📘 নারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি বৈধ > 📄 কোন প্রাপ্ত বয়স্কা নারী বা মেয়ের বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য অভিভাবকের অনুমতি বা সম্মতি শর্ত কি না এ সম্পর্কে আলেমগণের সিদ্ধান্তগুলো দলীল সহকারে উল্লেখ করা হলো

📄 কোন প্রাপ্ত বয়স্কা নারী বা মেয়ের বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য অভিভাবকের অনুমতি বা সম্মতি শর্ত কি না এ সম্পর্কে আলেমগণের সিদ্ধান্তগুলো দলীল সহকারে উল্লেখ করা হলো


প্রথমতঃ জামহুর (অধিক সংখ্যক) আলেমের নিকট বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বা অনুমোদন থাকা শর্তযুক্ত। অভিভাবকের অনুমতি ও সম্মতি ব্যতীত বিয়ে হবে না এবং অভিভাবক ছাড়া মেয়ের বিয়েই বৈধ হবে না। হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী ইবনুল মুনযিরের উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করেছেন যে, কোন একজন সহাবী হতেও জানা যায় না যে, তিনি এ মতের বিপক্ষে ছিলেন।

📘 নারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি বৈধ > 📄 আসুন আমরা একটু ভেবে দেখি কী কারণে অভিভাবকহীন বিয়ের প্রয়োজন পড়ে

📄 আসুন আমরা একটু ভেবে দেখি কী কারণে অভিভাবকহীন বিয়ের প্রয়োজন পড়ে


আমরা যে কারণে অভিভাবকহীন বিয়ের কথা নিয়ে আলোচনা করছি সেটির উৎস কি? আসলে কি কারণে অভিভাবকহীন বিয়ের প্রয়োজন পড়ে?
পাঠকমহল! একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করুন এবং চিন্তা করুন অভিভাবকহীন বিয়ের একমাত্র কারণ হচ্ছে বিয়ে পূর্ব পারস্পরিক সম্পর্ক বা প্রেম অথবা ভালোবাসা। এর দ্বিতীয় কোন কারণ নেই। কিন্তু বিয়ে পূর্ব সম্পর্কটা কোন পর্যায়ে গেলে বিয়ে পর্যন্ত যায় তাও একটু চিন্তা করুন। এ কারণে অভিভাবকহীন বিয়ের পূর্বে আমাদের জানা প্রয়োজন বিয়ে পূর্ব নর ও নারীর বা যুবক যুবতীদের সম্পর্ককে ইসলাম কি সমর্থন করে? এ সম্পর্ক গড়ার বৈধতা কি ইসলাম দিয়েছে না দেয়নি? আমার মনে হয় ইসলাম সম্পর্কে যে ব্যক্তির সামান্যতম জ্ঞান রয়েছে তিনিই জানেন যে, ইসলাম বিয়ে পূর্ব কোন সম্পর্কের বৈধতা প্রদান করেনি। বরং ইসলামে এরূপ সম্পর্ক গড়া সম্পূর্ণরূপে হারাম।
এরপর আসুন! কত গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠলে বিয়েতে গড়াই। শুনেছি (নিজে জানিনা) শুধু ব্যভিচারে জড়িত হওয়াই নয়, ব্যভিচারে জড়িত হওয়া ছাড়াও যুবক এবং যুবতী পরস্পরের শরীরকে স্পর্শ করলে সে যুবক এবং যুবতীর মাঝে গভীর আকর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং পরস্পরকে নিকটে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ে এমনকি এ পারস্পরিক শারীরিক স্পর্শকে সারা জীবনেও ভুলতে পারে না। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিরাই বলতে পারবেন। কোন কোন সময় যেমন বর্তমানে মোবাইলের এ যুগে কথার আকর্ষণও কিন্তু কম নয়। ফলে এ আধুনিক যুগে মোবাইল সহ অন্য কোন মাধ্যমে ভাব বিনিময়ের দ্বারাও প্রেম-প্রীতি সৃষ্টি হয়ে বিয়েতে গড়াতে পারে। আবার পরক্ষণে সুমিষ্ঠভাষী উভয়ে পরস্পরকে দেখার পর খুশি না হতে পারার কারণে প্রেমের সম্পর্কের অবসানও ঘটে যেতে পারে। এরূপ ঘটনাও বর্তমানে দু'একটা ঘটছে।

📘 নারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি বৈধ > 📄 অভিভাবক ছাড়া বিয়ের কু-প্রভাব

