📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 নারীর দিকে তাকানো সম্পর্কে হানাফী মাযহাব

📄 নারীর দিকে তাকানো সম্পর্কে হানাফী মাযহাব


ইমাম শামসুল আইম্মা সারাখছি (রহ) বলেন,
يُبَاحُ النَّظُرُ إِلى مَوْضَعِ الزِّيِّنَةِ الظَّاهِرَةِ مِنْهُنَّ دُوْنَ الْبَاطِنَة لِقَوْله تَعَالَى وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا - وَقَالَ عَلِيُّ (رض) وَابْنُ عَبَّاس (رض) مَا ظَهَرَ مِنْهَا الْكُحْلُ وَالْخَاتَمُ وَقَالَتْ عَائِشَةُ (رض) إِحْدَى عَيْنَيْهَا وَقَالَ ابْنُ مَسْعُوْدٍ (رض) خُفُهَا وَمَلَاءَتُهَا وَاسْتَدَلَّ فِي ذَالِكَ بِقَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النِّسَاءُ حَبَائِلُ الشَّيْطَانِ بِهِنَّ يَصِيدُ الرِّجَالَ - وَلِأَنَّ حُرْمَةَ النَّظْرِ لِخَوْفِ الْفِتْنَةِ وَعَامَّةُ مَحَاسِنِهَا فِي وَجْهِهَا فَخَوْفُ الْفُنَةِ فِي النَّظْرِ إِلَى وَجْهِهَا أَكْثَرَ مِنْهُ إِلَى سَائِرِ إِلَّا عضاء وبحوهذَا تَسْتَدِلُّ عَائِشَةُ (رض) وَلَكِنَّهَا تَقُوْلُ: هِيَ لَا تَجِدُ بُدًّا مِنْ أَنْ تَمْشِيَ فِي الطَّرِيقِ فَلَابُدَّ مِنْ أَنْ تَفْتَحَ عَيْنَهَا لِتَبْصُرَ الطَّرِيقَ فَيَجُوْزُلَهَا أَنْ تَكْشِفَ إِحْدَى عَيْنَيْهَا لِهَذِهِ الضَّرُوةِ وَالثَّابِتُ بِالضَّرُورَةِ لَا يَعْدُو مَوْضَعَ الضَّرُورَةِ - ( المبسوط للسرخى)
নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্যের স্থানগুলির দিকে তাকানো জায়েজ। অপ্রকাশিত স্থানগুলির দিকে তাকানো জায়েজ নয়। কেননা আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, নারী নিজ সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না কিন্ত যা সধারণত খোলা থাকে। হযরত আলী (রা) ও ইবনে আব্বাস 11 مَا ظَهَرَ مِنْهَا" যা সাধারণত প্রকাশমান দ্বারা (রা) বলেন, উদ্দেশ্য সুরমা ও আংটি। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, مَا ظَهَرَ 11 দ্বারা উদ্দেশ্য এক চোখ। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন, ماظهر منها দ্বারা উদ্দেশ্য মোজা ও চাদর। তিনি হুজুর (স)-এর এই হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন, হুজুর (স) এরশাদ করেছেন, “নারী শয়তানের জাল, তাদের দ্বারা সে পুরুষদেরকে শিকার করে”। দ্বিতীয় কারণ হল, দেখা হারাম হওয়া ফেৎনার আশংকার কারণে আর নারীর অধিকাংশ সৌন্দর্য তার চেহারার মধ্যেই হয়। কেননা অন্য অঙ্গের দিকে তাকানোর তুলনায় চেহারার দিকে তাকানোর মধ্যে ফেৎনার আশংকা বেশী। হযরত আয়েশা (রা)ও এই সমস্ত হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি বলেন, নারীর রাস্তায় চলা অপরিহার্য আর রাস্তা দেখার জন্য চোখ খোলা রাখা জরুরী। অতএব উহার জন্য নারীর এক চোখ খোলা জায়েজ। (সারাখছি প্রণীত মাবসূত, ১০, ১৫২)
