📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 মুক্তচিন্তার মতাদর্শ কি একেবারেই স্বাধীন?

📄 মুক্তচিন্তার মতাদর্শ কি একেবারেই স্বাধীন?


আমি তাঁকে বললাম, আপনি বলেছেন এই সংস্থা যার পক্ষ থেকে আপনাকে পাঠানো হয়েছে এটা মুক্তচিন্তার পতাকাবাহী। নিঃসন্দেহে এই মুক্তচিন্তা বড় ভাল কথা। কিন্তু আমি এটা জিজ্ঞাসা করতে চাই, আপনার দৃষ্টিতে এই মুক্তচিন্তা কি সম্পূর্ণ স্বাধীন (absolute)? না এর উপর কোন বিধি-নিষেধ হওয়া উচিত? তিনি বললেন আমি আপনার কথার উদ্দেশ্য বুঝতে পারিনি। আমি বললাম আমার উদ্দেশ্য হল মুক্তচিন্তার এই ধারণা কি এতখানি স্বাধীন (absolute) যে, মানুষের অন্তরে যা উদয় হবে তাই অপরের সামনে প্রকাশ্যে বলে দিবে এবং তার প্রচার করবে আর সকলকে সেটার দিকে আহবান করবে? উদাহরণস্বরূপ, আমি মনে করি, পুঁজিবাদীরা অনেক সম্পদ গড়েছে, এজন্য গরীবদের এই স্বাধীনতা হওয়া উচিত, তারা পুঁজিবাদীদের নিকট থেকে ডাকাতি করবে এবং তাদের সম্পদ ছিনিয়ে নেবে। আর আমি আমার এই চিন্তার প্রচার শুরু করে দেব, গরীবরা ডাকাতি করবে আর পুঁজিবাদীদের সম্পদ কেড়ে নেবে। তাহলে এটার কি অনুমতি হবে?
তিনি বললেন এটার অনুমতি কিভাবে হবে? আমি বললাম কেন হবে না? এটাতো আমার মুক্তচিন্তার অংশ। আমি এটা চিন্তা করি এবং এটা প্রকাশ করছি, আপনি কিভাবে এটা বাধা দেবেন? তিনি বললেন, আরে ভাই! এই মুক্তচিন্তা দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য এই নয় যে, যা অন্তরে আসবে তাই বলবে, বরং উদ্দেশ্য হল যুক্তিসঙ্গত কথা বলা। এটা তো একটা অযৌক্তিক কথা হল যে, একজনকে ডাকাতি করতে বলা?
আমি বললাম, আরে জনাব! আপনি এটাকে অযৌক্তিক বলছেন? আমার দৃষ্টিতে তো এটাই যুক্তি সঙ্গত। আর পুঁজিবাদীরা যে সম্পদ গড়ে তুলেছে সেটাই আমার দৃষ্টিতে অযৌক্তিক। অতএব এটা তো আপেক্ষিক ব্যাপার (relative term) আপনি যেটাকে অযৌক্তিক বলছেন আমি সেটাকে যৌক্তিক মনে করছি।
আপনার কাছে কোন উপযুক্ত মানদণ্ড নেই
অতএব আপনি এমন কোন উপযুক্ত মানদণ্ড পেশ করতে পারছেন না যার ভিত্তিতে আপনি এটা বলবেন যে, অমুক চিন্তা যৌক্তিক আর অমুক চিন্তা অযৌক্তিক। অতএব যৌক্তিক এবং অযৌক্তিক এটা তো আপেক্ষিক বিষয়। আমার দৃষ্টিতে যৌক্তিক আপনার দৃষ্টিতে অযৌক্তিক। তারপর তিনি বললেন, ঠিক আছে এটা অযৌক্তিক না হোক কিন্তু এটার মধ্যে হিংসা আছে, এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা আছে এজন্য এটার অনুমতি দেয়া যাবে না। আমি বললাম জনাব, ঠিক আছে, আমি আপনার কথা মেনে নিলাম যে, যে মুক্তচিন্তার মধ্যে হিংসা এবং বিশৃঙ্খলা আছে সেটার উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা উচিত। এখন আপনি আপনার দ্বিতীয় কথা মেনে নিলেন। এখন আপনি এই মূলনীতি পেশ করেছেন যে, হিংসা এবং বিশৃঙ্খলার উপর ভিত্তি করে মুক্তচিন্তার উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল এই যে, হিংসা এবং বিশৃঙ্খলার সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করবে? উদাহরণস্বরূপ এক ব্যক্তি এ কথা বলে যে, রাষ্ট্রের বর্তমান ব্যবস্থাকে উৎখাত কর এবং এই উদ্দেশ্যে সে তার অনুসারীদেরকে বলে যে, তোমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন কর, মিছিল বের কর। এখন এক ব্যক্তি বলছে, এটা মুক্তচিন্তা, যেহেতু এই রাষ্ট্রব্যবস্থা আমাদের দৃষ্টিতে ভুল, এজন্য এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করা আমাদের অধিকার। আরেক ব্যক্তি বলছে এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা আছে। তাহলে এখন মীমাংসাকারী কে হবে? যে এ কথা বলবে, এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা আছে কি-না? উদাহরণস্বরূপ আজ আমাদের দেশে গণতন্ত্র আছে। আরেক দল এর বিরোধী। এখন ঐ বিরোধী দল যদি রাস্তায় বের হয়ে আসে এবং বলে, গণতন্ত্র কুফরী ব্যবস্থা, এটাকে উৎখাত কর এবং এর পরিবর্তে এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কর। এটা তাদের মুক্তচিন্তার দাবী। কিন্তু আপনি বলবেন, এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা রয়েছে এজন্য এটার অনুমতি দেয়া যাবে না। এখন আমাকে বলুন ঐ মানদণ্ড কী হবে? যে মীমাংসা করবে, কোথায় বিশৃঙ্খলা আছে আর কোথায় বিশৃঙ্খলা নেই। এ রকমভাবে আমি আপনাকে বিশটা উদাহরণ দিতে পারি, যেখানে এক দল বলবে এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা আছে আর আরেক দল বলবে এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা নেই। অতএব এমন কোন বাঁধা ধরা কথা বলুন যার দ্বারা আপনি এই মীমাংসা করবেন যে, অমুক ধরনের বিধি-নিষেধ বৈধ আর অমুক ধরনের বিধি-নিষেধ অবৈধ।
তিনি বললেন, জনাব! আমরা এই বিষয়ে কখনও নিয়মতান্ত্রিকভাবে চিন্তা করিনি। আমি বললাম আপনি এত বড় একটা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে জড়িত আর আপনি এই বিষয়ের জরিপ করতে এসেছেন এবং এই কাজের দায়িত্ব নিয়েছেন। অথচ এই মৌলিক প্রশ্ন যে, মুক্তচিন্তার সীমানা কি হওয়া উচিত? উহার প্রশস্ততা (scope) কতটুকু হওয়া উচিত তা চিন্তা করেন নি? যদি এই প্রশ্ন আপনার ব্রেনে না থাকে তাহলে আপনার এই কর্মসূচি আমার দৃষ্টিতে ফলপ্রসূ হবে না। অনুগ্রহপূর্বক আমার এই প্রশ্নের উত্তর আপনাদের পুস্তিকার মাধ্যমে আমাকে দিবেন অথবা অন্যান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে দিবেন।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 আপনার কাছে কোন উপযুক্ত মানদণ্ড নেই