📄 অভিভাবক ছাড়া বিয়ের কু-প্রভাব


তবে বাস্তবতা যদি এরূপই হয় তাহলে (দলীল নিয়ে আলোচনা করা ছাড়াই) এক বাক্যে বলতে হবে যে, অবৈধ সম্পর্ককে অটুট রাখতেই অভিভাবকহীন বিয়ের আয়োজন। অতএব যারা বলছেন যে, অভিভাবকহীন বিয়ে বৈধ তাদেরকে বিয়ে পূর্ব অবৈধ সম্পর্ককেও বৈধ আখ্যা দিতে হবে। কারণ অভিভাবকহীন বিয়ের উৎসই হচ্ছে অবৈধ সম্পর্ক।
যিনি এ বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হবেন তিনি খুব সহজেই বুঝে যাবেন যে, অভিভাবকহীন বিয়ে কখনও বৈধ হতে পারে না।
অভিভাবক ছাড়া বিয়ের কু-প্রভাবঃ
১। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই মেয়েদের জন্যে নিজে নিজেই বিয়ে করার অনুমোদন থাকলে ছেলে মেয়েদের মাঝে পাপের সম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং এর বিস্তৃতি ঘটবে। কোন দু'জন ছেলে ও মেয়ের মাঝে সম্পর্ক গড়ে উঠলে এবং তা প্রকাশ হয়ে পড়লে তারা দ্রুততার সাথে অভিভাবক ছাড়াই বিয়ের করে ফেলবে এবং দাবী করে বসবে যে, আমরা দু'জনে স্বামী-স্ত্রী। আর এরূপ ঘটনা ঘটানো তিনজন বন্ধুকে ম্যানেজ করে খুব সহজেই ঘটানো সম্ভব। একজন পড়াবে বিয়ে আর দু'জন হবে সাক্ষী। ফলে অভিনব কায়দায় এ এক নতুন পদ্ধতির বিয়ের প্রচলন সমাজে চালু হয়ে যাবে যা ইসলামী বিয়ে হিসেবে শারী'য়াতের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আর এরূপ বিয়েকে বৈধতা দেয়া হলে উঠতি বয়সের ছেলে এবং মেয়েরা বাড়তি সুযোগ ভেবে এর দিকে ঝুকে পড়বে এবং তা সমাজে ব্যাধি হিসেবে ছড়িয়ে পড়বে। বর্তমানে ঘটছেও।
২। পিতা-মাতা সহ আত্মীয় স্বজনের অজান্তে এরূপ বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনাও খুব বেশী। এমনকি পরস্পরে বুঝাপড়ার মাধ্যমেও এর পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে। মোহ ভঙ্গ হলে সবার অজান্তেই গোপন বিয়ের মৃত্যু গোপনেই ঘটে যাবে।
৩। আবার এরূপ বিয়েকে বৈধতা দেয়া হলে এক শ্রেণীর যুবক যুবতী এরূপ বিয়ে করাকে নেশা হিসেবেও গ্রহণ করতে পারে। এ ধারণায় যে যখন এটাকে কেউ কেউ জায়েয আখ্যা দিয়েছেন তখন একবার বিয়ে করে সেটির পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে পুনরায় আরেক যুবকের সাথে বিয়ে করলে অসুবিধা কি। যুবকও একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। ফলে অভিভাবক কর্তৃক বিয়ে দেয়ার পূর্বেই হয়তো একজনের একাধিকজনের সাথে বিয়ে হয়ে যেতে পারে যদি পারস্পরিকভাবে আগ্রহ ও সম্পর্ক সৃষ্টি হয়ে যায়।
৪। অনেক সময় এরূপ একটি বিয়েকে দুলীল হিসেবে গ্রহণ করে অন্যরাও বিয়ে করতে পারে। কারণ বর্তমান সমাজে কুরআন আর হাদীসের দলীল অনুসন্ধান না করে ঘটে যাওয়া ঘটনাকেই দলীল হিসেবে গ্রহণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেরূপ পূর্বেও করা হয়েছে।
৫। পিতা-মাতার অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও যদি গোপনে বিয়ে করে ফেলে তাহলে এ ক্ষেত্রে সে পিতা-মাতার অবাধ্য হিসেবে গণ্য হবে যা নিঃসন্দেহে কাবীরাহ্ গুনাহ্ (মহাপাপ)। এভাবে সে একটি অন্যায় করতে গিয়ে আরেকটি অন্যায়ের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।
৬। অভিভাবকহীন বিয়ের বৈধতা প্রদানের দ্বারা (অবৈধভাবে) সুযোগের সদ্ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান করা হবে। নিঃসন্দেহে এরূপ বিয়ের অনুমোদন দেয়ার অর্থ দাঁড়াবে ব্যবসায়ী, ছাত্র/ছাত্রী ও যুবক যুবতীদেরকে অবাধে গোপন বিয়েতে উৎসাহিত করা। এমনকি এরূপ বিয়ের বৈধতা পেলে নাবী (ﷺ) কর্তৃক হারামকৃত আর শিয়াদের নিকট বৈধ- নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তি ভিত্তিক মুত'য়াহ্- বিয়ে প্রথার প্রচলন শুরু হয়ে যেতে পারে। আর শুনাও যাচ্ছে আমাদের বাংলাদেশে এক শ্রেণীর স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে মেয়েদের মাঝে নাকি এরূপ শুরু হয়ে গেছে। [নাঊযুবিল্লাহি মিন যালিক]।

