📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 সাইন্স ও টেকনোলজী অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র

📄 সাইন্স ও টেকনোলজী অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র


একথার উত্তর এই, কুরআন আমাদের এ সমস্ত কথা এজন্য বলে না যে, এ সমস্ত জিনিস বুদ্ধির পরিধির মধ্যে, এগুলো অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র ব্যক্তিগত চেষ্টা এবং পরিশ্রমের ক্ষেত্র। আল্লাহ তায়ালা এই বিষয়কে মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, বুদ্ধি এবং চেষ্টার উপর ছেড়ে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি যত চেষ্টা করবে, বুদ্ধিকে ব্যবহার করবে, অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবে সে ব্যক্তি তত অগ্রসর হতে থাকবে। কুরআন এসেছেই ঐ স্থানের জন্য যেখানে বুদ্ধির সীমা শেষ হয়ে যায়। বুদ্ধি সেটাকে সম্পূর্ণ রূপে আয়ত্ত করতে পারে না। কুরআন মজীদ আমাদেরকে ঐ জিনিস সম্পর্কে জ্ঞান সরবরাহ করেছে। অতএব ইসলামাইজেশন অব ল'-এর সমস্ত দর্শন এই যে, আমরা আমাদের জীবনকে পরিপূর্ণরূপে ইসলামের অনুগত বানাই।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 ইসলামের বিধানের মধ্যে নমনীয়তা আছে

📄 ইসলামের বিধানের মধ্যে নমনীয়তা আছে


পরিশেষে একটি কথা আরজ করছি, যখন উপরের কথা বুঝে এসে গেল তখন অন্তরে এই প্রশ্নের উদ্রেক হয় যে, আমরা চৌদ্দশত বছরের পুরাতন জীবনকে কিভাবে ফিরিয়ে আনব? চৌদ্দশত বছরের পুরাতন নীতিমালাকে বিংশ, একবিংশ শতাব্দীর সঙ্গে কিভাবে খাপ খাওয়াবো? কারণ আমাদের প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন রকমের এবং তা পরিবর্তন হতে থাকে। এই সমস্ত প্রশ্ন ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই উদয় হয়। ইসলাম তার বিধানসমূহকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছে।
প্রথমত, ঐ অংশ যার সম্পর্কে কুরআন-হাদীসের হুকুম পরিষ্কার এবং নিশ্চিত যার মধ্যে কেয়ামত পর্যন্ত আগত অবস্থার কারণে কোন পরিবর্তন হবে না। এই বিধান অপরিবর্তনীয়। জমানা যতই পরিবর্তন হোক সেটার মধ্যে কোন পরিবর্তন হবে না।
দ্বিতীয়ত, ঐ অংশ যার মধ্যে গবেষণা এবং চিন্তা-ভাবনার সুযোগ আছে- এবং সেটার সম্পর্কে কোন পরিষ্কার এবং নিশ্চিত বিধান নেই যা সময়োপযোগী হবে। সে সম্পর্কে স্বয়ং ইসলামী বিধানসমূহের মধ্যে নমনীয়তা (elasticity) আছে।
তৃতীয়ত, ঐ অংশ যে সম্পর্কে কুরআন, হাদীস নীরব। যে সম্পর্কে কোন নির্দেশনা এবং কোন হুকুম নেই, যে সম্পর্কে কুরআন ও হাদীস কোন বিধান দেয়নি। কেন দেয়নি? এজন্য যে, বিষয়টিকে আমাদের বুদ্ধির উপর ছেড়ে দিয়েছে এবং সেটির সীমা এত প্রশস্ত, প্রত্যেক যুগে মানুষ নিজের বুদ্ধি এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঐ শূন্য ময়দানে (unoccupied area) উন্নতি করতে পারে এবং যুগের চাহিদা মেটাতে পারে।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 ঐ সমস্ত বিধান যা কেয়ামত পর্যন্ত পরিবর্তন হবে না

📄 ঐ সমস্ত বিধান যা কেয়ামত পর্যন্ত পরিবর্তন হবে না


ইসলামী বিধানের দ্বিতীয় অংশ যার মধ্যে গবেষণা এবং চিন্তা-ভাবনার সুযোগ রয়েছে ওর মধ্যে অবস্থা অনুযায়ী কারণ পরিবর্তন হলে বিধানের মধ্যে পরিবর্তন হতে পারে। তবে ১ম অংশের মধ্যে কখনো পরিবর্তন হবে না। এজন্য যে, সেটা প্রকৃতপক্ষে মানুষের স্বভাবজাত। মানুষের অবস্থা পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু স্বভাব পরিবর্তন হতে পারে না। আর যেহেতু বিষয়টি মানুষের স্বভাবের উপর প্রতিষ্ঠিত এজন্য সেটার মধ্যে কোন পরিবর্তন করা যাবে না। মোটকথা যে পর্যন্ত শরীয়ত আমাদেরকে সুযোগ দিয়েছে এই সীমার মধ্য থেকে আমরা নিজেদের প্রয়োজনকে পরিপূর্ণরূপে ব্যবহার করতে পারি।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 গবেষণা কোথা থেকে আরম্ভ হয়

📄 গবেষণা কোথা থেকে আরম্ভ হয়


গবেষণার সীমানা ওখান থেকে আরম্ভ হয় যে সম্পর্কে পরিষ্কার এবং নিশ্চিত বিধান নেই। যেখানে পরিষ্কার বিধান রয়েছে সেখানে বুদ্ধি ব্যবহার করে অকাট্ট হুকুমের বিপরীত কথা বলা প্রকৃতপক্ষে নিজের কর্মসীমা অতিক্রম করা। আর এর ফলেই দ্বীনের মধ্যে পরিবর্তনের দ্বার উন্মুক্ত হয়। যার একটি দৃষ্টান্ত আপনাদের সামনে পেশ করছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00