📘 নারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি বৈধ > 📄 না-জায়েযের পক্ষে কুরআনের দলীল

📄 না-জায়েযের পক্ষে কুরআনের দলীল


এ মতের স্বপক্ষে দলীলগুলো নিম্নরূপঃ
কুরআনের দলীল:
১। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
((وَلا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلا تُنكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا))
"মুশরিক নারীরা ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা তাদেরকে বিয়ে করো না। মূলত: মু'মিন ক্রীতদাসী মুশরিকা নারী হতে উত্তম এদেরকে তোমাদের যতই ভাল লাগুক না কেন। (হে অভিভাবকগণ!) ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষদের সাথে (তোমাদের নারীদের) বিয়ে দিও না” (সূরা বাক্বারাহ্ঃ ২২১)।
লক্ষ্য করুন! আয়াতের প্রথম অংশে পুরুষকে সম্বোধন করে এরূপ ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে যার অর্থ তুমি মুশরিক নারীর সাথে বিয়ে করো না। আর উল্লেখিত দাগ দেয়া অংশে নারীকে সম্বোধন না করে সম্বোধন করা হয়েছে পুরুষ অভিভাবগণকে যার অর্থ 'তোমরা বিয়ে দিয়ে দিও না।' প্রথম ক্রিয়াটি বিয়ে করার অর্থে আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে বিয়ে দেয়ার অর্থে। আর এটা জানা বিষয় যে বিয়ে দেয়াটা হয় অন্যের মাধ্যমে আর তিনিই হচ্ছেন অভিভাবক অথবা তার পক্ষে তার থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
قال الحافظ في الفتح ( ٩ / ١٨٤ ) : " ووجه الاحتجاج من الآية والتي بعدها أنه تعالى خاطب بالنكاح الرجال ، ولم يخاطب به النساء فكأنه قال : لا تنكحوا أيها الأولياء مولياتكم للمشركين " وقال ابن كثير ( ١ / ٣٧٧ ) : " لا تُزَوِّجوا الرجال المشركين النساء المؤمنات " ۷۷ وقال القرطبي في الجامع ( ٣ / ٤٩ ) : " وفي هذه الآية دليل بالنص على أنه لا نكاح إلا بولي"
হাফিয ইবনু হাজার "ফাতহুল বারী” গ্রন্থে (৯/১৮৪) বলেন: এ আয়াত এবং পরবর্তী আয়াত থেকে (অভিভাবকহীন বিয়ে অবৈধ হওয়ার ব্যাপারে) এভাবে দলীল গ্রহণ করা হয়েছে যে, আল্লাহ্ তা'আলা বিয়ের ব্যাপারে পুরুষদেরকে সম্বোধন করেছেন নারীদেরকে সম্বোধন করেননি। তিনি যেন বলেছেন: হে অভিভাবকগণ! তোমরা তোমাদের অধিনস্থে থাকা নারীদের মুশরিকদের সাথে বিয়ে দিও না। ইবনু কাসীর বলেন : (১/৩৩৭) তোমরা মুশরিক পুরুষদের সাথে মু'মিন নারীদের বিয়ে দিও না (যে পর্যন্ত তারা ঈমান না আনে)। ইমাম কুরতুবী (৩/৪৯) বলেনঃ এ আয়াতটি অভিভাবক ব্যতীত বিয়ে বৈধ না হওয়ার সুস্পষ্ট দলীল। [অর্থাৎ তোমরা মুসলিম নারীদের সাথে তাদের বিয়ে দাও]।
(( وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءِ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ ))
২। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন: “যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও, তারপর তাদের ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যায়, সে অবস্থায় তারা স্বামীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইলে তাদেরকে বাধা দিও না।" (সূরা বাক্বারাহ্ ঃ ২৩২)
এ আয়াতে ))فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ(( এ শব্দের দ্বারা অভিভাকদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। যা প্রমাণ করছে যে, বিয়ে সম্পন্ন করার দায়িত্ব তাদের উপরেই মেয়েদের নয়।
قال البخاري في الصحيح (۱۸۲۹) : فدخل فيه الثيب وكذلك البكر
" قلت : ولهذه الآية سبب نزول أخرجه الشيخان وهذا لفظ البخاري قال :
عن الحسن قال : (( فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ (( قال : حدثني مَعْقِلُ بن يسار ، أنها نزلت فيه قال : زوجت أختاً لي من رجل فطلقها ، حتى إذا انقضت عدتها جاء يخطبها ، فقلت له : زوجتك وأفرشتك وأكرمتك فطلقتها ثم جئت تخطبها ، لا والله لا تعود إليك أبداً ، وكان رجلاً لا بأس به ، وكانت المرأة تريد أن ترجع إليه فأنزل الله هذه الآية : (( فَلا تَعْضُلُوهُنَّ)) فقلتُ : الآن أفعل يا رسول الله قال: فزوجها إياه" .
