📘 নামাজে মন ফেরানো > 📄 নামাজের মধ্যে

📄 নামাজের মধ্যে


■ নামাজের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় হাত-পা নাড়ানো উচিত নয়। যত কম অহেতুক নাড়াচাড়া করবেন, তত বেশি নামাজে মনোযোগ বাড়বে। মাঝে মাঝে বোনেদেরকে দেখি, নামাজের মধ্যে বারবার মাথার ঘোমটা বা হিজাব ঠিক করছেন। আমাদের বোনেদের উচিত হিজাবটা সুন্দর করে টাইট করে বেঁধে তবেই নামাজে দাঁড়ানো। যেন নামাজের মধ্যে বারবার হিজাব ঠিক করতে না হয়। এমন কাপড়ের হিজাব আমরা পরব না যেটা পিচ্ছিল বা সিল্ক জাতীয় এবং এর ফলে বারবার মাথা থেকে হিজাব পড়ে যেতে চাইবে এবং নামাজের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাবে।

■ নামাজের মধ্যে চোখের দৃষ্টি সিজদার জায়গার দিকে স্থির রাখা উচিত। আড়চোখে এদিকে-সেদিকে তাকানো থেকে বিরত থাকা নামাজের খুশু বাড়িয়ে দিবে।

📘 নামাজে মন ফেরানো > 📄 নামাজ শেষে

📄 নামাজ শেষে


■ নামাজ শেষ করে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে একটু যিকির করা। নামাজ শেষে পড়ার জন্য দুআ-যিকির নিয়ে আমরা দুআ এবং যিকির অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

■ নামাজ শেষে নিজেকে জিজ্ঞেস করা, যেই নামাজটা মাত্র পড়লাম এটা কি আল্লাহর দরবারে পেশ করার মতন? এই নামাজ কি কবরে আমার জন্য আলো হয়ে আসবে? না কি যারা নামাজের হক আদায় করতে পারেনি তাদের নামাজের মতন আমার নামাজকেও দুর্গন্ধময় কাপড়ে পেঁচিয়ে আমার মুখে ছুঁড়ে ফেলা হবে? আমি পরেরবার আমার নামাজকে আরো সুন্দর করতে কী করতে পারি?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'আল্লাহর নিকট কোন আমল সবচেয়ে বেশি প্রিয়?' তিনি বলেন, 'সময়মতো সালাত আদায় করা।' আবার জিজ্ঞাসা করা হলো, 'তারপর কোনটি?' উত্তরে তিনি বলেন, 'মাতাপিতার সাথে সদাচরণ করা।' আবার জিজ্ঞাসা করা হলো, 'তারপর কোনটি?' উত্তরে বললেন, 'আল্লাহর পথে জিহাদ করা।[১৬২]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তুমি বেশি করে আল্লাহর জন্য সিজদা-সালাত আদায় করতে থাকো। কারণ, তোমার প্রতিটি সিজদার কারণে আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তোমার গুনাহ মাফ করবেন।' [১৬৩]

আল্লাহ তাআলা বলেন, 'এবং তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। অবশ্যই তা কঠিন কিন্তু বিনীত বান্দাদের জন্য নয়। যারা ধারণা করে যে নিশ্চয়ই তারা তাদের প্রতিপালকের সাথে মিলিত হবে এবং তারা তাঁরই দিকে প্রতিগমন করবে।' [১৬৪]

'মুমিনগণ সফলকাম, যারা তাদের সালাতে নম্রতা ও ভীতির সাথে দণ্ডায়মান হয়।' [১৬৫]

অতঃপর বলুন, 'আর যারা তাদের সালাতে যত্নবান, তারাই জান্নাতের ওয়ারিশ; যারা ফিরদাউসের ওয়ারিশ হবে এবং তথায় তারা চিরকাল থাকবে।' [১৬৬]

ইয়া রব্বুল আলামিন, আমাদেরকে এমনভাবে সালাত আদায়ের তাওফিক দিন যেটা আমাদের দ্বীন, দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য কল্যাণের উৎস হয় এবং আপনার সন্তুষ্টি ও জান্নাত অর্জনের উসিলা হয়। আমিন。

টিকাঃ
[১৬২] বুখারী : ৪৯৬
[১৬৩] মুসলিম : ৭৩৫
[১৬৪] সূরা বাকারা: ৪৫-৪৬
[১৬৫] সূরা মুমিনুন ২৩: ১-২
[১৬৬] সূরা মুমিনুন ২৩ : ৯-১১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00