📘 নামাজে মন ফেরানো > 📄 পারফেক্ট কথন এবং নামাজ

📄 পারফেক্ট কথন এবং নামাজ


আমার বিয়ের সময় আমি বেশ কিছু পারফিউম গিফট পেয়েছিলাম। তবে ইসলামিক অনুশাসন মেনে নিজের সম্ভ্রম এবং লজ্জাকে হিফাজত করতে পারফিউম অথবা সুগন্ধি মেখে বাইরে যাওয়া আমার অভ্যাসের মধ্যে ছিল না। এটা সত্য যে, এত সুন্দর সুন্দর পারফিউমের বক্স এবং শিশিতে ভরা আকর্ষণীয় সুগন্ধী দেখে আমারও দিতে ইচ্ছা হতো।

একদিন আমার এক কুরআন শিক্ষিকার ক্লাসে শুনলাম যে, তিনি নামাজ পড়ার আগে সবচেয়ে সুন্দর জামাটা পরে এবং সুগন্ধী মেখে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে তারপর নামাজে দাঁড়াতেন। সেখান থেকেই মাথায় আইডিয়া আসলো তাহলে আমিও তো নামাজে দাঁড়ানোর আগে নিজেকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে সাজিয়ে আল্লাহর জন্য সুগন্ধযুক্ত পারফিউম লাগিয়ে নামাজে দাঁড়াতে পারি। (অবশ্যই এমন পরিবেশে যেন কোনো নন-মাহরাম পুরুষ সেই গন্ধ না পায়)। এবং অদ্ভুত ব্যাপারটি হচ্ছে এই ছোট্ট কাজটি করার পর থেকে আমার মনে হলো যে, নামাজে আমার মনোযোগ বেড়ে যাচ্ছে এবং কিছুটা হলেও মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হচ্ছে। আমি কল্পনা করি যে, ফিরিশতারাও আমার চারপাশে সুন্দর সুগন্ধীর সাথে ভিড় জমাচ্ছে! সুবহানআল্লাহ!

*****

আমরা যখন কোনো ভালো জায়গায় যেতে চাই যেমন বিয়ের অনুষ্ঠান, অফিসের মিটিং, চাকরীর ইন্টারভিউ; তখন সবচেয়ে সুন্দর কাপড়টা পরে, অনেক সময় নিয়ে আমরা নিজেদেরকে সাজাই। কারণ, আমাদের কাছে সেই অনুষ্ঠানে অথবা আয়োজনে সুন্দর দেখাটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। অথচ নামাজ পড়াটা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এই ইবাদত যা কি না দিনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ! তখন সর্বোত্তমভাবে নিজেকে আল্লাহর সামনে তুলে ধরাটা কী আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না? এক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আমরা আমাদের বাসার ময়লা কাপড়, মসলা মাখানো, ঘামের গন্ধযুক্ত জামাটা নিয়েই নামাজে দাঁড়িয়ে যাচ্ছি!

কোনোমতে নামাজটা শেষ করেই বের হয়ে আসছি। যার জন্য নামাজটা আমাদের কাছে একটা গড়পড়তা কাজের মতো হয়ে যায়। এটা আমাদের অন্তরে গাঁথে না। কিন্তু যদি আমরা মাত্র ৫ মিনিট সময় নিয়ে একটা ভালো কাপড় পরি। নামাজের আগে নিজেদেরকে একটু সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিই, তাহলে এই কাজটা করার জন্য আল্লাহ আমাদের প্রশংসা করবেন এবং আমাদের নামাজে এবং জীবনে প্রকৃত সাফল্য এবং খুশু আসবে ইনশাআল্লাহ।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে আমার গিফট বক্সের শেষ পারফিউমটিও কয়দিন আগে শেষ হয়ে গেল। জিনিসটা ঘরে বেকার পড়ে রইলো না বরং একটা ইবাদতে পরিণত করে কাজে লাগানো গেল আলহামদুলিল্লাহ। আমাদেরও উচিত সবচেয়ে সুন্দর কাপড়টা পরে, সুন্দরভাবে নিজেকে গুছিয়ে সুগন্ধি লাগিয়ে তারপর আল্লাহর সামনে নামাজের জন্য দাঁড়ানো। আল্লাহ আল-জামিল, সবচেয়ে সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য ভালোবাসেন।

*****

মাঝে মাঝে কাজের চাপে খুব অস্থির লাগে। মনে হয় দশ দিক থেকে আমাকে টানা হচ্ছে আর মাঝখানে আমি বজ্রের আঘাত খেয়ে বসে আছি। কোনো দিকেই যেতে পারছি না! তখনই মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে শুনি নামাজের আহ্বান, 'আল্লাহু আকবার... আল্লাহু আকবার...' আমাকে ডাকতে থাকে, 'নামাজের দিকে আসো, কল্যাণের দিকে আসো।' আযান শোনার পর দিশাহীন এই অগোছালো আমি অন্তত একটা দিকে যাবার পথ খুঁজে পাই। এলোমেলো টেবিলটা ওভাবেই ফেলে চলে যাই রবের কাছে নিজের আত্মাকে গুছিয়ে নিতে। এটা যে কতটা উপকারী এবং শক্তিশালী অনুশীলন যে কোনোদিন এর স্বাদ পায়নি তাকে বোঝানো কঠিন।

*****

মুহাম্মাদ ফারিস তার 'প্রোডাক্টিভ মুসলিম' বইতে নিজের জীবনের এমন একটা ঘটনা লিখেছিলেন। ঘটনাটা এমন... একবার তাদের এলাকায় বড় ধরনের বন্যা হয়, যার ফলে তাদের বাড়ির অনেকটা অংশই ডুবে যায়। লেখক হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে নিজের সাজানো ঘরটাকে বসবাসের অযোগ্য হয়ে যেতে দেখতে থাকেন। এরকম পরিস্থিতিতে মাথা ঠিক রাখা দায়!

ঠিক ওই সময় তিনি শুনলেন যে আযান পড়ছে। সাথে সাথে তিনি মসজিদের দিকে হাঁটা দিলেন। ওই ওলটপালট অবস্থা থেকে বের হয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে মনটা শান্ত করে নিলেন। মাথা ঠান্ডা হলে পরবর্তী কাজ সম্পাদনের একটা দিশা পেলেন।

যখন প্রচণ্ড মন খারাপের দিনে কিছুই করতে ইচ্ছা করে না, হতাশায় শুধু মনে হয় ঘরের এক কোণে গিয়ে বসে থাকি, তখনই একজন মুসলিম নামাজের জন্য উঠে দাঁড়ায় রবের কাছে গিয়ে নিজেকে গুছিয়ে আনতে। আলহামদুলিল্লাহ, এভাবেই নামাজ একজন মুসলিমের মনোবল চাঙা করে এবং শক্তি বৃদ্ধি করে।

প্রতিটা কথা আমার নিজের জন্য সবার আগে রিমাইন্ডার।[১৭১]

টিকাঃ
[১৭১] শারিন সফি অদ্রিতা

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00