ইমাম বুখারী "সহীহ্ বুখারী"র মধ্যে বলেন: এ বাণীর মধ্যে বিধবা এবং কুমারী যুবতী নারীও অন্তর্ভুক্ত। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাসান বাসরী হতে এ আয়াতটি নাযিল হওয়ার কারণ (শানে নুযূল) বর্ণনা করেছেন (তবে এখানের ভাষাটি বুখারীর) তিনি বলেন: আমাকে মা'কেল ইবনু ইয়াসার হাদীস বর্ণনা করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেনঃ আয়াতটি আমার সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে। তিনি বলেন: আমি আমার বোনকে এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিয়েছিলাম। অতঃপর সে তাকে ত্বালাক দেয়ার পর যখন তার ইদ্দাদ পূর্ণ হয়ে যায় তখন সে তাকে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব প্রদান করলে আমি তাকে বললাম : আমি তোমাকে তার সাথে বিয়ে দিয়েছিলাম, তাকে তোমার জন্য বিছানা স্বরূপ বানিয়ে দিয়েছিলাম এবং তোমাকে সম্মান প্রদান করেছিলাম, তার পরেও তুমি তাকে ত্বালাক দিয়ে আবার তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছ? আল্লাহর কসম! সে তোমার কাছে কখনও ফিরে যাবে না। সে (স্বামী হিসেবে) এরূপ এক ব্যক্তি ছিল যে তার ব্যাপারে (তেমন) কোন সমস্যা ছিল না। মহিলাও তার নিকট ফিরে যেতে ইচ্ছুক ছিল। এ সময় আল্লাহ্ তা'আলা উক্ত )) فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ(( আয়াত নাযিল করেন। এ সময় আমি (মা'কেল) বললাম : এখনি তার বিয়ে সম্পন্ন করব হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন: তুমি তাকে তার সাথেই বিয়ে দিয়ে দাও।" [বুখারী (৫১৩০) কিতাবুন নিকাহ্]।
قال الحافظ : ( الفتح ۹ (۱۸۷) : " وهي أصرح دليل على اعتبار الولي ، وإلا لما كان لعضله معنى، ولأنها لو كان لها أن تُزوج نفسها لم تحتج إلى أخيها ، ومن كان أمره إليه لا يُقال : إن غيره منعه منه "
হাফিয ইবনু হাজার "ফাতহুল বারী” গ্রন্থে (৯/১৮৭) বলেন: (মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে) অভিভাবক থাকা যে অপরিহার্য উক্ত আয়াত (ও তার শানে নুযুল) তার সুস্পষ্ট দলীল ...। কারণ যদি সে মহিলার নিজে নিজের বিয়ে দেয়ার অধিকার থাকত তাহলে সে তার ভাইয়ের মুখাপেক্ষী হতো না। [এবং নাবী (ﷺ) তার ভাইকে তার বিয়ে দেয়ার নির্দেশ না দিয়ে সরাসরি মহিলাকে নিজে নিজের বিয়ে করে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করতেন।।
وقال القرطبي (الجامع (١٠٥/٣) : " ففي الآية : دليل على أنه لا يجوز النكاح بغير ولي لأنّ أُخت معقل كانت ثيباً ، ولو كان الأمر إليها دون وليها لزوجت نفسها ، ولم تحتج إلى وليها معقل فالخطاب إذاً في قوله تعالى : (( فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ)) للأولياء ، وأن الأمر إليهم في التزويج مع رضاهن
ইমাম কুরতুবী (৩/১০৫) বলেন: এ আয়াতটি প্রমাণ বহন করছে যে, অভিভাবক ব্যতীত বিয়ে করা না-জায়েয। কারণ সহাবী মা'কেল-এর বোন বিধবা ছিল। যদি তার অভিভাবককে বাদ দিয়ে বিয়ের ব্যাপারে তার হাতেই করণীয় থাকতো তাহলে সে নিজেই নিজেকে বিয়ে দিয়ে দিত। সে তার অভিভাবক ভাই-মা'কালের মুখাপেক্ষী হতো না। অতএব )) فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ(( এ বাণীর দ্বারা (পুরুষ) অভিভাবকদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। এরা নারীদের বিয়ে তাদের সম্মতিতে দিবে।
وقال الإمام الطبري في تفسيره ( ٢ / ٤٨٨ ) : " وفي هذه الآية الدلالة الواضحة على صحة قول من قال : لا نكاح إلا بولي من العصبة وذلك لأن الله - تعالى ذكره - منع الولي من عضل المرأة إن أرادت النكاح ونهاه عن ذلك ، فلو كان للمرأة إنكاح نفسها بغير إنكاح وليها إياها ، أو كان لها تولية من أرادت توليته في إنكاحها لم يكن لنهي وليها عن عضلها معنى مفهوم ...
