📄 এ রকম অনুষ্ঠান বয়কট কর
আমাদের বুযুর্গরা বয়কটের নীতি শিক্ষা দেননি। কিন্তু স্মরণ রাখুন এমন এক সময় এসে যায় যখন এই সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, হয় আমাদের কথা শুন না হয় এরকম অনুষ্ঠানে আমি অংশগ্রহণ করব না। যদি বিয়ের অনুষ্ঠানে এ রকম সম্মিলিত জমায়েত হয় আর আপনি যদি এই দাওয়াতে না যান তাহলে অভিযোগের সম্মুখীন হবেন, আপনি কেন এই মিশ্রিত অনুষ্ঠানে যাননি? একটু তো চিন্তা করুন, তাদের অভিযোগের খেয়ালতো আপনার আছে কিন্তু আপনার অভিযোগের পরওয়া তাদের নেই। আপনি পর্দানশীন মহিলা, তারা আপনাকে দাওয়াত করেছে, তা হলে তারা আপনার পর্দার ব্যবস্থা কেন করেননি? যখন তারা আপনার এতটুকু খেয়াল করল না তখন তাদেরকে খেয়াল করা আপনার উপর ওয়াজিব নয়। তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বলে দিন আমরা এ রকম অনুষ্ঠানে শরীক হব না। যতক্ষণ পর্যন্ত কিছু মহিলা দৃঢ়তার সঙ্গে এ রকম সিদ্ধান্ত না নেবে, বিশ্বাস করুন ততক্ষণ পর্যন্ত এই বন্যা বন্ধ হবে না। কতদিন পর্যন্ত হাতিয়ার সমর্পণ করতে থাকবেন? আর কতদিন পর্যন্ত এই সয়লাব ছড়াতে সাহায্য করবেন?
📄 কতদিন পর্যন্ত দুনিয়াদারদের খেয়াল করবেন?
আমাদের বুযুর্গ, হযরত মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস সাহেব কান্ধালবী (রহ.)-কে (আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা দান করুন, আমীন!) এই জামানায় আল্লাহ তায়ালা জান্নাতী বুযুর্গ পয়দা করেছিলেন। তাঁর বাড়ীর মেহমান খানায় মেঝের উপর বসার ব্যবস্থা ছিল। বাড়ীর মহিলাদের অন্তরে এই খেয়াল হল, এখন যুগ বদলে গেছে মেঝের উপর বসার যুগ নেই। এ জন্য তারা ইদ্রিস সাহেবকে বলল, মেঝের উপর বসার ব্যবস্থা বাদ দিয়ে সোফার ব্যবস্থা করুন। হযরত বললেন, আমার সোফার কোন শখ নেই, তাছাড়া সোফায় বসে আমি আরামও পাইনে, আমিতো মেঝের উপর বসে আরাম পাই। আমি মেঝের উপর বসেই কাজ করব। মহিলারা বলল, আপনিতো মেঝেই বসে আরাম পান কিন্তু ঐ সমস্ত দুনিয়াদারদের প্রতি একটু লক্ষ করুন যারা আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসে। এ কথার পরে হযরত কি আশ্চর্য উত্তর দিলেন, বললেন বেগম! দুনিয়াদারদের প্রতি তো আমি লক্ষ করব কিন্তু তুমি এটা বল যে, তারা আমার প্রতি কি খেয়াল করেছে? আমার প্রতি লক্ষ করে কি কেউ তাদের জীবন যাত্রার মধ্যে অথবা কোন কাজে পরিবর্তন এনেছে? যখন তারা আমার প্রতি খেয়াল করেনি তাহলে আমি কেন তাদের প্রতি খেয়াল করব?
📄 দুনিয়াদারদের অসন্তুষ্টির পরোয়া করবেন না
যার অন্তরে আপনার পর্দার সম্মান নেই, যার অন্তরে আপনার পর্দার গুরুত্ব ও মর্যাদা নেই, সে যদি আপনার খেয়াল না করে তাহলে আপনি কেন তার খেয়াল করবেন? অথচ যদি একজন পর্দাহীন মহিলা মহিলাদের পৃথক ব্যবস্থাপনার শামিল হয় এবং পুরুষের সামনে না যায়, এতে তার কোন ক্ষতি ও ধ্বংস নেই। কিন্তু যদি কোন পর্দানশীন মহিলা পুরুষের সামনে যায় তাহলে তার উপর তো কেয়ামত কায়েম হয়ে যাবে।
যদি পর্দার ব্যবস্থা না হওয়া সত্ত্বেও আপনি এ রকম অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র এ জন্য যান যে, তারা যেন অসন্তুষ্ট না হয়, তারা যেন মনে কিছু না করে। তাহলে আপনিও তো কোন সময় অসন্তুষ্ট হতে পারেন, আমাদেরকে এ রকম অনুষ্ঠানে কেন দাওয়াত দেয়া হল? আমাদের জন্য এ রকম দাওয়াতের আয়োজন কেন করা হল ?
📄 ঐ সকল পুরুষদেরকে বের করে দিন
যে সমস্ত অনুষ্ঠানে মহিলাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকে সেখানেও এ রকম হয় যে, মহিলাদের অংশে পুরুষদের তুফান চলে, পুরুষরা আসছে, যাচ্ছে, হাসি-ঠাট্টা চলছে, মন দেয়া নেয়া হচ্ছে, ভিডিও ফিল্ম তৈরী হচ্ছে, এসব কিছু হচ্ছে দৃশ্যত পৃথক ব্যবস্থায়। এ রকম সময় মহিলারা একথা কেন বলে না যে, পুরুষ এখানে কেন আসছে? আমরা পর্দানশীন মহিলা, অতএব ঐসব পুরুষদেরকে বের করে দিন।