📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 'মৌলবাদ' একটা গালিতে পরিণত হয়েছে

📄 'মৌলবাদ' একটা গালিতে পরিণত হয়েছে


যখন এই আওয়াজ তোলা হয় যে, আমাদের আইন, আমাদের অর্থনীতি, আমাদের রাজনীতি এক কথায় আমাদের জীবনের প্রত্যেক কর্মকাণ্ডকে ইসলামের ছাঁচে ঢেলে সাজানো উচিত, তখনই প্রশ্ন করা হয়, কেন ঢেলে সাজানো উচিত? তার কি কোন যুক্তি আছে? এ প্রশ্ন এজন্য উঠে যে, আজ আমরা এমন একটা সমাজে বসবাস করছি যেখানে ধর্ম নিরপেক্ষ চিন্তা-চেতনায় (secular ideas) আমাদের অন্তর এবং মস্তিষ্ক আচ্ছাদিত। এবং একথা প্রায় সমগ্র পৃথিবীতে স্বীকৃতি লাভ করেছে যে, কোন রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোত্তম ব্যবস্থা হল ধর্ম-নিরপেক্ষ ব্যবস্থা (secular system) আর এই ধর্ম নিরপেক্ষ মতবাদের (secularism) পরিধির মধ্যেই রাষ্ট্রকে সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। এ রকম পরিবেশে যেখানে পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রগুলো বড় থেকে ছোট পর্যন্ত শুধু ধর্ম-নিরপেক্ষ হওয়ার দাবীই করে না বরং এজন্য গর্ববোধও করে। এ রকম সমাজে এ কথা বলা, আমাদের দেশ, আমাদের আইন, আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি এক কথায় আমাদের জীবনের প্রত্যেক বিভাগকে ইসলামী করণ করা উচিত বা ভিন্ন শব্দে এটা বলা যে, সমাজকে চৌদ্দশত বছর পুরানো নীতিমালা অনুযায়ী চালানো উচিত – এই আওয়াজ আজকের এই পৃথিবীতে উদ্ভট এবং অপরিচিত মনে হয় এবং বিষয়টিকে বিভিন্নভাবে তিরস্কার করা হয়। শুধু তাই নয় মৌলবাদ এবং ফান্ডামেন্টালিজম (fundamentalism)-এর পরিভাষা ঐ সমস্ত লোকদের পক্ষ থেকে একটা গালি বানিয়ে পৃথিবীতে প্রচার করা হয়েছে। এবং তাদের দৃষ্টিতে ঐ ব্যক্তি মৌলবাদী (fundamentalist) যে এ কথা বলে, “রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা দ্বীন অনুসারে হওয়া উচিত”। তাকে মৌলবাদী ঘোষণা দিয়ে বদনাম করা হচ্ছে। অথচ যদি এই শব্দের প্রকৃত অর্থের উপর গভীর দৃষ্টি দেয়া হয় তাহলে দেখা যাবে যে, এটা কোন খারাপ শব্দ নয়। মৌলবাদী শব্দের অর্থ হচ্ছে যে, যে মূলনীতিমালা গ্রহণ করে। কিন্তু তারা একে গালি বানিয়ে প্রসিদ্ধ করেছে।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 ইসলামীকরণ কেন?

📄 ইসলামীকরণ কেন?


এখানে শুধু এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই যে, আমরা কেন আমাদের জীবনকে ইসলামের ছাঁচে ঢেলে সাজাতে চাই? কিন্তু ইসলাম তো চৌদ্দশত বছরের পুরাতন আমরা কেন রাষ্ট্রীয় আইনকে ইসলামীকরণ করতে চাই?

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 আমাদের বুদ্ধি আছে

📄 আমাদের বুদ্ধি আছে


এ সম্পর্কে যে দিকে আপনাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে চাই তা এই যে, একটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র (secular state) যাকে ধর্মহীন রাষ্ট্র বলা যায়, সে তার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কিভাবে পরিচালনা করবে এজন্য তার কাছে কোন নীতিমালা নেই। বরং একথা বলা হয়, আমাদের কাছে বুদ্ধি আছে, আমাদের কাছে পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা আছে। এই বুদ্ধি, পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা এটা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, আমাদের বর্তমান সময়ের প্রয়োজনীয়তা এবং চাহিদা কী? আর কোন জিনিস আমাদের উপযোগী ? তারপর ঐ উপযোগিতা অনুযায়ী আমরা আমাদের আইনকে ঢেলে সাজাতে পারি। যুগের চাহিদা অনুযায়ী আমরা সেটির ভিতর পরিবর্তন আনতে পারি এবং উন্নতি করতে পারি।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 বুদ্ধি কি সর্বশেষ মানদণ্ড ?

📄 বুদ্ধি কি সর্বশেষ মানদণ্ড ?


একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে বুদ্ধি, পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতাকে সর্বশেষ মানদণ্ড ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এখন লক্ষণীয় বিষয়, এই মানদণ্ড কতখানি শক্তিশালী? এই মানদণ্ড কি এই যোগ্যতা রাখে যে, কেয়ামত পর্যন্ত আগত মানবতাকে পথ প্রদর্শন করতে পারে? এই মানদণ্ড কি শুধু বুদ্ধি, পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার উপর ভরসা করে আমাদের জীবনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00