📘 নামাজে মন ফেরানো > 📄 সালাত বিষয়ক হাদিস

📄 সালাত বিষয়ক হাদিস


[১] আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'তোমরা (সালাতের) কাতারসমূহে মিলে মিশে দাঁড়াবে। পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে। ঐ সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি চাক্ষুস দেখতে পাচ্ছি, কাতারের ফাঁকা জায়গাতে শয়তান যেন একটি বকরির বাচ্চার ন্যায় প্রবেশ করছে।' [২০৪]

[২] আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি (কাতারের মাঝে) কোনো ফাঁক বন্ধ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তাকে একটি মর্যাদায় উন্নীত করেন এবং তার জন্য জান্নাতে এক গৃহ নির্মাণ করেন।” [২০৫]

[৩] আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তোমরা কাতারগুলি সোজা করে নাও। পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নাও। কাতারের ফাঁক বন্ধ করে নাও। তোমাদের ভাইদের জন্য হাতের বাজু নরম করে দাও। আর শয়তানের জন্য ফাঁক ছেড়ো না। মনে রাখবে, যে ব্যক্তি কাতার মিলাবে, আল্লাহ তার সাথে মিল রাখবেন, আর যে ব্যক্তি কাতার ছিন্ন করবে (মানে কাতারে ফাঁক রাখবে), আল্লাহও তার সাথে (সম্পর্ক) ছিন্ন করবেন।” [২০৬]

[৪] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে যে আমলটির হিসাব সর্বপ্রথম নেয়া হবে তা হচ্ছে নামাজ। যদি এ হিসাবটি নির্ভুল হয় তবে সে সফল হবে ও নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। আর যদি এ হিসাবটিতে ভুল বা ত্রুটি দেখা যায় তবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও ধ্বংস হয়ে যাবে। যদি তার ফরজগুলোর মধ্যে কোনো কমতি থাকে তবে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলবেন, দেখো, আমার বান্দার কিছু নফলও আছে কি না, তার সাহায্যে তার ফরজসমূহের কমতি পূরণ করে দাও। এরপর সব আমলের হিসাব এভাবেই নেয়া হবে।' [২০৭]

[৫] আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের প্রসঙ্গে আলোচনাকালে তিনি বললেন, 'যে ব্যক্তি এই সালাত যথাযথভাবে ও সঠিক নিয়মে আদায় করতে থাকবে তার জন্য কিয়ামতের দিন একটি নূর, অকাট্য প্রমাণ ও মুক্তি নির্ধারিত হবে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি সালাত সঠিকভাবে আদায় করবে না, তার জন্য নূর, অকাট্য দলিল ও মুক্তি কিছুই হবে না, বরং কিয়ামতের দিন তার পরিণতি হবে কারুন, ফিরাউন, হামান, উবাই ইবনু খালফের সাথে।' [২০৮]

[৬] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'কোনো ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যাতায়াত করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারির সামগ্রী তৈরি করে রাখেন।' [২০৯]

[৭] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি নিজের বাড়িতে পবিত্রতা অর্জন করল, অতঃপর আল্লাহর কোনো একটি ফরজ (সালাত) আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে রওনা হলো, তার পদচারণার প্রতি এক কদমে একটি গুনাহ মাফ এবং পরবর্তী কদম একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে।' [২১০]

[৮] আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'একাকী সালাত পড়ার চেয়ে জামাতে সালাত পড়ার ফযিলত সাতাশ গুণ বেশি।'[২১১]

[৯] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি বিষয়ের কথা বলব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহ মোচন করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন?' সাহাবীগণ বললেন, 'অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল।' তিনি বললেন, 'তা হচ্ছে, কষ্ট সত্ত্বেও ওযু করা, মসজিদে (সালাতের উদ্দেশ্যে) অধিক পদচারণা এবং এক সালাতের পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করা। আর এটিই হচ্ছে সুদৃঢ় বন্ধন।' [২১২]

