📄 ইসলামের বিধানের মধ্যে নমনীয়তা আছে
পরিশেষে একটি কথা আরজ করছি, যখন উপরের কথা বুঝে এসে গেল তখন অন্তরে এই প্রশ্নের উদ্রেক হয় যে, আমরা চৌদ্দশত বছরের পুরাতন জীবনকে কিভাবে ফিরিয়ে আনব? চৌদ্দশত বছরের পুরাতন নীতিমালাকে বিংশ, একবিংশ শতাব্দীর সঙ্গে কিভাবে খাপ খাওয়াবো? কারণ আমাদের প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন রকমের এবং তা পরিবর্তন হতে থাকে। এই সমস্ত প্রশ্ন ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই উদয় হয়। ইসলাম তার বিধানসমূহকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছে।
প্রথমত, ঐ অংশ যার সম্পর্কে কুরআন-হাদীসের হুকুম পরিষ্কার এবং নিশ্চিত যার মধ্যে কেয়ামত পর্যন্ত আগত অবস্থার কারণে কোন পরিবর্তন হবে না। এই বিধান অপরিবর্তনীয়। জমানা যতই পরিবর্তন হোক সেটার মধ্যে কোন পরিবর্তন হবে না।
দ্বিতীয়ত, ঐ অংশ যার মধ্যে গবেষণা এবং চিন্তা-ভাবনার সুযোগ আছে- এবং সেটার সম্পর্কে কোন পরিষ্কার এবং নিশ্চিত বিধান নেই যা সময়োপযোগী হবে। সে সম্পর্কে স্বয়ং ইসলামী বিধানসমূহের মধ্যে নমনীয়তা (elasticity) আছে।
তৃতীয়ত, ঐ অংশ যে সম্পর্কে কুরআন, হাদীস নীরব। যে সম্পর্কে কোন নির্দেশনা এবং কোন হুকুম নেই, যে সম্পর্কে কুরআন ও হাদীস কোন বিধান দেয়নি। কেন দেয়নি? এজন্য যে, বিষয়টিকে আমাদের বুদ্ধির উপর ছেড়ে দিয়েছে এবং সেটির সীমা এত প্রশস্ত, প্রত্যেক যুগে মানুষ নিজের বুদ্ধি এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঐ শূন্য ময়দানে (unoccupied area) উন্নতি করতে পারে এবং যুগের চাহিদা মেটাতে পারে।
📄 ঐ সমস্ত বিধান যা কেয়ামত পর্যন্ত পরিবর্তন হবে না
ইসলামী বিধানের দ্বিতীয় অংশ যার মধ্যে গবেষণা এবং চিন্তা-ভাবনার সুযোগ রয়েছে ওর মধ্যে অবস্থা অনুযায়ী কারণ পরিবর্তন হলে বিধানের মধ্যে পরিবর্তন হতে পারে। তবে ১ম অংশের মধ্যে কখনো পরিবর্তন হবে না। এজন্য যে, সেটা প্রকৃতপক্ষে মানুষের স্বভাবজাত। মানুষের অবস্থা পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু স্বভাব পরিবর্তন হতে পারে না। আর যেহেতু বিষয়টি মানুষের স্বভাবের উপর প্রতিষ্ঠিত এজন্য সেটার মধ্যে কোন পরিবর্তন করা যাবে না। মোটকথা যে পর্যন্ত শরীয়ত আমাদেরকে সুযোগ দিয়েছে এই সীমার মধ্য থেকে আমরা নিজেদের প্রয়োজনকে পরিপূর্ণরূপে ব্যবহার করতে পারি।
📄 গবেষণা কোথা থেকে আরম্ভ হয়
গবেষণার সীমানা ওখান থেকে আরম্ভ হয় যে সম্পর্কে পরিষ্কার এবং নিশ্চিত বিধান নেই। যেখানে পরিষ্কার বিধান রয়েছে সেখানে বুদ্ধি ব্যবহার করে অকাট্ট হুকুমের বিপরীত কথা বলা প্রকৃতপক্ষে নিজের কর্মসীমা অতিক্রম করা। আর এর ফলেই দ্বীনের মধ্যে পরিবর্তনের দ্বার উন্মুক্ত হয়। যার একটি দৃষ্টান্ত আপনাদের সামনে পেশ করছি।
📄 শূকর হালাল হওয়া সম্পর্কে
কুরআন মজীদে শূকর হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এটা ওহীর বিধান। এখানে বুদ্ধি ব্যবহার করে এ কথা বলা যে, জনাব! এটা হারাম কেন? এটা হালাল হওয়া উচিত। এটা বুদ্ধিকে অযথার্থ স্থানে ব্যবহার করার শামিল। বুদ্ধিকে অযথার্থস্থানে ব্যবহার করে কিছু লোক একথা বলেছে, কুরআন মজীদে শূকর হারাম ঘোষণা দেয়ার আসল কারণ হল, ঐ সময় শূকর বড় ময়লা যুক্ত ছিল এবং দূষিত পরিবেশে লালিত-পালিত হত আর ময়লা-আবর্জনা খেত। এখন শূকরের জন্য হাইজেনিক ফার্ম তৈরী হয়েছে এবং স্বাস্থ্য সম্মত পদ্ধতিতে লালনপালন করা হচ্ছে। অতএব এখন ঐ বিধান শেষ হয়ে যাওয়া উচিত। এই বুদ্ধি প্রসূত চিন্তার ফল হল এই যে, যেখানে পরিষ্কার বিধান রয়েছে সেখানে এমন অকাট্য হুকুমের বিপরীত কথা বলে, বুদ্ধিকে অযথার্থ স্থানে ব্যবহার করার কারণে দ্বীনের বিধান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দুনিয়া এবং আখেরাতে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আল্লাহ এমন চিন্তা থেকে আমাদের হেফাজত করুন। এটাই হল বুদ্ধিকে ঐ স্থানে ব্যবহার করা যেখানে সে কাজ করতে অসম্মতি জ্ঞাপন করছে।