ইমাম শামসুল আইম্মাহ সারাখছি (রহ) বলেন, وَلَكِنَّا نَأْخُذُ بِقَوْلِ عَلِيٌّ وَابْنِ عَبَّاسٍ (رض) اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا فَقَدْ جَاءَتِ الْأَخْبَارُ فِي الرُّحْصَةِ بِالنَّظْرِ إِلَى وَجْهِهَا وَكَفِّهَا مِنْ ذَلِكَ مَارَونَ أَنَّ امْرَأَةً عَرَضَتْ نَفْسَهَا عَلَى رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَظَرَ إِلَى وَجْهِهَا فَلَمْ يَرَفِيْهَا رَغْبَةً وَلَمَّا قَالَ عُمَرُ (رض) فِي خُطْبَتِهِ إِلا لَا تُغَالُوْا فِي أَصْدِقَةِ النِّسَاءِ فَقَالَتْ امْرَأَةً سُفَعاءُ الْحَدَّيْنِ : أَنْتَ تَقُولُهُ بِرَأْيِكَ أَمْ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ فَإِنَّا نَجِدُ فِي كِتَابِ اللهِ تَعَالَى بِخِلَافِ مَا تَقُوْلُ فَذَكَرَ الرَّاوِيُّ أَنَّهَا كَانَتْ سُفَعَاءُ الْخَدَّيْنِ وَفِي هُذَا بَيَانٍ أَنَّهَا كَانَتْ مُسْفِرَةً عَنْ وَجْهِهَا وَرَأَى رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَفَّ امْرَأَةِ غَيْرِ مَحْضُوْبِ فَقَالَ أَكَفَّ رَجُلٍ هَذَا ؟ وَلَمَّا نَا وَلَتْ فَاطِمَةُ (رض) اَحَدَوَلَدَيْهَا بِلاَلاً (رض) أَوْ أَنَسًا (رض) قَالَ أَنَسٌ : رَأَيْتُ كَفَهَا كَأَنَّهَا فَلْقَةُ قَمَرٍ - فَدَلَّ عَلَى أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِالنَّظْرَ إِلَى الْوَجْهِ وَالْكَفَّ فَالْوَجْهُ مَوْضَعَ الْكُحْلِ وَالْكَفَّ مَوْضَعَ الْخَاتَمِ
কিন্তু আমরা হযরত আলী (রা) ও হযরত ইবনে আব্বাস (রা)-এর মত গ্রহণ করব। কেননা চেহারা ও হাতের তালু দেখা জায়েজ হওয়া সম্পর্কে হাদীস বিদ্যমান। একটি হাদীস এই যে, এক মহিলা নিজেকে হুজুর (স)-এর দরবারে পেশ করল, হুজুর (স) ঐ মহিলার চেহারা দেখলেন, কিন্তু হুজুর (স) ঐ মহিলার মধ্যে কোন আকর্ষণ অনুভব করলেন না। আরেকটি এই যে, একবার হযরত ওমর (রা) বক্তৃতার মধ্যে বললেন, খবরদার! নারীদের মোহর বেশী বৃদ্ধি করিওনা। এক মহিলা যার মুখমণ্ডল লাল প্রবণ কাল ছিল, দাঁড়িয়ে গেল এবং বলল এ কথা আপনি নিজের পক্ষ থেকে বলছেন না রাসূলুল্লাহ (স)-এর কাছে শুনেছেন? কেননা কুরআন মজীদে আপনি যা বলছেন আমরা উহার বিপরীত দেখতে পাই। এই হাদীস বর্ণনাকারীর এ কথা বলা যে, “ঐ মহিলার মুখমণ্ডল লাল-প্রবণ কাল ছিল” ইহা দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, তার চেহারা খোলা ছিল।
একবার হুজুর (স) এক মহিলার হাত দেখলেন যে, তাতে মেহেদী লাগান ছিল না। হুজুর (স) বললেন, এটা কি কোন পুরুষের হাত?
একবার হযরত ফাতেমা (রা) নিজের এক ছেলেকে হযরত বেলাল অথবা হযরত আনাস (রা)-এর কাছে দিলেন। হযরত আনাস (রা) বলেন, আমি হযরত ফাতেমা (রা)-এর হাতের তালু দেখলাম, উহা যেন চাঁদের একটি টুকরা ছিল। অতএব এই বর্ণনাসমূহ দ্বারা ইহা বুঝা যাচ্ছে যে, চেহারা ও হাতের তালু দেখতে কোন বাধা নেই। ইমাম ছারাখছি আরো বলেন -
لاَشَكَ أَنَّهُ يُبَاحُ النَّظْرُ إِلَى ثِيَابِهَا وَلَا يُعْتَبَرُ خَوْفُ الْفِتْنَةِ فِي ذَالِكَ فَكَذَالِكَ إِلَى وَجْهِهَا وَكَفِّهَا وَرَوَى الْحَسَنُ بْنُ زِيَادٍ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ (رض) أَنَّهُ يُبَاحُ النَّظْرُ إلى قَدَمِهَا أَيْضًا وَهُكَذَا ذَكَرَ الطَّحَا وِيُّ لِأَنَّهَا كَمَا تَبْتَلَى بِابْدَاءِ وَجْهِهَا فِي الْمُعَامَلَةِ مَعَ الرِّجَالِ وَبِابْدَاءِ كَفَهَا فِي الْأَحْدِ وَالَّا عَطَاءِ - تَبْتَلِي بِابْدَاءِ قَدَمَيْهَا إِذَ امَشَتْ حَافِيَّةً أَوْ مُنْتَعَلَةً وَرُبَمَا لَا تَجِدُ الْخُفَّ فِي كُلِّ وَقْت وَذَكَرَ فِي جَامَعَ الْبَرَ امِكَةِ عَنْ أَبِي يُوْسُفَ (رض) أَنَّه يُبَاحُ النَّظْرُ إِلَى ذِرَاعَيْهَا أَيْضًا لِأَنَّهَا فِي الْخُبْرِ وَغُسْلِ الثَّيَابِ تَبْتَلِي بِا بْدَاءِ ذِرَاعَيْهَا ايضا- قيلَ وَكَذَالِكَ يُبَاحُ النَّظْرُ إِلَى ثَنَايَاهَا أَيْضًا لِأَنَّ ذَالِكَ يَبْدُو مِنْهَا عِنْدَ التَّحَدُّثِ مَعَ الرِّجَالِ-
