبِيِّ (ﷺ) فَقَالَ: ((لَا نِكَاحَ إِلَّا بِولي))، وَإِنَّمَا مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ (ﷺ) : ((الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيْهَا)) عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْم أَنَّ الْوَلِيَّ لَا يُزَوِّجُهَا إِلَّا بِرِضَاهَا وَأَمْرِهَا، فَإِنْ زَوَّجَهَا فَالنِّكَاحُ مَفْسُوح.
ইমাম তিরমিযী বলেন: কোন কোন মানুষ অভিভাবক ছাড়াই বিয়ে হয়ে যাওয়ার স্বপক্ষে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন, রসূল (ﷺ) বলেন: "বিধবা নারী তার নিজের ব্যাপারে তার অভিভাকের চেয়ে বেশী হক্বদার। আর কুমারী [অবিবাহিতা] নারী থেকে (বিয়ের) সম্মতিমুলক অনুমতি গ্রহণ করতে হবে আর তার চুপ থাকাই হচ্ছে তার সম্মতি।” [মুসলিম (১৪২১), তিরমিযী (১১০৮), নাসাঈ (৩২৬০, ৩২৬১), আবূ দাউদ (২০৯৮), আহমাদ (১৮৯১)]।
এ হাদীসের প্রথম অংশ (الْأَيمُ أَحَقُّ بنفسها من وليها) দ্বারা এ মতের অনুসারীগণ দলীল গ্রহণ করে বুঝাতে চেয়েছেন যে, এখানে উল্লেখিত "আল-আইয়েম" দ্বারা বিধবা এবং কুমারী যুবতী নারী উভয়কেই বুঝানো হয়েছে (যাদের স্বামী নেই) এবং এ শ্রেণীর প্রাপ্তা বয়স্কা মেয়ের ক্ষেত্রে সে নিজেই নিজের ব্যাপারে তার অভিভাবকের চেয়ে বেশী হক্বদার। অতএব সে তার বিয়ের ব্যাপারে অভিভাবক ছাড়াই বিয়ে করতে পারবে। এ মতের স্বপক্ষে সর্বাপেক্ষা বেশী শক্তিশালী দলীল হচ্ছে এটিই।
ইমাম তিরমিযী বলেন: কিন্তু এ হাদীসের মধ্যে যে উদ্দেশ্যে তারা দলীল গ্রহণ করেছেন তা নেই। কারণ এ হাদীসের বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি নাবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেনঃ "অভিভাবক ব্যতীত বিয়েই হয় না।" আর নাবী (ﷺ)-এর পরে ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ ফাতওয়াই প্রদান করতেন। কারণ, বিদ্বানদের নিকট নাবী (ﷺ)-এর )) الْأَيْمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلَيْهَا(( এ বাণীর অর্থ হচ্ছে এই যে, অভিভাবক বিধবা নারীর বিয়ে তার (শাব্দিক) সম্মতি এবং নির্দেশনা ব্যতীত দিবে না। যদি তার শাব্দিক সম্মতি ছাড়া বিয়ে প্রদান করে তাহলে তা ভঙ্গযোগ্য।
قَالَ الْحَافِظُ فِي الْفَتْحِ : حَدِيثُ عَائِشَةَ " أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلَيْهَا فَنَكَاحُهَا بَاطِلٌ " حَدِيثٌ صَحِيحٌ ، وَهُوَ يُبَيِّنُ أَنَّ مَعْنَى قَوْلِهِ (أَحَقُّ بنَفْسِهَا مِنْ وَلَيْهَا) : أَنَّهُ لَا يَنْفُذُ عَلَيْهَا أَمْرُهُ بِغَيْرِ إِذْنِهَا ، وَلَا يُخْبِرُهَا ، فَإِذَا أَرَادَتْ أَنْ تَزَوَّجَ لَمْ يَجُزُ لَهَا إِلَّا بِإِذْنِ وَلِيْهَا . انْتَهَى كَلَامُ الْحَافِظ .
