📄 অনুবাদকের কথা
ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, ইসলামাবাদ-এর শরীয়ত একাডেমী প্রত্যেক বছর উকিলদের এবং সেশন আদালতের জজদের জন্য একটা প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করে। যে কোর্সে সমগ্র পাকিস্তানের উকিল এবং জজগণ অংশগ্রহণ করেন। এই কোর্সে তাঁদেরকে ইসলামী আইন বিষয়ক আবশ্যকীয় তথ্যাবলী সরবরাহ করা হয় এবং ইসলামী আইনের উপর একটা সংক্ষিপ্ত কোর্সের আয়োজন করা হয়। এই প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রত্যেক বছর জাস্টিস মাওলানা মুহাম্মাদ তাক্বী উসমানী (মাদ্দাজিল্লুহুম) বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও তিনি ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। এসব বক্তৃতা গ্রন্থাকারে বা রেসালা আকারে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান গ্রন্থে নারী স্বাধীনতা, পর্দা ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তিনটি উর্দু রেসালার বাংলা অনুবাদ সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
'নারী স্বাধীনতা' সম্পর্কিত রেসালায় তিনি পাশ্চাত্যের নারী স্বাধীনতা সম্পর্কিত ভুল ধ্যাণ-ধারণার বিশ্লেষণ করেছেন। সাথে সাথে পাশ্চাত্যের নারী স্বাধীনতার কুপ্রভাব আমাদের সমাজের নারীদের কিভাবে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে এবং সুকৌশলে কিভাবে নারীদের নিম্নতর কর্মে লিপ্ত করছে এবং পুরুষের লালসার বস্তুতে পরিণত করছে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি, ইসলাম নারীদের অধিকার ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চে স্থান দিয়েছে-এ কথা তিনি কুরআন, হাদীস ও যুক্তির আলোকে সুন্দরভাবে পেশ করেছেন।
'পর্দার শরয়ী সীমা' রেসালায় তিনি নারীদের পর্দা করার মাহাত্ম্য, পর্দার বিভিন্ন স্তর, কখন কিভাবে পর্দা করতে হয়, কোন্ মাযহাব কোন্ ধরনের পর্দাকে অনুমোদন করে ইত্যাদি বিষয়ে কুরআন-হাদীস এবং গবেষক পণ্ডিতদের মতের আলোকে নারীর ঘর ও বাইরের পর্দা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
'বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা' শীর্ষক বক্তব্যটি তিনি ১৯৯১ সালের ২৫ আগস্ট উকিল ও জজদের একটি বিশেষ অধিবেশনে উপস্থাপন করেন। এই বক্তব্যে তিনি বুদ্ধির পরিধি, ক্ষমতা, সীমা, প্রয়োজনীয়তা ও ব্যর্থতা ইত্যাদি বিষয়ের উপর সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন এবং দেখান যে, কতদূর পর্যন্ত বুদ্ধিকে ব্যবহার করা উচিত আর কোন্ পর্যন্ত পৌঁছে বুদ্ধির ক্ষমতা শেষ হয়ে যায় এবং শরীয়ত ও ওহীর সীমানা আরম্ভ হয়ে যায়। দৈনন্দিন জীবনের কিছু সমস্যার সমাধান আমরা অভিজ্ঞতা দিয়ে করতে পারি, কিছু সমস্যার সমাধান আমরা বুদ্ধি দিয়ে করতে পারি, কিছু সমস্যা অভিজ্ঞতা বা বুদ্ধি কোনটি দিয়েই করতে পারি না। সেসব ক্ষেত্রে ওহীর প্রয়োজন পড়ে এবং সেসব ক্ষেত্রে কেবল ওহীই সমাধান দিতে পারে। এসব বিষয়কে তিনি যুক্তিপূর্ণভাবে অত্র রেসালায় উপস্থাপন করেছেন।
বিজ্ঞ আলেমে দ্বীন হযরত তাকী উসমানী সাহেবের উক্ত বক্তব্যের বিষয়বস্তুর গুরুত্ব অনুধাবন করে বাংলা ভাষা-ভাষী পাঠকদের জন্য উহার অনুবাদ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। এ প্রয়োজনকে পুস্তাকারে রূপ দিতে আল হিকমাহ পাবলিকেশন্স এগিয়ে এসেছে। আল্লাহ আমাদের সকলের সদিচ্ছাকে পূরণ করুন। আমীন ॥ আশাকরি, সুধীবৃন্দ, আলেম সমাজ এবং বাংলা ভাষী আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা গ্রন্থখানা পাঠে প্রভূত উপকার লাভ করবেন।
আল্লাহ তায়ালা এই ক্ষুদ্র প্রয়াসকে কবুল করে নিন এবং এর দ্বারা সকলের হেদায়াতের পথ সুগম করুন। আমীন!
যশোর আগস্ট ০৭, ২০০৮
বিনীত মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমান