📄 নিজের পরিবেশ নিজেই তৈরী করুন
আমার পিতা হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ) বড় কাজের কথা বলতেন, সেটা স্মরণ রাখার যোগ্য। তিনি বলতেন, আপনারা এ কথা বলে থাকেন যে, পরিবেশ খারাপ, সমাজ খারাপ, আরে ভাই আপনার পরিবেশ আপনি তৈরী করুন। আপনার সম্পর্ক এরকম লোকদের সঙ্গে হওয়া উচিত যারা দ্বীনের ব্যাপারে আপনার সঙ্গে একমত হবে। যারা দ্বীনের ব্যাপারে আপনার সঙ্গে একমত না তাদের পথ আলাদা এবং আপনার পথ আলাদা। অতএব নিজের এমন একটা বন্ধু মহল গড়ে তুলুন যারা পরস্পরের সঙ্গে দ্বীনের ব্যাপারে সহযোগিতা করার জন্য তৈরী থাকে। এবং এমন লোকদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুন যারা আপনার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
📄 স্বাধীনভাবে মেলামেশার পরিণাম
মোটকথা নারীর ঘর থেকে বের হওয়ার কারণে একটা ধ্বংস তো এই হয়েছে যে, পারিবারিক সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গেছে। আরেকটি এই যে, আল্লাহ তায়ালা পুরুষের অন্তরে নারীর প্রতি আকর্ষণ রেখেছেন এবং নারীর অন্তরে পুরুষের প্রতি আকর্ষণ রেখেছেন। এটা সৃষ্টিগত ব্যাপার। আপনি যতই এটাকে গোপন করুন কিন্তু এটা বাস্তব, একে মিথ্যা বলা সম্ভব না। যখন উভয়ের মাঝে অবাধ মেলামেশা হবে এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা হবে তখন ঐ আকর্ষণ যা মানুষের মাঝে সৃষ্টিগতভাবে বিদ্যমান তা কোন এক সময় উত্তেজনা সৃষ্টি করে গোনাহর প্রতি উৎসাহিত করবে এবং নিশ্চিত গোনাহর প্রতি অগ্রসর হবে। আপনি এই সমাজে বসবাস করে স্বচক্ষে দেখছেন, এখানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার ফলে কি হচ্ছে। পাশ্চাত্যে বর্তমানে কোন পুরুষ অথবা নারী যদি অবৈধ পন্থায় যৌন চাহিদা পূরণ করতে চায় তার জন্য দরজা খোলা, কোন আইনগত বাধা তার নেই, কোন সামাজিক বাধা তার নেই। তা সত্ত্বেও এই দেশে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা সমস্ত পৃথিবী থেকে বেশী হচ্ছে। গতকালের পত্রিকায়ই আমি পড়লাম, এই দেশে প্রতি ৪৬ সেকেন্ডে একটা জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এখন বলুন যে দেশে অবৈধ পন্থায় সন্তুষ্টি চিত্তে যৌন চাহিদা পূরণ করার পথ খোলা তা সত্ত্বেও জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা এত অধিক পরিমাণে হওয়ার কারণ কী?
📄 ধর্ষণের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণ
এর কারণ এই যে, মানুষ তার সৃষ্টিগত সীমা অতিক্রম করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ সৃষ্টিগত সীমার মধ্যে থেকে যৌন চাহিদা মেটানোর পন্থা অবলম্বন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ যৌন চাহিদা পূরণের মাধ্যমে শান্তি পাবে। কিন্তু যখন সে সৃষ্টিগত সীমা অতিক্রম করবে তখন যৌন ক্ষুধা এমন ক্ষুধায় পরিণত হবে যা কখনও মিটবে না। তারপর সে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখার উপর সন্তুষ্ট হবে না বরং সে আরও পাবার প্রত্যাশী থাকবে। অতএব নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার ফল এটাই হবে যা আপনি স্বচক্ষে দেখছেন, আর এসব কিছু আল্লাহ তায়ালার এই নির্দেশের বিদ্রোহের ফল যা তিনি এই আয়াতে দিয়েছেন "وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ " 'তোমরা আপন ঘরে স্থির থাক।' আজ মানুষ এই নির্দেশ অমান্য করে অন্য পথে চলছে।
📄 প্রয়োজনের সময় বাইরে যাওয়ার অনুমতি
একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, নারীরাওতো মানুষ তাদেরওতো বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, তাদের অন্তরেও বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা জাগতে পারে, যাতে তারা নিজেদের প্রিয়জন এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে। তা ছাড়া কোন কোন সময় নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটানোর জন্যও বাইরে যাওয়ার দরকার হয়, আবার কখনও বৈধ চিত্ত বিনোদনেরও প্রয়োজন হয়। অতএব নারীর এসব কাজের জন্য ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি থাকা উচিত।
খুব ভাল করে বুঝে নিন, নারীদের ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশের অর্থ এই নয় যে, ঘরে তালা ঝুলিয়ে তাদেরকে ঘরের মধ্যে বন্দী করে দেয়া হবে। বরং এর অর্থ এই যে, প্রয়োজনের সময় সে ঘরের বাইরে যেতে পারবে। আল্লাহ তায়ালা নারীদের উপর কোন সময়ই রুজি উপার্জনের দায়িত্ব দেননি। বিয়ের পূর্বে তার পূর্ণ দায়িত্ব পিতার উপর আর বিয়ের পরে তার পূর্ণ দায়িত্ব স্বামীর উপর। তবে যে নারীর পিতা এবং স্বামী কেউ নেই এবং তার জীবিকা নির্বাহের অন্য কোন ব্যবস্থাও নেই তখন স্বাভাবিকভাবেই তাকে জীবিকা নির্বাহের জন্য বাইরে যেতে হবে, এই অবস্থায় বাইরে যাওয়ার অনুমতি আছে। এবং বৈধ চিত্ত বিনোদনের জন্যও ঘর থেকে বের হবার অনুমতি আছে। হুজুর (স) কোন কোন সময় হযরত আয়েশা (রা) কে নিজের সঙ্গে বাইরে নিয়ে যেতেন।