[১০] আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি দুই ঠান্ডা সালাত (ফজর ও আসর) পড়বে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।' [২১৩]

[১১] নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি জুমার দিনে উত্তমরূপে গোসল করে আগে আগে মসজিদে যায় এবং বাহনে না চড়ে হেঁটে যায়। ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ দিয়ে ইমামের আলোচনা শোনে, অনর্থক কাজ না করে, তবে তার প্রতি কদমের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা এক বছর সিয়াম ও কিয়ামের সাওয়াব দান করেন।' [২১৪]

[১২] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি জামাতে নামাজ শেষ হবার পরও বসে থাকে, রহমতের ফিরিশতারা তার জন্য মাগফিরাতের দুআ করতে থাকেন। তারা বলেন, হে আল্লাহ, এর প্রতি দয়া করো; হে আল্লাহ, একে ক্ষমা করো; হে আল্লাহ, এর তাওবা কবুল করো। (ফিরিশতাদের এই দুআ সে পর্যন্ত চলতে থাকে) যে পর্যন্ত সে কাউকে কষ্ট না দেয়, যে পর্যন্ত তার ওযু নষ্ট না হয়।' [২১৫]

[১৩] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'বান্দা যখন সিজদায় যায় তখন তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। কাজেই তোমরা (সিজদায় গিয়ে) বেশি বেশি দুআ করো।’[২১৬]

[১৪] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'তাদের (কাফিরদের) মাঝে এবং আমাদের মাঝে চুক্তি হচ্ছে সালাত। যে ব্যক্তি সালাত পরিত্যাগ করল সে কাফির হয়ে গেল।' [২১৭]

[১৫] আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই। যার পবিত্রতা নেই তার সালাত নেই। আর যার সালাত নেই তার দ্বীন নেই। গোটা শরীরের মধ্যে মাথার যেমন মর্যাদা, দ্বীন ইসলামে সালাতের অনুরূপ মর্যাদা।' [২১৮]

[১৬] আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'সবচেয়ে উৎকৃষ্ট পুণ্য কাজ হচ্ছে ওয়াক্তের প্রথমভাগে সালাত আদায় করা।' [২১৯]

[১৭] আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দুআ ফিরিয়ে দেয়া হয় না।' [২২০]

[১৮] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, ওযুর প্রভাবে তাদের হাত, পা ও মুখমণ্ডল জ্বলজ্বল করতে থাকবে। তাই তোমাদের মধ্যে যে এই উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে সে যেন তা বাড়িয়ে নেয়।' [২২১]

[১৯] উসমান ইবনু আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করে, তার গুনাহসমূহ শরীর থেকে ঝরে যায়। এমনকি নখের নিচ থেকেও।' [২২২]

[২০] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'কোনো মুসলিম কিংবা মুমিন বান্দা ওযুর সময় যখন মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার চোখ দিয়ে করা গুনাহসমূহ পানির সাথে অথবা (তিনি বলেছেন) পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায়। যখন সে দুই হাত ধৌত করে তখন তার দুই হাতের স্পর্শে করা সকল গুনাহ পানি অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে ঝরে যায়। অতঃপর যখন সে দুই পা ধৌত করে তখন তার দুই পা দ্বারা করা সকল গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে ঝরে যায়। অবশেষে সে যাবতীয় গুনাহ থেকে মুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়।' [২২৩]

[২১] উবাদাহ ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, যা আল্লাহ তাআলা (বান্দার জন্য) ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি এ সালাতের জন্য ভালোভাবে ওযু করবে, সঠিক সময়ে আদায় করবে এবং এর রুকু ও খুশুকে পরিপূর্ণরূপে করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে যে তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যে তা না করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়াদা নেই। ইচ্ছা করলে তিনি ক্ষমা করে দিতে পারেন, আর ইচ্ছা করলে শাস্তিও দিতে পারেন।' [২২৪]

