📄 আসমানী কিতাব থেকে বিচ্যুত হওয়ার ফল
এত সব কেন হচ্ছে? এ জন্য যে, বুদ্ধিকে ঐ স্থানে ব্যবহার করা হচ্ছে যা বুদ্ধির পরিধির বাইরে। যেখানে আসমানী কিতাবের পথ-প্রদর্শনের কথা সেখানে বুদ্ধিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর বুদ্ধিকে আসমানী কিতাবের পথ প্রদর্শন থেকে মুক্ত করার ফল এই যে, বৃটিশ সংসদ সমকামীতা (homo-sexuality)-এর বৈধতার বিল হাতে তালি বাজিয়ে পাস করছে। আর এখন এটা একটা নিয়মিত বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আমি ঘটনাক্রমে একবার নিউইয়র্কের একটি লাইব্রেরীতে গিয়েছিলাম। সেখানে পৃথক একটি সেকশন ছিল যার উপর এই শিরোনাম লাগানো ছিল "গে ষ্টাইল অব লাইফ” (gay style of life ) এই বিষয়ের উপর বিপুল পরিমাণ পুস্তকও বাজারে এসে গেছে এবং এর জন্য ক্লাবও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের গ্রুপ এবং পার্টিও আছে, তারা বড় বড় পদেও রয়েছে। ঐ সময় নিউইয়র্কের মেয়রও একজন গে (gay-সমকামী) ছিল।
📄 বুদ্ধির ধোঁকা
আমেরিকার পত্রিকা টাইমসে গতসপ্তাহে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, উপসাগরীয় যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সৈন্যদের মধ্য থেকে প্রায় একহাজার সৈন্যকে শুধুমাত্র এ কারণে সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে যে, তারা সমকামী (homo-sexual) ছিল। কিন্তু এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা চলছে, মিছিল হচ্ছে এবং চর্তুদিক থেকে এই আওয়াজ উঠছে যে, সমকামী হওয়ার কারণে তাদেরকে সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা একেবারে অযৌক্তিক। তাদেরকে পুনরায় বহাল করা উচিত। তাদের যুক্তি হচ্ছে যে, এটা মানুষের স্বভাবগত চাহিদা আর বর্তমানে এই বাহানা দিয়ে দুনিয়ার সমস্ত জঘন্য অপকর্মকে বৈধ ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এসব কিছু বুদ্ধির ভিত্তিতে হচ্ছে। বলুন যুক্তির দিক দিয়ে এর মধ্যে মন্দের কি আছে? আর এটা তো শুধু মানবজাতির কথা ছিল। এখন তো মানুষ কুকুর, গাধা, ঘোড়ার সঙ্গে পর্যন্ত যৌনতার সম্পর্ক গড়ে তুলছে। আর সেটাকে গর্বভরে বর্ণনা করা হচ্ছে।
📄 বুদ্ধির আরো একটি ধোঁকা
এ কথা স্পষ্ট করার জন্য আরো একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করছি। যে এ্যাটম বোমের ধ্বংসলীলা। ভয়ে আজ সমগ্র পৃথিবী ভীত এবং চিন্তিত, যা হ্রাস করার বিভিন্ন পন্থা খুঁজে বের করা হচ্ছে। সেই এ্যাটম বোমা সম্পর্কে ইনসাইক্লোপেডিয়া অব বৃটানিকায় যে অধ্যায় রচনা করা হয়েছে তা একটু খুলে দেখুন। সেখানে লেখা হয়েছে যে, পৃথিবীতে দুই স্থানে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। হিরোশিমা এবং নাগাসাকি ঐ দুই স্থানে পারমাণবিক বোমার দ্বারা যে ধ্বংস সৃষ্টি হয়েছে তার উল্লেখ পরে করা হয়েছে। ঐ অধ্যায়ের শুরু এভাবে করা হয়েছে, হিরোশিমা এবং নাগাসাকির