📄 পুরুষ ও নারী দুটি ভিন্ন জাতি
বর্তমানে এই শ্লোগান খুব জোরে-শোরে দেয়া হয় যে, নারীদেরকেও পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা উচিত। পশ্চিমা চিন্তা-চেতনা সমগ্র পৃথিবীতে এই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু এ দিকে লক্ষ্য করা হয়নি যে, যদি নারী-পুরুষ উভয়কে একই ধরনের কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়ে থাকে, তাহলে তাদেরকে শারীরিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন রূপে সৃষ্টি করার কী প্রয়োজন ছিল? পুরুষের শারীরিক নিয়ম এক রকম, আর নারীদের শারীরিক নিয়ম আরেক রকম, পুরুষের স্বভাব এক রকম, আর নারীদের স্বভাব ভিন্ন রকম, পুরুষের যোগ্যতা এক রকম, আর নারীদের যোগ্যতা ভিন্ন রকম।
আল্লাহ তায়ালা উভয় জাতিকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, উভয়ের সৃষ্টিগত কাঠামো এবং উহার রীতি-নীতিতে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। অতএব এ কথা বলা যে, নারী ও পুরুষের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, এটা স্বয়ং সৃষ্টির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল। কারণ এটাতো চোখে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, নারী-পুরুষের কাঠামোতে পার্থক্য আছে। নতুন ফ্যাশন নারী-পুরুষের এই সৃষ্টি গত পার্থক্য মুছে দেয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করছে। সুতরাং নারীরা পুরুষের পোশাক পরিধান করা শুরু করেছে এবং পুরুষেরা মেয়েলোকের পোশাক পরতে আরম্ভ করেছে। নারীরা পুরুষের মত চুল রাখতে শুরু করেছে আর পুরুষেরা নারীর মত চুল রাখতে শুরু করেছে। কিন্তু একথা এখনও অস্বীকার করা সম্ভব নয়, নারী ও পুরুষ উভয়ের শারীরিক নিয়ম-নীতি ভিন্ন ভিন্ন, উভয়ে ভিন্ন জাতি, উভয়ের জীবনের চাল-চলন ভিন্ন এবং উভয়ের যোগ্যতাও ভিন্ন।
📄 আল্লাহ তায়ালার নিকট জিজ্ঞাসা করার মাধ্যম পয়গম্বরগণ
কিন্তু এ কথা কার নিকটে জিজ্ঞাসা করা হবে, পুরুষকে এবং নারীকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে? স্পষ্টতই এর উত্তর এটাই হবে যে, যে সত্তা সৃষ্টি করেছেন তার কাছেই জিজ্ঞাসা করা হবে, তিনি নারী ও পুরুষকে কোন্ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। আর তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যম হলেন পয়গম্বরগণ এবং এই সূত্র ধরে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (স) হবেন জিজ্ঞাসা করার মাধ্যম।
📄 মানুষের জীবনে দুটি বিভাগ
আল কুরআনুল কারীম এবং রাসূল (স)-এর শিক্ষা থেকে বিন্দু মাত্র সন্দেহ ব্যতীত এ কথা প্রমাণিত হয় যে, প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবন দুটি ভিন্ন বিভাগে বিভক্ত। এক, বাড়ীর ভিতরের বিভাগ। দুই, বাড়ীর বাইরের বিভাগ। এই উভয় বিভাগ এমন যে, উভয় বিভাগ ব্যতীত ভারসাম্যপূর্ণ এবং পরিমিত জীবনযাপন করা যায় না। বাড়ীর ব্যবস্থাপনাও জরুরী আবার বাড়ীর বাইরের ব্যবস্থাপনাও জরুরী। যখন উভয় বিভাগ এক সাথে নিজ নিজ স্থানে ঠিক ঠিকভাবে চলবে তখন মানবজীবন পরিমিত হবে। আর যদি এর মধ্যে যে কোন একটি অচল হয়ে যায় অথবা অসম্পূর্ণ থেকে যায় তাহলে মানবজীবনের ভারসাম্য নষ্ট হবে।
📄 নারী-পুরুষের কর্মের বণ্টন
এই উভয় বিভাগকে আল্লাহ তায়ালা এভাবে বণ্টন করেছেন যে, পুরুষকে বাড়ীর বাইরের কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন, অর্থাৎ রুজি-রোজগার ও অর্থ-উপার্জন, রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজ ইত্যাদি। আর বাড়ীর ভিতরের বিভাগের দায়িত্ব আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল (স) মেয়েলোকের কাঁধে অর্পণ করেছেন। যদি বিবেক দ্বারা মানুষের সৃষ্টিগত স্বভাবের পর্যালোচনা করা হয় তাহলেও এ ছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থা হতে পারে না। এজন্য যে, যদি পুরুষ ও নারীর মাঝে তুলনা করা হয় তাহলে এটাই স্পষ্ট হবে যে, নারীর তুলনায় পুরুষের শারীরিক শক্তি বেশী এবং কেউ এটা অস্বীকার করতে পারবে না যে, আল্লাহ তায়ালা নারীর তুলনায় পুরুষকে শারীরিক শক্তি বেশী দিয়েছেন। বাইরের কাজের জন্য শক্তির প্রয়োজন, পরিশ্রমের প্রয়োজন। বাইরের কাজ শক্তি ও পরিশ্রম ব্যতীত সম্পন্ন করা যায় না। অতএব সৃষ্টিগত স্বভাবের চাহিদাও এটাই যে, বাইরের কাজ পুরুষে করবে আর বাড়ীর ভিতরের কাজ নারীর দায়িত্বে ন্যস্ত থাকবে।