হাফিয ইবনু হাজার "ফতহুল বারী" গ্রন্থে বলেন: আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত "যে নারীই তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করবে তার বিয়ে বাতিল ..." এ হাদীসটি সহীহ্। আর এটি নিম্নের হাদীসের ভাবার্থকে "নারী তার নিজের ব্যাপারে তার অভিভাবকের চেয়ে বেশী অধিকার রাখে" এভাবে ব্যাখ্যা করছে যে, অভিভাবক তার নিজের সিদ্ধান্ত মেয়ের প্রতি তার সম্মতি ব্যতীত বাস্তবায়ন করতে পারবে না এবং তাকে বাধ্য করতেও পারবে না। আর নারী যদি বিয়ে করার ইচ্ছা পোষণ করে তাহলে তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত তার জন্য বিয়ে করা জায়েয হবে না।
এ হাদীসের প্রথম অংশে উল্লেখিত "আল-আইয়্যেমু" দ্বারা কি বিধবা নারী এবং কুমারী যুবতী নারী উভয়কেই বুঝানো হয়েছে? নাকি শুধুমাত্র পূর্ব বিবাহিতা বিধবা নারীকেই বুঝানো হয়েছে?
আসুন! এ প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিত জানার সাথে সাথে আমরা আরো জানি, এ মতের অনুসারীগণ উক্ত হাদীসের প্রথম অংশ থেকে যেভাবে দলীল গ্রহণ করেছেন এর গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু এবং তাদের ব্যাখ্যা সঠিক নাকি বেঠিক?
দুঃখজনক হলেও সত্য যে এ মতের অনুসারীগণ উক্ত হাদীসের প্রথমাংশ দ্বারা তাদের মতের স্বপক্ষে দলীল গ্রহণ করলেও শেষাংশটি নিয়ে আলোচনা করেননি কিংবা শেষাংশটি এড়িয়ে গেছেন। অথচ আল-আইয়েমু' দ্বারা যে বিধবাকেই বুঝানো হয়েছে তার প্রমাণ বহন করছে হাদীসটির শেষাংশ: (وَالْبَكْرُ تُسْتَأْذَنُ في نَفْسِهَا، وَإِذْنُهَا صُمَاتُها) "আর কুমারী [অবিবাহিতা] নারী থেকে (বিয়ের) সম্মতিমুলক অনুমতি গ্রহণ করতে হবে আর তার চুপ থাকায় হচ্ছে তার সম্মতি" এখানে কুমারী যুবতীকে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার থেকে সম্মতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে এবং বলে দেয়া হয়েছে যে, তার চুপ থাকায় তার সম্মতির আলামত। আর হাদীসের শেষাংশে যদি কুমারী যুবতীর কথা বলা না হতো তাহলে প্রথম অংশের 'আল-আইয়েমু' দ্বারা বিধবা আর কুমারী যুবতী উভয়কেই বুঝানো হয়েছে কথাটি গ্রহণযোগ্য হতো। এর পরেও যদি বলা হয় যে, 'আল-আইয়েমু' দ্বারা বিধবা এবং কুমারী যুবতী উভয়কেই বুঝানো হয়েছে তাহলে বলতে হবে যে, হাদীসটির শেষাংশটি অর্থহীন, বাড়তি এবং অতিরিক্ত কথা। কিন্তু রসূল (ﷺ) কি অর্থহীন বেকার বা বাড়তি কথা বলতে পারেন? কোনক্রমেই তিনি অর্থহীন কথা বলতে পারেন না।
অতএব প্রথম অংশ দ্বারা পূর্বে বিবাহিতা বিধবা নারীকেই বুঝতে হবে এবং এও বুঝতে হবে যে, সে নিজে নিজের অভিভাবক নয় বরং বিয়েতে সম্মত আছে কিনা সে এ সিদ্ধান্ত দেয়ার বেশী অধিকার রাখে এবং সে স্পষ্ট ভাষায় হাঁ অথবা না বলার অধিকার রাখে। অর্থাৎ সম্মত থাকলে স্পষ্ট ভাষাতেই তাকে হাঁ বলতে হবে আর সম্মত না থাকলে স্পষ্ট ভাষাতেই তাকে না বলতে হবে। যা কুমারী যুবতী নারীর বিপরীত, কারণ তার সম্মতি মিলবে তার চুপ থাকার মাঝেই, তার ক্ষেত্রে স্পষ্ট ভাষায় বলার প্রয়োজন পড়বে না। এভাবে হাদীসটি সম্পূর্ণ না করে শুধুমাত্র প্রথম অংশ দ্বারা নিজ মতের স্বপক্ষে সন্দেহমূলকভাবে দলীল দেয়া ইসলামী শারী'য়াত সমর্থন করে না।
সন্দেহমূলকভাবে কথাটি এ কারণে বললাম যে, ) الْأَيْمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلَيْهَا( এ বাক্য থেকে কিন্তু স্পষ্টভাবে বুঝা যায় না যে, প্রাপ্তা বয়স্কা মেয়ে চাই সে পূর্ব বিবাহিতা হোক কিংবা কুমারী হোক সে তার অভিভাবকের চেয়ে নিজে নিজের বিয়ে দেয়ার ব্যাপারে অভিভাবক হওয়ার বেশী হকদার! যা বুঝা যায় তা হচ্ছে এই যে, তার অভিভাবকের চেয়ে নিজের ব্যাপারে নিজেই বেশী হকদ্বার।
