📄 নারী-পুরুষের সম্মিলিত অনুষ্ঠানের বেহায়াপনা
বিয়ে-শাদীর অনুষ্ঠানে বেহায়াপনার যে দৃশ্য ঐ সকল পরিবারেও দৃষ্টি গোচর হচ্ছে যারা নিজেদেরকে দ্বীনদার বলে থাকে। যে সমস্ত পরিবারের পুরুষরা মসজিদে প্রথম কাতারে নামাজ পড়ে তাদের পরিবারের বিয়ে-শাদীর অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখুন কি হচ্ছে। এক সময় এমন ছিল যখন এটা কল্পনাও করা যেত না যে, বিয়ের অনুষ্ঠানে পুরুষ ও মহিলার মিশ্রিত জমায়েت হবে। কিন্তু এখন তো নারী পুরুষের সম্মিলিত দাওয়াতের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। মহিলারা সেজে-গুজে, পরিপাটি হয়ে শোভা বর্ধন করে সুসজ্জিত হয়ে সম্মিলিত দাওয়াতে আসে। না পর্দার কোন চিন্তা আছে, না লজ্জা শরমের কোন খেয়াল আছে।
📄 এই অশান্তি কেন হবে না ?
আবার ঐ সমস্ত অনুষ্ঠানের ভিডিও ফিল্ম তৈরী হচ্ছে। যে ব্যক্তি ঐ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেনি, ঐ সব দৃশ্যের আনন্দ উপভোগ করতে পারিনি, যাতে করে সে ঐ দৃশ্য থেকে আনন্দ উপভোগ করতে পারে। এত সব কিছু হচ্ছে তার পরেও আমরা দ্বীনদার, নামাজী, পরহেজগার। এত কিছু হওয়া সত্ত্বেও আমাদের কানে পানি যাচ্ছেনা, কপালে ভাঁজ পড়ছেনা, এবং উহা বন্ধ করার কোন খেয়াল অন্তরে জাগ্রত হচ্ছে না। বলুন! তারপরও কি সমাজে বিশৃঙ্খলা ঘটবেনা। অশান্তি-অস্থিরতা সৃষ্টি হবে না? আজ আমাদের প্রত্যেকের জান-মাল, ইজ্জত-সম্মান বিপদের সম্মুখীন। এসব কেন হবে না?
এটাতো আল্লাহ তায়ালার অশেষ অনুগ্রহ এবং হুজুর (স)-এর বরকত যে, আমাদের উপর এখনও এরকম আযাব নাজিল হচ্ছেনা যাতে সবাই ধ্বংস হয়ে যায়। তা না হলে আমাদের আমলতো এ রকম যে, আযাব দিয়ে আমাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হত।
📄 আমরা আমাদের সন্তানদেরকে জাহান্নামের গর্তে ঠেলে দিচ্ছি
এসব কিছু বাড়ীর বড়দের অবহেলা এবং উদাসীনতার ফল যে, তাদের অন্তর থেকে অনুভূতি শেষ হয়ে গেছে। বলার কেউ নেই, বাধা দেয়ার কেউ নেই, সন্তান জাহান্নামের দিকে দৌড়ে যাচ্ছে কেউ তার হাত ধরে বাধা দিচ্ছেনা। কোন পিতার অন্তরে এই খেয়াল আসেনা, আমরা আমাদের সন্তানকে জাহান্নামের গর্তে ঠেলে দিচ্ছি। রাত-দিন সব কিছু চোখের সামনে হচ্ছে। যদি কেউ তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করে তাহলে তারা বলে, আরে ভাই! এরা তো যুবক মানুষ করতে দাও, তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করো না। এভাবে সন্তানদের সম্মুখে হাতিয়ার সমর্পণ করার ফলে অবস্থা এই পর্যন্ত পৌঁছেছে।
📄 পানি এখনও মাথার উপর দিয়ে বয়ে যায়নি
এখনও সময় চলে যায়নি। এখনও যদি বাড়ীর কর্তা এবং অভিভাবক দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয় যে, এ সমস্ত কাজ হতে দেবনা। আমাদের বাড়ীতে নারী-পুরুষের সম্মিলিত অনুষ্ঠান হতে দেব না। আমাদের বাড়ীতে মহিলাদের পর্দাহীন অবস্থায় কোন অনুষ্ঠান হতে দেব না, ভিডিও ফিল্ম হতে দেবনা। যদি বাড়ীর কর্তা এ রকম সংকল্প বদ্ধ হয় তাহলে এখনও এই বন্যার মুখে বাঁধ দেওয়া সম্ভব। এমন হয়নি যে, এই বন্যা ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অতএব ঐ সময়কে ভয় কর যখন কোন হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি এই অবস্থা পরিবর্তন করার চেষ্টা করবে কিন্তু সম্ভব হবে না। কমপক্ষে ঐ সমস্ত পরিবার যারা নিজেদেরকে দ্বীনদার বলে থাকে, যারা দ্বীন ইসলামের নাম উচ্চারণকারী এবং বুযুর্গদের সঙ্গে সম্পর্কস্থাপনকারী। তারা তো কমপক্ষে এরূপ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করবে যে, আমরা এ রকম সম্মিলিত জামায়েত হতে দেব না।