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, নারীর কাপড়ের দিকে তাকানো মুবাহ। এবং এতে ফেৎনার আশংকারও লক্ষ্য করা হয়নি। অতএব এভাবে নারীর চেহারা ও হাতের তালুর দিকে তাকানোও মুবাহ।
হযরত হাসান বিন জিয়াদ ইমাম আবু হানিফা (রহ) হতে বর্ণনা করেন, নারীর পায়ের পাতার দিকে তাকানোও মুবাহ। ইমাম ত্বহাবী (রহ)ও এরকমই বর্ণনা করেছেন। যেরকমভাবে পুরুষের সাথে লেন-দেনের সময় নারীর চেহারা খোলার প্রয়োজন হয়। তেমনি নেয়া-দেয়ার সময় হাতের তালু খোলার প্রয়োজন হয়। এরকমভাবে খালিপায়ে অথবা জুতা পরে চলার সময় পায়ের পাতা খোলারও প্রয়োজন হয়। কেননা সব সময় মোজা সহজলভ্য নয়।
জামেউল বারামিকাহ গ্রন্থে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ) হতে বর্ণিত, নারীর বাহুর দিকে তাকানোও মুবাহ। কেননা রুটি তৈরি করার সময় এবং কাপড় ধোয়ার সময় তার বাহু খোলার প্রয়োজন হয়। এও বলা হয়েছে যে, নারীর সামনের দাঁতের দিকে তাকানোও জায়েজ। কেননা পুরুষের সাথে কথা বলার সময় দাঁত দেখা যায়। এরপর ইমাম ছারাখছী (রহ) বলেন-
وَهُذَا كُلُّه إِذَا لَمْ يَكُنِ النَّظْرُ عَنْ شَهْوَةِ - فَإِنْ كَانَ يَعْلَمُ أَنَّهُ إِنْ نَظَرَ اشْتَهَى لَمْ يَحِلُّ لَهُ النَّظْرُ إِلَى شَيْ مِنْهَا لِقَوْلِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ نَظَرَ إِلى مَحَاسِنِ أَجْنَبِيَّةِ عَنْ شَهْوَةِ صُبَّ فِي عَيْنَيْةِ الانكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَقَالَ لِعَلِيّ (رض) لا تَتَّبِعِ النَّظْرَةَ بَعْدَ النَّظْرَةِ فَإِنَّ الأولى لَكَ وَالْأُخْرَى عَلَيْكَ يَعْنِي بِالْأُخْرَى اَنَّ يَقْصِدَهَا عَنْ شَهْوَةِ - وَكَذَالِكَ إِنْ كَانَ أَكْبَرَ رَأَيْهُ أَنَّهَ إِنْ نَظَرَ اشْتَهَى لِأَنَّ أَكْبَرَا الرَّأْي فِيْهَا لَا يُوْقَفُ عَلَى حقيقته كَالْيَقِينِ - (المبسوط للسرخسى)
এসব কথা ঐ সময় যখন কামভাবের দৃষ্টি না হবে। কিন্তু পুরুষ যদি মনে করে নারীর দিকে তাকালে তার মনে নারীর প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হবে, তাহলে পুরুষের জন্য নারীর এ সমস্ত অঙ্গের কোন একটিও দেখা হালাল নয়। এজন্য যে, রাসূলুল্লাহ (স) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোন পর-নারীর সৌন্দর্যের প্রতি কামভাব নিয়ে তাকায়, কেয়ামতের দিন তার চোখে সীসা ঢালা হবে। হাদীস শরীফে আছে হুজুর (স) হযরত আলী (রা)কে বলেছেন, প্রথম দৃষ্টির পর দ্বিতীয় দৃষ্টি দিওনা। এ জন্য যে, প্রথম দৃষ্টি তোমার জন্য হালাল আর দ্বিতীয় দৃষ্টি তোমার উপর আযাব।
এই বিধান ঐ অবস্থায়ও যখন পুরুষের এটা প্রবল ধারণা হয়, যদি সে নারীর দিকে তাকায় তাহলে তার অন্তরে নারীর প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়ে যাবে। কেননা যে বিষয়ের বাস্তবরূপ জানা যায় না। উহার প্রবল ধারণা নিশ্চিতের মত।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 মালেকী মাযহাব

📄 মালেকী মাযহাব


