📄 নারী-পুরুষের কর্মের বণ্টন
এই উভয় বিভাগকে আল্লাহ তায়ালা এভাবে বণ্টন করেছেন যে, পুরুষকে বাড়ীর বাইরের কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন, অর্থাৎ রুজি-রোজগার ও অর্থ-উপার্জন, রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজ ইত্যাদি। আর বাড়ীর ভিতরের বিভাগের দায়িত্ব আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল (স) মেয়েলোকের কাঁধে অর্পণ করেছেন। যদি বিবেক দ্বারা মানুষের সৃষ্টিগত স্বভাবের পর্যালোচনা করা হয় তাহলেও এ ছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থা হতে পারে না। এজন্য যে, যদি পুরুষ ও নারীর মাঝে তুলনা করা হয় তাহলে এটাই স্পষ্ট হবে যে, নারীর তুলনায় পুরুষের শারীরিক শক্তি বেশী এবং কেউ এটা অস্বীকার করতে পারবে না যে, আল্লাহ তায়ালা নারীর তুলনায় পুরুষকে শারীরিক শক্তি বেশী দিয়েছেন। বাইরের কাজের জন্য শক্তির প্রয়োজন, পরিশ্রমের প্রয়োজন। বাইরের কাজ শক্তি ও পরিশ্রম ব্যতীত সম্পন্ন করা যায় না। অতএব সৃষ্টিগত স্বভাবের চাহিদাও এটাই যে, বাইরের কাজ পুরুষে করবে আর বাড়ীর ভিতরের কাজ নারীর দায়িত্বে ন্যস্ত থাকবে।
📄 নারী বাড়ীর কাজের আয়োজন করবে
শুরুতে যে আয়াত আমি আপনাদের সম্মুখে তেলাওয়াত করেছি সে আয়াতে আল্লাহ তায়ালা হুজুর (স)-এর সম্মানিতা স্ত্রীগণকে সরাসরি সম্বোধন করেছেন- وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ (সুরা আহযাব, আয়াত-৩৩) অর্থাৎ তোমরা নিজ নিজ ঘরে স্থির থাক। এই আয়াতে শুধু এতটুকুই বলা হয়নি যে, মেয়েলোকের প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে যাওয়া উচিত নয় বরং এই আয়াতে একটি মূল তত্ত্বের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, নারীকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, নারীরা ঘরের মধ্যে স্থির থেকে বাড়ীর কাজের আয়োজন করবে।
📄 হযরত আলী (রা) এবং হযরত ফাতেমা (রা)-এর মধ্যে কাজের বণ্টন
হযরত আলী (রা) এবং হযরত ফাতেমা (রা) নিজেদের মধ্যে এভাবে কাজ বণ্টন করে রেখেছিলেন যে, হযরত আলী (রা) বাইরের কাজ করতেন এবং হযরত ফাতেমা (রা) বাড়ীর ভিতরের কাজ সম্পন্ন করতেন। সুতরাং তিনি ঘর ঝাড়ু দিতেন, যাঁতা ঘুরিয়ে আটা পিষতেন, রান্না-বান্নার কাজ করতেন।
📄 কিসের মোহে নারীকে ঘর থেকে বের করা হল ?
কিন্তু যে পরিবেশে সমাজের পবিত্রতার কোন মূল্য থাকে না, যেখানে পবিত্রতা ও সতীত্বের পরিবর্তে চারিত্রিক অবক্ষয় এবং অশ্লীলতাকে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য মনে করা হয় সেখানে এই কাজের বণ্টন এবং পর্দা ও শ্লীলতাকে শুধু অনাবশ্যক নয় বরং পথের কাঁটা মনে করা হয়। সুতরাং যখন পাশ্চাত্যে সকল প্রকার চারিত্রিক মূল্যবোধ থেকে স্বাধীনতার ঢেউ খেলে গেল তখন পুরুষরা নারীদের ঘরে অবস্থান করাকে নিজেদের জন্য দ্বিগুণ বিপদ মনে করল। একদিকে পুরুষের লালসাপূর্ণ স্বভাব নারীর কোন রকম দায়িত্ব গ্রহণ করা ব্যতীত পায়ে পায়ে তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাচ্ছিল এবং অন্যদিকে পুরুষ তার আইনগত স্ত্রীর জীবিকার দায়িত্বকেও একটা বোঝা মনে করছিল। সুতরাং সে উভয় সংকটের এক প্রতারণামূলক সমাধান বের করল। যার সুন্দর এবং সরল নাম তারা দিল “নারী স্বাধীনতার আন্দোলন” বলে নারীকে এটা বুঝান হল যে, তোমরা এতদিন ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দী ছিলে এখন স্বাধীনতার যুগ, অতএব তোমাদের এই বন্দীশালা থেকে মুক্ত হয়ে পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জীবনের সকল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা উচিত। এতদিন পর্যন্ত তোমাদেরকে রাষ্ট্র ক্ষমতা এবং রাজনীতির অঙ্গন থেকেও বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এখন তোমরা বাইরে এসে জীবনের চলার গাড়ীতে সমানভাবে অংশ নাও, পৃথিবীর সমস্ত সম্মান এবং বড় বড় পদ তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
নারীরা এই মন ভুলানো শ্লোগানে প্রভাবিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। প্রচারণার সমস্ত মাধ্যম ব্যবহার করে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে তাদেরকে এটা বুঝানো হল যে, বহু শতাব্দীর পরাধীনতার পর আজ তোমরা স্বাধীনতা লাভ করেছ, এখন তোমাদের সমস্ত দুঃখ-কষ্টের অবসান ঘটবে। এই শ্লোগানের অন্তরালে নারীকে টেনে হেঁচরে রাস্তায় নামানো হল, তাকে অফিসে কেরানীগীরী দেয়া হল, তাকে অপরিচিত পুরুষের প্রাইভেট সেক্রেটারীর পদ দান করা হল, তাকে ষ্টেনো টাইপিষ্ট হওয়ার কাজ দেয়া হল। তাকে ব্যবসা চমকিত করার জন্য “সেলস গার্ল” এবং “মডেল গার্ল” হওয়ার কাজ দান করা হল। এবং তার এক একটি অঙ্গকে প্রকাশ্যে অপমানিত করে ক্রেতাদেরকে দাওয়াত দেয়া হল যে, আজ আমাদের নিকট থেকে মাল ক্রয় কর। ইসলাম যে নারীর মাথায় ইজ্জত-সম্মানের মুকুট রেখেছিল এবং যার গলায় পবিত্রতা ও সতীত্বের মালা পরিয়েছিল, এভাবে সেই নারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি শোপিস এবং পুরুষের ক্লান্তি দূর করার জন্য চিত্তবিনোদনের বস্তুতে পরিণত হল।