কিন্তু প্রশ্ন আসে কিসের ক্ষেত্রে, তার অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে, নাকি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্পষ্ট ভাষায় তা প্রকাশের ক্ষেত্রে বেশী হক্কদার? কারণ শেষাংশে কুমারী যুবতী নারীর ক্ষেত্রে তার চুপ থাকাকেই সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অতএব শেষাংশে যেহেতু চুপ থাকাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে সেহেতু প্রথম অংশে চুপ থাকা নয় বরং স্পষ্ট ভাষায় জানানোকেই বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ বিধবা নারীর স্পষ্ট ভাষায় হাঁ অথবা না করার অধিকার অভিভাবকের চেয়ে বেশী।
উল্লেখ্য পূর্ব বিবাহিতা বিধবা নারী দু'টি ক্ষেত্রে অভিভাবকের চেয়ে নিজের ব্যাপারে বেশী হক (অধিকার) রাখে। একটি হচ্ছে বিয়ে করবে কিনা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে স্পষ্ট ভাষায় হাঁ অথবা না করার ক্ষেত্রে। এ ধরনের মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার অভিভাবকের চেয়ে বেশী হলেও আক্বদ সম্পন্ন করবেন তার অভিভাবক কিংবা অভিভাবক অন্য যাকে আক্বদ সম্পন্ন করার দায়িত্ব প্রদান করবেন তিনি। অর্থাৎ অভিভাবককে না জানিয়ে এবং তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে করতে পারবে না।
আর দ্বিতীয় শ্রেণীর কুমারী যুবতী নারীর বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে অভিভাবক। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অভিভাবক তার নিকট থেকে সম্মতি গ্রহণ করবে আর তার চুপ থাকাটায় হচ্ছে তার সম্মতি। এর ক্ষেত্রেও আক্বদ সম্পন্ন করবেন অভিভাবক কিংবা তিনি যাকে দায়িত্ব প্রদান করবেন।
উল্লেখ্য অভিভাবক কুমারী যুবতী মেয়ে অথবা কোন বিধবার বিয়ে সম্মতি না নিয়েই দিয়ে দিলে সে মেয়ে বা মহিলা শাসকের দ্বারস্থ হয়ে সে বিয়ে বাতিল করার অধিকার রাখে। এ মর্মে সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হওয়ার কারণে। অতএব মেয়ের সম্মতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
পাঠকবৃন্দ! উপরোক্ত "আল-আইয়্যেমু" শব্দ সম্বলিত হাদীসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসটি নিম্নোক্ত অধ্যায়ের মধ্যে উল্লেখ করেছেন : باب استئذان الشيب في النكاح بالنطق والبكر بالسكوت (বাব ইসতিইযানিস সায়্যিবে ফিন নিকাহে বিন-নুতকি অল-বিকরে বিসসুকূতে) অর্থাৎ বিয়ের ক্ষেত্রে বিধবা নারীর স্বশব্দে সম্মতি গ্রহণ আর কুমারী যুবতীর চুপ থাকার মাধ্যমে সম্মতি গ্রহণের অধ্যায়।' এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, ইমাম মুসলিম যিনি হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তিনিও কিন্তু উক্ত হাদীসে উল্লেখিত 'আল-আইয়্যেমু' শব্দ দ্বারা শুধুমাত্র বিধবা নারীকেই বুঝেছিলেন এবং "বিধবা (আল-আইয়্যেমু) নারী তার নিজের ব্যাপারে তার অভিভাকের চেয়ে বেশী হক্বদার" এ ভাষা হতে বিধবা নারী থেকে স্বশব্দে সম্মতি গ্রহণ করতে হবে এ ভাবার্থই বুঝেছিলেন। তিনি আল-আইয়্যেমু (বিধবা) নারী নিজে নিজের বিয়ে দিতে পারবে এরূপ ভাবার্থ বুঝেননি। অন্যথাই তিনি এভাবে অধ্যায় রচনা করতেন না।
এছাড়া "বিধবা (আল-আইয়্যেমু) নারী তার নিজের ব্যাপারে তার অভিভাকের চেয়ে বেশী হক্কদার" এ হাদীসের মধ্যে 'আল-আইয়্যেমু' দ্বারা যে শুধুমাত্র বিধবা নারীকেই বুঝানো হয়েছে তার প্রমাণ বহন করছে ইমাম মুসলিম কর্তৃক একই অধ্যায়ে উল্লেখিত অনুরূপ ভাষার আরেকটি হাদীস যাতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছেঃ
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الثَّيِّبُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلَيْهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْمَرُ وَإِذْنُهَا سُكُوتُهَا.
