📄 আল্লাহর ওহীকে জ্ঞানার্জনের মাধ্যম বানান
যখন আমরা এ কথা বলি যে, আইন (law)কে ইসলামীকরণ করা হোক, সে কথার অর্থ এই যে, ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা জ্ঞানার্জনের যে দুটো ভিত্তি পঞ্চইন্দ্রিয় (চোখ, কান, নাক, ত্বক, জিহ্বা) এবং বুদ্ধিকে গ্রহণ করেছে তা থেকে আরও এক ধাপ অগ্রসর হয়ে আল্লাহ তায়ালার ওহীকেও জ্ঞানার্জন এবং পথ প্রদর্শনের মাধ্যম ঘোষণা দিয়ে সেটিকেও নিজেদের রীতিনীতি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
📄 এই বিধানের কারণ আমার বুঝে আসে না
আর যখন একথা আমাদের বুঝে এসে যায় যায়, আল্লাহর ওহী শুরুই সেখান থেকে হয়, যেখানে বুদ্ধির দৌড় শেষ হয়ে যায়। তখন ওহীর মাধ্যমে কুরআন এবং হাদীসে কোন বিধান আসার পর ঐ বিধানকে একথা বলে প্রত্যাখ্যান করা যে, জনাব! এই বিধানের কারণ আমার বুঝে আসে না, এটা নির্বোধের মত কাজ হবে।
এজন্য যে, ওহীর বিধান এসেছেই ঐ স্থানে যেখানে বুদ্ধি (reason) কাজে আসছিল না যদি কাজে আসত তাহলে ওহীর প্রয়োজনই ছিল না। ঐ বিধানের পিছনে যে সমস্ত রহস্য লুক্বায়িত আছে যদি ঐ সমস্ত রহস্যাবলী আমাদের বুদ্ধি আয়ত্ত করতে পারত তাহলে আল্লাহ তায়ালার ওহীর মাধ্যমে ঐ বিধান দেয়ার মোটেই প্রয়োজন ছিল না।
📄 কুরআন-হাদীসে সাইন্স ও টেকনোলজী
এখান থেকে আরও একটি প্রশ্নের উত্তর হয়ে গেল, যা আমাদের অধিকাংশ শিক্ষিত লোকের মস্তিষ্কে উদয় হয়। সেটা এই, জনাব! বর্তমানে সমগ্র পৃথিবী সাইন্স ও টেকনোলজীতে উন্নতি করছে। কিন্তু কুরআন ও হাদীস আমাদেরকে সাইন্স এবং টেকনোলজী সম্পর্কে কোন ফর্মুলা পেশ করে না, কিভাবে আমরা পারমাণবিক বোমা তৈরী করব, কিভাবে হাইড্রোজেন বোমা তৈরী করব। এটার কোন ফর্মুলা না কুরআন মজীদে পাওয়া যায় আর না রাসূলুল্লাহ (স)-এর হাদীসে পাওয়া যায়। ফলে কিছু লোক হীনমন্যতার শিকার হয়। বলে, জনাব ! পৃথিবীতো চন্দ্র এবং মঙ্গলগ্রহে পৌঁছে যাচ্ছে আর কুরআন আমাদেরকে এ সম্পর্কে কিছুই বলে না, আমরা চাঁদে কিভাবে পৌঁছব?
📄 সাইন্স ও টেকনোলজী অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র
একথার উত্তর এই, কুরআন আমাদের এ সমস্ত কথা এজন্য বলে না যে, এ সমস্ত জিনিস বুদ্ধির পরিধির মধ্যে, এগুলো অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র ব্যক্তিগত চেষ্টা এবং পরিশ্রমের ক্ষেত্র। আল্লাহ তায়ালা এই বিষয়কে মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, বুদ্ধি এবং চেষ্টার উপর ছেড়ে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি যত চেষ্টা করবে, বুদ্ধিকে ব্যবহার করবে, অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবে সে ব্যক্তি তত অগ্রসর হতে থাকবে। কুরআন এসেছেই ঐ স্থানের জন্য যেখানে বুদ্ধির সীমা শেষ হয়ে যায়। বুদ্ধি সেটাকে সম্পূর্ণ রূপে আয়ত্ত করতে পারে না। কুরআন মজীদ আমাদেরকে ঐ জিনিস সম্পর্কে জ্ঞান সরবরাহ করেছে। অতএব ইসলামাইজেশন অব ল'-এর সমস্ত দর্শন এই যে, আমরা আমাদের জীবনকে পরিপূর্ণরূপে ইসলামের অনুগত বানাই।