[২২] কিন্তু অন্য একটি হাদিসে বলা হয়েছে, যারা নামাজে অবহেলা করে, তারা দ্বীনকেই অবহেলা করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি নামাজ কায়েম করল, সে দ্বীন কায়েম করল। আর যে নামাজ ধ্বংস করল, সে দ্বীন ধ্বংস করল।' [২২৫]

[২৩] নোমান ইবনু মুররা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি নিজের নামাজ চুরি করে, সে চুরি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বড় চুরি।' তারা (সাহাবীরা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপন নামাজ চুরি করে কীভাবে? তিনি বলেন, 'যে নামাজের রুকু ও সিজদা পূর্ণভাবে আদায় করে না।' [২২৬]

[২৪] আম্মার ইবনু ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, এমন লোকও আছে যারা নামাজ আদায় করা সত্ত্বেও নামাজের রুকন ও শর্তগুলো সঠিকভাবে আদায় না করায় এবং নামাজে পরিপূর্ণ একাগ্রতা ও খুশু-খুজু না থাকায় তারা নামাজের পরিপূর্ণ সওয়াব পায় না। বরং তারা দশ ভাগের এক ভাগ, নয় ভাগের এক ভাগ, আট ভাগের এক ভাগ, সাত ভাগের এক ভাগ, ছয় ভাগের এক ভাগ, পাঁচ ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ, তিন ভাগের এক ভাগ বা অর্ধাংশ সওয়াবপ্রাপ্ত হয়। [২২৭]

[২৫] নামাজে প্রশান্তি ও নিষ্ঠা পরিত্যাগ এবং রুকু-সিজদায় পিঠ সোজা না করা এবং রুকু থেকে ওঠার পর সোজা হয়ে না দাঁড়ান এবং দুই সিজদার মধ্যে সোজা হয়ে না বসা, অধিকাংশ মুসল্লির মাঝে এসব ত্রুটি লক্ষ করা যায়। কোনো মসজিদই এ ধরনের মুসল্লি থেকে মুক্ত নয়। নামাজে একাগ্রতা ও নিষ্ঠা থাকা নামাজের একটি রুকন, যা ব্যতিরেকে নামাজ সঠিক হয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, 'কারো নামাজ ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না যতক্ষণ না রুকু এবং সিজদায় তার পিঠ সোজা করবে।' [২২৮]

[২৬] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'এভাবে ইবাদত করো যে যেন তুমি তাঁকে (আল্লাহকে) দেখতে পাচ্ছ; যদি তুমি তাঁকে দেখতে নাও পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।' [২২৯]

[২৭] ইমাম আহমাদ হাসান সনদে ও আবু ইয়ালা কর্তৃক বর্ণিত। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজে তিনটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন। ১. মোরগের মতো ঠোকর মারতে ২. কুকুরের মতো বসতে এবং ৩. শৃগালের মতো এদিক-সেদিক তাকাতে। [২৩০]

[২৮] ইমাম বুখারী তারিখে এবং ইবনু খুযায়মা প্রমুখ খালিদ বিন ওয়ালিদ, আমর বিন আস, ইয়াযিদ বিন আবু সুফিয়ান এবং শারাহবীল বিন হাসনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে থেকে বর্ণিত। একদিন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামাজ আদায় করতে দেখলেন যে, রুকু পুরোপুরিভাবে করছে না এবং সিজদায় ঠোকর মারছে। হুজুর নির্দেশ দিলেন, পরিপূর্ণভাবে রুকু করো এবং এও ইরশাদ করলেন, এ ব্যক্তি যদি এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তবে মিল্লাতে মুহাম্মাদী ছাড়া অন্য মিল্লাতে মৃত্যুবরণ করবে। তারপর ইরশাদ করলেন, যে ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে রুকু করে না এবং সিজদায় ঠোকর মারে ওই ভুখার মতো যে এক-দুটি খেজুর খেয়ে নেয়, যা কোনো কাজ দেয় না।[২৩১]