আব্দুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, নাবী (ﷺ) বলেন : বিধবা (আস-সাইয়্যেব) নারী তার নিজের ব্যাপারে তার অভিভাবকের চেয়ে বেশী হক্বদার। আর কুমারী যুবতী নারী থেকে সম্মতি গ্রহণ করতে হবে আর তার চুপ থাকায় হচ্ছে তার সম্মতি। [মুসলিম (১৪২১) ও নাসাঈ (৩২৬৪)]। অতএব উক্ত অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীসের মধ্যে 'আল-আইয়্যেমু' দ্বারা যে 'আস-সাইয়্যেব'-কেই (বিধবাকেই) বুঝনো হয়েছে পরের হাদীসটি তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
দেখুন অন্য হাদীসেও 'আল-আইয়েমু' শব্দ উল্লেখ করে এর দ্বারা শুধুমাত্র "আস-সাইয়্যেব” অর্থাৎ বিধবা নারীকেই বুঝানো হয়েছে:
ইমাম বুখারী ও মুসলিম প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন:
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لَا تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ إِذْنُهَا قَالَ أَنْ تسكت.
আবূ সালামাহ্ হতে বর্ণিত হয়েছে, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) তাদেরকে হাদীস বর্ণনা করে শুনিয়েছেন যে, রসূল (ﷺ) বলেছেন: আল-আইয়্যেমু (বিধবা) নারীর সাথে পরামর্শ করা ব্যতীত তার বিয়ে দেয়া যাবে না আর কুমারী যুবতী নারীর সম্মতি গ্রহণ ব্যতীত তারও বিয়ে দেয়া যাবে না। তারা (সহাবীগণ) বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! কুমারী নারীর সম্মতি কিরূপ হবে? তিনি বললেন: তার চুপ থাকা।" [হাদীসটি বুখারী (৫১৩৬, ৬৯৭০), মুসলিম (১৪১৯), নাসাঈ (৩২৬৭) ও আহমাদ (৯৩২২) বর্ণনা করেছেন]।
এখানে এ হাদীসের মধ্যে 'আল-আইয়েমু'-কে তার সাথে পরামর্শ করা ব্যতীত বিয়ে দিতে নিষেধ করা হয়েছে এবং সম্বোধনটা অভিভাবককেই করা হয়েছে। অতএব পূর্বের হাদীসে উল্লেখিত 'আল-আইয়েমু' দ্বারাও বিধবাকেই বুঝতে হবে এবং তার সাথে পরামর্শ করে তার মৌখিক সম্মতিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। সে রাজি থাকলে বিয়ে হবে, না থাকলে হবে না। এর ভাবার্থ এ নয় যে, কুমারী যুবতীর সম্মতি ছাড়াই বিয়ে দেয়া যাবে, প্রার্থক্য শুধুমাত্র সম্মতির ধরণের ক্ষেত্রে। কারণ, এর ক্ষেত্রে চুপ থাকাটাই সম্মতির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু বিধবার ক্ষেত্রে চুপ থাকাটা সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে না বরং তার মুখ থেকে স্বশব্দে তার সিদ্ধান্ত জানতে হবে। আরেক হাদীসে এসেছে:
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَيْسَ لِلْوَلِيِّ مَعَ التَّيْبِ أَمْرُ وَالْيَتِيمَةُ تُسْتَأْمَرُ وَصَمْتُهَا إِقْرَارُهَا .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে রসূল (ﷺ) বলেছেন: "বিধবা নারীর ক্ষেত্রে অভিভাবকের কোন সিদ্ধান্ত নেই আর ইয়াতীমার (কুমারী যুবতীর) সাথে পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে তবে তার চুপ থাকাটাই তার সম্মতি।” (অর্থাৎ বিধবার উপরে অভিভাবকের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া যাবে না, সম্মতি পেলে অভিভাবক শুধুমাত্র আক্বদ করে দিবে) [হাদীসটি সহীহ্, দেখুন "সহীহ্ আবী দাউদ” (২১০০)]। এখানে ইয়াতীমাহ্ দ্বারা কুমারী যুবতী নারীকে বুঝানো হয়েছে।
