📄 আপনার কাছে কোন উপযুক্ত মানদণ্ড নেই
অতএব আপনি এমন কোন উপযুক্ত মানদণ্ড পেশ করতে পারছেন না যার ভিত্তিতে আপনি এটা বলবেন যে, অমুক চিন্তা যৌক্তিক আর অমুক চিন্তা অযৌক্তিক। অতএব যৌক্তিক এবং অযৌক্তিক এটা তো আপেক্ষিক ব্যাপার (relative term) আপনি যেটাকে অযৌক্তিক বলছেন আমি সেটাকে যৌক্তিক মনে করছি।
তারপর তিনি বললেন, ঠিক আছে এটা অযৌক্তিক না হোক কিন্তু এটার মধ্যে হিংসা আছে, এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা আছে এজন্য এটার অনুমতি দেয়া যাবে না। আমি বললাম জনাব, ঠিক আছে, আমি আপনার কথা মেনে নিলাম যে, যে মুক্তচিন্তার মধ্যে হিংসা এবং বিশৃঙ্খলা আছে সেটার উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা উচিত। এখন আপনি আপনার দ্বিতীয় কথা মেনে নিলেন। এখন আপনি এই মূলনীতি পেশ করেছেন যে, হিংসা এবং বিশৃঙ্খলার উপর ভিত্তি করে মুক্তচিন্তার উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল এই যে, হিংসা এবং বিশৃঙ্খলার সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করবে? উদাহরণস্বরূপ এক ব্যক্তি এ কথা বলে যে, রাষ্ট্রের বর্তমান ব্যবস্থাকে উৎখাত কর এবং এই উদ্দেশ্যে সে তার অনুসারীদেরকে বলে যে, তোমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন কর, মিছিল বের কর। এখন এক ব্যক্তি বলছে, এটা মুক্তচিন্তা, যেহেতু এই রাষ্ট্রব্যবস্থা আমাদের দৃষ্টিতে ভুল, এজন্য এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করা আমাদের অধিকার। আরেক ব্যক্তি বলছে এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা আছে। তাহলে এখন মীমাংসাকারী কে হবে? যে এ কথা বলবে, এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা আছে কি-না? উদাহরণস্বরূপ আজ আমাদের দেশে গণতন্ত্র আছে। আরেক দল এর বিরোধী। এখন ঐ বিরোধী দল যদি রাস্তায় বের হয়ে আসে এবং বলে, গণতন্ত্র কুফরী ব্যবস্থা, এটাকে উৎখাত কর এবং এর পরিবর্তে এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কর। এটা তাদের মুক্তচিন্তার দাবী। কিন্তু আপনি বলবেন, এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা রয়েছে এজন্য এটার অনুমতি দেয়া যাবে না। এখন আমাকে বলুন ঐ মানদণ্ড কী হবে? যে মীমাংসা করবে, কোথায় বিশৃঙ্খলা আছে আর কোথায় বিশৃঙ্খলা নেই। এ রকমভাবে আমি আপনাকে বিশটা উদাহরণ দিতে পারি, যেখানে এক দল বলবে এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা আছে আর আরেক দল বলবে এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা নেই। অতএব এমন কোন বাঁধা ধরা কথা বলুন যার দ্বারা আপনি এই মীমাংসা করবেন যে, অমুক ধরনের বিধি-নিষেধ বৈধ আর অমুক ধরনের বিধি-নিষেধ অবৈধ।
📄 মানুষের কাছে 'ওহী' ছাড়া কোন মানদণ্ড নেই
তিনি বললেন, আপনার এই চিন্তা-ভাবনা আমাদের সংস্থায় পৌঁছে দেব এবং এই বিষয়ের উপর আমাদের যে পুস্তিকা আছে উহাও সরবরাহ করব। এ কথা বলে তিনি আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি করে বিদায় হয়ে গেলেন। আমি আজ পর্যন্ত তাঁর ওয়াদা অনুযায়ী তাঁদের পুস্তিকা অথবা আমার এই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় আছি। এবং আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে, তিনি কেয়ামত পর্যন্ত না প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন, না এমন কোন মান্দণ্ড পেশ করতে পারবেন যা বিশ্বব্যাপী গ্রহণীয় (universally applicable) হবে। এজন্য যে, আপনি একটা মানদণ্ড