📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 এক ইহুদীর দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা

📄 এক ইহুদীর দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা


জনৈক বুযুর্গ একটি ঘটনা লিখেছেন, অতীতকালে এক ইহুদী অনেক বড় সম্পদশালী এবং পুঁজিপতি ছিল। ঐ সময় লোকেরা সম্পদ মাটির নিচে পুঁতে রাখত। ঐ ইহুদী কোষাগারে স্বর্ণ-রৌপ্যের স্তূপ জমা করে রেখেছিল যেমন কারূন সম্পর্কে কুরআনে বর্ণিত আছে, সে অনেক বড় ধন-ভাণ্ডার জমা করেছিল। একবার ঐ ইহুদী গোপনে তার কোষাগার দেখতে গেল। ভিতরে যাওয়ার সময় তার নিযুক্ত প্রহরীকেও বলল না। এটা দেখার জন্য যে, প্রহরী আত্মসাৎ করছে কি না। ঐ কোষাগারের দরজার সিস্টেম এ রকম ছিল, তা ভিতর থেকে বন্ধ হত কিন্তু খোলা যেত না শুধু বাইর থেকেই খোলা যেত। কোষাগারে প্রবেশ করার সময় মালিক ভুলক্রমে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিল এখন আর খোলার কোন উপায় থাকল না। এদিকে প্রহরী দেখল, কোষাগার বন্ধ, তার এটা কল্পনাও ছিল না যে, কোষাগারের মালিক ভিতরে। মালিক ভিতরে গিয়ে কোষাগার পরীক্ষা করতে লাগল। যখন কোষাগার দেখে-শুনে অনুসন্ধান শেষে ফিরে আসার ইচ্ছা করল তখন দেখল, বের হওয়ার কোন উপায় নেই। সে কোষাগারে বন্দী হয়ে গেল। তার ক্ষুধা লাগছে এবং ধন-ভাণ্ডার বিদ্যমান কিন্তু ক্ষুধা নিবারণ করতে পারছেনা। পিপাসা লাগছে, ধন-ভাণ্ডার বিদ্যমান কিন্তু পিপাসা মিটাতে পারছেনা। রাত্রে ঘুম আসছে এবং ধন-ভাণ্ডার বিদ্যমান কিন্তু বিছানা পাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত যে কয়দিন পানাহার ছাড়া জীবিত থাকা সম্ভব সে কয়দিন জীবিত ছিল। অতঃপর ঐ কোষাগারেই তার মৃত্যু হল। তাহলে বুঝা গেল অর্থ-সম্পদ নিজে মানুষকে কোন উপকার করতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা সঠিক না হবে এবং পন্থা সঠিক না হবে।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 যদিও গণনায় সম্পদ বৃদ্ধি পাবে

📄 যদিও গণনায় সম্পদ বৃদ্ধি পাবে


বর্তমান কালের পৃথিবী একথা বলে যে, যদি নারীকে ঘর থেকে বের করা হয় তাহলে আমাদের শ্রমিকের সরবরাহ বাড়বে ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং সম্পদ বেশী হবে। এটা ঠিক, গণনায় সম্পদ বেশী হবে। কিন্তু যখন আমাদের পারিবারিক বন্ধন ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে আমাদের জাতীয় উন্নতির পথ বন্ধ হয়ে যায় তখন এটা কত বড় ক্ষতি ভেবে দেখেছেন কি! অতএব সম্পদ বেশী হয়ে লাভ কী?

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 অর্থ-সম্পদ উপার্জনের উদ্দেশ্য কী?

📄 অর্থ-সম্পদ উপার্জনের উদ্দেশ্য কী?


আল-কুরআনের وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আমি নারীকে এজন্য সৃষ্টি করেছি যে, সে তার পারিবারিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে এবং নিজ ঘরের কাজ সম্পন্ন করবে। এর তো কোন অর্থ হতে পারে না যে, ঘরের পর ঘর উজার হয়ে যাবে এবং সকল প্রকার মনোযোগ বাইরের কাজে নিবদ্ধ থাকবে। বাইরে থেকে মানুষ যা কিছু উপার্জন করে তাতো এ জন্য করে যে সে ঘরে এসে শান্তি পাবে। কিন্তু যদি ঘরের শান্তি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে মানুষ যতই উপার্জন করুক উহা অনর্থক, তার কোন ফায়দা নেই।

📘 নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা > 📄 সন্তানের মায়ের মমতার প্রয়োজন

📄 সন্তানের মায়ের মমতার প্রয়োজন


এ জন্য বাড়ীর ব্যবস্থাপনাকে সুসংহত করা সন্তানের সঠিক লালন-পালন করা এবং সন্তানকে সঠিক চিন্তাধারার উপর গড়ে তোলার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা নারীর কাঁধে অর্পণ করেছেন। এ কারণেই সন্তান পিতা-মাতা উভয়ের হওয়া সত্ত্বেও যত ভালবাসা এবং যত মমতা আল্লাহ তায়ালা মায়ের অন্তরে রেখেছেন পিতার অন্তরে তত রাখেননি। এবং মায়ের প্রতি সন্তানের যত ভালবাসা হয় পিতার প্রতি তত হয়না। আর সন্তান যখন কোন বিপদের সম্মুখীন হয় সে যেখানেই থাকুক না কেন সাথে সাথে মাকে ডাকে, বাপকে ডাকেনা। এ জন্য যে, সে জানে আমার মা আমার বিপদ দূর করতে পারে আর এই ভালবাসার সম্পর্কের সঙ্গে সন্তান লালিতপালিত হয় আর যে কাজ মা আঞ্জাম দিতে পারে পিতা তা পারে না। যদি কোন পিতা চায় যে, আমি মায়ের সাহায্য ব্যতীত নিজে সন্তানের লালন-পালন করব এটা পিতার পক্ষে সম্ভব নয়, পরীক্ষা করে দেখুন। আজকাল লোকেরা নার্সারীতে সন্তানের লালন-পালন করে, স্মরণ রাখুন যে, কোন নার্সারী সন্তানকে মায়ের মমতা দিতে পারেনা। সন্তানের জন্য কোন মুরগী ফার্মের মত সংস্থার প্রয়োজন নেই বরং সন্তানের মায়ের মমতা এবং স্নেহের প্রয়োজন আর মায়ের মমতা ও স্নেহ পাওয়ার জন্য নারীর ঘরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আঞ্জাম দেয়া আবশ্যক। যদি কোন নারী ঘরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন না করে তাহলে সে সৃষ্টির সঙ্গে বিদ্রোহ করে, আর সৃষ্টির সঙ্গে বিদ্রোহ করার ফলে যে পরিণতি আজ ভোগ করতে হচ্ছে তা সকলেই দেখতে পাচ্ছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00