📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 পর্দার তৃতীয় স্তরের প্রমাণ

📄 পর্দার তৃতীয় স্তরের প্রমাণ


পর্দার তৃতীয় স্তর হল যে, যখন একজন নারী বাড়ী থেকে বের হবে তখন তার সমস্ত শরীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকা থাকবে। তবে প্রয়োজনে চেহারা ও হাতের তালু খুলবে ফেত্নার আশংকা না থাকার শর্তে। পর্দার এই তৃতীয় স্তর সম্পর্কে কুরআন মজীদের সূরা নূরের এই আয়াত নির্দেশ করছে –
وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوْجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا (سُورَةُ النُّوْر ৫৩১)
হে নবী (স) ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তাছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। (সূরা নূর- ৩১)
" مَا ظَهَرَمِنْهَا " যা সাধারণত 'প্রকাশমান'-এর ব্যাখ্যায় মুফাস্সিরগণের মতভেদ রয়েছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) ও হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তারা " مَا ظَهَرَ مِنْهَا "-এর ব্যাখ্যা চেহারা ও দুই হাতের তালু দ্বারা করেছেন। হযরত আতা, হযরত ইকরামা, হযরত সাঈদ বিন জুবায়ের, হযরত আবুশাআ'সা, হযরত ইমাম যাহ্হাক এবং হযরত ইব্রাহিম নাখয়ী (রহ) প্রমুখগণেরও এই মত।
তবে হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) " مَا ظَهَرَ مِنْهَا -এর ব্যাখ্যা চাদর দ্বারা করেছেন।
প্রথম ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই আয়াত এ কথার উপর নির্দেশ করছে যে, নারীর প্রয়োজনে চেহারা ও হাতের তালু খোলা জায়েজ। এবং নিম্নবর্ণিত হাদীসসমূহ ইহা নির্দেশ করছে – عَنْ عَائِشَةَ (رض) أَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي (د) بَكْرٍ دَخَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهَا ثِيَابٌ رِقَاقٌ فَأَعْرَضَ عَنْهَا وَقَالَ يَا أَسْمَاءُ إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا بَلَغَتِ الْمَحِيضِ لَمْ يَصْلُحْ اَنْ يُرَى مِنْهَا إِلَّا هُذَا وَهُذَا وَأَشَارَ إِلى وَجْهِهِ وَكَفِّيْهِ (ابو داوؤد )
হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) হতে বর্ণিত, একদা হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা) তাঁর শরীরে পাতলা কাপড় থাকাবস্থায় হুজুর (স)-এর নিকটে আসলেন, হুজুর (স) তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন হে আসমা! যখন নারী বালেগা হয়ে যায় তার এটা উচিত নয় যে, তার শরীরের কোন অংশ দেখা যাবে। ইহা এবং উহা ব্যতীত। হুজুর (স) চেহারা ও হাতের তালুর দিকে ইশারা করলেন (আবু দাউদ)
عَنْ عَلِي (رض) فِي قِصَّةِ رُجُوعِ رَسُوْلِ (2) اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْمُزْدَافَةِ أَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ أَرْدَفَ الْفَضْلَ بْنَ عَبَّاسِ وَأَتَى الْجَمْرَةَ فَرَمَاهَا ثُمَّ أَتَى الْمَنْحَرَ - وَفِيْهِ وَاسْتَفْتَتْهُ جَارِيَةٌ شَابَّةٌ مِنْ خَنْعَمَ فَقَالَتْ إِنْ أَبِي شَيْخُ كَبِيرُ قَدْ أَدْرَكَتْهُ فَرِيضَةَ اللهِ فِي الْحَقِّ أَفَيُجْزِئُ إِنْ أَحُجَّ عَنْهُ ؟ قَالَ حُبِّي عَنْ أَبِيكِ قَالَ وَلَوى عُنُقَ الْفَضْلَ فَقَالَ الْعَبَّاسُ يَارَسُوْلَ اللهِ لِمَ لَوَيْتَ عُنُقَ ابْنِ عَمِّكَ ؟ قَالَ رَأَيْتُ شَابًا وَشَابَةً فَلَمْ آمِنَ الشَّيْطَانَ عَلَيْهِمَا - (ترمذى كتاب الحج اب ماجاء ان عرفة كلهاموقف )