📘 নারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা কি বৈধ > 📄 অভিভাবকহীন বিয়ের ব্যাপারে এক নজরে পক্ষে বিপক্ষে যাদের মতামত

📄 অভিভাবকহীন বিয়ের ব্যাপারে এক নজরে পক্ষে বিপক্ষে যাদের মতামত


অভিভাবকহীন বিয়ের ব্যাপারে এক নজরে পক্ষে বিপক্ষে যাদের মতামত বা সিদ্ধান্ত উদ্ধৃত হয়েছে তাদের কতিপয় নাম সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:
অভিভাবকহীন বিয়ে অবৈধ, বাতিল এবং না-জায়েযের পক্ষে মতামত দিয়েছেন তারা হলেন:
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ), আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ), আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাস'উদ (রাঃ), আব্দুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রাঃ), আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ), আয়েশা (রাঃ), আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাঃ) প্রমুখ। এছাড়া কোন একজন সহাবী থেকেও এর বিপক্ষে কোন মত পাওয়া যায় না। তাবে'ঈদের মধ্য থেকে সা'ঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, হাসান বাসরী, জাবের ইবনু যায়েদ, শুরাইহ, ইবরাহীম নাখ'ঈ, উমার ইবনু আব্দিল আযীয প্রমুখ। চার ইমামের মধ্যে ইমাম মালেক ও তার অনুসারীগণ, ইমাম শাফে'ঈ ও তার অনুসারীগণ, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও তার অনুসারীগণ। এছাড়া সুফইয়ান সাওরী, ইবনু আবী লাইলাহ্, ইবনু শুবরুমাহ্, ওবাইদুল্লাহ্ আম্বারী, আওযা'ঈ, আব্দুল্লাহ্ ইবনুল মুবারাক, ইসহাক ইবনু রাহওয়াই, আবূ ওবাইদ প্রমুখ।
وَمِمَّنْ قَالَ ذَلِكَ ، أَبُو يُوسُفَ ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمَا.
ইমাম আবূ জা'ফার আত্বহাবী "শারহু মা'আনিল আসার” গ্রন্থে (৩/৩৬৪) বলেন: ইমাম আবূ ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মাদ সেই মতের অনুসারী যারা বলেছেন যে, কোন মেয়ের তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত নিজেই নিজের বিয়ে দেয়া না জায়েয।
وقال ابن رشد الحفيد في ( بداية المجتهد (۱۰/۲) :" ذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة"
ইবনু রুশদ আল-হাফীদ "বিদায়াতুল মুজতাহিদ” গ্রন্থে (২/১০) বলেন : ইমাম মালেক এ মত পোষণ করেছেন যে, অভিভাবক ছাড়া বিয়েই হবে না। অভিভাবক থাকা বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্তযুক্ত।
আল্লামাহ্ বাগাবী "শারহুস সুন্নাহ্' গ্রন্থে (৯/৪০) বলেন: রসূল (ﷺ)-এর বাণী "অভিভাবক ব্যতীত বিয়েই হবে না" এ হাদীসের উপর সহাবী এবং তাদের পরের যুগের বিদ্বানগণের আমল হয়ে আসছে।
ইবনু রুশদ (২/১০) বলেন: দাউদ আয-যাহেরী আবার এরূপ মত পোষণ করেছেন যে, বিধবা নারী অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই একাকী বিয়ে করতে পারবে কুমারী যুবতী মেয়ে পারবে না। এরূপ পার্থক্য করাকেও উপরোক্ত হাদীসগুলো সমর্থন করে না। অতএব এ মতটিও সঠিক নয়।
