📄 ইসলাম আঁকড়ে ধরার মধ্যেই সম্মান
স্মরণ রাখবেন, যে ব্যক্তি এই কাজের জন্য সাহস করে নিজের কোমর বেঁধে নেয় সেই দুনিয়াতে সম্মান লাভ করে। প্রকৃত সম্মান ইসলাম গ্রহণ করার মধ্যে, ইসলাম ত্যাগ করার মধ্যে নয়। হযরত ওমর (রা) বলেছেন যে- إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعَزَّنَا بِالْإِسْلَامِ “আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ইসলামের বদৌলতেই সম্মান দিয়েছেন।” যদি আমরা ইসলাম ত্যাগ করি তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সম্মানের পরিবর্তে লাঞ্চিত করবেন।
📄 দাড়িও গেল চাকরীও পেলনা
এক বুযুর্গ আমাকে একটি সত্য ঘটনা শুনিয়েছেন যা বড় শিক্ষণীয়। তা এই, তাঁর এক বন্ধু লন্ডনে ছিল, সে একটা চাকুরীর খোঁজে ছিল। সে চাকুরীর জন্য এক স্থানে ইন্টারভিউ দিতে গেল তখন তার দাড়ি ছিল। যে ব্যক্তি ইন্টারভিউ নিচ্ছিল সে বলল, দাড়ি নিয়ে এখানে চাকুরী করা কঠিন তাই দাড়ি কাটতে হবে। সে খুব চিন্তায় পড়ে গেল দাড়ি কাটবে কি-না। সে সেখান থেকে চলে আসল এবং দুই তিন দিন পর্যন্ত অন্য জায়গায় চাকুরী খুঁজতে লাগল কিন্তু কোথাও চাকুরী হল না। সে পেরেশান হয়ে গেল এবং দোটানায় পড়ে গেল, কি করবে। দাড়ি কাটবে কি-না। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিল, আপাতত দাড়ি কেটে ফেলি যাতে চাকুরী হয়ে যায়। সুতরাং সে দাড়ি কেটে ফেলল এবং চাকুরীর জন্য সেখানে গেল। সেখানে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞেস করল কি জন্য আসলেন?
সে বলল, আপনি বলেছিলেন দাড়ি কাটলে চাকুরী হবে তাই এসেছি।
কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞেস করল আপনি কি মুসলমান? সে বলল-হ্যাঁ।
কর্তৃপক্ষ পুনরায় জিজ্ঞেস করল আপনি কি দাড়ি আবশ্যক মনে করতেন, না অনাবশ্যক।
সে উত্তর দিল আমি আবশ্যক মনে করেই রেখেছিলাম।
কর্তৃপক্ষ বলল, যখন আপনি জানতেন এটা আল্লাহর হুকুম এবং সে জন্য দাড়ি রেখেছিলেন। আর এখন শুধু মাত্র আমার বলার কারণেই আল্লাহর হুকুম ত্যাগ করলেন। অতএব বুঝা গেল আপনি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী নন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী না হয় সে তার অফিসারের প্রতিও বিশ্বাসী হতে পারে না। অতএব এখন আমি আপনাকে চাকুরী দিতে অপারগ।
خَسَرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ অর্থ: দুনিয়া ও আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্ত হল। দাড়িও গেল চাকরীও হল না।
শুধু দাড়িই নয়, বরং আল্লাহ তায়ালার যত হুকুম আছে তন্মধ্যে কোন একটাকে এই মনে করে ত্যাগ করা যে, মানুষ তিরস্কার করবে। এই কারণে অনেক সময় দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানই ধ্বংস হয়ে যায়।
📄 চেহারারও পর্দা আছে
পর্দা সম্পর্কে আসল কথা হল মাথা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীর চাদর অথবা বোরকা দ্বারা অথবা কোন ঢিলেঢালা পোশাক দ্বারা আবৃত থাকবে এবং চুল ঢাকা থাকবে। আর চেহারার হুকুম হল যে, প্রকৃতপক্ষে চেহারারই পর্দা, এজন্য চেহারার উপরও ঘোমটা থাকতে হবে। কুরআনের আয়াত - يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ -এর ব্যাখ্যায় হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) বলেন, ঐ জামানায় মহিলারা এরকম করত যে, শরীর চাদর দিয়ে ঢেকে উহার এক পল্লা চেহারার উপর দিত। শুধুমাত্র চোখ খোলা থাকত, আর পূর্ণ চেহারা চাদরে ঢাকা থাকত। এটাই পর্দার আসল নিয়ম। তবে প্রয়োজনের সময় চেহারার ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা এই অবকাশ দিয়েছেন, যেখানে চেহারা খোলার প্রয়োজন হয় সেখানে শুধু চেহারা ও হাতের কব্জী খোলার অনুমতি আছে। কিন্তু এটাও ঐ সময় যখন এছাড়া উপায় থাকে না। আসল হুকুম হল, চেহারাসহ পূর্ণ শরীর ঢাকতে হবে।
📄 পুরুষের দায়িত্ব
মোটকথা-এটা পর্দার সংক্ষিপ্ত বিধান। মূল কথা হল নারীর পাক পবিত্র জীবন-যাপনের জন্য পর্দা একটি মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতএব পুরুষের উপর ফরজ যে, তারা নারীদেরকে পর্দা পালনের জন্য উৎসাহিত করবে। আর নারীরা তা মেনে চলবে। দুঃখের বিষয় হল কোন কোন সময় যখন নারীরা পর্দা করতে চায় তখন পুরুষ বাধা সৃষ্টি করে। আকবর ইলাহাবাদী মরহুম সুন্দর কথা বলেছেন- "কাল যখন কিছু বেপর্দা মহিলা নজরে আসল তখন আকবর লজ্জায় মাটিতে পুঁতে গেল। যখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম তোমাদের পর্দা কোথায় গেল, তারা বলল, পর্দা পুরুষের আকলের উপর পড়ে গেছে।
প্রকৃতপক্ষে আজ পুরুষের জ্ঞানের উপর পর্দা পড়ে গেছে, পুরুষরা পর্দার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। আল্লাহ তায়ালা নিজ রহমতে আমাদের সকলকে ভুল চিন্তাধারা থেকে মুক্তিদান করুন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (স)-এর বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করার তৌফিক দান করুন। আমিন!