হুজুর (স)-এর মুজদালিফা থেকে ফেরার ঘটনায় হযরত আলী (রা) হতে বর্ণিত, হুজুর (স) হযরত ফজল বিন আব্বাস (রা)কে নিজের পিছনে সওয়ারীর উপর বসিয়ে নিলেন। তারপর হুজুর (স) জামরাত-এর নিকটে আসলেন এবং কংকর নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর হুজুর (স) কুরবানীর স্থানে তাশরীফ নিলেন। এবং এই রেওয়াতের মধ্যে আছে, ঐ সময় খাআম গোত্রের এক যুবতী মহিলা হুজুর (স)-এর কাছে আসলেন এবং হুজুর (স)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (স) আমার পিতা খুব বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, তাঁর উপর হজ্ব ফরজ হয়েছে। যদি আমি তাঁর পক্ষ থেকে হজ্ব আদায় করি তাহলে এই হজ্ব তার পক্ষ থেকে আদায় হবে কি? হুজুর (স) উত্তর দিলেন, নিজের পিতার পক্ষ থেকে হজ্ব আদায় কর। এই কথাবার্তার সময় হুজুর (স) হযরত ফজল বিন আব্বাস (রা)-এর চেহারা ঘুরিয়ে দিলেন। হযরত আব্বাস (রা) জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (স) আপনি আপনার চাচাত ভাইয়ের চেহারা কেন ঘুরিয়ে দিলেন? হুজুর (স) এরশাদ করলেন, আমি যুবক ও যুবতীকে শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিলাম।
وَأَخْرَجَ أَبُوْ يَعْلَى عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ (رض) قَالَ كُنْتُ رَدِفَ رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَعْرَابِي مَعَهُ ابْنَةُ لَهُ حَسَنَاءٍ فَجَعَلَ الاَ عَرَابِيُّ يَعْرِضُهَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجَاءَ أَنْ يَتَزَ وَجَهَا قَالَ فَجَعَلَ الْتَفَتُ إِلَيْهَا وَجَعَلَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْخُذُ بِرأْسِي فَيَلْوِيَّةٌ -
আবু ইয়ালা হযরত ফজল বিন আব্বাস (রা) হতে যে রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন, তার মধ্যে হযরত ফজল (রা) বলেন, আমি হুজুর (স)-এর পিছনে সওয়ার ছিলাম। এক বেদুঈন যার সাথে তার সুন্দরী কন্যা ছিল। সে নিজ কন্যাকে হুজুর (স)-এর কাছে এই আশায় পেশ করছিল যে, হুজুর (স) তাকে বিবাহ করেন। হযরত ফজল (রা) বলেন, আমি তার দিকে তাকাতে লাগলাম, হুজুর (স) আমার মাথা ধরে তার দিক থেকে ঘুরিয়ে দিলেন। এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা ইমাম বুখারী (রহ) সহীহ বুখারীতে ৬২২৮ নং হাদীসে এভাবে বর্ণনা করেছেন-
عَنْ ابْنِ عَبَّاس (رض) وَلَفْظُهُ أَرْدَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْفَضْلَ بْنَ عَبَّاس (رض) يَوْمَ النَّحْرِ خَلَفَ عَلَى عِجْزِ رَاحِلَتِهِ وَكَانَ الْفَضْلُ رَجُلاً وَضِيْئًا فَوَقَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّاسَ يُفْتَيْهِمْ أَقْبَلَتْ امْرَأَة مِنْ خَنْعَمَ وَضِيِّئَةً تَسْتَفْتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَطَفِقَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَأَعْجَبَه حُسْنُهَا فَالْتَفَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا فَاحْلَفَ بِيَدِهِ فَأَخَذَ بِذَقَنِ الْفَضْلِ فَعَدَلَ وَجْهَهُ عَنِ النَّظْرِ إِلَيْهَا -
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, হুজুর (স) কুরবানীর দিন হযরত ফজল বিন আব্বাস (রা)কে নিজের সওয়ারীর পিছনে বসালেন। হযরত ফজল (রা) সুশ্রী ছিলেন। হুজুর (স) মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন। এ সময় খাসআম গোত্রের এক সুন্দরী মহিলা এসে হুজুর (স)-এর কাছে মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে লাগল। হযরত ফজল (রা) ঐ মহিলাকে দেখতে লাগলেন এবং ঐ মহিলার সৌন্দর্যে আশ্চর্যান্বিত হলেন। হুজুর (স) মুখ ফিরিয়ে দেখেন, হযরত ফজল (রা) ঐ মহিলার দিকে তাকাচ্ছেন। হুজুর (স) হাত পিছনে দিয়ে হযরত ফজল (রা)-এর থুতনী ধরে তার চেহারা ঐ মহিলার দিক থেকে ফিরিয়ে দিলেন।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা)-এর হাদীসের বর্ণনা মতে বুঝা যাচ্ছে যে, ঐ মহিলার চেহারা খোলা ছিল। এ জন্যই তিনি বলেছেন, ঐ মহিলা সুন্দরী ছিল এবং তার সৌন্দর্য হযরত ফজল (রা)কে আশ্চর্যান্বিত করল। এবং হাদীসে এ কথা স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, হুজুর (স) হযরত ফজল (রা)-এর চেহারা ঐ মহিলার দিক থেকে ফিরিয়ে দিলেন কিন্তু ঐ মহিলাকে চেহারা ঢাকার নির্দেশ দিলেন না, এজন্য যে, ঐ মহিলা ইহরাম অবস্থায় ছিল। এবং হতে পারে হুজুর (স) এ কারণেও চেহারা ঢাকার নির্দেশ দেননি, প্রচণ্ড ভীড়ের মধ্যে চেহারা ঢাকলে পড়ে যাওয়া অথবা অন্য কোন কষ্টে পতিত হওয়ার আশংকা ছিল। এর দ্বারা এটাও প্রমাণিত হয় যে, কেবল নারীকে নয়, পুরুষকেও নারী হতে পর্দা করতে হবে। মোট কথা এই হাদীস ইহার প্রমাণ যে, যদি নারীর সমস্ত শরীর ঢাকা থাকে তাহলে প্রয়োজনের সময় তার চেহারা খোলা জায়েজ।
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعَدٍ (رض) أَنْ امْرَأَةً جَاءَتْ (٥) إِلَى رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَارَسُوْلَ الله اجئْتُ لاَهَبَ لَكَ نَفْسِي فَنَظَرَ إِلَيْهَا رَسُوْلُ اللَّه صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَعَّدَ النَّظْرَ إِلَيْهَا وَصَوَّبَهُ ثُمَّ طَأَ طَأَ رَأْسَهُ
হযরত সাহল বিন সা'আদ (রা) হতে বর্ণিত, এক মহিলা হুজুর (স)-এর কাছে আসল এবং বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ (স) আমি নিজেকে আপনাকে দান করে দেয়ার জন্য এসেছি। হুজুর (স) ঐ মহিলাকে দেখলেন, এবং উপর থেকে নিচ পর্যন্ত লক্ষ্য করে দেখলেন। অতঃপর দৃষ্টি নত করলেন তারপর মাথা নিচু করলেন।
এই ঘটনা দ্বারা এটা প্রমাণিত হচ্ছে যে, ঐ সময় ঐ মহিলার চেহারা খোলা ছিল। এই ঘটনা দ্বারা ইমাম সারাখছি (রহ) মাবসূত গ্রন্থে এই বিষয়ের দলীল গ্রহণ করেছেন যে, নারীর চেহারা সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়। (দেখুন, মাবসূত, ১০ : ১৫২)
নারীর চেহারা ও হাতের তালু দেখা সম্পর্কে সমস্ত ফকীহ এ ব্যাপারে একমত যে, যদি স্বাদ উপভোগ করার উদ্দেশ্যে দেখা হয় অথবা দেখার ফলে এমন ফেৎনার আশংকা হয় যা নির্জনতার দিকে গড়ায় তাহলে দেখা জায়েজ নেই। বরং এমতাবস্থায় নারীর চেহারা ও হাতের তালুর দিকে তাকানো হারাম হওয়ার ব্যাপারে কারোর মতভেদ নেই। তবে যদি পুরুষ ফেৎনায় পতিত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকে এবং দেখার দ্বারা স্বাদ উপভোগ করাও উদ্দেশ্য না হয় এমতাবস্থায় ইহা জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ আছে। হানাফী এবং মালেকীগণের মতে এমতাবস্থায় চেহারা ও হাতের তালুর দিকে তাকানো জায়েজ। এবং শাফেয়ীদের অধিকাংশ এবং কিছু হাম্বলীদেরও এই মত।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 নারীর দিকে তাকানো সম্পর্কে হানাফী মাযহাব