ইমাম আবূ হানীফা (রহিঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি অভিভাবকহীন বিয়েকে বৈধতা দিয়েছেন। অর্থাৎ কোন যুবতী মেয়ে অভিভাবককে না জানিয়ে নিজে নিজেই বিয়ে করলে তা করা জায়েয আছে।
কিন্তু ইজতিহাদ করে দেয়া তার এ ফাতাওয়া সঠিক ছিল না। তার পরেও তিনি একটি সাওয়াব পাবেন। কারণ, রসূল (ﷺ) হাদীসের মধ্যে বলেছেন: ইজতিহাদ করে সমাধান প্রদাণকারী ভুল করলেও একটি সাওয়াব পাবে। [এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসাঈ প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন]। আর কোন ব্যক্তি ইজতিহাদ করে ফাতাওয়া দিলেই তার কথা গ্রহণ করতে হবে এমন নয়। বরং তার কথার গ্রহণযোগ্যতা আর প্রত্যাখ্যান করাটা নির্ভর করে দলীলের উপর ভিত্তি করে। একমাত্র রসূল (ﷺ)-এর সহীহ্ হাদীস প্রত্যাখ্যানযোগ্য নয়।
একজন ইমামের প্রতিটি মতের অনুসরণ করতে হবে বিষয়টি এরূপও নয়। এ কারণেই বিশিষ্ট আলেমে দীন সুলাইমান আত-তামীমী বলেছেন : যদি প্রত্যেক আলেমের অনুমোদনকেই গ্রহণ কর অথবা প্রত্যেক আলেমেরই পদস্খলনমূলক সিদ্ধান্তকে গ্রহণ কর তাহলে তোমার মধ্যে যাবতীয় মন্দ কর্মের সমাবেশ ঘটবে।
এছাড়া ইমাম আবূ হানীফা (রহিঃ) এর ঐতিহাসিক উক্তির দিকে যদি দৃষ্টি দেই তাহলে দেখছি তিনি বলেছেন:
إِذَا صَحَ الْحَدِيثُ فَهُوَ مَذْهَبي . ( ابن عابدين في " الحاشية " ١ / ٦٣)
১। হাদীস সহীহ্ হিসেবে প্রমাণিত হলেই সেটি আমার মাযহাব।
[দেখুন হানাফী মাযহাবের ফিকহের গ্রন্থ "হাশিয়াহ্ ইবনু আবেদীন" (১/৬৩)]।
وقال : إذا قلت قولا وكتاب الله يخالفه فاتركوا قولي لكتاب الله قيل : إذا كان قول رسول الله ﷺ يخالفه ؟ قال : اتركوا قولي لخبر الرسول ﷺ وقيل إذا كان قول الصحابة يخالفه ؟ قال : اتركوا قولي لقول الصحابة.
৭। তিনি আরো বলেন: আমি যখন এমন কোন কথা বলবো কিতাবুল্লাহ্ যার বিপরীত বলছে, তখন তোমরা কিতাবুল্লাহ্র কারণে আমার কথাকে প্রত্যাখ্যান কর। কেউ বললো: যদি রসূল (ﷺ)-এর বাণী আপনার কথা বিরোধী হয় তাহলে? তিনি বললেন: তোমরা রসূল (ﷺ)-এর হাদীসের কারণে আমার কথা পরিত্যাগ করো। তাকে বলা হলো: যদি সহাবীর কথা আপনার কথার বিপরীত হয় তাহলে? তিনি বললেন: সহাবীর কথার কারণে আমার কথাকে প্রত্যাখ্যান কর। [দেখুন "ফতহুল মাজীদ” (১/৩৭৪)]।
قال أبو حنيفة رحمه الله : إذا جاء الحديث عن رسول الله ﷺ فعلى الرأس والعين وإذا جاء عن الصحابة رضي الله عنهم فعلى الرأس والعين وإذا جاء عن التابعين فنحن رجال وهم رجال.
৮। ইমাম আবু হানীফা (রহিঃ) আরো বলেন: রসূল (ﷺ) থেকে যখন কোন হাদীস বর্ণিত হবে তখন তা মাথা নিচু করে আর চোখ বুজে গ্রহণ করতে হবে, যখন সহাবীদের থেকে আসার বর্ণিত হবে তখনও তা মাথা পেতে এবং চোখ বন্ধ করে গ্রহণ করতে হবে আর যখন তাবে'ঈদের থেকে কিছু বর্ণিত হবে তখন আমরা এবং তারা সমানে সমান। [দেখুন "ফতহুল মাজীদ” (১/৩৭৪)]।
অতএব ইমাম আবূ হানীফা (রহিঃ)-এর এসব কথাকে মর্যাদা দিয়ে সঠিক অর্থ, সুস্পষ্ট সহীহ্ হাদীস এবং সহাবীগণের মতকে মেনে নিলে প্রকৃতপক্ষে তার অনুসরণ করা হবে এবং তার প্রতি ন্যায় বিচার করা হবে। অন্যথায় তার প্রতি অবিচার করা হবে।
এ মতামতগুলো ছাড়াও আরো মতামত পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00