পেশ করবেন তো আরেকজন আরেকটি মানদণ্ড পেশ করবে। আপনারও নিজস্ব মস্তিষ্ক প্রসূত মানদণ্ড হবে আর তারও নিজস্ব মস্তিষ্ক প্রসূত মানদণ্ড হবে। আর পৃথিবীতে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যে এমন কোন মানদণ্ড স্থির করবে যা সমগ্র পৃথিবীর জন্য পরিপূর্ণরূপে গ্রহণীয় হবে। একথা আমি কোন প্রকার খণ্ডনের ভয় ছাড়াই বলতে পারি, বাস্তবিক পক্ষে মানুষের কাছে আল্লাহ তায়ালার ওহী ব্যতীত এমন কোন মানদণ্ড নেই যা ঐ সমস্ত অস্পষ্ট চিন্তা-ভাবনার উপর বৈধ সীমানা স্থির করার কোন আবশ্যকীয় এবং চিরন্তন মানদণ্ড পেশ করতে পারে। বস্তুত আল্লাহ তায়ালার উপদেশ ব্যতীত মানুষের কাছে অন্য কোন জিনিস নেই।
📄 একমাত্র ধর্মই মানদণ্ড হতে পারে
আপনি দর্শন শাস্ত্র খুলে দেখুন। সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে যে, আচার-ব্যবহারের সঙ্গে আইনের কি সম্পর্ক? আইন সম্পর্কে এক শ্রেণীর চিন্তাবিদ আছেন যারা বলেন, আচার-ব্যবহারের সঙ্গে আইনের কোন সম্পর্ক নেই এবং ভাল-মন্দের ধারণা ভুল। ভাল-মন্দ বলতে কিছু নেই। তারা বলেন, উচিত-অনুচিত ইত্যাদি শব্দগুলি প্রকৃতপক্ষে মানুষের আত্মার কামনার সৃষ্টি। নচেৎ এ ধরনের কোন ধ্যান-ধারণা নেই। এজন্য যে, সমাজ যে সময় যে জিনিস গ্রহণ করবে সেটা তার জন্য সঠিক। আর আমাদের কাছে ভাল-মন্দের কোন মানদণ্ড নেই যা একথা বলে দেবে, অমুক জিনিস ভাল আর অমুক জিনিস মন্দ। এই নীতিমালা আইনের প্রসিদ্ধ টেক্সট বইসমূহে এ আছে। সেখানে এই আলোচনার শেষে একটি কথা লিখেছে যে, “মানুষের কাছে ঐ সমস্ত বস্তু নির্দিষ্ট করার জন্য একটি জিনিস মানদণ্ড হতে পারে, তাহল ধর্ম (religion) কিন্তু যেহেতু ধর্মের সম্পর্ক মানুষের বিশ্বাসের (belief) সঙ্গে, আর ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থায় বিশ্বাসের কোন স্থান নেই। এজন্য আমরা এটাকে একটা ভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করতে পারি না।”
📄 বাধা দেয়ার কোন দলীল নেই
আরও একটি দৃষ্টান্ত মনে পড়ল। যা একটু আগেই আমি বলেছি। যে সময় বৃটিশ পার্লামেন্টে সমকামিতা (homo sexuality)-এর বিল হাতে তালি বাজিয়ে পাশ করা হল। উক্ত বিল পাশ হওয়ার পূর্বে যথেষ্ট বিরোধিতাও হয়েছিল এবং উক্ত বিলের উপর চিন্তা-ভাবনা করার জন্য একটা কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। যে কমিটি এই বিষয়ের উপর চিন্তা-ভাবনা করে, এই বিল পাশ হওয়া উচিত কি-না। উক্ত কমিট যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তার সারাংশ fridman-এর প্রসিদ্ধ বই দি লিগ্যাল থিউরী (The Legal Theory) তে দেয়া আছে। সেখানে ঐ কমিটির রির্পোট উল্লেখ করার পর লিখেছে, "যদিও এর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই যে, এটা ভাল জিনিস নয়। কিন্তু যেহেতু আমরা একবার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে আইনের নাক গলানো উচিত নয়। সেহেতু এই নীতির আলোকে যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা অন্যায় (sin) এবং অপরাধ (crime)-এর মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখব যে, অন্যায় ( sin ) এক জিনিস আর অপরাধ (crime) আরেক জিনিস, ততক্ষণ পর্যন্ত এই কাজকে বাধা দেয়ার কোন দলীল আমাদের কাছে নেই। হ্যাঁ যদি অন্যায় এবং অপরাধকে এক জিনিস ধরা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে এই বিলের বিরুদ্ধে মত দেয়া যায়। অতএব আমাদের কাছে এই বিলকে বাধা দেয়ার কোন বৈধতা নেই, সুতরাং এই বিল পাশ হয়ে যাওয়া উচিত”।