📄 নারীর দিকে তাকানো সম্পর্কে হানাফী মাযহাব


ইমাম শামসুল আইম্মা সারাখছি (রহ) বলেন,
يُبَاحُ النَّظُرُ إِلى مَوْضَعِ الزِّيِّنَةِ الظَّاهِرَةِ مِنْهُنَّ دُوْنَ الْبَاطِنَة لِقَوْله تَعَالَى وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا - وَقَالَ عَلِيُّ (رض) وَابْنُ عَبَّاس (رض) مَا ظَهَرَ مِنْهَا الْكُحْلُ وَالْخَاتَمُ وَقَالَتْ عَائِشَةُ (رض) إِحْدَى عَيْنَيْهَا وَقَالَ ابْنُ مَسْعُوْدٍ (رض) خُفُهَا وَمَلَاءَتُهَا وَاسْتَدَلَّ فِي ذَالِكَ بِقَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النِّسَاءُ حَبَائِلُ الشَّيْطَانِ بِهِنَّ يَصِيدُ الرِّجَالَ - وَلِأَنَّ حُرْمَةَ النَّظْرِ لِخَوْفِ الْفِتْنَةِ وَعَامَّةُ مَحَاسِنِهَا فِي وَجْهِهَا فَخَوْفُ الْفُنَةِ فِي النَّظْرِ إِلَى وَجْهِهَا أَكْثَرَ مِنْهُ إِلَى سَائِرِ إِلَّا عضاء وبحوهذَا تَسْتَدِلُّ عَائِشَةُ (رض) وَلَكِنَّهَا تَقُوْلُ: هِيَ لَا تَجِدُ بُدًّا مِنْ أَنْ تَمْشِيَ فِي الطَّرِيقِ فَلَابُدَّ مِنْ أَنْ تَفْتَحَ عَيْنَهَا لِتَبْصُرَ الطَّرِيقَ فَيَجُوْزُلَهَا أَنْ تَكْشِفَ إِحْدَى عَيْنَيْهَا لِهَذِهِ الضَّرُوةِ وَالثَّابِتُ بِالضَّرُورَةِ لَا يَعْدُو مَوْضَعَ الضَّرُورَةِ - ( المبسوط للسرخى)
নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্যের স্থানগুলির দিকে তাকানো জায়েজ। অপ্রকাশিত স্থানগুলির দিকে তাকানো জায়েজ নয়। কেননা আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, নারী নিজ সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না কিন্ত যা সধারণত খোলা থাকে। হযরত আলী (রা) ও ইবনে আব্বাস 11 مَا ظَهَرَ مِنْهَا" যা সাধারণত প্রকাশমান দ্বারা (রা) বলেন, উদ্দেশ্য সুরমা ও আংটি। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, مَا ظَهَرَ 11 দ্বারা উদ্দেশ্য এক চোখ। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন, ماظهر منها দ্বারা উদ্দেশ্য মোজা ও চাদর। তিনি হুজুর (স)-এর এই হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন, হুজুর (স) এরশাদ করেছেন, “নারী শয়তানের জাল, তাদের দ্বারা সে পুরুষদেরকে শিকার করে”। দ্বিতীয় কারণ হল, দেখা হারাম হওয়া ফেৎনার আশংকার কারণে আর নারীর অধিকাংশ সৌন্দর্য তার চেহারার মধ্যেই হয়। কেননা অন্য অঙ্গের দিকে তাকানোর তুলনায় চেহারার দিকে তাকানোর মধ্যে ফেৎনার আশংকা বেশী। হযরত আয়েশা (রা)ও এই সমস্ত হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি বলেন, নারীর রাস্তায় চলা অপরিহার্য আর রাস্তা দেখার জন্য চোখ খোলা রাখা জরুরী। অতএব উহার জন্য নারীর এক চোখ খোলা জায়েজ। (সারাখছি প্রণীত মাবসূত, ১০, ১৫২)
