📄 অর্ধেক জনসংখ্যা কি কর্মহীন অঙ্গ ?
নারীদেরকে ঘর থেকে বের করার জন্য আজকাল একটা সস্তা যুক্তি পেশ করা হয় যে, জাতীয় উন্নতি ও অগ্রগতির এই জামানায় আমরা আমাদের অর্ধেক জনসংখ্যাকে কর্মহীন অঙ্গ বানিয়ে রাখতে পারিনা। এ কথা এত জোর গলায় বলা হয় যে, মনে হয় যেন দেশের সমস্ত পুরুষের কর্মসংস্থানের পূর্ণ লক্ষ মাত্রা অর্জিত হয়ে গেছে। এখন আর কোন পুরুষ বেকার নেই। অথচ এ কথা এমন এক দেশে বলা হচ্ছে যেখানে উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন পুরুষ বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোন চাপরাশি অথবা ড্রাইভারীর পদ শূন্য হলে তার জন্য শত শত গ্রাজুয়েট দরখাস্ত নিয়ে হাজির হয়। আর কোন কেরানীর পদ খালী হলে তার জন্য শত শত মাষ্টার ডিগ্রীধারী পর্যন্ত দরখাস্ত জমা দেয়। আগে অর্ধেক পুরুষ জনসংখ্যাকে জাতীয় উন্নতি ও অগ্রগতির কাজে নিয়োজিত করুন তারপর অবশিষ্ট অর্ধেক জনসংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করুন যে, তারা কর্মহীন অঙ্গ কি না?
📄 আমাদের পারিবারিক বন্ধন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে
আল্লাহ তা'য়ালা নারীদেরকে বাড়ীর দায়িত্বশীল ও ব্যবস্থাপক বানিয়েছেন যাতে তারা পারিবারিক বন্ধন মজবুত রাখতে পারে।
কিন্তু যখন তারা ঘর থেকে বের হয়ে আসল তখন ফলাফল এই হল যে, পিতাও বাইরে মাও বাইরে, বাচ্চারা স্কুলে আর বাড়িতে তালা ঝুলে গেল, যার কারণে আজ পারিবারিক বন্ধন ধ্বংসের পথে। নারীদেরকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে যে, তারা ঘরে থাকবে, বাড়ীর কাজ-কর্ম করবে এবং সন্তান লালন-পালন করবে। মায়ের কোল সন্তানের সর্বপ্রথম শিক্ষাস্থল। যেখান থেকে আচার-ব্যবহার শেখে, চাল-চলন শেখে। জীবন গঠনের সঠিক নিয়ম-কানুন শিক্ষা করে।
কিন্তু আজ পশ্চিমা সমাজে সন্তানেরা পিতামাতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত, তাদের পারিবারিক বন্ধন ধ্বংস হয়ে গেছে। যখন স্ত্রী এক জায়গায় চাকরী করে আর স্বামী অন্য স্থানে চাকরী করে এবং সারাদিন তাদের মধ্যে কোন যোগাযোগ থাকেনা আর সবখানে স্বাধীন পরিবেশ বিরাজ করে তখন অধিকাংশ সময় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যায় এবং তাদের সম্পর্কে টানা পোড়েন সৃষ্টি হয়। আর এই অবস্থায় অন্যের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে যার কারণে কখনো কখনো উভয়ের মাঝে তালাক হয়ে যায়।
📄 নারী সম্পর্কে গরবাচেভের মতাদর্শ
যদি একথা আমি বলতাম তাহলে কেউ বলতে পারত যে, এসব কথা আপনি গোঁড়ামির কারণে বলছেন। কয়েক বছর পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ রাষ্ট্রপতি মিখাইল গরবাচেভ একটি বই লিখেছেন যার নাম প্রোস্ত্রাইকা। বর্তমানে এই বই সমগ্র পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ এবং প্রকাশিত। এই বইয়ে গরবাচেভ “Status of women” (নারীর মর্যাদা) শিরোনামে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন। এই বইয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় এ কথা লিখেছেন যে, “আমাদের পশ্চিমা সমাজে নারীদেরকে ঘর থেকে বের করার ফলে নিশ্চয় আমরা কিছু অর্থনৈতিক লাভ অর্জন করেছি। এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এজন্য যে, পুরুষও কাজ করছে, নারীও কাজ করছে।
কিন্তু উৎপাদন বৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও এর অবশ্যম্ভাবী ফল এই হয়েছে যে, আমাদের পারিবারিক ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে আর এই পারিবারিক সিস্টেম ধ্বংস হওয়ার ফলে আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা ঐ লাভের থেকে বেশী যা উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে আমাদের অর্জিত হয়েছে। অতএব, আমি আমার দেশে প্রোস্ত্রয়কা নামে এক আন্দোলন শুরু করছি। যার মূল উদ্দেশ্য হল, যে সমস্ত মহিলা ঘর থেকে বের হয়েছে তাদেরকে কিভাবে ঘরে আনা যায়, তার উপায় বের করতে হবে। তা নাহলে যেভাবে আমাদের পারিবারিক সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গেছে তাতে আমাদের গোটা জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। এই শব্দগুলি মিখাইল গরবাচেভ নিজ বইয়ে লিখেছেন, এই বই বাজারে পাওয়া যায়। যার ইচ্ছা দেখে নিন।
📄 অর্থ- সম্পদ নিজে কোন উপকারী বস্তু নয়
এই পারিবারিক সিস্টেম ধ্বংস হওয়ার মূল কারণ হল আমরা নারীদের সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য জানি না। আল্লাহ তায়ালা নারীদের এ জন্য সৃষ্টি করেছেন যে, তারা বাড়ীর শৃঙ্খলা এবং পারিবারিক সিস্টেম মজবুত রাখবে। বর্তমান কালের অর্থনীতির সমস্ত প্রচেষ্টার মূল কথা হল অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধি পাওয়া। কিন্তু আপনি বলুন, অর্থ-সম্পদ কি নিজে কোন উপকার করতে পারে? যদি আপনার ক্ষুধা লাগে এবং আপনার কাছে অর্থ থাকে তাহলে আপনি কি অর্থ খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করতে পারবেন? সুতরাং বুঝা গেল অর্থ নিজে কোন উপকারী জিনিস নয় যতক্ষণ পর্যন্ত উহা দ্বারা প্রয়োজনীয় জিনিস প্রস্তুত করে মানুষ শান্তি অর্জন না করে।