📄 এই অশান্তি কেন হবে না ?
আবার ঐ সমস্ত অনুষ্ঠানের ভিডিও ফিল্ম তৈরী হচ্ছে। যে ব্যক্তি ঐ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেনি, ঐ সব দৃশ্যের আনন্দ উপভোগ করতে পারিনি, যাতে করে সে ঐ দৃশ্য থেকে আনন্দ উপভোগ করতে পারে। এত সব কিছু হচ্ছে তার পরেও আমরা দ্বীনদার, নামাজী, পরহেজগার। এত কিছু হওয়া সত্ত্বেও আমাদের কানে পানি যাচ্ছেনা, কপালে ভাঁজ পড়ছেনা, এবং উহা বন্ধ করার কোন খেয়াল অন্তরে জাগ্রত হচ্ছে না। বলুন! তারপরও কি সমাজে বিশৃঙ্খলা ঘটবেনা। অশান্তি-অস্থিরতা সৃষ্টি হবে না? আজ আমাদের প্রত্যেকের জান-মাল, ইজ্জত-সম্মান বিপদের সম্মুখীন। এসব কেন হবে না?
এটাতো আল্লাহ তায়ালার অশেষ অনুগ্রহ এবং হুজুর (স)-এর বরকত যে, আমাদের উপর এখনও এরকম আযাব নাজিল হচ্ছেনা যাতে সবাই ধ্বংস হয়ে যায়। তা না হলে আমাদের আমলতো এ রকম যে, আযাব দিয়ে আমাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হত।
📄 আমরা আমাদের সন্তানদেরকে জাহান্নামের গর্তে ঠেলে দিচ্ছি
এসব কিছু বাড়ীর বড়দের অবহেলা এবং উদাসীনতার ফল যে, তাদের অন্তর থেকে অনুভূতি শেষ হয়ে গেছে। বলার কেউ নেই, বাধা দেয়ার কেউ নেই, সন্তান জাহান্নামের দিকে দৌড়ে যাচ্ছে কেউ তার হাত ধরে বাধা দিচ্ছেনা। কোন পিতার অন্তরে এই খেয়াল আসেনা, আমরা আমাদের সন্তানকে জাহান্নামের গর্তে ঠেলে দিচ্ছি। রাত-দিন সব কিছু চোখের সামনে হচ্ছে। যদি কেউ তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করে তাহলে তারা বলে, আরে ভাই! এরা তো যুবক মানুষ করতে দাও, তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করো না। এভাবে সন্তানদের সম্মুখে হাতিয়ার সমর্পণ করার ফলে অবস্থা এই পর্যন্ত পৌঁছেছে।
📄 পানি এখনও মাথার উপর দিয়ে বয়ে যায়নি
এখনও সময় চলে যায়নি। এখনও যদি বাড়ীর কর্তা এবং অভিভাবক দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয় যে, এ সমস্ত কাজ হতে দেবনা। আমাদের বাড়ীতে নারী-পুরুষের সম্মিলিত অনুষ্ঠান হতে দেব না। আমাদের বাড়ীতে মহিলাদের পর্দাহীন অবস্থায় কোন অনুষ্ঠান হতে দেব না, ভিডিও ফিল্ম হতে দেবনা। যদি বাড়ীর কর্তা এ রকম সংকল্প বদ্ধ হয় তাহলে এখনও এই বন্যার মুখে বাঁধ দেওয়া সম্ভব। এমন হয়নি যে, এই বন্যা ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অতএব ঐ সময়কে ভয় কর যখন কোন হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি এই অবস্থা পরিবর্তন করার চেষ্টা করবে কিন্তু সম্ভব হবে না। কমপক্ষে ঐ সমস্ত পরিবার যারা নিজেদেরকে দ্বীনদার বলে থাকে, যারা দ্বীন ইসলামের নাম উচ্চারণকারী এবং বুযুর্গদের সঙ্গে সম্পর্কস্থাপনকারী। তারা তো কমপক্ষে এরূপ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করবে যে, আমরা এ রকম সম্মিলিত জামায়েত হতে দেব না।
📄 এ রকম অনুষ্ঠান বয়কট কর
আমাদের বুযুর্গরা বয়কটের নীতি শিক্ষা দেননি। কিন্তু স্মরণ রাখুন এমন এক সময় এসে যায় যখন এই সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, হয় আমাদের কথা শুন না হয় এরকম অনুষ্ঠানে আমি অংশগ্রহণ করব না। যদি বিয়ের অনুষ্ঠানে এ রকম সম্মিলিত জমায়েত হয় আর আপনি যদি এই দাওয়াতে না যান তাহলে অভিযোগের সম্মুখীন হবেন, আপনি কেন এই মিশ্রিত অনুষ্ঠানে যাননি? একটু তো চিন্তা করুন, তাদের অভিযোগের খেয়ালতো আপনার আছে কিন্তু আপনার অভিযোগের পরওয়া তাদের নেই। আপনি পর্দানশীন মহিলা, তারা আপনাকে দাওয়াত করেছে, তা হলে তারা আপনার পর্দার ব্যবস্থা কেন করেননি? যখন তারা আপনার এতটুকু খেয়াল করল না তখন তাদেরকে খেয়াল করা আপনার উপর ওয়াজিব নয়। তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বলে দিন আমরা এ রকম অনুষ্ঠানে শরীক হব না। যতক্ষণ পর্যন্ত কিছু মহিলা দৃঢ়তার সঙ্গে এ রকম সিদ্ধান্ত না নেবে, বিশ্বাস করুন ততক্ষণ পর্যন্ত এই বন্যা বন্ধ হবে না। কতদিন পর্যন্ত হাতিয়ার সমর্পণ করতে থাকবেন? আর কতদিন পর্যন্ত এই সয়লাব ছড়াতে সাহায্য করবেন?