উপর পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করার দ্বারা এক কোটি মানুষের প্রাণ রক্ষা হয়েছে এবং তাদেরকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো হয়েছে। আর উহার এই যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, যদি হিরোশিমা এবং নাগাসাকির উপর বোমা নিক্ষেপ না করা হত তাহলে যুদ্ধ চলতে থাকত এবং ধারণা করা হচ্ছিল যে, তাতে আরো প্রায় এক কোটি মানুষ মারা যেত। তাহলে পারমাণবিক বোমার পরিচয় এভাবে করানো হল যে, পারমাণবিক বোমা ঐ জিনিস যা দ্বারা এক কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচানো হয়েছে। এর দ্বারা ঐ ঘটনার বৈধতা প্রমাণ করা হয়েছে যার উপর সমগ্র পৃথিবী অভিসম্পাত বর্ষণ করছে। ঐ বোমার দ্বারা হিরোশিমা এবং নাগাসাকির শিশুদের পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়েছে। আর এর বৈধতা প্রমাণ ও বুদ্ধির ভিত্তিতেই করা হচ্ছে। অতএব কোন জঘন্যতম কাজ এমন নেই যার পক্ষে বুদ্ধি কোন না কোন যুক্তি এবং কোন না কোন বৈধতা সরবরাহ না করে। আজ সমগ্র পৃথিবী ফ্যাসিজম-এর উপর অভিসম্পাত বর্ষণ করে এবং রাজনীতির জগতে হিটলার ও মুসোলেনির নাম গালিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনি একটু তাদের দর্শন হাতে নিয়ে দেখুন, তারা নিজেদের ফ্যাসিজমকে কিভাবে দার্শনিক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছে। একজন সাধারণ জ্ঞানের মানুষও যদি ফ্যাসিজমের দর্শন পড়ে তাহলে তাকে স্বীকার করতে হবে যে, কথা তো ঠিক, যুক্তি সঙ্গত। এর কারণ কি? এজন্য যে, বুদ্ধি তাকে ঐ দিকে ধাবিত করেছে। মোটকথা পৃথিবীর কোন জঘন্যতম কাজও এমন নেই যা বুদ্ধির ভিত্তিতে সঠিক প্রমাণিত করার চেষ্টা করা হয়নি। কারণ বুদ্ধিকে উহার পরিধির বাইরে ব্যবহার করা হচ্ছে।
📄 বুদ্ধির উদাহরণ
আল্লামা ইবনে খালদুন যিনি একজন উঁচু স্তরের ঐতিহাসিক এবং দার্শনিক ছিলেন। তিনি লিখেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে বুদ্ধি দিয়েছেন তা বড় কাজের জিনিস। কিন্তু উহা ঐ সময় পর্যন্ত কাজের জিনিস যতক্ষণ তাকে তার কর্মসীমার মধ্যে ব্যবহার করা হবে। যদি তাকে তার কর্মসীমার বাইরে ব্যবহার করা হয় তাহলে তা কাজে আসবে না। অতঃপর তিনি এর একটি সুন্দর উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন- বুদ্ধির দৃষ্টান্ত এমন, যেমন স্বর্ণ ওজন করার পাল্লা। ঐ পাল্লা দিয়ে মাত্র কয়েক গ্রাম স্বর্ণ ওজন করা যায়। এ পর্যন্তই ওটা কাজে আসে এবং সেটিকে শুধুমাত্র স্বর্ণ ওজন করার জন্যই তৈরী করা হয়েছে। যদি কেউ ঐ পাল্লা দিয়ে পাহাড় ওজন করতে চায় তাহলে পাল্লা ভেঙ্গে যাবে। তখন যদি কেউ বলে, এই পাল্লা অনর্থক, কারণ এটা দ্বারা পাহাড় ওজন করা যায় না। তাহলে সমগ্র পৃথিবী তাকে বোকা বলবে। প্রকৃত ব্যাপার হল, সে পাল্লাকে উহার সঠিক স্থানে ব্যবহার করেনি। (মোকাদ্দামা ইবনে খালদুন, ইলমে কালাম অধ্যায়, পৃ. ৪৪০)