যারা বলছেন যে, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই বিধবা এবং যুবতী নারীরা নিজেরাই নিজেদের বিয়ে দেয়ার অধিকার রাখেন। তারা যদি আবু দাউদে বর্ণিত উপরের হাদীসটির দ্বারা এবং ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত পূর্বোক্ত অধ্যায়ের শেষের হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করে এ কথা বলতেন যে, 'শুধুমাত্র বিধবা নারী অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই নিজেই নিজের বিয়ে দেয়ার অধিকার রাখে' তাহলে হয়তো কিছুক্ষণের জন্য হলেও তাদের স্বপক্ষে হাদীস দু'টিকে শক্ত দলীল হিসেবে গ্রহণ করতে পারতেন। যেমনটি দাউদ আয-যাহেরী করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারা তা না করে বিধবা আর কুমারী যুবতী উভয় শ্রেণীর নারীদেরকেই নিজে নিজের বিয়ে দেয়ার অধিকার দিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। যা কোনক্রমেই হাদীসের সঠিক ভাবার্থ বুঝে দলীল ভিত্তিক কথা নয়।
এছাড়া আরেক হাদীসের মধ্যে এসেছে এক বিধবা নারীর সম্মতি ব্যতীরিকেই বিয়ে দেয়ার কারণে রসূল ﷺ সে বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে ছিলেনঃ
عَنْ حَنْسَاء بِنْتِ جَذَامِ الْأَنْصَارِيَّةِ أَنْ أَبَاهَا زَوْجَهَا وَهِيَ ثَيِّبٌ فَكَرِهَتْ ذَلِكَ فَجَاءَتْ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَرَدَّ نِكَاحَهَا.
খানসা বিনতু খিযাম আনসারিয়‍্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, তাকে তার পিতা এ অস্থায় বিয়ে দিয়ে দিলো যে, সে বিধবা ছিল। কিন্তু সে এ বিয়েকে অপছন্দ করে রসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁর কাছে ঘটনার বিবরণ দিলে তিনি তার বিয়ে ভেঙ্গে দেন। [হাদীসটি বুখারী (৫১৩৯, ৬৯৪৫), আবু দাউদ (২১০১), নাসাঈ (৩২৬৮), আহমাদ (২৬২৪৬), মালেক (১১৩৫) ও দারেমী (২১৯২) বর্ণনা করেছেন।
রসূল (ﷺ) এ বিয়ে ভেঙ্গে দেন বিধবা মহিলাটি রাজি না থাকায় এবং অভিভাবক তার সম্মতি গ্রহণ ছাড়াই বিয়ে দেয়ার কারণে। রসূল (ﷺ) তার পিতার অভিভাবকত্বকে বাতিল করেননি। বরং এখানে বিধবা নারীর সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অতএব 'আল-আইয়্যেমু' দ্বারা বিধবা নারীকেই বুঝতে হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে তার মতামতই বেশী অগ্রাধিকারযোগ্য হবে, পিতা বা তার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি শুধুমাত্র আক্বদ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করবেন।
এ ছাড়া বিধবা নারীর ক্ষেত্রে বিয়ের সম্মতি গ্রহণের পদ্ধতিটি যে পৃথক তা "আস-সাইয়েবু” (বিধবা) শব্দ ব্যবহার করে আরো স্পষ্টভাবে সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ وَلَا الثَّيِّبُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ إِذْنُهَا قَالَ إِذَا سكنت.
১। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, নাবী (ﷺ) বলেন: কুমারী যুবতী নারীর সম্মতি ব্যতীত তার বিয়ে দেয়া যাবে না আর বিধবা নারীর সাথে পরামর্শ করা ব্যতীত তার বিয়ে দেয়া যাবে না। জিজ্ঞেস করা হলো হে আল্লাহর রসূল! তার (কুমারী মেয়ের) সম্মতির ধরণ কিরূপ? তিনি বললেন: সে চুপ থাকলে এতেই তার সম্মতি।
এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (৬৯৬৮) এবং অনুরূপ হাদীস আবু দাউদ (২০৯২), তিরমিযী (১১০৭), ইবনু মাজাহ্ (১৮৭১), আহমাদ (৭৩৫৬, ৭৭০১, ৯২০৭) ও দারেমীও (২১৮৬) বর্ণনা করেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبِكْرُ تُسْتَأْمَرُ وَالثَّيِّبُ تُشَاوَرُ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْبِكْرَ تَسْتَحِي قَالَ سُكُوتُهَا رِضَاهَا.
২। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন: রসূল (ﷺ) বলেছেন: কুমারী যুবতী মেয়ের সম্মতিমূলক নির্দেশনা গ্রহণ করতে হবে আর বিধবা নারীর সাথে পরামর্শ করতে হবে। জিজ্ঞেস করা হলো হে আল্লাহর রসূল! কুমারী মেয়েতো লজ্জা করে। তিনি (উত্তরে) বললেন: তার চুপ থাকায় হচ্ছে তার সম্মতি। [এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (৭০৯১) বর্ণনা করেছেন]।
অভিভাবককে বিধবার সাথে পরামর্শ করতে হবে আর কুমারী যুবতী নারী থেকে সম্মতি নিতে হবে আর তার চুপ থাকায় হচ্ছে তার সম্মতি। এ মর্মে এতো সুস্পষ্ট হাদীস থাকা সত্ত্বেও মেয়েদের অভিভাবকহীন বিয়েকে বৈধতা দেয়ার মানেই হচ্ছে রসূল (ﷺ)-এর এমন সব হাদীসকে অবজ্ঞা করার শামিল যেগুলো অস্পষ্টতাকে দূর করে দিয়েছে।
আবার কেউ কেউ একটু অগ্রসর হয়ে অভিভাবকহীন বিয়েকে বৈধতা দানের স্বপক্ষে বলেছেন: আমাদের স্বপক্ষের হাদীসটি বেশী শক্তিশালী। (যার সঠিক ভাবার্থ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি)। কিন্তু এর চেয়েও বহুগুণে বেশী শক্তিশালী এবং বেশী স্পষ্ট হাদীসগুলো তার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে।
সম্ভবত এ কারণেই এক আলেম বলেছেন: যে ব্যক্তি অভিভাবকহীন বিয়েকে বৈধতা প্রদান করেছেন তিনি আসলে রসূল (ﷺ)-এর সাথেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন।

📘 নারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি বৈধ > 📄 আসুন আমরা “আল-আইয়েমু” শব্দের ব্যাখ্যা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানি

📄 আসুন আমরা “আল-আইয়েমু” শব্দের ব্যাখ্যা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানি


قال الفيومي في المصباح ( ص ۱۳ ) : " الأيم " : العرب : رجلا كان أو امرأة ، قال الصنعاني : وسواء تزوج من قبل أو لم يتزوج فيقال : رجل أيم وامرأة أيم ..
وقال ابن السكيت أيضاً : فلانة أيم إذا لم يكن لها زوج بكراً كانت أو ثيباً ، ويقال أيضاً : أيمة للأنثى ...
আল-ফায়ূমী “আল-মিসবাহ্” গ্রন্থে (পৃ ১৩) বলেন: "আল-আইয়েমু" শব্দের অর্থ অবিবাহিত নারী অথবা পুরুষ। সন'আনী বলেনঃ পূর্বে বিয়ে হয়ে থাক অথবা পূর্বে বিয়ে না হয়ে থাক এরূপ পুরুষকে 'রাজুলুন আইয়েমুন' আর নারীকে 'ইমরাআতুন আইয়েমুন' বলা হয়।
ইবনুস সিক্কীতও বলেন: যখন কোন নারীর স্বামী থাকে না চাই সে পূর্ব বিবাহিতা হোক কিংবা কুমারী যুবতী হোক তখন তাকে বলা হয়ঃ অমুক নারী আইয়েম এবং আইয়েমাহ্-ও বলা হয়।
وتأيم : مكث زماناً لا يتزوج ، والحرب مأيمة ؛ لأن الرجال تقتل فيها فتبقى النساء بلا أزواج ، ورجل أيمان ماتت امرأته ، وامرأة أيمى مات زوجها ، والجمع فيهما أيامي .
