📄 সুদ এবং ব্যবসার মধ্যে পার্থক্য
এমনিভাবে কুরআন মজীদ যখন সুদকে হারাম ঘোষণা দিয়েছে তখন তা হারাম হয়ে গেছে। বুদ্ধির আয়ত্তে আসুক বা না আসুক। দেখুন কুরআন মজীদে আরবের মুশরিকদের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, তারা বলছে "اِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا "ব্যবসা সুদের মত (সূরা বাকারাহ, ২৭৫)। ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বারাও মানুষ মুনাফা অর্জন করে আর সুদের দ্বারাও মানুষ মুনাফা অর্জন করে। কিন্তু কুরআন মজীদ এর উত্তরে কোন পার্থক্য নির্দেশ করেননি যে, ব্যবসা এবং সুদের মধ্যে এই পার্থক্য বরং এর উত্তর এই ভাবে দিয়েছে- أَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا -
তায়ালা ব্যবসা হালাল করেছেন আর সুদ হারাম করেছেন। (সূরা নিসা, ২৭৫) এখন এই বিধানের মধ্যে তোমাদের প্রশ্ন করার কোন সুযোগ নেই। এজন্য যে, আল্লাহ তায়ালা ব্যবসা হালাল করেছেন সুতরাং তা হালাল আর সুদ হারাম করেছেন এখন তা হারাম। এরপর এ সম্পর্কে প্রশ্ন করার অর্থ হল প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধিকে অযথার্থ স্থানে ব্যবহার করা।
📄 হিন্দুস্তানি এক গায়কের ভাবনা
একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা আছে যে, এক হিন্দুস্তানী গায়ক একবার হজ্বে গেল। হজ্ব শেষে মদীনা শরীফ যাওয়ার পথে এক মনযিলে সে রাতে থাকার জন্য অবস্থান করল। সেখানে এক আরব গায়ক খুবই বিশ্রী আওয়াজে সারঙ্গী বাজিয়ে গান গাইতে ছিল। আওয়াজ খুবই বিশ্রী ছিল এবং সে ভালভাবে সারঙ্গী বাজাতেও জানত না। হিন্দুস্তানী গায়ক তার আওয়াজ শুনে বলল, আজকে একথা আমার বুঝে আসলো যে, হুজুর (স) গানবাদ্য কেন হারাম করেছেন। এজন্য যে, হুজুর (স) এই সমস্ত গ্রাম্য লোকের গান শুনেছিলেন। যদি হুজুর (স) আমাদের গান শুনতেন তাহলে গান হারাম করতেন না। (নাউজুবিল্লাহ)। প্রকৃতপক্ষে এগুলো মনগড়া গবেষণা ও প্রবৃত্তির কুফল বৈ কিছু নয়। আজকাল এই সমস্ত চিন্তা (thinking) যাকে গবেষণা নাম দেয়া হচ্ছে তা তথাকথিত ভোগবাদী প্রগতিশীলদের প্রবৃত্তির চাহিদা মেটানোর নিমিত্তে গৃহীত স্বেচ্ছাচারিতার ফলমাত্র।
📄 বর্তমান যুগের এক চিন্তাবিদের অভিনব ব্যাখ্যা
আমাদের ওখানে একজন প্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ আছেন। “চিন্তাবিদ” বলার কারণ হল তিনি নিজকে বড় চিন্তাবিদ মনে করেন। কুরআন মজীদের আয়াত- السَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوْا أَيْدِيَهُمَا -পুরুষ এবং মহিলা চোরের হাত কেটে দাও। (সূরা মায়িদাহ, ৩৮)
ঐ চিন্তাবিদ সাহেব এই আয়াতের ব্যাখ্যা এ রকম করেছেন, “চোর” দ্বারা উদ্দেশ্য পুঁজিবাদী, যারা বড় মিল-কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছে। আর “হাত” দ্বারা উদ্দেশ্য হল তাদের কল-কারখানা (industris) আর “কাটা”র দ্বারা উদ্দেশ্য হল জাতীয়করণ। অতএব আয়াতের অর্থ হল, পুঁজিবাদীদের সমস্ত কল-কারখানা জাতীয়করণ করা। এভাবে চুরির পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
📄 প্রাচ্যে ফিরিঙ্গিদের অনুকরণের অজুহাত
এই ধরনের চিন্তা-গবেষণাকারীদের সম্পর্কে মহাকবি ইকবাল মরহুম বলেছেন - এই ধরনের অদূরদর্শী গবেষণাকারীদের থেকে পূর্বের লোকদের কথা অনুকরণ করা বেশী নিরাপদ।
আসল কথা হল যতক্ষণ পর্যন্ত “ইসলামাইজেশন অব ল”-এর দর্শন মস্তিষ্কে না ঢুকানো হবে ততক্ষণ শুধু “ইসলামাইজেশন অব ল”-এর শব্দের গঠন শুদ্ধ করার দ্বারা কোন লাভ হবেনা।
অতএব "ইসলামাইজেশন অব ল”-এর প্রথম ধাপ হল আমরা এ কথায় বিশ্বাসী হই যে, ডঙ্কা বাজিয়ে, কাউকে ভয় না করে, একথা বলতে হবে, আমাদের কাছে যদি মানবতার কল্যাণের কোন পথ থাকে তাহলে শুধুমাত্র ইসলামীকরণের মধ্যেই আছে, এছাড়া অন্য কোন জিনিসের মধ্যে নেই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকেই এই বাস্তবতাকে সঠিকভাবে হৃদয়ঙ্গম করার তৌফিক দান করুন। আমীন!
وَاخِرُ دَعْوَانَا اَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