[২৯] হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, রুকু ও সিজদা পুরোপুরিভাবে আদায় করছে না। যখন সে নামাজ শেষ করল, তিনি তাকে কাছে ডেকে বললেন, তোমার নামাজ হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা হচ্ছে, তিনি এও বলেছেন যে, যদি তুমি এভাবে নামাজ পড়তে পড়তে মৃত্যুবরণ করো তবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের উপর তোমার মৃত্যু হবে না।[২৩২]

[৩০] ইমাম আহমাদ মুতলাক বিন আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে থেকে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বান্দার ওই নামাজের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন না, যাতে রুকু ও সিজদার মাঝখানে পিঠ সোজা করা হয় না।[২৩৩]

[৩১] হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, হে বৎস! নামাজে এদিক-সেদিক তাকানো থেকে বিরত থাকো। কারণ নামাজে এদিক-সেদিক তাকানোই ধ্বংস।[২৩৪]

[৩২] দারেমী, কাব বিন উজরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে থেকে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ মহান প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ব্যক্তি যথাসময়ে নামাজ সম্পন্ন করবে, তার জন্য আমার প্রতিশ্রুতি হলো, তাকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে ব্যক্তি যথাসময়ে পড়বে না এবং সঠিকভাবে সম্পন্ন করবে না তার জন্য আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। চাইলে দোজখে প্রবেশ করাব আর চাইলে জান্নাতে প্রবেশ করাব।[২৩৫]

[৩৩] তাবরানী আওসাত্ব গ্রন্থে আনাস বিন মালিক থেকে থেকে বর্ণিত। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করে এবং এর ওযু, কিয়াম, খুশু, রুকু এবং সিজদা পুরোপুরিভাবে আদায় করে ওই সব নামাজ উজ্জ্বল আলো হয়ে এ বলে বের হয় যে, আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করুন, যেমনি তুমি আমাকে রক্ষা করেছ। আর যে ব্যক্তি যথাসময়ে নামাজ না পড়ে অন্য সময়ে পড়ে এবং ওযু, কিয়াম, খুশু, রুকু ও সিজদা পরিপূর্ণভাবে করে না, ওই নামাজ কালো অন্ধকার হয়ে এ বলে বের হয় যে, আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুক, যেভাবে তুমি আমাকে নষ্ট করেছ। শেষ পর্যন্ত ওই স্থানে নিয়ে পৌঁছে যেখান পর্যন্ত পৌঁছা আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করেন, সেখান থেকে পুরোনো আবর্জনার মতো একত্রিত করে তার মুখে নিক্ষেপ করা হয়। [২৩৬]

[৩৪] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিও না, কারণ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নামাজ ছেড়ে দেয় আল্লাহ ও রাসূল তার থেকে দায়মুক্ত। [২৩৭]

[৩৫] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যখন নামাজে মানুষের ইমামতি করে, সে নামাজ সংক্ষেপ করবে। কেননা, তাদের মধ্যে দুর্বল, রুগ্ন ও বৃদ্ধ ব্যক্তি থাকতে পারে। যখন তোমাদের কেউ একাকী নামাজ আদায় করবে, তখন সে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী নামাজ সুদীর্ঘ করবে। [২৩৮]

[৩৬] আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়ল, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকল। অতএব তোমরা আল্লাহর জিম্মাদারিকে নষ্ট করো না।' [২৩৯]

[৩৭] আবু যর গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক শীতের সময়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন। তখন গাছের পাতা ঝরার মৌসুম ছিল। নবীজি গাছের একটি দুটি ডাল ধরে নাড়া দিলেন। ফলে তাতে গাছের পাতা ঝরতে লাগল। অতঃপর তিনি বললেন, হে আবু যর! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি উপস্থিত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, মুসলমান বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় করে, তখন তার থেকে পাপসমূহ ঝরে পড়ে; যেমন এ গাছের পাতা ঝরে পড়ছে।[২৪০]