মালেকী মাযহাব হল যা ইমাম খরশী (রহ) “মুখতাসার খলিল” গ্রন্থের হাশিয়ায় লিখেছেন, উহা নিম্নবর্ণিত -
عَوْرَةُ الْحُرَّةِ مَعَ الرَّجُلِ الْأَجْنَبِي جَمِيعُ بَدَنِهَا حَتَّى دَلاَ لِيْهَا وَقِصَّتِهَا مَا عَدَا الْوِجْهَ وَالْكَفِّيْنِ مِنْ غَيْرِ عُذْرِ وَلَوْ شَابَّةٌ وَقَالَ مَالِكَ (رض) تَأْكُلُ الْمَرْأَةُ مَعَ غَيْرِ ذِي مَحْرَمٍ وَمَعَ غُلَامِهَا وَقَدْ تَأْكُلُ مَعَ زَوْجِهَا وَغَيْرَهُ مِمَّنْ يُوَاكِلُهُ ابْنُ الْقَطَّانِ : وَفِيْهِ ابْدَاءِ الْمُرأَة وَجْهِهَا وَيَدَيْهَا لِلْأَجْنَبِي إِذْ لَايُتَصَوَّرُ الْأَكُلُ إِلا هكذا - (حاشية الخرشي على مختصر خليل)
স্বাধীন নারীর সম্পূর্ণ শরীর পরপুরুষের জন্য সতর। এমনকি নারীর ভাবভঙ্গি এবং কথাবার্তাও। চেহারা এবং উভয় হাতের তালুর বাহিরের ও ভিতরের অংশ ব্যতীত। অতএব এই উভয় অঙ্গের দিকে স্বাদ ও ফেৎনার আশংকা না থাকলে বিনা ওজরেও তাকান জায়েজ। যদিও ঐ নারী যুবতী হয়। ইমাম মালেক (রহ) বলেন, নারী গায়রে মাহরাম এবং নিজ গোলামের সাথে খানা খেতে পারে। কেননা কোন কোন সময় নারীর নিজ স্বামীর সাথে খানা খেতে হয় যখন স্বামীর সাথে অন্য লোকও খানা খায়। ইবনে কাত্তান (রহ) বলেন, এই বাক্য দ্বারা নারীর পরপুরুষের সামনে চেহারা ও উভয় হাত খোলার অনুমতি বুঝা যায়। কেননা এই দুই অঙ্গ খোলা ব্যতীত খানা খাওয়া যায় না। “শারহুল মুওয়াফিক” গ্রন্থে এই ইবারত একটু বৃদ্ধি সহকারে আছে।
ইমাম আলিশ "منح الجليل" গ্রন্থে বলেন -
فَيَجُوْزُ لَهَا كَشْفُهُمَا ( أَى الْوَجْهُ وَالْكَفَّيْنِ ) لِلْأَخْنَي وَلَهُ نَظُرُهَا إِنْ لَمْ تَخْشَ الْفِتْنَةَ فَإِنْ خِيفَتِ الْفِتْنَةُ بِهِ فَقَالَ ابْنُ مَرْزُوقٍ : مَشْهُورُ الْمَذْهَبِ وُجُوْبِ سترهما - ( منح الجليل)
নারীর পরপুরুষের সামনে চেহারা এবং হাতের তালু খোলা জায়েজ আর পুরুষের উহার দিকে তাকান জায়েজ। ফেৎনার আশংকা না থাকার শর্তে। তবে যদি ফেত্নার আশংকা থাকে তাহলে এ সম্পর্কে ইবনে মারজুক (রহ) বলেন, এ অবস্থায় প্রসিদ্ধ মত হল নারীর উহা ঢাকা ওয়াজিব।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 শাফেয়ী মাযহাব

📄 শাফেয়ী মাযহাব


শাফেয়ী মাযহাবের যা আল্লামা নববী (রহ) 'কিতাবুন্নিকাহ'- এর মধ্যে “মিনহাজ” গ্রন্থ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, وَيَحْرُمُ نَظُرُ فُحْل بَالِغِ إِلى عَوْرَةٍ حُرَّةٍ كَبِيرَةٍ أَجْنَبِيَّةٍ وَكَذَا وَجْهِهَا وَكَفَّيْهَا عِنْدَ خَوْفِ فِتْنَةٍ وَكَذَا عِنْدَ الْآمَنِ عَلَى الصَّحِيحِ • অর্থাৎ, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের স্বাধীন প্রাপ্ত বয়স্কা পরনারীর দিকে দৃষ্টি দেয়া হারাম। এ রকমভাবে ফেৎনার আশংকা থাকলে নারীর চেহারা ও হাতের তালু দেখাও হারাম। এবং বিশুদ্ধ মতানুযায়ী ফেৎনা থেকে নিরাপদ থাকলেও এই হুকুম। উল্লিখিত মতের ব্যাথায় আল্লামা খতিব শরবিনী (রহ) বলেন -