ইমাম ত্ববারানী তার "তাফসীর" গ্রন্থে (২/৪৮৮) বলেন: এ আয়াতটি সুস্পষ্ট দলীল সেই ব্যক্তির পক্ষে যে বলে যে, অভিভাবক ব্যতীত বিয়ে বৈধ হবে না। কারণ আল্লাহ্ তা'আলা অভিভাবককে প্রস্তাবিতা মহিলাকে বিয়ে থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে নিষেধ করেছেন যদি সে (মহিলা) বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং তাকে (অভিভাবককে) এরূপ করতে নিষেধ করেছেন। মহিলা যদি তার অভিভাবক কর্তৃক বিয়ে দিয়ে দেয়া ছাড়াই নিজে নিজের বিয়ে দেয়ার অধিকার রাখত অথবা নিজ ইচ্ছা মাফিক যদি তার বিয়ের ব্যাপারে তার অভিভাবিকত্ব করার অধিকার থাকত তাহলে তার অভিভাবককে নিষেধ করার কোনই অর্থ থাকত না।
قوله تعالى : (( وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ )) (النور : ۳۲)
৩। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন: “তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন তাদের বিবাহ সম্পন্ন কর আর তোমাদের সৎ দাস-দাসীদেরও।” (সূরা আন্-নূরঃ ৩২)।
قال القرطبي : " فلم يخاطب تعالى بالنكاح غير الرجال، ولو كان إلى النساء لذكر هن"
এ আয়াতের তাফসীরে ইমাম কুরতুবী বলেন : আল্লাহ্ তা'আলা পুরুষ ব্যতীত অন্য কাউকে বিয়ে সম্পন্ন করার ব্যাপারে সম্বোধন করেননি। যদি নারীদের পক্ষ থেকে বিয়ে সম্পন্ন করা বৈধ হতো তাহলে অবশ্যই (সম্বোধনের ক্ষেত্রে) তাদেরকেও উল্লেখ করতেন।
وقال ابن سعدي في تفسيره ( ٤١٤/٥) : "يأمر تعالى الأولياء والأسياد بإنكاح من تحت ولايتهم من الأيامى وهم : من لا أزواج لهم من رجال ونساء ، ثيبات وأبكار.