[৩৮] নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া মুমিন-মুসলমানরে ঈমানের দাবী ও ফরজ ইবাদত। নামাজি ব্যক্তিই হলো সফল। যার সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন প্রিয় নবী। তিনি বলেছেন, 'যে ব্যক্তি নামাজের প্রতি যত্নবান থাকে; কিয়ামতের দিন ওই নামাজ তার জন্য নূর হবে এবং হিসাবের সময় নামাজ তার জন্য দলিল হবে এবং নামাজ তার জন্য নাজাতের কারণ হবে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নামাজের প্রতি যত্নবান হবে না, কিয়ামতের দিন নামাজ তার জন্য নূর ও দলিল হবে না। তার জন্য নাজাতের কোনো সনদও থাকবে না। বরং ফিরাউন, হামান এবং উবাই ইবনু খালফের সাথে তার হাশর হবে।'

[৩৯] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মুনাফিকদের কাছে ফজর ও এশা অপেক্ষা অধিক ভারী কোনো সালাত নেই। আর যদি তারা জানত যে, এই সালাতদ্বয়ের মধ্যে কী ফযিলত রয়েছে, তাহলে অবশ্যই তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এর জন্য আসত।[২৪১]

[৪০] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমার সালাত থেকে অপর জুমার সালাত এবং এক রমজান মাসের রোজা হতে অপর রমজান মাসের রোজা সেসব গুনাহের জন্য কাফফারা হয়, যা এর মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে থাকে; যখন কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।[২৪২]

[৪১] আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি দিনে-রাতে ১২ রাকাত সুন্নাত নামাজ আদায়ে করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে রাখেন।'[২৪৩]

[৪২] ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ ছেড়ে দিলে মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তির উপর থেকে তাঁর জিম্মাদারি বা রক্ষণাবেক্ষণ তুলে নেন। মুআজ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দশটি নসীহত করেন, তার মধ্যে বিশেষ একটি এটাও যে তুমি ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ ত্যাগ করো না। কারণ, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ ত্যাগ করল তার উপর আল্লাহ তাআলার কোনো জিম্মাদারি থাকল না।' [২৪৪]

[৪৩] নামাজ না পড়লে ইহকালেও বহু ক্ষতি সাধিত হয়। বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি আসরের নামাজ পরিত্যাগ করল তার সব আমল বরবাদ হয়ে গেল।' [২৪৫] আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য আরেকটা হাদিসে ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তির আসরের নামাজ ছুটে গেল তার পরিবারবর্গ ও ধন-সম্পদের যেন বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল।' [২৪৬]

[৪৪] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'মসজিদে প্রবেশ করার পর থেকে নামাজ শুরু হবার পূর্ব পর্যন্ত অপেক্ষার সময় নামাজের মধ্যেই গণ্য হয়। অর্থাৎ, সেই ব্যক্তির আমলনামায় নামাজ পড়ার সওয়াব যোগ হতে থাকে।' [২৪৭]

[৪৫] উল্লেখ্য, এই কথাগুলো সাহাবীদের। এটা হাদিস হয়। এটা সরাসরি নবীজির কথা নয়! এই উক্তি শুনে কেউ নিজেকে এবং অন্যের দিকে আঙ্গুল তুলে 'কাফির' স্যব্যস্ত করা শুরু করবেন না, ইনশাআল্লাহ। বরং এর গুরুভার বুঝে নামাজের ব্যাপারে আরও সচেতন হই যেন কাউকেই এই ভয়ে থাকতে না হয়।

[৪৬] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফিরিশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি যে একটি গাভি কুরবানি করে। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। তারপর ইমাম যখন বের হন তখন ফিরিশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন।' [২৪৮]

[৪৭] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি তার নিকট থাকে। তারপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের উপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়। নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ করে থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সমস্ত সগিরা গুনাহর জন্য কাফফারা হবে।' [২৪৯]

[৪৮] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম। এই দিনে আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেয়া হবে। এই দিনে সমস্ত সৃষ্টিকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব তোমরা এই দিনে আমার উপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে।' [২৫০]

[৪৯] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত (নফল) নামাজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে নামাজ আদায় করল।' [২৫১]