ইমাম শামসুল আইম্মাহ সারাখছি (রহ) বলেন, وَلَكِنَّا نَأْخُذُ بِقَوْلِ عَلِيٌّ وَابْنِ عَبَّاسٍ (رض) اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا فَقَدْ جَاءَتِ الْأَخْبَارُ فِي الرُّحْصَةِ بِالنَّظْرِ إِلَى وَجْهِهَا وَكَفِّهَا مِنْ ذَلِكَ مَارَونَ أَنَّ امْرَأَةً عَرَضَتْ نَفْسَهَا عَلَى رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَظَرَ إِلَى وَجْهِهَا فَلَمْ يَرَفِيْهَا رَغْبَةً وَلَمَّا قَالَ عُمَرُ (رض) فِي خُطْبَتِهِ إِلا لَا تُغَالُوْا فِي أَصْدِقَةِ النِّسَاءِ فَقَالَتْ امْرَأَةً سُفَعاءُ الْحَدَّيْنِ : أَنْتَ تَقُولُهُ بِرَأْيِكَ أَمْ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ فَإِنَّا نَجِدُ فِي كِتَابِ اللهِ تَعَالَى بِخِلَافِ مَا تَقُوْلُ فَذَكَرَ الرَّاوِيُّ أَنَّهَا كَانَتْ سُفَعَاءُ الْخَدَّيْنِ وَفِي هُذَا بَيَانٍ أَنَّهَا كَانَتْ مُسْفِرَةً عَنْ وَجْهِهَا وَرَأَى رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَفَّ امْرَأَةِ غَيْرِ مَحْضُوْبِ فَقَالَ أَكَفَّ رَجُلٍ هَذَا ؟ وَلَمَّا نَا وَلَتْ فَاطِمَةُ (رض) اَحَدَوَلَدَيْهَا بِلاَلاً (رض) أَوْ أَنَسًا (رض) قَالَ أَنَسٌ : رَأَيْتُ كَفَهَا كَأَنَّهَا فَلْقَةُ قَمَرٍ - فَدَلَّ عَلَى أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِالنَّظْرَ إِلَى الْوَجْهِ وَالْكَفَّ فَالْوَجْهُ مَوْضَعَ الْكُحْلِ وَالْكَفَّ مَوْضَعَ الْخَاتَمِ
কিন্তু আমরা হযরত আলী (রা) ও হযরত ইবনে আব্বাস (রা)-এর মত গ্রহণ করব। কেননা চেহারা ও হাতের তালু দেখা জায়েজ হওয়া সম্পর্কে হাদীস বিদ্যমান। একটি হাদীস এই যে, এক মহিলা নিজেকে হুজুর (স)-এর দরবারে পেশ করল, হুজুর (স) ঐ মহিলার চেহারা দেখলেন, কিন্তু হুজুর (স) ঐ মহিলার মধ্যে কোন আকর্ষণ অনুভব করলেন না। আরেকটি এই যে, একবার হযরত ওমর (রা) বক্তৃতার মধ্যে বললেন, খবরদার! নারীদের মোহর বেশী বৃদ্ধি করিওনা। এক মহিলা যার মুখমণ্ডল লাল প্রবণ কাল ছিল, দাঁড়িয়ে গেল এবং বলল এ কথা আপনি নিজের পক্ষ থেকে বলছেন না রাসূলুল্লাহ (স)-এর কাছে শুনেছেন? কেননা কুরআন মজীদে আপনি যা বলছেন আমরা উহার বিপরীত দেখতে পাই। এই হাদীস বর্ণনাকারীর এ কথা বলা যে, “ঐ মহিলার মুখমণ্ডল লাল-প্রবণ কাল ছিল” ইহা দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, তার চেহারা খোলা ছিল।
একবার হুজুর (স) এক মহিলার হাত দেখলেন যে, তাতে মেহেদী লাগান ছিল না। হুজুর (স) বললেন, এটা কি কোন পুরুষের হাত?
একবার হযরত ফাতেমা (রা) নিজের এক ছেলেকে হযরত বেলাল অথবা হযরত আনাস (রা)-এর কাছে দিলেন। হযরত আনাস (রা) বলেন, আমি হযরত ফাতেমা (রা)-এর হাতের তালু দেখলাম, উহা যেন চাঁদের একটি টুকরা ছিল। অতএব এই বর্ণনাসমূহ দ্বারা ইহা বুঝা যাচ্ছে যে, চেহারা ও হাতের তালু দেখতে কোন বাধা নেই। ইমাম ছারাখছি আরো বলেন -
لاَشَكَ أَنَّهُ يُبَاحُ النَّظْرُ إِلَى ثِيَابِهَا وَلَا يُعْتَبَرُ خَوْفُ الْفِتْنَةِ فِي ذَالِكَ فَكَذَالِكَ إِلَى وَجْهِهَا وَكَفِّهَا وَرَوَى الْحَسَنُ بْنُ زِيَادٍ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ (رض) أَنَّهُ يُبَاحُ النَّظْرُ إلى قَدَمِهَا أَيْضًا وَهُكَذَا ذَكَرَ الطَّحَا وِيُّ لِأَنَّهَا كَمَا تَبْتَلَى بِابْدَاءِ وَجْهِهَا فِي الْمُعَامَلَةِ مَعَ الرِّجَالِ وَبِابْدَاءِ كَفَهَا فِي الْأَحْدِ وَالَّا عَطَاءِ - تَبْتَلِي بِابْدَاءِ قَدَمَيْهَا إِذَ امَشَتْ حَافِيَّةً أَوْ مُنْتَعَلَةً وَرُبَمَا لَا تَجِدُ الْخُفَّ فِي كُلِّ وَقْت وَذَكَرَ فِي جَامَعَ الْبَرَ امِكَةِ عَنْ أَبِي يُوْسُفَ (رض) أَنَّه يُبَاحُ النَّظْرُ إِلَى ذِرَاعَيْهَا أَيْضًا لِأَنَّهَا فِي الْخُبْرِ وَغُسْلِ الثَّيَابِ تَبْتَلِي بِا بْدَاءِ ذِرَاعَيْهَا ايضا- قيلَ وَكَذَالِكَ يُبَاحُ النَّظْرُ إِلَى ثَنَايَاهَا أَيْضًا لِأَنَّ ذَالِكَ يَبْدُو مِنْهَا عِنْدَ التَّحَدُّثِ مَعَ الرِّجَالِ-