📄 আপনার কাছে কোন উপযুক্ত মানদণ্ড নেই


অতএব আপনি এমন কোন উপযুক্ত মানদণ্ড পেশ করতে পারছেন না যার ভিত্তিতে আপনি এটা বলবেন যে, অমুক চিন্তা যৌক্তিক আর অমুক চিন্তা অযৌক্তিক। অতএব যৌক্তিক এবং অযৌক্তিক এটা তো আপেক্ষিক ব্যাপার (relative term) আপনি যেটাকে অযৌক্তিক বলছেন আমি সেটাকে যৌক্তিক মনে করছি।
তারপর তিনি বললেন, ঠিক আছে এটা অযৌক্তিক না হোক কিন্তু এটার মধ্যে হিংসা আছে, এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা আছে এজন্য এটার অনুমতি দেয়া যাবে না। আমি বললাম জনাব, ঠিক আছে, আমি আপনার কথা মেনে নিলাম যে, যে মুক্তচিন্তার মধ্যে হিংসা এবং বিশৃঙ্খলা আছে সেটার উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা উচিত। এখন আপনি আপনার দ্বিতীয় কথা মেনে নিলেন। এখন আপনি এই মূলনীতি পেশ করেছেন যে, হিংসা এবং বিশৃঙ্খলার উপর ভিত্তি করে মুক্তচিন্তার উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল এই যে, হিংসা এবং বিশৃঙ্খলার সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করবে? উদাহরণস্বরূপ এক ব্যক্তি এ কথা বলে যে, রাষ্ট্রের বর্তমান ব্যবস্থাকে উৎখাত কর এবং এই উদ্দেশ্যে সে তার অনুসারীদেরকে বলে যে, তোমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন কর, মিছিল বের কর। এখন এক ব্যক্তি বলছে, এটা মুক্তচিন্তা, যেহেতু এই রাষ্ট্রব্যবস্থা আমাদের দৃষ্টিতে ভুল, এজন্য এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করা আমাদের অধিকার। আরেক ব্যক্তি বলছে এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা আছে। তাহলে এখন মীমাংসাকারী কে হবে? যে এ কথা বলবে, এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা আছে কি-না? উদাহরণস্বরূপ আজ আমাদের দেশে গণতন্ত্র আছে। আরেক দল এর বিরোধী। এখন ঐ বিরোধী দল যদি রাস্তায় বের হয়ে আসে এবং বলে, গণতন্ত্র কুফরী ব্যবস্থা, এটাকে উৎখাত কর এবং এর পরিবর্তে এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কর। এটা তাদের মুক্তচিন্তার দাবী। কিন্তু আপনি বলবেন, এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা রয়েছে এজন্য এটার অনুমতি দেয়া যাবে না। এখন আমাকে বলুন ঐ মানদণ্ড কী হবে? যে মীমাংসা করবে, কোথায় বিশৃঙ্খলা আছে আর কোথায় বিশৃঙ্খলা নেই। এ রকমভাবে আমি আপনাকে বিশটা উদাহরণ দিতে পারি, যেখানে এক দল বলবে এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা আছে আর আরেক দল বলবে এটার মধ্যে বিশৃঙ্খলা নেই। অতএব এমন কোন বাঁধা ধরা কথা বলুন যার দ্বারা আপনি এই মীমাংসা করবেন যে, অমুক ধরনের বিধি-নিষেধ বৈধ আর অমুক ধরনের বিধি-নিষেধ অবৈধ।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 মানুষের কাছে 'ওহী' ছাড়া কোন মানদণ্ড নেই