ইবনু সা'আদী তার "তাফসীর” গ্রন্থে উক্ত আয়াত সম্পর্কে বলেন : আল্লাহ্ তা'আলা অভিভাবক এবং নেতাদেরকে তাদের দায়িত্বে যে সব নারী রয়েছে তাদের বিয়ে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন। তারা সেই সব পুরুষ ও নারী যাদের স্ত্রী বা স্বামী নেই। তারা হতে পারে বিধবা অথবা কুমার-কুমারী।
وقال السيوطي في : ( الاكليل ص ۱۹۳) : (( وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنكُمْ)) فيها الأمر بالإنكاح فاستدل به الشافعي على اعتبار الولي ، لأن الخطاب له ، وعدم اسقلال المرأة به "
ইমাম সুয়ূতী "আল-ইকলীল” গ্রন্থে (পৃ ১৯৩) বলেন: এ আয়াতের মধ্যে বিয়ে দিয়ে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ইমাম শাফে'ঈ এর দ্বারা মেয়ের বিয়েতে অভিভাবক থাকা শর্তযুক্ত হওয়ার স্বপক্ষে দলীল গ্রহণ করেছেন। কারণ এখানে অভিভাবককেই সম্বোধন করা হয়েছে। আর বিয়ের ব্যাপারে পৃথকভাবে মহিলাকে সম্বোধন করা হয়নি।
وقال ابن حزم في المحلي ( ٩ / ٤٥١ ) : (( وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنكُمْ الصالحين)) وهذا خطاب للأولياء لا للنساء"
ইবনু হাযম "আল-মুহাল্লা" গ্রন্থে (৯/৪৫১) বলেন: এটি সম্বোধন হচ্ছে অভিভাবকদেরকে নারীদেরকে নয়।
قوله تعالى : " فانكحوهن بإذن أهلهن " [ النساء : ٥٢ ]
৪। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন: "কাজেই তাদেরকে বিয়ে কর তাদের মালিকের (অভিভাবকের) অনুমতি নিয়ে।" (সূরা আন-নিসা: ২৫)।
قال القرطبي في الجامع ( ٤٩/٣) : " ومما يدل على هذا أيضاً من الكتاب - أي اشتراط الولي - قوله تعالى " فانكحوهن بإذن أهلهن " فلم يخاطب تعالى بالنكاح غير الرجال ولو كان إلى النساء لذكرهن"
ইমাম কুরতুবী বলেন: এ আয়াতটি বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবক থাকা যে শর্তযুক্ত তারই প্রমাণ বহন করছে। আল্লাহ্ তা'আলা পুরুষদেরকেই বিয়ে সম্পন্ন করার ব্যাপারে সম্বোধন করেছেন। যদি নারীদের জন্য এ দায়িত্ব পালন করা বৈধ হতো তাহলে অবশ্যই সম্বোধনের ক্ষেত্রে তাদেরকেও উল্লেখ করতেন।

📘 নারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি বৈধ > 📄 মেয়েদের অভিভাবকহীন বিয়ে না-জায়েয হওয়ার পক্ষে কতিপয় হাদীস

📄 মেয়েদের অভিভাবকহীন বিয়ে না-জায়েয হওয়ার পক্ষে কতিপয় হাদীস


আমরা এবারে মেয়েদের অভিভাবকহীন বিয়ে না-জায়েয হওয়ার পক্ষে কতিপয় হাদীস এবং সহাবীগণ থেকে বর্ণিত আসার উল্লেখ করছিঃ
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত এক হাদীসের মধ্যে রসূল (ﷺ) বলেছেনঃ
: ((أَيُّمَا امْرَأَةِ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيُّهَا، فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ، فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ، فنكَاحُهَا بَاطِلٌ، فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَلَهَا الْمَهْرُ بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْ فَرْجَهَا، فَإِنْ اشْتَجَرُوا فَالسُّلْطَانُ وَلِي مَنْ لَا وَلِيُّ لَهُ))
১। "যে কোন নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করবে তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল। (এরূপ বিয়ে ঘটে গেলে আর বাতিল বিয়ের) স্বামী যদি তার সাথে মিলিত হয়ে যায় তাহলে সে তার (নারীর) গুপ্তাঙ্গ থেকে যা ভোগ করেছে এর বিনিময়ে মহিলা মাহ্র পাবে। তারা (অভিভাবকরা) যদি এ ব্যাপারে ঝগড়ায় লিপ্ত হয় তাহলে সুলতানই (শাসকই) তার অভিভাবক গণ্য হবে যার কোন অভিভাবক নেই।”
[হাদীসটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ্, আহমাদ (২৩৬৮৫, ২৩৮৫১), ইবনু আবী শাইবাহ্, ইমাম ত্বহাবী "শারহু মা'আনিল আসার" গ্রন্থে, ইমাম শাফে'ঈ "আল-উম্মু" গ্রন্থে, ইবনুল জারূদ, ইবনু হিব্বান, দারাকুতনী, হাকিম, বাইহাক্বী ও দারেমী (২১৮৪) বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন, ইমাম ত্বহাবী ও শাইখ আলবানী প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ সহীহ্ আখ্যা দিয়েছেন, দেখুন "সহীহ্ আবী দাউদ (২০৮৩), "সহীহ্ তিরমিযী" (১১০২), "সহীহ্ ইবনু মাজাহ্” (১৮৭৯), “ইরউয়াউল গালীল” (১৮৪০) (এ গ্রন্থে শাইখ আলবানী এর সনদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন), "সহীহ্ জামে'ইস সাগীর" (২৭০৯), "মিশকাত" তাহকীকু আলবানী (৩১৩১)]।
عن أبي موسى الأشعري أن رسول الله (ﷺ) قال: ((لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ))
২। আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রসূল (ﷺ) বলেছেন: “অভিভাবক ছাড়া কোন বিয়েই হবে না”। [হাদীসটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ্, আহমাদ (১৯০২৪, ১৯২৪৭) বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটিও সহীহ্, দেখুন "সহীহ্ আবী দাউদ (২০৮৫), “সহীহ্ তিরমিযী" (১১০১), "সহীহ্ ইবনু মাজাহ্” (১৮৮১), "ইরউয়াউল গালীল” (১৮৩৯), “সহীহ্ জামে'ইস সাগীর" (৭৫৫৫), “মিশকাত" তাহকীক্ব আলবানী (৩১৩০)। হাদীসটিকে ইবনু হিব্বান এবং হাকিমও সহীহ্ আখ্যা দিয়েছেন।।
এ হাদীসটি আব্দুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রাঃ), আয়েশা (রাঃ), আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ), ইমরান ইবনু হুসায়েন (রাঃ) ও আনাস (রাঃ)ও বর্ণনা করেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ وَلَا تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ نَفْسَهَا فَإِنَّ الزَّانِيَةَ هِيَ الَّتِي تُزَوِّجُ نَفْسَهَا.