[৫০] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত দুনিয়া এবং এর মধ্যে অবস্থিত সমুদয় বস্তু (আল্লাহর রাস্তায় দান করা) থেকেও উত্তম।' [২৫২]

[৫১] ফজরের সময় ফিরিশতাদের পালাবদল হয়। আর এ সময় বান্দা যা কিছু করে ফিরিশতারা আল্লাহর কাছে তা পেশ করে। এক হাদিসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিষয়টি চমৎকারভাবে তুলে ধরে বলেছেন, 'ফিরিশতারা পালাবদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। আসর ও ফজরের সালাতে উভয় দল একত্র হন। অতঃপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞেস করেন, আমার বান্দাদের কোনো অবস্থায় রেখে এলে? অথচ তিনি তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। জবাবে তারা বলেন, আমরা তাদের নামাজে রেখে এসেছি, আর আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনও তারা নামাজরত ছিলেন।' [২৫৩]

[৫২] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, তারপর সূর্য ওঠা পর্যন্ত বসে বসে আল্লাহ তাআলার যিকির করে, তারপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করে তার জন্য একটি হজ ও একটি উমরার সওয়াব রয়েছে। [২৫৪]

[৫৩] ফজর নামাজ আদায়ের জাগতিক উপকারের কথা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবে বলেছেন, 'তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাৎ অংশে তিনটি গিঁট দেয়। প্রতি গিঁটে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাকো। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঁট খুলে যায়, ওযু করলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়, অতঃপর সালাত আদায় করলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় উৎফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে ওঠে কলুষ-কালিমা ও আলস্য নিয়ে।'[২৫৫]

[৫৪] বিখ্যাত তাবেয়ী আবু বকর বিন উমারাহ তার পিতা রুআয়বাহ থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, 'এমন কোনো ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না যে সূর্যোদয়ের আগের এবং সূর্যাস্তের আগের অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামাজ আদায় করে।' [২৫৬]

[৫৫] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আউয়াল ওয়াক্তে সালাত আদায়ের কী ফযিলত, তাহলে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করে আগেভাগে আসার চেষ্টা করত। মানুষ যদি জানত, সালাতের প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে কী ফযিলত রয়েছে, তবে তা পাবার জন্য লটারি করত। মানুষ যদি জানত, এশা ও ফজরের সালাতের কী ফযিলত, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা মসজিদে উপস্থিত হতো। [২৫৭]

[৫৬] আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী জানত এটা তার কত বড় অপরাধ, তাহলে সে মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (দিন/মাস/বছর) দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করত। আবুন নাযর রহ. বলেন, আমার জানা নেই তিনি কি চল্লিশ দিন বা মাস কিংবা চল্লিশ বছর বলেছেন। [২৫৮]

[৫৭] যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'কেউ উত্তমরূপে ওযু করে নির্ভুলভাবে দুরাকাত সালাত আদায় করলে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।' [২৫৯]

[৫৮] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'জামাতে নামাজ আদায়ের সময় যখন ইমাম আমিন বলে, তখন তোমরাও আমিন বলো। যার আমিন বলা ফিরিশতাদের আমিন বলার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।' [২৬০]

[৫৯] আবু মালিক আলি আশআরি রা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। 'আলহামদুলিল্লাহ' মিযান বা (হিসাবের) পাল্লাকে ভারী করে দিবে। সুবহানআল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান পরিপূর্ণ করে দেয়। সালাত হলো নূর বা আলোকবর্তিকা। দান-সাদাকা দলীল। ধৈর্য উজ্জলতা। কুরআন তোমার পক্ষে বা বিপক্ষে দলীল। প্রতিটি মানুষ সকাল করে, অতঃপর সে নিজেকে বিক্রয় করে, তাতে সে মুক্তিপ্রাপ্ত হয় অথবা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ কর্মে লিপ্ত থাকে। তাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেকে তাঁর কাছে বিক্রি করে দেয়, ফলে নিজেকে শাস্তি ও জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে নেয়। আবার কেউ শয়তান ও প্রবৃত্তির কাছে নিজেকে বিক্রি করে, তার তাবেদারী করে। ফলে নিজের ধ্বংস ডেকে নিয়ে আসে।” [২৬১]

