📄 অর্থ-সম্পদ উপার্জনের উদ্দেশ্য কী?
আল-কুরআনের وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আমি নারীকে এজন্য সৃষ্টি করেছি যে, সে তার পারিবারিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে এবং নিজ ঘরের কাজ সম্পন্ন করবে। এর তো কোন অর্থ হতে পারে না যে, ঘরের পর ঘর উজার হয়ে যাবে এবং সকল প্রকার মনোযোগ বাইরের কাজে নিবদ্ধ থাকবে। বাইরে থেকে মানুষ যা কিছু উপার্জন করে তাতো এ জন্য করে যে সে ঘরে এসে শান্তি পাবে। কিন্তু যদি ঘরের শান্তি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে মানুষ যতই উপার্জন করুক উহা অনর্থক, তার কোন ফায়দা নেই।
📄 সন্তানের মায়ের মমতার প্রয়োজন
এ জন্য বাড়ীর ব্যবস্থাপনাকে সুসংহত করা সন্তানের সঠিক লালন-পালন করা এবং সন্তানকে সঠিক চিন্তাধারার উপর গড়ে তোলার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা নারীর কাঁধে অর্পণ করেছেন। এ কারণেই সন্তান পিতা-মাতা উভয়ের হওয়া সত্ত্বেও যত ভালবাসা এবং যত মমতা আল্লাহ তায়ালা মায়ের অন্তরে রেখেছেন পিতার অন্তরে তত রাখেননি। এবং মায়ের প্রতি সন্তানের যত ভালবাসা হয় পিতার প্রতি তত হয়না। আর সন্তান যখন কোন বিপদের সম্মুখীন হয় সে যেখানেই থাকুক না কেন সাথে সাথে মাকে ডাকে, বাপকে ডাকেনা। এ জন্য যে, সে জানে আমার মা আমার বিপদ দূর করতে পারে আর এই ভালবাসার সম্পর্কের সঙ্গে সন্তান লালিতপালিত হয় আর যে কাজ মা আঞ্জাম দিতে পারে পিতা তা পারে না। যদি কোন পিতা চায় যে, আমি মায়ের সাহায্য ব্যতীত নিজে সন্তানের লালন-পালন করব এটা পিতার পক্ষে সম্ভব নয়, পরীক্ষা করে দেখুন। আজকাল লোকেরা নার্সারীতে সন্তানের লালন-পালন করে, স্মরণ রাখুন যে, কোন নার্সারী সন্তানকে মায়ের মমতা দিতে পারেনা। সন্তানের জন্য কোন মুরগী ফার্মের মত সংস্থার প্রয়োজন নেই বরং সন্তানের মায়ের মমতা এবং স্নেহের প্রয়োজন আর মায়ের মমতা ও স্নেহ পাওয়ার জন্য নারীর ঘরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আঞ্জাম দেয়া আবশ্যক। যদি কোন নারী ঘরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন না করে তাহলে সে সৃষ্টির সঙ্গে বিদ্রোহ করে, আর সৃষ্টির সঙ্গে বিদ্রোহ করার ফলে যে পরিণতি আজ ভোগ করতে হচ্ছে তা সকলেই দেখতে পাচ্ছেন।
📄 বড় বড় কার্য সমাধার ভিত্তি হল ঘর
কুরআন মজিদ চৌদ্দশত বছর পূর্বেই ঘোষণা করেছে وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ অর্থাৎ তোমরা নিজেদের ঘরে স্থির থাক।
এই ঘরই তোমাদের দুনিয়া ও আখেরাত, এই ঘরই তোমাদের জীবন। পুরুষ ঘর থেকে বের হয়ে বড় বড় কাজ আঞ্জাম দিচ্ছে, অতএব তুমিও ঘরে থেকে বড় বড় কাজ আঞ্জাম দেবে। একটু এ কথা চিন্তা কর, সমস্ত বড় বড় কাজের ভিত্তিই হল ঘর। যদি তোমরা সন্তানকে সঠিকভাবে লালন-পালন কর এবং তাদের অন্তরে ঈমান পয়দা করতে পার, তাদের মধ্যে খোদাভীতি এবং নেক আমল পয়দা করতে পার তাহলে এই বিশ্বাস রাখ যে, পুরুষ বাইরে বের হয়ে যত বড় বড় কার্য সম্পন্ন করছে তাদের সমস্ত কাজের থেকে তোমাদের এই কাজ শ্রেষ্ঠ হবে যে, তোমরা একটি সন্তানের লালন-পালন ও শিক্ষা দ্বীন অনুযায়ী করছ। পাশ্চাত্যের বিপথমুখী প্রোপাগান্ডা এবং পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুসরণ আমাদের সমাজের নারীদের থেকে সন্তানের দ্বীন শিক্ষার চিন্তাকে ধীরে ধীরে খতম করতে শুরু করেছে আর যেসব মহিলা এখনও ঘরে আছে তারাও কখনও কখনও এই চিন্তায় পড়ে যায় যে, বাস্তবিক পক্ষে এসব লোকেরা সঠিক বলছে, আমরা ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দী হয়ে গিয়েছি। আর যেসব মহিলা ঘর থেকে বের হয়েছে সম্ভবত তারা আমাদের থেকে বেশী উন্নতি করেছে। কিন্তু খুব ভাল করে বুঝে নিন, মহিলারা নিজ ঘরে বসে যে খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছে তার কোন বিকল্প নেই। আর যে খেদমত ঘরে বসে আঞ্জাম দেয়া যায় তা ঘর থেকে বের হয়ে বাজারে গিয়ে, দোকানে বসে আঞ্জাম দেয়া যায় না।
📄 শান্তি এবং আরাম পর্দার মধ্যে
নারীগণ যেন এটা মনে না করে যে, পর্দা তাদের জন্য কষ্টের কারণ। কেননা পর্দা নারীর সৃষ্টির মধ্যে গণ্য। আওরত (নারী) শব্দের অর্থই হল গোপন বস্তু। আর পর্দা নারীর স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। যদি প্রকৃতি বিকৃত হয়ে যায় তাহলে তো তার কোন চিকিৎসা নেই। কিন্তু যে শান্তি ও আরাম পর্দার মধ্যে পাওয়া যাবে তা পর্দাহীনতা এবং বেহায়াপনার মধ্যে পাওয়া যাবে না। অতএব পর্দার সংরক্ষণ লজ্জার একটি আবশ্যকীয় অংশ।