৩। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন: রসূল (ﷺ) বলেছেন: "কোন নারী কোন নারীর বিয়ে দিবে না এবং নারী নিজে নিজের বিয়ে দিবে না। কারণ, ব্যভিচারী নারী নিজেই নিজের বিয়ে দেয়।" [হাদীসটি ইবনু মাজাহ্ (১৮৮২) ও দারাকুতনী বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির দাগ দেয়া শেষাংশ বাদে বাকী অংশ সহীহ্। দেখুন "সহীহ্ ইবনে মাজাহ্” (১৮৮২), "ইরউয়াউল গালীল" (১৮৪১), "সহীহ্ জামে'ইস সাগীর" (৭২৯৮)]।
নিম্নের ভাষাতেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَفَعَهُ قَالَ « لا تُنْكِحُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ وَلَا تُنكِحُ الْمَرْأَةُ نَفْسَهَا .». وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ كَانَ يُقَالُ الزَّانِيَةُ تُنْكِحُ نَفْسَهَا.
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, রসূল (ﷺ) বলেন: "নারী নারীর বিয়ে দিবে না এবং নারী নিজে নিজের বিয়ে দিবে না। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন: বলা হতো যে, ব্যভিচারী নারীই নিজে নিজের বিয়ে দিয়ে থাকে। [এটি দারাকুতনী (৮/৩৩১, ৩৩২ - ৩৫৮৬, ৩৩৮৭), বাইহাক্বী "সুনানুল কুবরা" (৭/১১০) এবং "মা'রিফাতুস সুনান অল-আসার” গ্রন্থে (১১/২৪০-৪৩০৯)]।
৪। অন্য হাদীসের মধ্যে এসেছে যেরূপ অভিভাবকের অনুমতি এবং সম্মতি ব্যতীত বিয়ে হয় না অনুরূপভাবে দু'জন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ব্যতীতও বিয়ে শুদ্ধ হয় না:
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم- « لَا نِكَاحَ إِلا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَى عَدْلٍ فَإِنْ تَشَاجَرُوا فَالسُّلْطَانُ وَلِيُّ مَنْ لَا وَلِيُّ لَهُ »
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন: রসূল (ﷺ) বলেছেন: অভিভাবক এবং দু'জন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়েই হবে না। যদি তারা মতবিরোধ করে তাহলে যার কোন অভিভাবক নেই সুলতানই (শাসকই) হচ্ছে তার অভিভাবক। [হাদীসটি দারাকুতনী তার "সুনান" গ্রন্থে (৮/৩২৪-৩৫৭৯), বাইহাক্বী "সুনানুল কুবরা" গ্রন্থে (৭/১২৫) বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি সহীহ্, দেখুন "সহীহ্ জামে'ইস সাগীর" (৭৫৫৭), "ইরউয়াউল গালীল” (১৮৬০)। হাদীসটি ইমরান ইবনু হুসায়েনও বর্ণনা করেছেন।
৫। আরেকটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : ﴿وَلَا نَكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ، وَمَا كَانَ مِنْ نِكَاحٍ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ فَهُوَ بَاطِلٌ ، فَإِنْ تَشَاجَرُوا ، فَالسُّلْطَانُ وَلِيُّ مَنْ لَا وَلِيَّ لَهُ )