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, নারীর কাপড়ের দিকে তাকানো মুবাহ। এবং এতে ফেৎনার আশংকারও লক্ষ্য করা হয়নি। অতএব এভাবে নারীর চেহারা ও হাতের তালুর দিকে তাকানোও মুবাহ।
হযরত হাসান বিন জিয়াদ ইমাম আবু হানিফা (রহ) হতে বর্ণনা করেন, নারীর পায়ের পাতার দিকে তাকানোও মুবাহ। ইমাম ত্বহাবী (রহ)ও এরকমই বর্ণনা করেছেন। যেরকমভাবে পুরুষের সাথে লেন-দেনের সময় নারীর চেহারা খোলার প্রয়োজন হয়। তেমনি নেয়া-দেয়ার সময় হাতের তালু খোলার প্রয়োজন হয়। এরকমভাবে খালিপায়ে অথবা জুতা পরে চলার সময় পায়ের পাতা খোলারও প্রয়োজন হয়। কেননা সব সময় মোজা সহজলভ্য নয়।
জামেউল বারামিকাহ গ্রন্থে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ) হতে বর্ণিত, নারীর বাহুর দিকে তাকানোও মুবাহ। কেননা রুটি তৈরি করার সময় এবং কাপড় ধোয়ার সময় তার বাহু খোলার প্রয়োজন হয়। এও বলা হয়েছে যে, নারীর সামনের দাঁতের দিকে তাকানোও জায়েজ। কেননা পুরুষের সাথে কথা বলার সময় দাঁত দেখা যায়। এরপর ইমাম ছারাখছী (রহ) বলেন-
وَهُذَا كُلُّه إِذَا لَمْ يَكُنِ النَّظْرُ عَنْ شَهْوَةِ - فَإِنْ كَانَ يَعْلَمُ أَنَّهُ إِنْ نَظَرَ اشْتَهَى لَمْ يَحِلُّ لَهُ النَّظْرُ إِلَى شَيْ مِنْهَا لِقَوْلِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ نَظَرَ إِلى مَحَاسِنِ أَجْنَبِيَّةِ عَنْ شَهْوَةِ صُبَّ فِي عَيْنَيْةِ الانكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَقَالَ لِعَلِيّ (رض) لا تَتَّبِعِ النَّظْرَةَ بَعْدَ النَّظْرَةِ فَإِنَّ الأولى لَكَ وَالْأُخْرَى عَلَيْكَ يَعْنِي بِالْأُخْرَى اَنَّ يَقْصِدَهَا عَنْ شَهْوَةِ - وَكَذَالِكَ إِنْ كَانَ أَكْبَرَ رَأَيْهُ أَنَّهَ إِنْ نَظَرَ اشْتَهَى لِأَنَّ أَكْبَرَا الرَّأْي فِيْهَا لَا يُوْقَفُ عَلَى حقيقته كَالْيَقِينِ - (المبسوط للسرخسى)
এসব কথা ঐ সময় যখন কামভাবের দৃষ্টি না হবে। কিন্তু পুরুষ যদি মনে করে নারীর দিকে তাকালে তার মনে নারীর প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হবে, তাহলে পুরুষের জন্য নারীর এ সমস্ত অঙ্গের কোন একটিও দেখা হালাল নয়। এজন্য যে, রাসূলুল্লাহ (স) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোন পর-নারীর সৌন্দর্যের প্রতি কামভাব নিয়ে তাকায়, কেয়ামতের দিন তার চোখে সীসা ঢালা হবে। হাদীস শরীফে আছে হুজুর (স) হযরত আলী (রা)কে বলেছেন, প্রথম দৃষ্টির পর দ্বিতীয় দৃষ্টি দিওনা। এ জন্য যে, প্রথম দৃষ্টি তোমার জন্য হালাল আর দ্বিতীয় দৃষ্টি তোমার উপর আযাব।
এই বিধান ঐ অবস্থায়ও যখন পুরুষের এটা প্রবল ধারণা হয়, যদি সে নারীর দিকে তাকায় তাহলে তার অন্তরে নারীর প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়ে যাবে। কেননা যে বিষয়ের বাস্তবরূপ জানা যায় না। উহার প্রবল ধারণা নিশ্চিতের মত।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 মালেকী মাযহাব

