📄 বংশের সংরক্ষণ কোন যৌক্তিক নীতি নয়
যদি আপনি এ কথা বলেন যে, এর দ্বারা বংশ নষ্ট হয়ে যাবে, তার উত্তর এই যে, বংশ যদি নষ্ট হয়ে যায় যাক, তাতে মন্দের কি আছে? বংশের সংরক্ষণের এমন কি যৌক্তিক নীতিমালা আছে যে, সেজন্য বংশের সংরক্ষণ আবশ্যক হবে।
📄 এটাও মানুষের স্বভাবগত চাহিদা-এর অংশ
আপনি যদি এ কথার উত্তরে বলেন যে, এতে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি রয়েছে কারণ এখন এর প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, মাহরাম তথা রক্ত সম্পর্কের যে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের দ্বারা স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। কিন্তু এর বিপরীতে বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বে এই বিষয়ের উপর বই প্রকাশিত হয়েছে যে, (যাদের সঙ্গে শরীয়াত বিবাহ হারাম বা রক্তের সম্পর্ক আত্মীয় স্বজন) মাহরাম আত্মীয়-স্বজন ((Incest)-এর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা মানুষের স্বভাবগত চাহিদা (human urge)-এর একটি অংশ। এবং ইনসেস্ট সম্পর্কে যে স্বাস্থ্যগত ক্ষয়ক্ষতি বর্ণনা করা হয় সেটি সঠিক নয়। ঐ শ্লোগান যা আজ থেকে আটশত বছর পূর্বে উবায়দুল্লাহ বিন হাসান কায়রওয়ানী দিয়েছিলেন উহার শুধু প্রতিধ্বনিই নয় বরং আজ পশ্চিমা বিশ্বে উহার উপর আমল হচ্ছে।
📄 আসমানী কিতাব থেকে বিচ্যুত হওয়ার ফল
এত সব কেন হচ্ছে? এ জন্য যে, বুদ্ধিকে ঐ স্থানে ব্যবহার করা হচ্ছে যা বুদ্ধির পরিধির বাইরে। যেখানে আসমানী কিতাবের পথ-প্রদর্শনের কথা সেখানে বুদ্ধিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর বুদ্ধিকে আসমানী কিতাবের পথ প্রদর্শন থেকে মুক্ত করার ফল এই যে, বৃটিশ সংসদ সমকামীতা (homo-sexuality)-এর বৈধতার বিল হাতে তালি বাজিয়ে পাস করছে। আর এখন এটা একটা নিয়মিত বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আমি ঘটনাক্রমে একবার নিউইয়র্কের একটি লাইব্রেরীতে গিয়েছিলাম। সেখানে পৃথক একটি সেকশন ছিল যার উপর এই শিরোনাম লাগানো ছিল "গে ষ্টাইল অব লাইফ” (gay style of life ) এই বিষয়ের উপর বিপুল পরিমাণ পুস্তকও বাজারে এসে গেছে এবং এর জন্য ক্লাবও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের গ্রুপ এবং পার্টিও আছে, তারা বড় বড় পদেও রয়েছে। ঐ সময় নিউইয়র্কের মেয়রও একজন গে (gay-সমকামী) ছিল।
📄 বুদ্ধির ধোঁকা
আমেরিকার পত্রিকা টাইমসে গতসপ্তাহে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, উপসাগরীয় যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সৈন্যদের মধ্য থেকে প্রায় একহাজার সৈন্যকে শুধুমাত্র এ কারণে সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে যে, তারা সমকামী (homo-sexual) ছিল। কিন্তু এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা চলছে, মিছিল হচ্ছে এবং চর্তুদিক থেকে এই আওয়াজ উঠছে যে, সমকামী হওয়ার কারণে তাদেরকে সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা একেবারে অযৌক্তিক। তাদেরকে পুনরায় বহাল করা উচিত। তাদের যুক্তি হচ্ছে যে, এটা মানুষের স্বভাবগত চাহিদা আর বর্তমানে এই বাহানা দিয়ে দুনিয়ার সমস্ত জঘন্য অপকর্মকে বৈধ ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এসব কিছু বুদ্ধির ভিত্তিতে হচ্ছে। বলুন যুক্তির দিক দিয়ে এর মধ্যে মন্দের কি আছে? আর এটা তো শুধু মানবজাতির কথা ছিল। এখন তো মানুষ কুকুর, গাধা, ঘোড়ার সঙ্গে পর্যন্ত যৌনতার সম্পর্ক গড়ে তুলছে। আর সেটাকে গর্বভরে বর্ণনা করা হচ্ছে।