وَقَوْلُهُ عَلَى الصَّحِيحِ وَجَهَهُ إِلَّا مَامُ بِاتِّفَاقِ الْمُسْلِمِينَ عَلَى مَنْعِ النِّسَاءِ مِنَ الْخُرُوجِ سَافِرَاتِ الْوُجُوهِ وَبِأَنَّ النَّظْرَ مَظَنَّةُ الْفِتْنَةِ وَمُحَرِّكَ لِلشَّهْوَةِ وَالثَّانِي ( أَنْ الْقَوْلُ الثانى ( لاَ يَحْرُمُ وَنَسَبَهُ الْإِمَامُ لِلْجَمْهُورِ وَالشَّيْحَانِ لِلَّا كُثَرِينَ وَقَالَ فِي الْمُهِمَّاتِ إِنَّهُ الصَّوَابُ لكَوْن إِلا كثريْنَ عَلَيْهِ وَقَالَ الْبَلْقِيْنِي : التَّرْجِيحُ بِقُوَّةِ الْمُدْرِكِ وَالْفَتْوَى عَلَى مَا فِي الْمِنْهَاجِ .... وَمَا نَقَلَهُ الْإِمَامُ مِنَ الْاتَّفَاقِ عَلَى مَنْعِ النِّسَاءِ أَنْ مَنْعُ الْوَلَا ةِ لَهُنَّ مُعَارِضَ بِمَا حَكَاهُ الْقَاضِي عَيَاضٍ عَنِ الْعُلَمَاءِ أَنَّهُ لَا يَحْبُ عَلَى الْمَرْأَةِ سَتْرُ وَجْهِهَا فِي طَرِيقِهَا وَإِنَّمَا ذَالِكَ سُنَّةً عَلَى الرِّجَالِ غَضُ الْبَصَرِ لِلْآيَةِ - وَحَكَاهُ الْمُصَنِّفُ (أَى النووى) فِي شَرْحِ مُسْلِمٍ وَأَقَرَّهُ عَلَيْهِ - وَقَالَ بَعْضُ الْمُتَأَخِرِيْنَ : أَنَّهُ لَا تَعَارَضَ فِي ذَالِكَ بَلْ مَنْعُهُنَّ مِنْ ذَالِكَ لَا لَأَنَّ السَّتْرَ وَاحِب عَلَيْهِنَّ فِي ذَاتِهِ بَلْ لِاَنَّ فِيْهِ مُصْلِحَةٌ عَامَةٌ وَفِي تَرْكِهِ اخلال بِالْمَرُوْعَةِ الخَ وَظَاهِرُ كَلَامِ الشَّيْخَيْنِ أَنَّ السَّتْرَ وَاحِبُّ بِذَاتِهِ فَلَا يتأنى هذا الجمع وَكَلَامُ الْقَاضِي ضَعِيفُ
ইমাম নববী (রহ) এ কথার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, মুসলমানগণ এ ব্যপারে একমত যে, নারীদেরকে চেহারা খুলে বাড়ীর বাইরে যেতে নিষেধ করা হবে। এবং এজন্যও যে, “দৃষ্টি” ফেৎনা ও কামভাবের উস্কানিদাতা।
দ্বিতীয় মত হল, পুরুষের নারীর দিকে দেখা হারাম নয়। ইমাম নববী (রহ) এই দ্বিতীয় মতকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত বলেছেন। এবং শায়খাইন উহাকে অধিকাংশ শাফেয়ীদের মত বলেছেন। কেননা অধিকাংশ শাফেয়ী এর উপর আমল করেন। ইমাম বালকিনী (রহ) বলেন, التَّرْجِيْحُ بِقُوَّةِ الْمُدْرِكِ এবং ফতোয়া “মিনহাজ” গ্রন্থে বর্ণিত মতের উপর। এবং ইমাম নববী (রহ) মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যায় যে কথা বলেছেন, মুসলমানগণ এ ব্যাপারে একমত, নারীদের অভিভাবকগণের উচিত তারা নারীদেরকে চেহারা খুলে বাড়ী থেকে বাইরে যেতে নিষেধ করবে। তার এই কথা কাজি আয়ায (রহ)-এর কথার বিরোধী। তিনি ওলামায়ে কেরামের এ ব্যাপারে ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, নারীদের রাস্তায় চেহারা ঢাকা ওয়াজিব নয় বরং এরকম করা সুন্নত। তবে কুরআনের আয়াতের কারণে পুরুষের নারীদের থেকে দৃষ্টি নত রাখা ওয়াজিব। ইমাম নববী (রহ) মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যায় এই মতকেই বর্ণনা করেছেন এবং উহাকেই বহাল রেখেছেন। তবে পরবর্তী কিছু আলেম বলেন, এই উভয় কথার মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কেননা যে কথা অনুয়াযী নারীদেরকে চেহারা খুলে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে, এটা এজন্য নিষেধ করা হয়নি যে, মূলগতভাবে তাদের চেহারা ঢাকা ওয়াজিব। বরং সর্বজনীন উপকারিতার দিকে লক্ষ্য করে নিষেধ করা হয়েছে। এবং উহা ত্যাগ করলে মানবসভ্যতা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আর শায়খাইনের কথা দ্বারা এটা প্রমাণিত হচ্ছে যে, চেহারা ঢাকা মূলগত ভাবে ওয়াজিব। অতএব উভয় কথা এক নয় বরং ভিন্ন ভিন্ন। এবং কাজি আয়াযের কথা দুর্বল।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 হাম্বলী মাযহাব

📄 হাম্বলী মাযহাব


