📄 তারপরও তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক থাকবেন
ধরে নিন এই সমস্ত ভর্ৎসার ফলে যদি তাদের কথা মত চলেন তবুও তাদের দৃষ্টিতে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক থাকবেন। তারা বলে নারীদেরকে ঘরে থাকতে দিওনা, পর্দা করাইওনা। এখন আপনি তাদের কথামত চললেন। নারীদেরকে ঘর থেকে বের করে দিলেন, তাদের পর্দা ফেলে দিলেন, ওড়নাও ফেলে দিলেন সবকিছু করলেন কিন্তু তারপরও কি তারা মনে করবে, আপনি তাদের লোক ? তারা কি আপনাকে সব অধিকার দিবে? দিয়েছে আপনাকে কি পূর্ণ সম্মান দিবে? কখনই না। বরং এখনও আপনি পশ্চাৎগামী ও বর্বর এবং এখনও যদি আপনার নাম আসে ভর্ৎসনার সঙ্গেই আসবে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাদের সমস্ত কথা মেনে নেয়া সত্ত্বেও আপনি তাদের দৃষ্টিতে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক থাকবেন।
📄 কাল আমরা তাদের প্রতি বিদ্রূপ করব
কিন্তু এর বিপরীত যদি আপনি একবার এ সমস্ত ভর্ৎসনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন এবং এটা মনে করেন যে, তারাতো ভর্ৎসনা করবেই, মন্দ বলবেই। কিন্তু আমাকে তো মুহাম্মদ (স)-এর পথে চলতে হবে, রাসূল (স)-এর সম্মানিত স্ত্রীগণের পথে চলতে হবে। তারা হাজার বার ভর্ৎসনা করুক, বিদ্রূপ করুক, আমাদের প্রতি হাসুক, কিন্তু একদিন আসবে আমরা তাদের প্রতি হাসব। সুতরাং কুরআন মজীদে ইরশাদ হচ্ছে-
فَا الْيَوْمَ الَّذِينَ آمَنُوْا مِنَ الْكُفَّارِ يَضْحَكُوْنَ عَلَى الْأَرَائِكَ يَنْظُرْوْنَ (সূরা মুতাফফিফীন, আয়াত-৩৪-৩৫) -
কাফেররা পৃথিবীতে মুসলমানদের সঙ্গে এ রকম আচরণ করেছে যে, তারা মুসলমানদেরকে দেখে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, যখন কোন মুসলমান তাদের নিকট দিয়ে যেত তারা একে-অপরকে ইশারা করত, দেখ মুসলমান যাচ্ছে। কিন্তু আখেরাতে মুসলমানেরা কাফেরদের প্রতি হাসবে এবং গালিচার উপর বসে তাদের দিকে তাকাবে। এই দুনিয়ার জীবন কয় দিনের? কাফেররা কতদিন ঠাট্টা-বিদ্রূপ করবে। যেদিন চোখ বন্ধ হয়ে যাবে সেদিন জানা যাবে, যারা বিদ্রূপ করত তাদের পরিণতি কি হয়েছে। অতএব মুক্তির একমাত্র পথ হল কাফেররা যতই ঠাট্টা-বিদ্রূপ আর ভর্ৎসনা করুক তাদের এসব কিছুতে ভীত হওয়ার পরিবর্তে রাসূল (স)-এর আদর্শ মজবুত করে ধরা।
📄 ইসলাম আঁকড়ে ধরার মধ্যেই সম্মান
স্মরণ রাখবেন, যে ব্যক্তি এই কাজের জন্য সাহস করে নিজের কোমর বেঁধে নেয় সেই দুনিয়াতে সম্মান লাভ করে। প্রকৃত সম্মান ইসলাম গ্রহণ করার মধ্যে, ইসলাম ত্যাগ করার মধ্যে নয়। হযরত ওমর (রা) বলেছেন যে- إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعَزَّنَا بِالْإِسْلَامِ “আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ইসলামের বদৌলতেই সম্মান দিয়েছেন।” যদি আমরা ইসলাম ত্যাগ করি তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সম্মানের পরিবর্তে লাঞ্চিত করবেন।
📄 দাড়িও গেল চাকরীও পেলনা
এক বুযুর্গ আমাকে একটি সত্য ঘটনা শুনিয়েছেন যা বড় শিক্ষণীয়। তা এই, তাঁর এক বন্ধু লন্ডনে ছিল, সে একটা চাকুরীর খোঁজে ছিল। সে চাকুরীর জন্য এক স্থানে ইন্টারভিউ দিতে গেল তখন তার দাড়ি ছিল। যে ব্যক্তি ইন্টারভিউ নিচ্ছিল সে বলল, দাড়ি নিয়ে এখানে চাকুরী করা কঠিন তাই দাড়ি কাটতে হবে। সে খুব চিন্তায় পড়ে গেল দাড়ি কাটবে কি-না। সে সেখান থেকে চলে আসল এবং দুই তিন দিন পর্যন্ত অন্য জায়গায় চাকুরী খুঁজতে লাগল কিন্তু কোথাও চাকুরী হল না। সে পেরেশান হয়ে গেল এবং দোটানায় পড়ে গেল, কি করবে। দাড়ি কাটবে কি-না। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিল, আপাতত দাড়ি কেটে ফেলি যাতে চাকুরী হয়ে যায়। সুতরাং সে দাড়ি কেটে ফেলল এবং চাকুরীর জন্য সেখানে গেল। সেখানে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞেস করল কি জন্য আসলেন?
সে বলল, আপনি বলেছিলেন দাড়ি কাটলে চাকুরী হবে তাই এসেছি।
কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞেস করল আপনি কি মুসলমান? সে বলল-হ্যাঁ।
কর্তৃপক্ষ পুনরায় জিজ্ঞেস করল আপনি কি দাড়ি আবশ্যক মনে করতেন, না অনাবশ্যক।
সে উত্তর দিল আমি আবশ্যক মনে করেই রেখেছিলাম।
কর্তৃপক্ষ বলল, যখন আপনি জানতেন এটা আল্লাহর হুকুম এবং সে জন্য দাড়ি রেখেছিলেন। আর এখন শুধু মাত্র আমার বলার কারণেই আল্লাহর হুকুম ত্যাগ করলেন। অতএব বুঝা গেল আপনি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী নন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী না হয় সে তার অফিসারের প্রতিও বিশ্বাসী হতে পারে না। অতএব এখন আমি আপনাকে চাকুরী দিতে অপারগ।
خَسَرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ অর্থ: দুনিয়া ও আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্ত হল। দাড়িও গেল চাকরীও হল না।
শুধু দাড়িই নয়, বরং আল্লাহ তায়ালার যত হুকুম আছে তন্মধ্যে কোন একটাকে এই মনে করে ত্যাগ করা যে, মানুষ তিরস্কার করবে। এই কারণে অনেক সময় দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানই ধ্বংস হয়ে যায়।