📄 বুদ্ধির উদাহরণ
আল্লামা ইবনে খালদুন যিনি একজন উঁচু স্তরের ঐতিহাসিক এবং দার্শনিক ছিলেন। তিনি লিখেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে বুদ্ধি দিয়েছেন তা বড় কাজের জিনিস। কিন্তু উহা ঐ সময় পর্যন্ত কাজের জিনিস যতক্ষণ তাকে তার কর্মসীমার মধ্যে ব্যবহার করা হবে। যদি তাকে তার কর্মসীমার বাইরে ব্যবহার করা হয় তাহলে তা কাজে আসবে না। অতঃপর তিনি এর একটি সুন্দর উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন- বুদ্ধির দৃষ্টান্ত এমন, যেমন স্বর্ণ ওজন করার পাল্লা। ঐ পাল্লা দিয়ে মাত্র কয়েক গ্রাম স্বর্ণ ওজন করা যায়। এ পর্যন্তই ওটা কাজে আসে এবং সেটিকে শুধুমাত্র স্বর্ণ ওজন করার জন্যই তৈরী করা হয়েছে। যদি কেউ ঐ পাল্লা দিয়ে পাহাড় ওজন করতে চায় তাহলে পাল্লা ভেঙ্গে যাবে। তখন যদি কেউ বলে, এই পাল্লা অনর্থক, কারণ এটা দ্বারা পাহাড় ওজন করা যায় না। তাহলে সমগ্র পৃথিবী তাকে বোকা বলবে। প্রকৃত ব্যাপার হল, সে পাল্লাকে উহার সঠিক স্থানে ব্যবহার করেনি। (মোকাদ্দামা ইবনে খালদুন, ইলমে কালাম অধ্যায়, পৃ. ৪৪০)
📄 ইসলাম এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্যে পার্থক্য
ইসলাম এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হল ইসলাম এ কথা বলে-নিশ্চয় তোমরা বুদ্ধিকে ব্যবহার কর। কিন্তু শুধু ঐ পর্যন্ত যে পর্যন্ত সেটা কাজে আসে। বুদ্ধির একটা সীমা আছে সেই সীমানার পরে বুদ্ধি কাজ করা বন্ধ করে দেয় বরং ভুল তথ্য দিতে শুরু করে। যেমন কম্পিউটার, আপনি যদি সেটাকে ঐ কাজে ব্যবহার করেন যে জন্য সেটাকে তৈরী করা হয়েছে, তাহলে সে তৎক্ষণাৎ উত্তর দেবে। কিন্তু যে জিনিস কম্পিউটারের মধ্যে সেট করা হয়নি সে জিনিস যদি তা থেকে জানতে চান, তাহলে শুধু সে কাজ করাই বন্ধ করবে না বরং ভুল তথ্য দিতে শুরু করবে। এরকমভাবে যে জিনিস বুদ্ধির ভিতরে সেট করা হয়নি, সে জিনিসের জন্য আল্লাহ তায়ালা মানুষকে জ্ঞানার্জনের তৃতীয় একটি মাধ্যম দান করেছেন। আর তা হল 'ওহী' যখন সেখানে বুদ্ধিকে ব্যবহার করা হবে তখন বুদ্ধি ভুল তথ্য দিতে শুরু করবে। এই কারণেই নবী করীম (স)-এর আগমন ঘটেছে। সে জন্য কুরআন কারীম অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং কুরআন মজীদের আয়াত - أَنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَبَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا )সূরা নিসা, ১০৫( أَرَاكَ اللهُ
“নিশ্চয় আমি আপনার নিকটে সত্য কিতাব প্রেরণ করেছি যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন।” (সূরা নিসা, ১০৫)
কুরআন মজীদই আপনাকে বলবে, কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা। কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল। কোনটা ভাল কোনটা মন্দ। এ সমস্ত জিনিস বুদ্ধির ভিত্তিতে আপনি জানতে পারবেন না।
📄 মুক্তচিন্তার পতাকাবাহী সংস্থার অবস্থা
একটা প্রসিদ্ধ আন্তর্জাতিক সংস্থা আছে যার নাম “এ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল”। সংস্থাটির হেড অফিস প্যারিসে। আজ থেকে প্রায় একমাস পূর্বে উক্ত সংস্থার একজন রিসার্স স্কলার জরিপ করার জন্য পাকিস্তানে এসেছিলেন। আল্লাহই ভাল জানেন, তিনি কেন আমার নিকটেও সাক্ষাৎকারের জন্য এসেছিলেন। তিনি এসে আমার সঙ্গে আলোচনা শুরু করলেন। বললেন আমাদের উদ্দেশ্য হল মুক্তচিন্তার জন্য কাজ করা। অনেক লোক মুক্তচিন্তার জন্য কারাগারে বন্দী, তাদেরকে বের করতে চাই। এটা এমন একটা সর্বসম্মত বিষয়, যে সম্পর্কে কারও মতবিরোধ থাকা উচিত নয়। আমাকে এজন্য পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে যে, আমি এই বিষয়ের উপর বিভিন্ন শ্রেণীর লোকদের মতামত জানব। আমি শুনেছি আপনারও বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীগণের সঙ্গে সম্পর্ক আছে, এজন্য আমি আপনার কাছেও কিছু প্রশ্ন করতে চাই।