আল্লামা ইবনে কুদামা (রহ) আলমুগনী গ্রন্থের নিকাহ অধ্যায়ে হাম্বলী মাযহাব এভাবে বর্ণনা করেন –
فَأَمَّا نَظُرُ الرَّجُلِ إِلَى الَّا جُنَبِيَّةِ مِنْ غَيْرِ سَبَبٍ فَإِنَّهُ مُحْرِم إِلى جَمِيعِهَا فِي ظَاهِرِ كَلَامِ أَحْمَدَ وَقَالَ الْقَاضِي : يَحْرُمُ عَلَيْهِ النَّظْرُ إِلَى مَاعَدَا الْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ لِأَنَّهُ عَوْرَةً وَيُبَاحُ لَهُ النَّظْرُ إِلَيْهَا مَعَ الْكَرَاهَةِ إِذَا أَمِنَ الْفِتْنَةَ وَنَظُرُ لِغَيْرِ شَهْوَةٍ وَهُذَا مَذْهَبُ الشَّافِعِي وَلَنَاقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى وَإِذَا سَأَلْتُمُوْهُنَّ مَتَاعًا فَاسْتُلُوْ هُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ وَأَمَّا حَدِيْثُ أَسْمَاءَ إِنْ صَحَ فَيَحْتَمِلُ أَنَّهُ كَانَ قَبْلَ نُزُوْلِ الْحِجَابِ فَنَحْمِلُهُ عَلَيْهِ
( المغنى ج .... )
পুরুষের পরনারীর দিকে বিনা কারণে দেখা সম্পর্কে ইমাম আহমদ (রহ)-এর বাহ্যত কথানুযায়ী সম্পূর্ণ শরীরের দিকে দেখা হারাম। কাজি (রহ) বলেন, চেহারা ও দুই হাতের তালু ব্যতীত অন্য অঙ্গের দিকে দেখা হারাম। এজন্য যে, উহা সতরের অংশ। তবে যদি ফেৎনা থেকে নিরাপদ হয় এবং কামভাব ব্যতীত দেখে তাহলে মাকরূহের সাথে দেখা জায়েজ। এবং এটাই ইমাম শাফেয়ী (রহ)- এর মাযহাব। আমাদের দলীল আল্লাহ তায়ালার এরশাদ - যখন তোমরা মহিলাদের কাছে কোন জিনিস চাও তখন পর্দার আড়াল থেকে চাও।
মোটকথা চার মাযহাবের দিকে লক্ষ্য করলে এটা স্পষ্ট হয় যে, সমস্ত মাযহাব একথার উপর একমত, স্বাদ উপভোগ করার উদ্দেশ্যে অথবা ফেৎনার আশংকা থাকলে নারীর চেহারার দিকে দেখা হারাম। এবং শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের প্রাধান্যশীল মত হল ফেৎনা থেকে নিরাপদের সময়ও চেহারার দিকে দেখা হারাম। তবে হানাফী ও মালেকী মাযহাবে ফেৎনা থেকে নিরাপদ এবং স্বাদ উপভোগ করার উদ্দেশ্য না হওয়ার শর্তে নারীর চেহারার দিকে দেখার অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই শর্ত পাওয়া খুব কঠিন। বিশেষ করে বর্তমান যুগে যখন বিশৃংখলা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অধিকাংশ সময় এই শর্ত পাওয়া যায় না। এজন্য হানাফী মাযহাবের পরবর্তী আলেমগণ নারীদের চেহারার দিকে দেখা সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করেছেন। 'দুররে মুখতার' গ্রন্থের কারাহিয়াত অধ্যায়ে বর্ণিত আছে - فَإِنَّ خَافَ الشَّهْوَةَ أَوْشَكَ امْتَنَعَ نَظْرُهُ إِلَى وَجْهِهَا فَحَلَّ النَّظْرُ مُقَيَّدُ بِعَدَمِ الشَّهْوَةِ وَالأَفَحَرَامِ وَهُذَا فِي زَمَانِهِمْ أَمَّا فِي زَمَانِنَا فَمُنِعَ مِنَ الشَّابَّةِ قَهَسْتَانِي وَغَيْرُهُ إِلَّا النَّظْرَ لِحَاجَةٍ كَقَاضٍ وَشَاهِدِيَحْكُمُ وَيَشْهَدُ عَلَيْهَا الخ -
অর্থ: যদি কামভাবের আশংকা হয় বা কামভাবের সন্দেহ হয়, তাহলে এমতাবস্থায় নারীর চেহারার দিকে দেখা নিষেধ। অতএব কামভাব না থাকার শর্তে নারীর দিকে দেখা হালাল নতুবা হারাম। এই বিধান পূর্বের ফকীহগণের জামানার। আর আমাদের বর্তমান জামানার হুকুম হল যুবতী নারীর দিকে দেখা নিষিদ্ধ। তবে প্রয়োজনের সময় দেখা জায়েজ। যেমন বিচারকের রায় ঘোষণার সময় দেখা অথবা সাক্ষীর সাক্ষ্য দেয়ার সময় দেখা। আল্লামা শামী (রহ) বলেন –