আরবী পরিভাষায় বলা হয় : 'তাআইয়‍্যামা' : অর্থাৎ সে কিছু সময়কাল অপেক্ষায় আছে, বিয়ে করেনি। বলা হয় "আল-হারবু মাআইয়‍্যামাহ্' কারণ যুদ্ধে পুরুষদেরকে হত্যা করা হয় ফলে নারীরা স্বামী বিহীন অবস্থায় রয়ে যায়। যে ব্যক্তির স্ত্রী মারা গেছে তাকে 'রাজুলুন আয়মান' বলা হয় আর যে নারীর স্বামী মারা গেছে তাকে 'ইমরাআতুন আয়মা' বলা হয়। এ ক্ষেত্রে শব্দটির বহুবচন আসে 'আইয়‍্যামা'।
وقال السندي في حاشيته (٨٤/٦) : " الأيم، بفتح، فتشديد تحتية مكسورة في الأصل : من لا زوج لها بكراً كانت أو ثيباً.
সিন্দী তার "হাশিয়‍্যাহ্” তে (৬/৮৪) বলেন: 'আল-আইয়েমু' আসলে সেই নারীকে বলা হয় যার স্বামী নেই সে কুমারী যুবতী নারী হোক অথবা পূর্ব বিবাহিতা বিধবা নারী হোক।
وقال الزرقاني : في شرحه على الموطأ ( ١٦٤/٣) : " الأيم " بكسر التحتية لغة : من لا زوج له رجلاً كان أو امرأة ، بكراً أو ثيباً ".
যারকানী "শারহুল মুওয়াত্তা” গ্রন্থে (৩/১৬৪) বলেন: 'আল-আইয়েমু" সেই ব্যক্তিকে বলা হয় যার স্ত্রী নেই (অথবা স্বামী নেই) পুরুষ হোক কিংবা নারী, কুমারী যুবতী নারী হোক কিংবা বিধবা নারী হোক।
وأمت المرأة إذا مات عنها زوجها أو قتل وأقامت لا تتزوج يقال امرأة أيم وقد تأيمت إذا كانت بغير زوج وقيل ذلك إذا كان لها زوج فمات عنها وهي تصلح للأزواج.
ইবনুল মুনযূর আফরীকী "লিসানুল আরাব” গ্রন্থে বলেন: যখন কোন মহিলার স্বামী মারা যায় অথবা তাকে হত্যা করা হয় এবং সে নারী বিয়ে না করে অবস্থান করে তখন তার ক্ষেত্রে বলা হয় 'আমাতিল মারআতু'। যখন কোন নারী স্বামী ছাড়া থাকে তখন তাকে امرأة أَيَّم আইয়েম মহিলা বলা হয়। আর তা এ কারণেই বলা হয় যে, তার স্বামী ছিল কিন্তু সে তাকে রেখে মারা গেছে। এ অবস্থায় সে (অন্যের সাথে) বিয়ের উপযুক্ত।
وفي الحديث امرأة أمت من زوجها ذات منصب وجمال أي صارَتْ أَيماً لا زوج لها.
ইবনুল মানযূর আরো বলেন: হাদীসের মধ্যে এসেছে: সুন্দরের অধিকারী সম্ভ্রান্ত এক মহিলা তার স্বামী থেকে বিধবা হয়ে গেছে, 'আইয়েম' হয়ে গেছে অর্থাৎ এরূপ হয়ে গেছে যে, তার স্বামী নেই।
ومنه حديث حفصة أنها تأيمت من حُنَيْس زَوْجِها قبل النبي ﷺ.
ইবনুল মানযূর আরো বলেন: আব্দুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের মধ্যে এসেছে যে হাফসা বিনতু উমার (রাঃ)-এর নাবী (ﷺ)-এর সাথে বিয়ে হওয়ার পূর্বে তার স্বামী খুনায়েস ইবনু হুযাফাহ্ থেকে (মারা যাওয়ার কারণে) 'তাআইয়্যামাত' অর্থাৎ বিধবা হয়ে যায়। [এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ্ দেখুন "সহীহ্ নাসাঈ" (৩২৪৮, ৩২৫৯)]।
وفي التنزيل العزيز وأنكحوا الأيامى منكم دخل فيه الذكر والأنثى والبكر والثيب وقيل في تفسيره الحرائر وقول النبي ﷺ الأيمُ أَحَقُّ بنفسها فهذه الثيب لا غير.