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রসূল (ﷺ) বলেছেন : অভিভাবক এবং দু'জন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়েই হবে না। এরূপ শর্ত ব্যতীত যে বিয়ে হবে সে বিয়ে বাতিল। অতঃপর তারা (অভিভাবকগণ) যদি মতবিরোধ করে তাহলে যার কোন অভিভাবক নেই সুলতানই (শাসকই) হচ্ছে তার অভিভাবক। [হাদীসটি ইবনু হিব্বান তার "সাহীহ” গ্রন্থে (১৭/১৫৩-৪১৫১) বর্ণনা করেছেন। দেখুন "নাসবুর রায়া তাখরীজু আহাদীসিল হিদায়্যাহ্” (৫/৪৮৬), "নাইলুল আওতার" (৯/৪৯৩-২৬৭৪)]।
৬। আরেকটি হাদীসের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ أَخْبَرَتُهُ أَنَّ النِّكَاحَ فِي الجاهلية كَانَ عَلَى أَرْبَعَةِ أَنْحَاءِ فَنَكَاحٌ مِنْهَا نِكَاحُ النَّاسِ الْيَوْمَ يَخْطُبُ الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ وَلِيَّتَهُ أَوْ ابْنَتَهُ فَيُصْدِقُهَا ثُمَّ يَنْكِحُهَا ...
উরওয়া ইবনুয যুবায়ের হতে বর্ণিত হয়েছে, নাবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, জাহেলিয়্যাতের যমানায় চার ধরনের বিয়ে প্রথা চালু ছিল। সেগুলোর মধ্য থেকে বর্তমানে লোকদের মাঝে প্রচলিত পদ্ধতিটিই হচ্ছে বিয়ের (একমাত্র বৈধ) পদ্ধতি। (তা হচ্ছে) কোন ব্যক্তি তার অভিভাবকত্বে থাকা মহিলা অথবা তার মেয়ের ব্যাপারে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট বিয়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। (সে সম্মত হলে) মেয়ের জন্য মাহ্র নির্ধারিত এবং নির্দিষ্ট করবে অতঃপর মেয়ের আক্বদ সম্পন্ন করবে।... [সহীহ্ বুখারী (৫১২৭) ও আবূ দাউদ (২২৭২)]। এ হাদীসের মধ্যে যে একমাত্র বৈধ বিয়ের পদ্ধতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে তাতে কিন্তু সুস্পষ্টভাবে অভিভাবকের দায়িত্বের কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব অভিভাবক ছাড়া বিয়ের প্রশ্নই আসে না।

📘 নারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি বৈধ > 📄 মেয়ের অভিভাবকহীন বিয়ে অবৈধ হওয়ার স্বপক্ষে সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত আসার

📄 মেয়ের অভিভাবকহীন বিয়ে অবৈধ হওয়ার স্বপক্ষে সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত আসার


মেয়ের অভিভাবকহীন বিয়ে অবৈধ হওয়ার স্বপক্ষে সহাবীগণ থেকে বর্ণিত আসার:
১। সহাবীগণ অভিভাবকহীন বিয়ে অবৈধ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য ছিলেন। ইবনুল মুনযির এ মর্মে ইজমা'র বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
ونقل الحافظ عن ابن المنذر في (الفتح (۱۸۷/۹) قوله : " إنه لا يُعرف عن أحد من الصحابة خلاف ذلك".
হাফিয ইবনু হাজার ইবনুল মুনযির হতে "ফাতহুল বারী” গ্রন্থে (৯/১৮৭) উল্লেখ করেছেন তিনি বলেন: কোন একজন সহাবী হতেও জানা যায় না যে, তিনি অভিভাবকহীন বিয়ে অবৈধ হওয়ার বিপক্ষে গেছেন।
২। আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে:
وقالت عائشة رضي الله عنها زوجوا فإن النساء لا يزوجن واعقدوا فإن النساء لا يعقدن....