📄 মালেকী মাযহাব


মালেকী মাযহাব হল যা ইমাম খরশী (রহ) “মুখতাসার খলিল” গ্রন্থের হাশিয়ায় লিখেছেন, উহা নিম্নবর্ণিত -
عَوْرَةُ الْحُرَّةِ مَعَ الرَّجُلِ الْأَجْنَبِي جَمِيعُ بَدَنِهَا حَتَّى دَلاَ لِيْهَا وَقِصَّتِهَا مَا عَدَا الْوِجْهَ وَالْكَفِّيْنِ مِنْ غَيْرِ عُذْرِ وَلَوْ شَابَّةٌ وَقَالَ مَالِكَ (رض) تَأْكُلُ الْمَرْأَةُ مَعَ غَيْرِ ذِي مَحْرَمٍ وَمَعَ غُلَامِهَا وَقَدْ تَأْكُلُ مَعَ زَوْجِهَا وَغَيْرَهُ مِمَّنْ يُوَاكِلُهُ ابْنُ الْقَطَّانِ : وَفِيْهِ ابْدَاءِ الْمُرأَة وَجْهِهَا وَيَدَيْهَا لِلْأَجْنَبِي إِذْ لَايُتَصَوَّرُ الْأَكُلُ إِلا هكذا - (حاشية الخرشي على مختصر خليل)
স্বাধীন নারীর সম্পূর্ণ শরীর পরপুরুষের জন্য সতর। এমনকি নারীর ভাবভঙ্গি এবং কথাবার্তাও। চেহারা এবং উভয় হাতের তালুর বাহিরের ও ভিতরের অংশ ব্যতীত। অতএব এই উভয় অঙ্গের দিকে স্বাদ ও ফেৎনার আশংকা না থাকলে বিনা ওজরেও তাকান জায়েজ। যদিও ঐ নারী যুবতী হয়। ইমাম মালেক (রহ) বলেন, নারী গায়রে মাহরাম এবং নিজ গোলামের সাথে খানা খেতে পারে। কেননা কোন কোন সময় নারীর নিজ স্বামীর সাথে খানা খেতে হয় যখন স্বামীর সাথে অন্য লোকও খানা খায়। ইবনে কাত্তান (রহ) বলেন, এই বাক্য দ্বারা নারীর পরপুরুষের সামনে চেহারা ও উভয় হাত খোলার অনুমতি বুঝা যায়। কেননা এই দুই অঙ্গ খোলা ব্যতীত খানা খাওয়া যায় না। “শারহুল মুওয়াফিক” গ্রন্থে এই ইবারত একটু বৃদ্ধি সহকারে আছে।
ইমাম আলিশ "منح الجليل" গ্রন্থে বলেন -
فَيَجُوْزُ لَهَا كَشْفُهُمَا ( أَى الْوَجْهُ وَالْكَفَّيْنِ ) لِلْأَخْنَي وَلَهُ نَظُرُهَا إِنْ لَمْ تَخْشَ الْفِتْنَةَ فَإِنْ خِيفَتِ الْفِتْنَةُ بِهِ فَقَالَ ابْنُ مَرْزُوقٍ : مَشْهُورُ الْمَذْهَبِ وُجُوْبِ سترهما - ( منح الجليل)
নারীর পরপুরুষের সামনে চেহারা এবং হাতের তালু খোলা জায়েজ আর পুরুষের উহার দিকে তাকান জায়েজ। ফেৎনার আশংকা না থাকার শর্তে। তবে যদি ফেত্নার আশংকা থাকে তাহলে এ সম্পর্কে ইবনে মারজুক (রহ) বলেন, এ অবস্থায় প্রসিদ্ধ মত হল নারীর উহা ঢাকা ওয়াজিব।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 শাফেয়ী মাযহাব

📄 শাফেয়ী মাযহাব


শাফেয়ী মাযহাবের যা আল্লামা নববী (রহ) 'কিতাবুন্নিকাহ'- এর মধ্যে “মিনহাজ” গ্রন্থ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, وَيَحْرُمُ نَظُرُ فُحْل بَالِغِ إِلى عَوْرَةٍ حُرَّةٍ كَبِيرَةٍ أَجْنَبِيَّةٍ وَكَذَا وَجْهِهَا وَكَفَّيْهَا عِنْدَ خَوْفِ فِتْنَةٍ وَكَذَا عِنْدَ الْآمَنِ عَلَى الصَّحِيحِ • অর্থাৎ, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের স্বাধীন প্রাপ্ত বয়স্কা পরনারীর দিকে দৃষ্টি দেয়া হারাম। এ রকমভাবে ফেৎনার আশংকা থাকলে নারীর চেহারা ও হাতের তালু দেখাও হারাম। এবং বিশুদ্ধ মতানুযায়ী ফেৎনা থেকে নিরাপদ থাকলেও এই হুকুম। উল্লিখিত মতের ব্যাথায় আল্লামা খতিব শরবিনী (রহ) বলেন -