📄 বর্তমান কালে তথাকথিত একটি গবেষণার নমুনা
আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি উদ্দেশ্যে এই জরিপ করতে চান? তিনি উত্তর দিলেন, পাকিস্তানের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের এ সম্পর্কে মতামত কি? এটা আমি জানতে চাই। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কবে করাচী এসেছেন? তিনি বললেন আজ সকালে এসেছি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কবে ফিরে যাবেন? তিনি বললেন কাল সকালে আমি ইসলামাবাদ যাব (রাত্রে এই সাক্ষাৎকার হচ্ছিল)। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইসলামাবাদে কতদিন থাকবেন? তিনি বললেন, একদিন ইসলামাবাদে থাকব।
আমি তাঁকে বললাম, প্রথমে আপনি আমাকে এটা বলুন, আপনি পাকিস্তানের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মতামত জরিপ করতে এসেছেন এবং এরপর আপনি রিপোর্ট তৈরী করে পেশ করবেন। আপনি কি মনে করেন, এই দুই তিন শহরে দুই তিন দিন থাকা আপনার যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন, এটা স্পষ্ট যে, তিন দিনে সকলের মতামত জানা সম্ভব নয়, কিন্তু আমি বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছি। কিছু লোকের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে আর এই সম্পর্কে আপনার কাছেও আসলাম, আপনিও আমাকে কিছু সাহায্য করুন। আমি পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি করাচীতে কতজনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন? তিনি বললেন আমি তিন জনের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। আর আপনি চতুর্থ ব্যক্তি।
আমি বললাম এই চারজন মানুষের মতামত নিয়ে আপনি এই রিপোর্ট তৈরী করবেন, করাচীবাসীর মতামত এই। ক্ষমা করবেন আপনার এই জরিপের সততার উপর আমার সন্দেহ আছে। এজন্য যে, বাস্তবধর্মী গবেষণা এবং জরিপের কাজ এভাবে হয় না। অতএব আপনার কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি অপারগ। এ কথার পর তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করে বললেন—আমার কাছে সময় কম ছিল, এজন্য শুধু কয়েকজনের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। আমি বললাম, অল্প সময় নিয়ে জরিপের এই কাজের দায়িত্ব নেয়া কি আবশ্যক ছিল? এরপর তিনি পীড়াপীড়ি শুরু করে দিয়ে বললেন, যদিও আপনার আপত্তি ন্যায়সঙ্গত তবুও আপনি আমার কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েই দিন। আমি আবার অপারগতা প্রকাশ করলাম এবং বললাম এই অবিবেচক এবং অসম্পূর্ণ জরিপে কোন সাহায্য করতে আমি অক্ষম। তবে আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি আপনার এই সংস্থার মৌলিক চিন্তা চেতনা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করতে চাই। তিনি বললেন, আসলে তো আমি আপনার কাছে প্রশ্ন করতে এসেছিলাম কিন্তু যদি আপনি উত্তর না দিতে চান তাহলে নিঃসন্দেহে আপনি আমাদের সংস্থা সম্পর্কে যে প্রশ্ন করতে চান করুন।