আয়েশা (রাঃ) বলেন: তোমরা (পুরুষরা) বিয়ে দাও কারণ নারীরা বিয়ে করাতে পারে না। তোমরা (পুরুষরা) আক্বদ সম্পন্ন কর। কারণ নারী আক্বদ করাতে পারে না...। (শারহুল কাবীর লি ইবনু কুদামাহ্ (৭/৪২২) ও "মুগনী" (১৪/৩৯৩)।
৩। অভিভাবকহীন বিয়ের ব্যাপারে উমার (রাঃ)-এর ভূমিকা:
قال عمر ابن الخطاب رضي الله عنه : لا تَنكِحُ الْمَرْأَةُ إِلَّا بِإِذْنِ وَلَيْهَا أَوْ ذوى الرَّأْيِ مِنْ أَهْلِهَا أَوِ السَّلْطَانِ.
বর্ণনা করা হয়েছে যে, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন: কোন মহিলা (মেয়ে) তার অভিভাবক অথবা তার পরিবারের সিদ্ধান্ত দেয়ার অধিকারী অথবা শাসকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করতে পারবে না। [আসারটি বাইহাক্বী "সুনানুল কুবরা" গ্রন্থে (৭/১১১), দারাকুতনী "সুনান” গ্রন্থে (৮/৩৩৫- ৩৫৮৮), ইমাম শাফে'ঈ "আল-উম্ম" গ্রন্থে (৭/২৩৫) বর্ণনা করেছেন]।
أن عمر ابن الخطاب رد نكاح امرأة نكحت بغير اذن وليها. المحلى : .(٤٥٤/٩)
ইবনু হাযম "আল-মুহাল্লা" গ্রন্থে (৯/৪৫৪) বলেন: উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এক মহিলার বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছিলেন যে তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করেছিল।
جَمَعَتْ الطَّرِيقُ رَكْبًا ، فَجَعَلَتْ امْرَأَةُ مِنْهُنَّ تَيْبٌ أَمْرَهَا بِيَدِ رَجُلٍ غَيْرِ وَلِي فَأَنْكَحَهَا ، فَبَلَغَ ذَلِكَ عُمَرَ ، فَجَلَدَ النَّاكِحَ وَالْمُنْكَحَ وَرَدَّ نِكَاحَهَا رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ وَالدَّارَ قُطَنِي
বর্ণনা করা হয়েছে যে, 'রাস্তা কতিপয় ভ্রমণকারীকে একত্রিত করে ফেলল। তাদের মধ্য থেকে পূর্বে বিবাহিতা এক মহিলা তার নিজের বিয়ের ব্যাপারে অভিভাবক ছাড়া অন্য এক ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব অর্পন করলে সে তার বিয়ে দিয়ে দেয়। অতঃপর এ সংবাদ উমার (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বিবাহকারী এবং যাকে বিয়ে করা হয়েছে উভয়কে বেত্রাঘাত করলেন এবং মহিলার বিয়েকে প্রত্যাখ্যান করলেন।' [আসারটি ইমাম শাফে'ঈ "মুসনাদুশ শাফে'ঈ" গ্রন্থে (১/২৯০-১৩৮৭) ও "আল-উম্ম" গ্রন্থে (৫/২১), দারাকুতনী তার "সুনান" গ্রন্থে (৮/৩২১- ৩৫৭৬, অথবা ৩/২২৫-২০), আব্দুর রায্যাক তার "মুসান্নাফ" গ্রন্থে (৬/১৯৮-১০৪৮৬), বাইহাক্বী তার "সুনানুল কুবরা" গ্রন্থে (৭/১১১-১৩৪১৭), বর্ণনা করেছেন।]
উমার (রাঃ) থেকে আরো বর্ণনা করা হয়েছে:
أَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أُتِيَ بِنِكَاحٍ لَمْ يَشْهَدْ عَلَيْهِ إِلَّا رَجُلٌ وَامْرَأَةٌ فَقَالَ هَذَا نكَاحُ السِّرِّ وَلَا أُجِيرُهُ وَلَوْ كُنْتُ تَقَدَّمْتُ فِيهِ لَرَجَمْتُ.
