📄 জ্ঞানার্জনের তৃতীয় মাধ্যম 'আল্লাহর ওহী'
যেখানে বুদ্ধির নির্দিষ্ট সীমা শেষ হয়ে যায় সেখানে আল্লাহতায়ালা মানুষকে জ্ঞানার্জনের আর একটি মাধ্যম দান করেছেন আর তা হল 'আল্লাহর ওহী' অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার বাণী এবং আসমানী শিক্ষা। জ্ঞানার্জনের এই মাধ্যমটা শুরুই ঐ স্থান থেকে হয় যেখানে বুদ্ধির সীমা শেষ হয়ে যায়। অতএব যেখানে আল্লাহর ওহী আসে সেখানে বুদ্ধিকে ব্যবহার করা একেবারে ঐ রকম যেরকম চোখের কাজের স্থানে কান ব্যবহার করা, কানের কাজের স্থানে চোখ ব্যবহার করা। এর অর্থ কখনও এটা নয় যে, বুদ্ধি অনর্থক; বরং সেটা কাজের জিনিস। এই শর্তে যে, আপনি বুদ্ধিকে উহার পরিধির মধ্যে ব্যবহার করবেন। যদি উহার পরিধির বাইরে ব্যবহার করেন তাহলে ঠিক ঐ রকম হবে যে রকম কোন ব্যক্তি চোখ এবং কান দিয়ে ঘ্রাণ নেয়ার কাজ করে।
📄 ইসলাম এবং ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য
ইসলাম এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য এই যে, ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থায় জ্ঞানার্জনের প্রথম দুটো মাধ্যম ব্যবহার করার পর থেমে যায়। তাদের বক্তব্য হল মানুষের কাছে জ্ঞানার্জনের তৃতীয় কোন মাধ্যম নেই। আমাদের চোখ, কান, নাক আছে এবং আমাদের বুদ্ধি আছে এটাই যথেষ্ট। এর বাইরে অন্য কোন মাধ্যম নেই। আর ইসলাম এ কথা বলে যে, জ্ঞানার্জনের এই দুই মাধ্যম ছাড়াও মানুষের কাছে আরও একটি মাধ্যম আছে, আর তা হল আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকে ওহী।
📄 ওহীর প্রয়োজনীয়তা
এখানে লক্ষণীয় বিষয় এই যে, ইসলামের এই দাবী, বুদ্ধির দ্বারা সব কিছু জানা যায় না বরং আসমানী হেদায়েতের প্রয়োজন আছে, ওহীর প্রয়োজন আছে, নবী-রসূলের প্রয়োজন আছে, আসমানী কিতাবের প্রয়োজন আছে- ইসলামের এই দাবী আমাদের বর্তমান সমাজে কতখানি সঠিক?
📄 বুদ্ধির প্রতারণা
আজকাল বুদ্ধি পূজার বড় প্রচার। বলা হয় যে, প্রত্যেক জিনিসকে বুদ্ধির কষ্টি পাথরে যাচাই করে গ্রহণ করব। কিন্তু বুদ্ধির কাছে এমন কোন বাঁধা-ধরা নিয়ম নেই যা সর্বজনীন। (universal truth)। যা সমগ্র পৃথিবীর মানুষ স্বীকার করে নেবে এবং যাকে নিজেদের ভাল-মন্দের মানদণ্ড সাব্যস্ত করবে যে, কোনটা ভাল? কোন্টা মন্দ? কোনটা গ্রহণ করা উচিত আর কোনটা গ্রহণ করা উচিত নয়? এর মীমাংসা যখন আমরা বুদ্ধির কাছে ন্যস্ত করি তখন আপনি ইতিহাস দেখুন সেখানে আপনি দেখতে পাবেন যে, বুদ্ধি মানুষকে এত ধোঁকা দিয়েছে যার কোন হিসেব নেই। যদি এই নীতি গ্রহণ করা হয়, বুদ্ধি দিয়ে চিন্তা কর আর যা বুঝে আসে তাই কর। তাহলে দেখা যাবে যে, বুদ্ধিকে এ রকম স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়ার কারণে মানুষ কোথায় নেমে যায়। এটা প্রমাণের জন্য ইতিহাস থেকে কয়েকটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করছি।