وَقَوْلُهُ عَلَى الصَّحِيحِ وَجَهَهُ إِلَّا مَامُ بِاتِّفَاقِ الْمُسْلِمِينَ عَلَى مَنْعِ النِّسَاءِ مِنَ الْخُرُوجِ سَافِرَاتِ الْوُجُوهِ وَبِأَنَّ النَّظْرَ مَظَنَّةُ الْفِتْنَةِ وَمُحَرِّكَ لِلشَّهْوَةِ وَالثَّانِي ( أَنْ الْقَوْلُ الثانى ( لاَ يَحْرُمُ وَنَسَبَهُ الْإِمَامُ لِلْجَمْهُورِ وَالشَّيْحَانِ لِلَّا كُثَرِينَ وَقَالَ فِي الْمُهِمَّاتِ إِنَّهُ الصَّوَابُ لكَوْن إِلا كثريْنَ عَلَيْهِ وَقَالَ الْبَلْقِيْنِي : التَّرْجِيحُ بِقُوَّةِ الْمُدْرِكِ وَالْفَتْوَى عَلَى مَا فِي الْمِنْهَاجِ .... وَمَا نَقَلَهُ الْإِمَامُ مِنَ الْاتَّفَاقِ عَلَى مَنْعِ النِّسَاءِ أَنْ مَنْعُ الْوَلَا ةِ لَهُنَّ مُعَارِضَ بِمَا حَكَاهُ الْقَاضِي عَيَاضٍ عَنِ الْعُلَمَاءِ أَنَّهُ لَا يَحْبُ عَلَى الْمَرْأَةِ سَتْرُ وَجْهِهَا فِي طَرِيقِهَا وَإِنَّمَا ذَالِكَ سُنَّةً عَلَى الرِّجَالِ غَضُ الْبَصَرِ لِلْآيَةِ - وَحَكَاهُ الْمُصَنِّفُ (أَى النووى) فِي شَرْحِ مُسْلِمٍ وَأَقَرَّهُ عَلَيْهِ - وَقَالَ بَعْضُ الْمُتَأَخِرِيْنَ : أَنَّهُ لَا تَعَارَضَ فِي ذَالِكَ بَلْ مَنْعُهُنَّ مِنْ ذَالِكَ لَا لَأَنَّ السَّتْرَ وَاحِب عَلَيْهِنَّ فِي ذَاتِهِ بَلْ لِاَنَّ فِيْهِ مُصْلِحَةٌ عَامَةٌ وَفِي تَرْكِهِ اخلال بِالْمَرُوْعَةِ الخَ وَظَاهِرُ كَلَامِ الشَّيْخَيْنِ أَنَّ السَّتْرَ وَاحِبُّ بِذَاتِهِ فَلَا يتأنى هذا الجمع وَكَلَامُ الْقَاضِي ضَعِيفُ
ইমাম নববী (রহ) এ কথার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, মুসলমানগণ এ ব্যপারে একমত যে, নারীদেরকে চেহারা খুলে বাড়ীর বাইরে যেতে নিষেধ করা হবে। এবং এজন্যও যে, “দৃষ্টি” ফেৎনা ও কামভাবের উস্কানিদাতা।
দ্বিতীয় মত হল, পুরুষের নারীর দিকে দেখা হারাম নয়। ইমাম নববী (রহ) এই দ্বিতীয় মতকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত বলেছেন। এবং শায়খাইন উহাকে অধিকাংশ শাফেয়ীদের মত বলেছেন। কেননা অধিকাংশ শাফেয়ী এর উপর আমল করেন। ইমাম বালকিনী (রহ) বলেন, التَّرْجِيْحُ بِقُوَّةِ الْمُدْرِكِ এবং ফতোয়া “মিনহাজ” গ্রন্থে বর্ণিত মতের উপর। এবং ইমাম নববী (রহ) মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যায় যে কথা বলেছেন, মুসলমানগণ এ ব্যাপারে একমত, নারীদের অভিভাবকগণের উচিত তারা নারীদেরকে চেহারা খুলে বাড়ী থেকে বাইরে যেতে নিষেধ করবে। তার এই কথা কাজি আয়ায (রহ)-এর কথার বিরোধী। তিনি ওলামায়ে কেরামের এ ব্যাপারে ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, নারীদের রাস্তায় চেহারা ঢাকা ওয়াজিব নয় বরং এরকম করা সুন্নত। তবে কুরআনের আয়াতের কারণে পুরুষের নারীদের থেকে দৃষ্টি নত রাখা ওয়াজিব। ইমাম নববী (রহ) মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যায় এই মতকেই বর্ণনা করেছেন এবং উহাকেই বহাল রেখেছেন। তবে পরবর্তী কিছু আলেম বলেন, এই উভয় কথার মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কেননা যে কথা অনুয়াযী নারীদেরকে চেহারা খুলে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে, এটা এজন্য নিষেধ করা হয়নি যে, মূলগতভাবে তাদের চেহারা ঢাকা ওয়াজিব। বরং সর্বজনীন উপকারিতার দিকে লক্ষ্য করে নিষেধ করা হয়েছে। এবং উহা ত্যাগ করলে মানবসভ্যতা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আর শায়খাইনের কথা দ্বারা এটা প্রমাণিত হচ্ছে যে, চেহারা ঢাকা মূলগত ভাবে ওয়াজিব। অতএব উভয় কথা এক নয় বরং ভিন্ন ভিন্ন। এবং কাজি আয়াযের কথা দুর্বল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00