ইমাম মালেক "আল-মুওয়াত্তা" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এক বিয়ের ঘটনা নিয়ে আসা হয়েছিল যে বিয়েতে একজন পুরুষ এবং একজন নারী সাক্ষী ছিল। তিনি বললেন : এ বিয়ে হচ্ছে গোপন বিয়ে এ বিয়ের বৈধতা আমি দেব না। আমি যদি এ বিয়ের ব্যাপারে আরো অগ্রসর হতাম তাহলে আমি পাথর মারতাম (মারার সিদ্ধান্ত নিতাম)। ["মুওয়াত্তা মালেক” (১১৩৬), "আস-সুনানুল কুবরা" (৭/১২৬)]।
উল্লেখ্য অভিভাবককে না জানিয়ে অনুমতি ছাড়াই বিয়ে একটি গোপন বিয়ে। আর ইসলাম যে গোপন বিয়ে সমর্থন করে না, উমার (রাঃ)-এর সিদ্ধান্তই তার প্রমাণ বহন করছে।
৪। অভিভাবকহীন বিয়ের ব্যাপারে আলী (রাঃ)-এর অবস্থান:
عَنْ الشَّعْبِي قَالَ : مَا كَانَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشَدَّ فِي النِّكَاحِ بِغَيْرِ وَلِيٌّ مِنْ عَلِيٍّ ، كَانَ يَضْرِبُ فِيهِ رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِي )
শা'বী হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নাবী (ﷺ)-এর সহাবীগণের মধ্যে অভিভাবকহীন বিয়ের ব্যাপারে আলী (রাঃ)-এর চেয়ে বেশী কঠোরতা প্রদর্শনকারী কেউ ছিলেন না। তিনি এরূপ বিয়ের কারণে প্রহার করতেন। [আসারটি দারাকুতনী "সুনান" গ্রন্থে (৮/৩৩৭- ৩৫৮৯/ অন্য কপিতে: ৩/২২৯-৩৩), ইবনু আবী শাইবাহ্ "মুসান্নাফ ফিল আহাদীসে অল-আসার" গ্রন্থে (৩/৪৫৪-১৫৯২২), বাইহাক্বী "সুনানুল কুবরা" গ্রন্থে (৭/১১১-১৩৪২২), ইবনু হুসাম হিন্দী "কানযুল ওম্মাল.." গ্রন্থে (১৬/৭৫১-৪৫৭৭০) ও শাওকানী "নাইলুল আতার" গ্রন্থে (৬/১৭৮) ও ইবনু কুদামাহ্ "আল-মুগনী” গ্রন্থে (৭/৩৪৪) উল্লেখ করেছেন]।
عن على رضى الله عنه قال ايما امرأة نكحت بغير إذن وليها فنكاحها باطل لا نكاح الا بإذن ولى - هذا اسناده صحيح. (أخرجه البيهقي: .(۱۱۱/۷)
আলী (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন: যে কোন মহিলা তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করবে তার বিয়ে বাতিল। অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিয়ে হয় না। [আসারটি বাইহাক্বী "সুনানুল কুবরা লিল-বাইহাক্বী" গ্রন্থে (৭/১১১) বর্ণনা করে বলেছেন: এ সনদটি সহীহ্। তার উদ্ধৃতিতে ইবনু হুসাম হিন্দী "কানযুল ওম্মাল.." গ্রন্থে (১৬/৭৫০-৪৫৭৬৮) হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।।

📘 নারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি বৈধ > 📄 সমাজ এবং সুস্থ বিবেকও অভিভাবকহীন বিয়েকে সমর্থন করে না

📄 সমাজ এবং সুস্থ বিবেকও অভিভাবকহীন বিয়েকে সমর্থন করে না


সমাজ এবং সুস্থ বিবেকও অভিভাবকহীন বিয়েকে সমর্থন করে নাঃ
আমরা যদি সামাজিকভাবে বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখি তাহলে দেখব। কোন প্রকৃত মুসলিম ব্যক্তিই তার মেয়ে কর্তৃক নিজে নিজে তাকে (অভিভাবককে) না-জানিয়ে এবং তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে করে নেয়াকে সমর্থন করে না। সমাজের মধ্য থেকে হাজারে দু'একজন যারা এরূপ গোপন বিয়েকে সমর্থন করে, তারা আসলেই ইসলামী বিধি বিধানের ধার ধারে না। আরেকটু ভেবে দেখুন, ইসলাম যদি এরূপ গোপন বিয়েকে সমর্থনই করতো তাহলে মেয়ে গোপনে বিয়ে করবে কেন? বরং মেয়ে ও ছেলে নিজেরাও বুঝে যে, এরূপ বিয়ে সমর্থনযোগ্য নয়। অতএব সমাজ এবং সুস্থ বিবেকও এরূপ অভিভাবকহীন বিয়েকে সমর্থন করে না। বরং ঘৃণা করে। সাধারণত সমাজের কাছে এ বিয়ে করা মেয়ে-ছেলেরা ধিকৃত হয় এবং সমালোচনার বিষয় বস্তুতে পরিণত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00