📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের পরিধি

📄 পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের পরিধি


উদাহরণস্বরূপ মানুষকে সর্বপ্রথম জ্ঞানার্জনের যে মাধ্যম দান করা হয়েছে তা হল তার পঞ্চ ইন্দ্রিয়। চোখ, কান, নাক, ত্বক, জিহবা। চোখে দেখে অনেক জিনিসের জ্ঞান অর্জিত হয়। জিহ্বা দিয়ে স্বাদ নিয়ে জ্ঞান অর্জন হয়। নাক দিয়ে ঘ্রাণ নিয়ে জ্ঞান অর্জন হয়। হাত দিয়ে স্পর্শ করে অনেক জিনিসের জ্ঞান অর্জন হয়। কিন্তু জ্ঞানের এই পাঁচটি মাধ্যম যা দৃষ্টি সীমায় আসে এদের প্রত্যেকের একটা পরিধি আছে। এই পরিধির বাইরে ঐ মাধ্যমগুলি কাজে আসে না। চোখ দেখতে পারে কিন্তু শুনতে পারে না। কান শুনতে পারে কিন্তু দেখতে পারে না। নাক ঘ্রাণ নিতে পারে কিন্তু দেখতে পারে না। যদি কোন ব্যক্তি এই ইচ্ছা করে যে, চোখ বন্ধ করে কান দিয়ে দেখবে তাহলে সবাই ঐ ব্যক্তিকে নির্বোধ বলবে। এজন্য যে, কানকে দেখার জন্য বানানো হয়নি। যদি কোন ব্যক্তি তাকে বলে যে, যেহেতু তোমার কান দেখতে পারে না, এজন্য কান দিয়ে তোমার দেখার চেষ্টা একেবারে অনর্থক। উত্তরে যদি সে ব্যক্তি বলে, যদি কান নাই দেখতে পারে তাহলে সেটা বেকার জিনিস, তাহলেও সমগ্র পৃথিবী তাকে বোকা বলরে। এজন্য যে, কানের একটা পরিধি আছে, ঐ পরিধি পর্যন্ত সেটি কাজে আসবে সে এতটুকুও জানে না। তা দিয়ে যদি চোখের কাজ করতে চায় তা হবে না।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 জ্ঞানার্জনের দ্বিতীয় মাধ্যম 'বুদ্ধি'

📄 জ্ঞানার্জনের দ্বিতীয় মাধ্যম 'বুদ্ধি'


আল্লাহ তায়ালা জ্ঞানার্জনের জন্য আমাদেরকে এই পঞ্চ ইন্দ্রিয় দান করেছেন। এক পর্যায়ে গিয়ে এই পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়। যেখানে চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, ত্বক কিছুই কাজে আসে না। এটা সেই পর্যায় যেখানে বস্তুসমূহ সরাসরি দৃষ্টি সীমার মধ্যে আসে না। সেখানে আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরকে জ্ঞানার্জনের জন্য আরও একটি মাধ্যম দান করেছেন আর তা হল 'বুদ্ধি'। যেখানে পঞ্চ ইন্দ্রিয় কাজ করা বন্ধ করে দেয় সেখানে বুদ্ধি কাজে আসে। উদাহরণস্বরূপ আমার সামনে একটি টেবিল আছে, আমি চোখে দেখে এটা বলতে পারি, এটার রঙ কী? হাত দিয়ে স্পর্শ করে বলতে পারি, এটা শক্ত কাঠের, না এটার উপর ফর্মিকা লাগানো আছে। কিন্তু এ কথার জ্ঞান যে এই টেবিল কিভাবে তৈরি হয়েছে? এটা আমি না চোখ দিয়ে দেখে বলতে পারি, না কান দিয়ে শুনে বলতে পারি, না হাত দিয়ে স্পর্শ করে বলতে পারি। এজন্য যে, এটা আমার সামনে তৈরী হয়নি। এখানে আমার বুদ্ধি আমাকে এই পথ প্রদর্শন করছে যে, এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সুন্দর জিনিসটা আপনা আপনিই অস্তিত্বে আসেনি, বরং সেটা কোন প্রস্তুতকারী প্রস্তুত করেছে এবং সে প্রস্তুতকারী হল ভাল অভিজ্ঞ কাঠমিস্ত্রী। অতএব এ কথার জ্ঞান, কোন কাঠ মিস্ত্রী এটা তৈরী করেছে তা আমাকে আমার বুদ্ধি বলে দিয়েছে। যেখানে আমার পঞ্চ ইন্দ্রিয় কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল সেখানে আমার বুদ্ধি আমাকে পথ প্রদর্শন করে আরেকটি জ্ঞান দান করল।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 বুদ্ধির পরিধি

📄 বুদ্ধির পরিধি


যেমনভাবে ঐ পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের পরিধি অসীম (unlimited) ছিল না বরং একটা সীমানায় গিয়ে উহার পরিধি শেষ হয়ে গিয়েছিল, এ রকমভাবে বুদ্ধির পরিধিও অসীম (unlimited) না। বুদ্ধিও একটা সীমানা পর্যন্ত মানুষের কাজে আসে, একটা সীমানা পর্যন্ত পথ প্রদর্শন করে। এই সীমানার বাইরে যদি কেউ বুদ্ধিকে ব্যবহার করতে চায় তাহলে বুদ্ধি সঠিক উত্তর দিবে না। সঠিক পথ প্রদর্শন করবে না।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 জ্ঞানার্জনের তৃতীয় মাধ্যম 'আল্লাহর ওহী'

📄 জ্ঞানার্জনের তৃতীয় মাধ্যম 'আল্লাহর ওহী'


যেখানে বুদ্ধির নির্দিষ্ট সীমা শেষ হয়ে যায় সেখানে আল্লাহতায়ালা মানুষকে জ্ঞানার্জনের আর একটি মাধ্যম দান করেছেন আর তা হল 'আল্লাহর ওহী' অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার বাণী এবং আসমানী শিক্ষা। জ্ঞানার্জনের এই মাধ্যমটা শুরুই ঐ স্থান থেকে হয় যেখানে বুদ্ধির সীমা শেষ হয়ে যায়। অতএব যেখানে আল্লাহর ওহী আসে সেখানে বুদ্ধিকে ব্যবহার করা একেবারে ঐ রকম যেরকম চোখের কাজের স্থানে কান ব্যবহার করা, কানের কাজের স্থানে চোখ ব্যবহার করা। এর অর্থ কখনও এটা নয় যে, বুদ্ধি অনর্থক; বরং সেটা কাজের জিনিস। এই শর্তে যে, আপনি বুদ্ধিকে উহার পরিধির মধ্যে ব্যবহার করবেন। যদি উহার পরিধির বাইরে ব্যবহার করেন তাহলে ঠিক ঐ রকম হবে যে রকম কোন ব্যক্তি চোখ এবং কান দিয়ে ঘ্রাণ নেয়ার কাজ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00