📄 মানুষের কাছে 'ওহী' ছাড়া কোন মানদণ্ড নেই


তিনি বললেন, আপনার এই চিন্তা-ভাবনা আমাদের সংস্থায় পৌঁছে দেব এবং এই বিষয়ের উপর আমাদের যে পুস্তিকা আছে উহাও সরবরাহ করব। এ কথা বলে তিনি আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি করে বিদায় হয়ে গেলেন। আমি আজ পর্যন্ত তাঁর ওয়াদা অনুযায়ী তাঁদের পুস্তিকা অথবা আমার এই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় আছি। এবং আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে, তিনি কেয়ামত পর্যন্ত না প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন, না এমন কোন মান্দণ্ড পেশ করতে পারবেন যা বিশ্বব্যাপী গ্রহণীয় (universally applicable) হবে। এজন্য যে, আপনি একটা মানদণ্ড পেশ করবেন তো আরেকজন আরেকটি মানদণ্ড পেশ করবে। আপনারও নিজস্ব মস্তিষ্ক প্রসূত মানদণ্ড হবে আর তারও নিজস্ব মস্তিষ্ক প্রসূত মানদণ্ড হবে। আর পৃথিবীতে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যে এমন কোন মানদণ্ড স্থির করবে যা সমগ্র পৃথিবীর জন্য পরিপূর্ণরূপে গ্রহণীয় হবে। একথা আমি কোন প্রকার খণ্ডনের ভয় ছাড়াই বলতে পারি, বাস্তবিক পক্ষে মানুষের কাছে আল্লাহ তায়ালার ওহী ব্যতীত এমন কোন মানদণ্ড নেই যা ঐ সমস্ত অস্পষ্ট চিন্তা-ভাবনার উপর বৈধ সীমানা স্থির করার কোন আবশ্যকীয় এবং চিরন্তন মানদণ্ড পেশ করতে পারে। বস্তুত আল্লাহ তায়ালার উপদেশ ব্যতীত মানুষের কাছে অন্য কোন জিনিস নেই।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 একমাত্র ধর্মই মানদণ্ড হতে পারে

📄 একমাত্র ধর্মই মানদণ্ড হতে পারে


আপনি দর্শন শাস্ত্র খুলে দেখুন। সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে যে, আচার-ব্যবহারের সঙ্গে আইনের কি সম্পর্ক? আইন সম্পর্কে এক শ্রেণীর চিন্তাবিদ আছেন যারা বলেন, আচার-ব্যবহারের সঙ্গে আইনের কোন সম্পর্ক নেই এবং ভাল-মন্দের ধারণা ভুল। ভাল-মন্দ বলতে কিছু নেই। তারা বলেন, উচিত-অনুচিত ইত্যাদি শব্দগুলি প্রকৃতপক্ষে মানুষের আত্মার কামনার সৃষ্টি। নচেৎ এ ধরনের কোন ধ্যান-ধারণা নেই। এজন্য যে, সমাজ যে সময় যে জিনিস গ্রহণ করবে সেটা তার জন্য সঠিক। আর আমাদের কাছে ভাল-মন্দের কোন মানদণ্ড নেই যা একথা বলে দেবে, অমুক জিনিস ভাল আর অমুক জিনিস মন্দ। এই নীতিমালা আইনের প্রসিদ্ধ টেক্সট বইসমূহে এ আছে। সেখানে এই আলোচনার শেষে একটি কথা লিখেছে যে, “মানুষের কাছে ঐ সমস্ত বস্তু নির্দিষ্ট করার জন্য একটি জিনিস মানদণ্ড হতে পারে, তাহল ধর্ম (religion) কিন্তু যেহেতু ধর্মের সম্পর্ক মানুষের বিশ্বাসের (belief) সঙ্গে, আর ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থায় বিশ্বাসের কোন স্থান নেই। এজন্য আমরা এটাকে একটা ভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করতে পারি না।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00