وَتُمْنَعُ الْمَرْأَةُ الشَّابَّةُ مِنْ كَشْفِ الْوَجْهِ بَيْنَ رِجَالٍ لَا لِأَنَّهُ عَوْرَة بَلْ لِخَوْفِ الْفِتْنَةِ
যুবতী নারীদেরকে পুরুষের সামনে চেহারা খুলতে নিষেধ করা হবে। এই হুকুম এজন্য নয় যে, চেহারা সতরের অন্তর্ভুক্ত, বরং ফেৎনার আশংকার কারণে।
আল্লামা শামী (রহ) আরো বলেন-
يُعَزِّرُ الْمَوْلَى عَبْدَهُ وَالزَّوْجُ زَوْجَتَهُ عَلَى تَرْكِهَا الزِّينَةِ (الى قَوْلِه ) أَوْ كَشَفَتْ وَجْهَهَا لِغَيْرِ مُحْرِمٍ
অর্থ: মনিব দাসকে এবং স্বামী স্ত্রীকে সাজ-সজ্জা না করলে অথবা নিজ চেহারা পরপুরুষের সামনে খুললে শাস্তি প্রদান করবে। ইমাম আবু বকর জাসাস (রহ) আহকামুল কুরআন গ্রন্থে
يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلاَ بِيْبِهِنَّ প্রসঙ্গে বলেন-
এই আয়াত এ কথার উপর নির্দেশ করছে যে, যুবতী নারীর এই নির্দেশ, সে বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় পরপুরুষ থেকে নিজ চেহারা ঢেকে রাখবে এবং পর্দা ও মোজা প্রকাশ করবে যাতে সন্দেহপোষণকারী লোকেরা তাদের প্রতি লালসা না করে। আমার সম্মানিত পিতা হযরত মাওঃ মুফতি মোঃ শফী সাহেব (রহ) আহকামুল কুরআনে বলেন –
وَبِهُذَا الَّذِي قُلْنَا تَجْتَمِعُ النُّصُوصُ وَالرَّوَايَاتِ الْمُتَضَادَّةِ بِظَاهِرِهَا فَإِنَّكَ قَدْ عَرَفْتَ مِمَّا سَرَ ذَنَالَكَ مِنْ الْآيَاتِ وَالرَّوَايَاتِ أَنْ بَعْضَهَا يُجَوِّزُ كَشْفَ الْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ إِمَّا عَلَى الْحَزْمِ وَالْيَقِيْنِ كَحَدِيْثِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسِ عِنْدَ الْبُخَارِى وَحَدَيْثُ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ فِي السُّنَنِ وَحَدِيثُ الْوَاهِبَةِ نَفْسَهَا عِنْدَ الْبُخَارِي وَأَمْثَالُهَا وَبَعْضُهَا - يُجَوِّزُ عَلَى احْتِمَالٍ لِاخْتِلَافِ وَقَعَ بَيْنَ الصَّحَابَةِ (رض) فِي تَفْسِيْرِ قَوْلِهِ تَعَالَى " إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا عَلَى مَامَرَّ تَفْصِيلُهُ - (احكام القران)
যা কিছু আমরা বলেছি উহার ফলে ঐ সমস্ত বর্ণনা, যার মধ্যে বাহ্যত পরস্পরে বিরোধ দৃশ্যমান হয় শেষ পর্যন্ত তা আর থাকে না। কেননা আমরা পূর্বে যে আয়াতসমূহ ও হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছি উহা পাঠ করে আপনি এটা বুঝেছেন যে, তন্মধ্যে কিছু বর্ণনা পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে চেহারা ও হাতের তালু খোলা জায়েজ বলেছে। যেমন সহীহ বুখারীতে হযরত ফজল ইবনে আব্বাস (রা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস। এবং সুনানের মধ্যে হযরত আসমা বিনতে আবি বকর (রা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস। এবং বুখারী শরীফে বর্ণিত ঐ মহিলার ঘটনা যে নিজকে রাসূলুল্লাহ (স)কে দান করে দেয়ার জন্য এসেছিল ইত্যাদি।
সুতরাং আল্লাহ তায়ালার এই বাণী সমূহ এবং রাসূল (স)- এর হাদীসের মধ্যে বাহ্যত বিরোধ ও দ্বন্দ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আমরা উপরে যে বিস্তারিত বর্ণনা পেশ করেছি উহার ফলে আল হামদুলিল্লাহ বিরোধের এই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এবং কুরআনের আয়াত ও হাদীসসমূহ নিজ নিজ অর্থে ঠিক থাকে।
