📄 এক মহিলার পর্দা পালন
আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে, এক মহিলার পুত্র হুজুর (স)-এর সঙ্গে এক যুদ্ধে গিয়েছিল। যুদ্ধের পর সমস্ত মুসলমান ফিরে আসল কিন্তু তার পুত্র ফিরে আসল না। এমতাবস্থায় স্পষ্ট যে, ঐ মহিলা কি পরিমাণ অস্থির হতে পারে। সে এই অস্থির অবস্থায় হুজুর (স)-এর দরবারে তার পুত্রের অবস্থা জানার জন্য দৌড়ে গেল এবং হুজুর (স)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ (স)! আমার ছেলের কি সংবাদ ? সাহাবায়ে কেরাম উত্তর দিলেন আপনার পুত্র আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে গেছেন। পুত্রের মৃত্যু সংবাদ তার উপর বজ্রপাত হল। এ অবস্থায় এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করল হে মহিলা! আপনি এই অস্থির অবস্থায় বাড়ী থেকে বের হয়ে হুজুর (স)-এর দরবারে আসলেন এই অবস্থায়ও আপনি চেহারার উপর ঘোমটা টেনে দিয়েছেন? এমতাবস্থায়ও আপনি ঘোমটা দিতে ভুলেন নি? ঐ মহিলা উত্তর দিল-
إِنْ أَرْزَأَ ابْنِي لَمْ أَرْزَأَ حَيَائِي
“আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু আমার লজ্জার তো মৃত্যু হয়নি, আমার ছেলে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে, কিন্তু আমার লজ্জা তো চলে যায়নি।” (আবূ দাউদ, কিতাবুল জিহাদ, হাদীস নং-২৪৮৮) চিন্তা করে দেখুন! এ অবস্থায়ও ঐ মহিলা পর্দার কত গুরুত্ব দিয়েছে।
📄 পশ্চিমাসদের ভর্ৎসনায় প্রভাবিত হবেন না
পর্দার বিধান আল্লাহ তায়ালা কুরআন মজীদে অবতীর্ণ করেছেন এবং হুজুর (স) হাদীস শরীফে উহার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর রাসূল (স)-এর সম্মানিতা স্ত্রীগণ ও মহিলা সাহাবীগণ এর উপর আমল করে দেখিয়েছেন। এখন পশ্চিমারা এই অপপ্রচার শুরু করেছে যে, মুসলমানেরা নারীদের সঙ্গে বড় নির্যাতনমূলক আচরণ করেছে। তাদেরকে ঘরের মধ্যে বন্দী করে দিয়েছে, তাদের চেহারার উপর ঘোমটা টেনে দিয়েছে এবং তাদেরকে কার্টুন বানিয়েছে। এখন কি আমরা পশ্চিমাদের এই বিদ্রূপ ও অপপ্রচারের ফলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (স)-এর বিধান ত্যাগ করব? স্মরণ রাখুন! আমাদের অন্তরে এই ঈমান ও দৃঢ় বিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থেকে যে পদ্ধতি শিখেছি সেটাই সঠিক ও সত্য। কেউ বিদ্রূপ করলে করুক, কেউ ভর্ৎসনা করলে করুক। ইহা তো মুসলমানদের গলার হার। নবী (আ)গণ কি কম ভর্ৎসনা সহ্য করেছেন? যত আম্বিয়া (আ) এই পৃথিবীতে এসেছেন সকলকেই এই বলে ভর্ৎসনা করা হয়েছে যে, এরা অনুন্নত, বর্বর এবং পশ্চাৎগামী। এরা আমাদেরকে জীবনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করতে চায়। এ সমস্ত ভর্ৎসনা নবী (আ.) গণকে করা হয়েছে। এখন আপনারা ঈমানদার হওয়ার কারণে তাই নবী (আ)গণের ওয়ারিস। যেভাবে উত্তরাধিকারী সূত্রে অন্যান্য জিনিস পেয়েছেন এই ভর্ৎসনাও পাবেন। এই উত্তরাধিকারী থেকে ঘাবড়িয়ে কি রাসূলুল্লাহ (স)-এর আদর্শ ছেড়ে দিবেন? যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (স)-এর উপর ঈমান থাকে তাহলে এ সমস্ত ভর্ৎসনা শোনার জন্য কোমর শক্ত করে তৈরী থাকতে হবে।
📄 তারপরও তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক থাকবেন
ধরে নিন এই সমস্ত ভর্ৎসার ফলে যদি তাদের কথা মত চলেন তবুও তাদের দৃষ্টিতে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক থাকবেন। তারা বলে নারীদেরকে ঘরে থাকতে দিওনা, পর্দা করাইওনা। এখন আপনি তাদের কথামত চললেন। নারীদেরকে ঘর থেকে বের করে দিলেন, তাদের পর্দা ফেলে দিলেন, ওড়নাও ফেলে দিলেন সবকিছু করলেন কিন্তু তারপরও কি তারা মনে করবে, আপনি তাদের লোক ? তারা কি আপনাকে সব অধিকার দিবে? দিয়েছে আপনাকে কি পূর্ণ সম্মান দিবে? কখনই না। বরং এখনও আপনি পশ্চাৎগামী ও বর্বর এবং এখনও যদি আপনার নাম আসে ভর্ৎসনার সঙ্গেই আসবে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাদের সমস্ত কথা মেনে নেয়া সত্ত্বেও আপনি তাদের দৃষ্টিতে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক থাকবেন।
📄 কাল আমরা তাদের প্রতি বিদ্রূপ করব
কিন্তু এর বিপরীত যদি আপনি একবার এ সমস্ত ভর্ৎসনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন এবং এটা মনে করেন যে, তারাতো ভর্ৎসনা করবেই, মন্দ বলবেই। কিন্তু আমাকে তো মুহাম্মদ (স)-এর পথে চলতে হবে, রাসূল (স)-এর সম্মানিত স্ত্রীগণের পথে চলতে হবে। তারা হাজার বার ভর্ৎসনা করুক, বিদ্রূপ করুক, আমাদের প্রতি হাসুক, কিন্তু একদিন আসবে আমরা তাদের প্রতি হাসব। সুতরাং কুরআন মজীদে ইরশাদ হচ্ছে-
فَا الْيَوْمَ الَّذِينَ آمَنُوْا مِنَ الْكُفَّارِ يَضْحَكُوْنَ عَلَى الْأَرَائِكَ يَنْظُرْوْنَ (সূরা মুতাফফিফীন, আয়াত-৩৪-৩৫) -
কাফেররা পৃথিবীতে মুসলমানদের সঙ্গে এ রকম আচরণ করেছে যে, তারা মুসলমানদেরকে দেখে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, যখন কোন মুসলমান তাদের নিকট দিয়ে যেত তারা একে-অপরকে ইশারা করত, দেখ মুসলমান যাচ্ছে। কিন্তু আখেরাতে মুসলমানেরা কাফেরদের প্রতি হাসবে এবং গালিচার উপর বসে তাদের দিকে তাকাবে। এই দুনিয়ার জীবন কয় দিনের? কাফেররা কতদিন ঠাট্টা-বিদ্রূপ করবে। যেদিন চোখ বন্ধ হয়ে যাবে সেদিন জানা যাবে, যারা বিদ্রূপ করত তাদের পরিণতি কি হয়েছে। অতএব মুক্তির একমাত্র পথ হল কাফেররা যতই ঠাট্টা-বিদ্রূপ আর ভর্ৎসনা করুক তাদের এসব কিছুতে ভীত হওয়ার পরিবর্তে রাসূল (স)-এর আদর্শ মজবুত করে ধরা।