টিকাঃ
[২০৪] সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৬৬৭
[২০৫] সহীহ তারগীব ৫০৫
[২০৬] রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১০৯৮
[২০৭] তিরমিজি
[২০৮] মুসনাদু আহমাদ: ৬২৮৮
[২০৯] সহীহ বুখারী: ৬২২
[২১০] সহীহ মুসলিম: ১০৭০
[২১১] সহীহ বুখারী: ৬০৯
[২১২] সহীহ মুসলিম: ৩৬৯
[২১৩] সহীহ বুখারী: ৫৭৪
[২১৪] তিরমিজি, হাদিস : ৪৫৬
[২১৫] রিয়াদুস সালেহিন ১১
[২১৬] রিয়াদুস সালেহিন: ১৪৯৮
[২১৭] মুসনাদু আহমাদ: ২১৮৫৯
[২১৮] আল-মওসুআতু লিত-তবরানি: ২৩৮৩
[২১৯] সুনানুত তিরমিজি: ১৭৩
[২২০] সুনানুত তিরমিজি: ৩৫৪৯
[২২১] সহীহ বুখারী: ১৩৬
[২২২] সহীহ মুসলিম: ২৪৫
[২২৩] সহীহ মুসলিম: ২৪৪
[২২৪] মিশকাত, হাদিস : ৫৭০
[২২৫] বায়হাকি, হাদিস : ২৫৫০
[২২৬] মুয়াত্তায়ে মালিক, হাদিস : ৩৮৯
[২২৭] আবু দাউদ, হাদিস: ৭৯৬
[২২৮] আবু দাউদ ১/৫৩৩; সহীহ আল-জামে ৭২২৪
[২২৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি; বুখারী শরীফ, প্রথম খণ্ড, ঈমান অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৩৮ হাদিস ৪৮
[২৩০] আহমাদ, ২৯৯
[২৩১] মু'জামুল কাবীর, ১৫৮
[২৩২] বুখারী
[২৩৩] আহমাদ
[২৩৪] তিরমিজি
[২৩৫] দারেমী, ফতওয়ায়ে রযভীয়্যাহ
[২৩৬] তাবরানী
[২৩৭] আহমাদ
[২৩৮] বুখারী ও মুসলিম
[২৩৯] ইবনু মাজাহ ৩৯৪৫
[২৪০] মুসনাদ আহমাদ
[২৪১] সহীহ বুখারী: ৬৫৭, সহীহ মুসলিম: ৬৫১
[২৪২] সহীহ মুসলিম: ২৩৩
[২৪৩] আন-নাসায়ী ১৭৯৫
[২৪৪] মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৩৮
[২৪৫] বুখারী, হাদিস : ৫৫৩, ৫৯৪
[২৪৬] বুখারী, হাদিস : ৫৫২; মুসলিম, হাদিস : ৬২৬
[২৪৭] রিয়াদুস সালেহিন ১১
[২৪৮] বুখারি, হাদিস : ৯২৯
[২৪৯] আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৩
[২৫০] আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭
[২৫১] মুসলিম, হাদিস : ১৩৭৭
[২৫২] নাসায়ী ১৭৫৯
[২৫৩] বুখারী, হাদিস : ৫৫৫
[২৫৪] তা'লীকুর রাগীব ১/১৬৪, ১৬৫, মিশকাত ৯৭১
[২৫৫] বুখারী, হাদিস: ১১৪২
[২৫৬] মুসলিম, হাদিস : ১৩২২
[২৫৭] সহীহ বুখারী ৭২১
[২৫৮] সহীহ বুখারী ৫১০
[২৫৯] আবু দাউদ ৯০৫
[২৬০] ইবনু মাজাহ ৮৫১
[২৬১] সহীহ তারগিব ১৮৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00