📄 হযরত আলী (রা) এবং হযরত ফাতেমা (রা)-এর মধ্যে কাজের বণ্টন
হযরত আলী (রা) এবং হযরত ফাতেমা (রা) নিজেদের মধ্যে এভাবে কাজ বণ্টন করে রেখেছিলেন যে, হযরত আলী (রা) বাইরের কাজ করতেন এবং হযরত ফাতেমা (রা) বাড়ীর ভিতরের কাজ সম্পন্ন করতেন। সুতরাং তিনি ঘর ঝাড়ু দিতেন, যাঁতা ঘুরিয়ে আটা পিষতেন, রান্না-বান্নার কাজ করতেন।
📄 কিসের মোহে নারীকে ঘর থেকে বের করা হল ?
কিন্তু যে পরিবেশে সমাজের পবিত্রতার কোন মূল্য থাকে না, যেখানে পবিত্রতা ও সতীত্বের পরিবর্তে চারিত্রিক অবক্ষয় এবং অশ্লীলতাকে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য মনে করা হয় সেখানে এই কাজের বণ্টন এবং পর্দা ও শ্লীলতাকে শুধু অনাবশ্যক নয় বরং পথের কাঁটা মনে করা হয়। সুতরাং যখন পাশ্চাত্যে সকল প্রকার চারিত্রিক মূল্যবোধ থেকে স্বাধীনতার ঢেউ খেলে গেল তখন পুরুষরা নারীদের ঘরে অবস্থান করাকে নিজেদের জন্য দ্বিগুণ বিপদ মনে করল। একদিকে পুরুষের লালসাপূর্ণ স্বভাব নারীর কোন রকম দায়িত্ব গ্রহণ করা ব্যতীত পায়ে পায়ে তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাচ্ছিল এবং অন্যদিকে পুরুষ তার আইনগত স্ত্রীর জীবিকার দায়িত্বকেও একটা বোঝা মনে করছিল। সুতরাং সে উভয় সংকটের এক প্রতারণামূলক সমাধান বের করল। যার সুন্দর এবং সরল নাম তারা দিল “নারী স্বাধীনতার আন্দোলন” বলে নারীকে এটা বুঝান হল যে, তোমরা এতদিন ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দী ছিলে এখন স্বাধীনতার যুগ, অতএব তোমাদের এই বন্দীশালা থেকে মুক্ত হয়ে পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জীবনের সকল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা উচিত। এতদিন পর্যন্ত তোমাদেরকে রাষ্ট্র ক্ষমতা এবং রাজনীতির অঙ্গন থেকেও বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এখন তোমরা বাইরে এসে জীবনের চলার গাড়ীতে সমানভাবে অংশ নাও, পৃথিবীর সমস্ত সম্মান এবং বড় বড় পদ তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
নারীরা এই মন ভুলানো শ্লোগানে প্রভাবিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। প্রচারণার সমস্ত মাধ্যম ব্যবহার করে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে তাদেরকে এটা বুঝানো হল যে, বহু শতাব্দীর পরাধীনতার পর আজ তোমরা স্বাধীনতা লাভ করেছ, এখন তোমাদের সমস্ত দুঃখ-কষ্টের অবসান ঘটবে। এই শ্লোগানের অন্তরালে নারীকে টেনে হেঁচরে রাস্তায় নামানো হল, তাকে অফিসে কেরানীগীরী দেয়া হল, তাকে অপরিচিত পুরুষের প্রাইভেট সেক্রেটারীর পদ দান করা হল, তাকে ষ্টেনো টাইপিষ্ট হওয়ার কাজ দেয়া হল। তাকে ব্যবসা চমকিত করার জন্য “সেলস গার্ল” এবং “মডেল গার্ল” হওয়ার কাজ দান করা হল। এবং তার এক একটি অঙ্গকে প্রকাশ্যে অপমানিত করে ক্রেতাদেরকে দাওয়াত দেয়া হল যে, আজ আমাদের নিকট থেকে মাল ক্রয় কর। ইসলাম যে নারীর মাথায় ইজ্জত-সম্মানের মুকুট রেখেছিল এবং যার গলায় পবিত্রতা ও সতীত্বের মালা পরিয়েছিল, এভাবে সেই নারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি শোপিস এবং পুরুষের ক্লান্তি দূর করার জন্য চিত্তবিনোদনের বস্তুতে পরিণত হল।
📄 আজ সমস্ত নিকৃষ্ট কাজ নারীর কাঁধে
নারীকে স্বাধীনতার লোভ দেখিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা ও রাজনীতির প্রাসাদ খোলা হচ্ছে। কিন্তু একটু পর্যালোচনা করে দেখুন, এতদিনে স্বয়ং পশ্চিমা দেশে কতজন মহিলা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী অথবা মন্ত্রী হয়েছে? কতজন মহিলাকে বিচারক বানানো হয়েছে? কতজন মহিলাকে অন্যান্য উঁচু পদ দেয়া হয়েছে? গণনামতে এ রকম মহিলার সংখ্যা বড়জোর লাখে কয়েকজন হবে। এই হাতে গুনা কয়েকজন মহিলাকে পদ দেয়ার নাম করে অবশিষ্ট লাখো মহিলাকে যে নির্মমভাবে রাস্তা-ঘাটে এবং বাজারে টেনে হেঁচড়ে নামানো হয়েছে এটাই হল নারী স্বাধীনতার প্রতারণার মর্মান্তিক ছলনা। আর ইউরোপ-আমেরিকায় গিয়ে দেখুন দুনিয়ার সমস্ত নিম্ন শ্রেণীর কাজ নারীর কাঁধে। হোটেল রেস্তোরায় খুব কম পুরুষ বেয়ারা দেখতে পাবেন। এ সমস্ত কাজ মহিলারাই আঞ্জাম দিচ্ছে। হোটেলে পর্যটকদের রুম পরিষ্কার করা, তাদের বিছানার চাদর পরিবর্তন করা এবং কক্ষ পরিচর্যার সেবা সবই নারীর কাঁধে। দোকানে মাল বিক্রয়ের জন্য পুরুষ কদাচিৎ দেখতে পাবেন। এ কাজও নারীদের দ্বারা করানো হচ্ছে। অফিসের অভ্যর্থনা কক্ষে সাধারণত মহিলারাই নিযুক্ত। এবং হোটেল বয় থেকে কেরানী পর্যন্ত বেশীর ভাগ কাজই এই দুর্বল শ্রেণীর কাঁধে, যাকে ঘরের বন্দীশালা থেকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।
📄 নতুন সভ্যতার বিস্ময়কর দর্শন
প্রচারণার জোরে এই বিস্ময়কর দর্শন মস্তিষ্কে প্রবিষ্ট করানো হয়েছে যে, নারী যদি নিজ বাড়ীতে নিজের স্বামী, পিতা-মাতা, ভাই-বোন এবং সন্তানের জন্য গৃহস্থলীর কাজ করে তাহলে এটা বন্দীশালা এবং অপমান। কিন্তু যদি ঐ মহিলাই পর পুরুষের জন্য রান্না করে, তাদের রুম পরিষ্কার করে, হোটেল এবং প্লেনে তাদের আপ্যায়ন করে, দোকানে হাসি-রস দিয়ে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করে এবং অফিসে অফিসারের মনমুগ্ধকর পাত্রে পরিণত হয় তাহলে এটা স্বাধীনতা ও সম্মান। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজি'উন। তাছাড়া এ প্রতারণামূলক অত্যাচারের সীমা এই যে, মহিলারা জীবিকা উপার্জনের জন্য আট আট ঘণ্টার এই কঠোর এবং অপমানসূচক ডিউটি পালন করা সত্ত্বেও বাড়ীর কাজ-কর্ম থেকে এখনও মুক্তি পায়নি। বাড়ীর সমস্ত কাজ-কর্ম এখনও পূর্বের মত নারীর কাঁধে রয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকার অধিকাংশ মহিলাদেরকেই অফিসের ডিউটি সেরে বাড়ীর রান্না-বান্না, পাত্র ধোয়া, এবং বাড়ীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ এখনও করতে হয়।