আরবী ভাষা পণ্ডিত ইবনুল মানযূর আরো বলেন: কুরআনের মধ্যে এসেছেঃ )وأنكحوا لأيامى منکم( এখানে 'আল-আইয়ামা' শব্দের মধ্যে পুরুষ, মহিলা, কুমারী যুবতী, পূর্বে বিবাহিতা বিধবাও অন্তর্ভুক্ত। এর তাফসীরে কেউ কেউ বলেছেন: এর দ্বারা (দাসী নয়) স্বাধীনদেরকে বুঝানো হয়েছে। আর আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর বাণী : )الأم أحق بنفسها( এর মধ্যে 'আল-আইয়েমু' দ্বারা বিধবা নারীকে বুঝানো হয়েছে অন্য কিছু বুঝানো হয়নি। [দেখুন "লিসানুল আরাব" 'আল-আইয়েম' শব্দের ব্যাখ্যা।
পাঠকবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলছি: 'আল-আইয়েমু' শব্দের ব্যাখ্যা দেয়ার কারণ, যারা বলছেন যে এ শব্দের দ্বারা পূর্ব বিবাহিতা বিধবা নারী এবং প্রাপ্তা বয়স্কা কুমারী উভয়কেই বুঝানো হয়ে থাকে। অতএব উভয়েই তাদের নিজেদের ব্যাপারে অভিভাবকের চেয়ে বিয়ের ব্যাপারে বেশী হক্বদার।
কিন্তু উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, 'আল-আইয়েম' দ্বারা কেউ কেউ বিধবা অথবা কুমারী যুবতী নারী উভয়কেই বুঝিয়েছেন আবার কেউ কেউ শুধুমাত্র পূর্ব বিবাহিতা বিধবা নারীকেই বুঝিয়েছেন আবার কেউ কেউ অবিবাহিত পুরুষকেও বুঝিয়েছেন। যাই হোক যদি এর দ্বারা উভয়কেই বুঝানো হয় তাহলে যখন একই হাদীসের মধ্যে কুমারী যুবতী নারীর বিষয়টি হাদীসের শেষাংশে পৃথকভাবে এসেছে তখন প্রথম অংশে অবশ্যই পূর্ব বিবাহিতা বিধবা নারীকেই বুঝানো হয়েছে এবং তাই বুঝতে হবে। অন্যথায় হাদীসের অপব্যাখ্যা করা হবে আর আরবী ভাষায় যে অর্থে 'আল-আইয়েমু' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে সেটিকেও এড়িয়ে যাওয়া হবে। কারণ 'আল-আইয়েমু' শব্দটি একই সাথে বিধবা এবং কুমারী যুবতী নারী উভয়কেই বুঝায় না। কারণ যদি এরূপ হতো তাহলে একজন নারীকেই একই সাথে বিধবা এবং কুমারী যুবতী নারী হিসেবে গণ্য করা অপরিহার্য হয়ে পড়তো, যা কোনক্রমেই হতে পারে না এবং বিবেক সম্পন্ন কোন ব্যক্তিও এরূপ বলতে পারেন না। আবার হাদীসের প্রথম অংশ দ্বারা যদি যুবতী কুমারী মেয়ে আর বিধবা উভয়কেই বুঝানো হয় তাহলে দ্বিতীয় অংশ অর্থহীন হয়ে যায়। অথচ রসূল (ﷺ) অর্থহীন বেকার কথা বলতে পারেন না।
এছাড়া নাসা'ঈতে বর্ণিত উপরোক্ত সহীহ্ হাদীসে শুধুমাত্র পূর্ব বিবাহিতা বিধবা নারীকেই 'আল-আইয়েমু' বলা হয়েছে। অতএব আলোচ্য হাদীসের মধ্যে যারা 'আল-আইয়েমু' দ্বারা বিধবা এবং কুমারী যুবতী উভয়কেই বুঝাতে চেয়েছেন তাদের সিদ্ধান্ত निःসন্দেহে ভুল। বরং সে হাদীসে 'আল-আইয়েমু' দ্বারা শুধুমাত্র বিধবা নারীকেই যে বুঝানো হয়েছে এটিই সঠিক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00