উহার থেকে কোনটাকে রহিত মনে করার প্রয়োজন থাকে না। তবে শুধু এতটুকু বিষয়, এই বিধানের উপর কিছু শর্ত আরোপিত হবে। যেখানে ঐ শর্ত পাওয়া যাবে সেখানে চেহারা ইত্যাদি খোলার অনুমতি হবে এবং যেখানে ঐ শর্ত পাওয়া যাবে না সেখানে অনুমতি হবে না।
হযরত মুফতি সাহেব (রহ) আরো বলেন -
وَهُذَا كُلُّهُ عَلَى تَسْلِيمِ حَقِيقَةِ الْاخْتِلَافِ بَيْنَ تَفْسِيْرَى ابْنِ عَبَّاسٍ (رض) وَابْنِ مَسْعُوْدٍ (رض) وَقَالَ شَيْخُنَا اَشْرَفُ الْمَشَايِخُ نَوَّرَ اللَّهُ مَرْقَدَهُ فِي جُزْءٍ أَفْرَدَهُ فِي هُذَا الْبَحْثِ الْمُسَمَّى بِالْقَاءِ السَّكِينَةِ فِي تَحْقِيقِ إِبْدَاءِ الزِّيِّنَةِ " أَنَّهُ لاَ اخْتِلافَ بَيْنَ تَفْسِيْرِهِمَا عِنْدَ التَّعَمُّقِ وَأَمْعَانِ النَّظْرِ فَإِنْ لَفْظَةَ "مَا ظَهَرَ" وَإِنْ فُسِّرِ بِالْوَجْهِ وَالْكَفِّيْنِ لَكِنَّ الْمَذْكُورُ فِي الْاسْتِثْنَاءِ هُوَ صِيغَةُ الظُّهُورِ لَا الْإِظْهَارِ وَهُوَ يُشِيرُ إِشَارَةً وَاضِحَةً إِلَى أَنْ الْغَرْضَ اسْتِثْنَاءُ مَالَا يُسْتَطَاعُ سَتْرُه بَلْ بِحَيْثُ يَظْهَرُ عِنْدَ الْكَسْبِ وَالْعَمَلِ فَكَانَ الْمُسْتَثْنَى عَلَى تَفْسِيْرًا بْنِ عَبَّاس (رض) أَيْضًا هُوَ ظُهُورُ الْوَجْهِ وَالْكَفِّيْنِ عِنْدَ الا ضْطِرَارِ إِلَيْهِ وَهُوَلَا يُنَافِي قَوْلَ ابْنِ مَسْعُودٍ (رض) قُلْتُ وَيُؤَيِّدُ هُذَا الْمَعْنَى مَا قَالَ ابْنُ كَثِيرٍ فِي تَفْسِيرِ قَوْلِهِ تَعَالَى وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا أَنْ "
لَا يَظْهَرْنَ شَيْئًا مِّنَ الزِّيِّنَةِ لِلْأَجَانِبِ الأَمَا لَا يُمْكِنُ احفاءه -
অর্থ: উপরে আমরা যে ব্যাখ্যা পেশ করেছি উহা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) উভয়ের তাফসীরের মাঝে মতবিরোধের বাস্তবতা মেনে নেয়া হয়। কিন্তু আমাদের শায়খ হযরত মাওঃ আশরাফ আলী সাহেব থানবী (রহ) এই বিষয়ের উপর - " الْقَاءُ السَّكِينَةِ فِي "
تَحْقِيقِ ابْدَاء الزينَة নামক একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন। উক্ত পুস্তিকায় তিনি লিখেছেন যদি গভীর দৃষ্টি দেয়া যায় তাহলে দেখা যাবে উভয় তাফসীরের মাঝে বাস্তবে কোন মতবিরোধ নেই। কেননা "مَاظَهَرَ" শব্দের ব্যাখ্যা যদিও চেহারা ও হাতের তালু দ্বারা করা হয়েছে কিন্তু সেটা আবার এ কথার দিকে স্পষ্ট ইংগিত করছে যে, যে অঙ্গগুলি ঢাকা সামর্থ্যের বাইরে এবং কাজকর্মের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশিত হয়ে যায় এবং সেগুলো ঢাকলে অসুবিধা হয় ঐ অঙ্গগুলি বাদ দেয়া উদ্দেশ্য। অতএব হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)-এর তাফসীর অনুযায়ীও অপারগ অবস্থায় চেহারা ও হাতের তালু খোলা জায়েজ। আর এই তাফসীর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-এর তাফসীরের বিরোধী নয়। আমি একথা বলছি যে, এই ব্যাখ্যার সমর্থন ঐ কথার দ্বারাও হয় যা কুরআনের আয়াত –
"وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا" -এর ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাছির (রহ) বলেন যে, নারী পরপুরুষের সামনে নিজ সৌন্দর্যের কোন অংশ প্রকাশ করবে না যে অংশ গোপন করা অসম্ভব উহা ব্যতীত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00