📄 আয়েশা (রা)-এরও কি দাওয়াত ?
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, একবার এক সাহাবী হুজুর (স)- এর দারবারে হাজির হলেন এবং বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ (স)! আমি আপনাকে দাওয়াত করতে চাই। হুজুর (স) জিজ্ঞাসা করলেন, আয়েশা (রা) এরও কি আমার সঙ্গে দাওয়াত? যেহেতু সরলতার জামানা ছিল এবং ঐ সময় ঐ সাহাবীর হযরত আয়েশা (রা)কে দাওয়াত করার ইচ্ছা ছিল না এজন্য তিনি স্পষ্ট বলে দিলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (স) আমি শুধু আপনাকে দাওয়াত করতে চাই। হুজুর (স)ও স্পষ্ট উত্তর দিলেন, যদি আয়েশা (রা)এর দাওয়াত না থাকে তাহলে আমিও যাবনা। কিছু সময় পরে ঐ সাহাবী পুনরায় হাজির হয়ে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ (স) আমি আপনাকে দাওয়াত করতে চাই, হুজুর (স) আবার ঐ প্রশ্ন করলেন আয়েশা (রা)এরও কি আমার সঙ্গে দাওয়াত আছে? তিনি ঐ উত্তর দিলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (স) শুধু আপনার দাওয়াত! হুজুর (স) পুনরায় অস্বীকৃতি জানালেন তাহলে আমিও যাবনা। কিছু সময় পর তৃতীয় বার এসে আবার দাওয়াত দিলেন এবং বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ (স) আমার অন্তর চায়, আপনি আমার দাওয়াত কবুল করুন। হুজুর (স) পুনরায় ঐ প্রশ্ন করলেন, আয়েশা (রা)এরও কি আমার সঙ্গে দাওয়াত আছে? এবার তিনি বললেন হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ (স) হযরত আয়েশা (রা) এরও আপনার সঙ্গে দাওয়াত। হুজুর (স) বললেন এখন আমি দাওয়াত কবুল করলাম।
📄 হুজুর (স)-এর পীড়াপীড়ির কারণ
হাদীস শরীফে এর কারণ সম্পর্কে কোন স্পষ্ট বর্ণনা নেই। তবে কোন কোন ওলামা লিখেছেন, সাধারণত হুজুর (স)-এর এই অভ্যাস ছিল না যে, যখন কেউ হুজুর (স)কে দাওয়াত করত তখন তিনি হযরত আয়েশা (রা)কেও সঙ্গে যাওয়ার শর্ত জুড়ে দিতেন। বরং হুজুর (স)-এর অভ্যাস এই ছিল যে, যখন কোন ব্যক্তি হুজুর (স)কে দাওয়াত করত তখন হুজুর (স) তা কবুল করতেন। কিন্তু এই ঘটনায় এ রকম মনে হচ্ছে যে, সাহাবী হুজুর (স)কে দাওয়াত করেছিলেন সম্ভবত তাঁর অন্তরে হযরত আয়েশা (রা)র প্রতি অসন্তোষ ভাব ছিল এবং হুজুর (স) ঐ অসন্তোষকে দূরীভূত করতে চেয়েছিলেন, এজন্য হুজুর (স) বারবার হযরত আয়েশা (রা) কে সঙ্গে নেয়ার শর্ত লাগিয়ে ছিলেন। অথবা হুজুর (স) হযরত আয়েশা (রা)কে বাইরে বেড়াতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
📄 স্ত্রীর বৈধ চিত্ত বিনোদনেরও প্রয়োজন আছে
কারণ এই দাওয়াত মদীনা মনোয়ারায় ছিল না বরং মদীনার বাইরে কিছু দূরে এক মহল্লায় এই দাওয়াত ছিল। হুজুর (স) হযরত আয়েশা (রা)কে সঙ্গে নিয়ে চলতে ছিলেন, পথিমধ্যে এক খোলা মাঠ পড়ল সেখানে অন্য কেউ ছিল না। হুজুর (স) হযরত আয়েশা (রা) এর সঙ্গে দৌড় শুরু করলেন।¹ স্পষ্টত দৌড়ানো একটা বৈধ চিত্ত বিনোদন। হুজুর (স) এই বৈধ চিত্ত বিনোদনের আয়োজন করলেন, এজন্য যে একজন নারীরও তা প্রয়োজন আছে। এ ধরনের বৈধ চিত্ত বিনোদনের অনুমতি আছে। এই শর্তে যে তা বৈধ সীমার মধ্যে হবে, পর্দাহীনভাবে হবে না এবং বেগানা পুরুষের সাথে হবে না।
টিকাঃ
১. আবূ দাউদ শরীফ, কিতাবুল জিহাদ, হাদীস নং-২৫৭৮
📄 সাজসজ্জা করে বের হওয়া জায়েজ নেই
শরীয়ত প্রয়োজনে নারীদেরকে ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু বাইরে যাওয়ার জন্য এই শর্ত জুড়ে দিয়েছে যে, পর্দার সাথে বের হতে হবে। এবং প্রকাশ্যভাবে শরীর প্রর্দশন করে বের হতে পারবেনা। যেমন কুরআন কারীমে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন-
وَلاَ تَبَرَّحْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
অর্থাৎ, “যদি কখনও বের হওয়ার প্রয়োজন হয় তবে সাজসজ্জা করে শরীর প্রদর্শন করে বের হবেনা যেমন করে জাহিলিয়াতের যুগে নারীরা বের হত।” এরকম সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বের হবে না যাতে মানুষের লক্ষ্য সেদিকে নিবদ্ধ হয়। বরং পরিপূর্ণ পর্দা সহকারে বের হবে এবং শরীর ঢিলাঢোলা পোশাকে ঢাকা থাকবে। বর্তমান জামানায় তো বোরকার প্রচলন হয়েছে, হুজুর (স)-এর জামানায় চাদর ব্যবহৃত হত, এবং ঐ চাদরে মাথা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীর ঢাকা থাকত। মোটকথা এই, প্রয়োজনের সময় নারীদেরকে ঘর থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে, কিন্তু নারীর বের হওয়ার দ্বারা ফেৎনার যে আশংকা রয়েছে তা পর্দার মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাবে এজন্য পর্দার বিধান দেয়া হয়েছে।