📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 তাঁরা পবিত্র মহিলা ছিলেন

📄 তাঁরা পবিত্র মহিলা ছিলেন


তাছাড়া পর্দার উদ্দেশ্য এই যে, সমাজের মধ্যে পর্দাহীনতার ফলে যে ফেৎনা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে তা বন্ধ করা। এখন প্রশ্ন হল, ফেৎনা কি শুধুমাত্র রাসূল (স)-এর স্ত্রীগণের বের হওয়ার দ্বারা সৃষ্টি হবে? (নাউযুবিল্লাহ) তাঁরা এমন পবিত্র রমনী যে, পৃথিবীর বুকে তাদের মত পবিত্র নারী জন্ম নেয়নি। তাদের দ্বারাই কি ফেৎনার আশংকা ছিল? অন্যান্য মহিলাদের বের হওয়ার দ্বারা কি ফেৎনার আশংকা নেই? যখন রাসূল (স) এর স্ত্রীগণকে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তোমরা পর্দার সাথে বের হও, তো অন্যান্য নারীদেরকে আরো বেশী করে এই নির্দেশ দেয়ার কথা। এই জন্য যে, তাদের দ্বারা ফেৎনার আশংকা বেশী ।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 পর্দার বিধান সমস্ত নারীর জন্য

📄 পর্দার বিধান সমস্ত নারীর জন্য


এছাড়া অন্য এক আয়াতে সমস্ত মুসলিম উম্মাহকে সম্বোধন করা হয়েছে। এরশাদ হচ্ছে -
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ ) সূরা আহযাব : ৫৯( يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَا بِيْبِهِنَّ
অর্থাৎ হে নবী নিজের স্ত্রীগণকে, কন্যাদেরকে এবং সমস্ত মোমেনদের নারীদেরকে বলে দিন, তারা যেন তাদের চেহারার উপর চাদর ঝুলিয়ে দেয়।
এর চেয়ে অধিক পরিষ্কার এবং স্পষ্ট নির্দেশ আর হতে পারেনা। جَلَابِيبُ শব্দটি جلْبَابٌ -এর বহুবচন। “জিলবাব” ঐ চাদরকে বলা হয় যা নারীরা এভাবে পরিধান করত, মাথা থেকে পা পর্যন্ত তার সম্পূর্ণ শরীর যাতে ঢাকা থাকত। এছাড়া কুরআন মজীদ শুধু মাত্র চাদর পরার নির্দেশ দেয়নি, বরং "يدنين" শব্দ যুক্ত করেছে, যার অর্থ উক্ত চাদর সম্মুখ ভাগে ঝুলিয়ে দাও। যাতে চেহারাও খোলা না থাকে এবং ঐ চাদরে ঢেকে যায়। এর চেয়ে অধিক স্পষ্ট বিধান আর কি হতে পারে?

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 ইহরাম অবস্থায় পর্দার নিয়ম

📄 ইহরাম অবস্থায় পর্দার নিয়ম


আপনাদের জানা আছে যে, হজ্বের সময় ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য চেহারায় কাপড় লাগানো জায়েজ নেই। पुरुष মাথা ঢাকতে পারে না, আর নারী চেহারা ঢাকতে পারে না। যখন হজ্বের সময় হল এবং হুজুর (স) সম্মানিতা স্ত্রীগণকে হজ্ব করানোর জন্য সঙ্গে নিয়ে গেলেন, তখন এই সমস্যা দেখা দিল যে, এক দিকে পর্দার হুকুম, অপরদিকে এই হুকুম যে, ইহরাম অবস্থায় মুখে কাপড় লাগানো যাবেনা। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, "যখন আমরা হজ্বের সফরে উটের পিঠে বসে যাচ্ছিলাম, তখন পথিমধ্যে সামনে কোন বেগানা পুরুষ না থাকলে আমাদের ঘোমটা উঠিয়ে রাখতাম, আমরা আমাদের মাথায় একটি কাঠ লাগিয়ে রেখে ছিলাম, যখন কোন যাত্রীদল অথবা বেগানা পুরুষ সামনে দেখা যেত তখন আমরা ঐ কাঠের উপর ঘোমটা ফেলে দিতাম। যাতে ঘোমটা চেহারায় না লাগে আবার সামনে যে পুরুষ আসছে তার দৃষ্টিও না পড়ে।” (আবূ দাউদ শরীফ, কিতাবুল হজ্ব, হাদীস নং-১৮৩৩) এই বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায় যে, রাসূল (স)-এর সম্মানিতা স্ত্রীগণ ইহরাম অবস্থায়ও পর্দা ছাড়েননি।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 এক মহিলার পর্দা পালন

📄 এক মহিলার পর্দা পালন


আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে, এক মহিলার পুত্র হুজুর (স)-এর সঙ্গে এক যুদ্ধে গিয়েছিল। যুদ্ধের পর সমস্ত মুসলমান ফিরে আসল কিন্তু তার পুত্র ফিরে আসল না। এমতাবস্থায় স্পষ্ট যে, ঐ মহিলা কি পরিমাণ অস্থির হতে পারে। সে এই অস্থির অবস্থায় হুজুর (স)-এর দরবারে তার পুত্রের অবস্থা জানার জন্য দৌড়ে গেল এবং হুজুর (স)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ (স)! আমার ছেলের কি সংবাদ ? সাহাবায়ে কেরাম উত্তর দিলেন আপনার পুত্র আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে গেছেন। পুত্রের মৃত্যু সংবাদ তার উপর বজ্রপাত হল। এ অবস্থায় এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করল হে মহিলা! আপনি এই অস্থির অবস্থায় বাড়ী থেকে বের হয়ে হুজুর (স)-এর দরবারে আসলেন এই অবস্থায়ও আপনি চেহারার উপর ঘোমটা টেনে দিয়েছেন? এমতাবস্থায়ও আপনি ঘোমটা দিতে ভুলেন নি? ঐ মহিলা উত্তর দিল-
إِنْ أَرْزَأَ ابْنِي لَمْ أَرْزَأَ حَيَائِي
“আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু আমার লজ্জার তো মৃত্যু হয়নি, আমার ছেলে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে, কিন্তু আমার লজ্জা তো চলে যায়নি।” (আবূ দাউদ, কিতাবুল জিহাদ, হাদীস নং-২৪৮৮) চিন্তা করে দেখুন! এ অবস্থায়ও ঐ মহিলা পর্দার কত গুরুত্ব দিয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00