📘 নামাজে মন ফেরানো > 📄 নবীদের দুআ থেকে শিক্ষা

📄 নবীদের দুআ থেকে শিক্ষা


[এক].
যাকারিয়া আলাইহিস সালাম অত্যন্ত বৃদ্ধ অবস্থায় আল্লাহর কাছে সন্তানের জন্য দুআ করেন,
“হে আমার পালনকর্তা! বয়সের ভারে আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে গিয়েছে আর আমার চুলগুলো পেকে সাদা হয়ে গিয়েছে। ইয়া রব! আমি তো আপনাকে ডেকে কখনোই অখুশি হইনি! আমি ভয় করছি আমার পরবর্তী উত্তরাধিকার নিয়ে।” [১০৭]

যাকারিয়া আলাইহিস সালাম চিন্তায় পড়ে যান যে, তিনি সন্তানহীন অবস্থায় পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলে তার দ্বীন প্রচারের মিশনটাকে কে এগিয়ে নিয়ে যাবে? তিনি আল্লাহর কাছে সন্তান চাইলেন। শুধু তাই নয়, তিনি বলেছেন তিনি আল্লাহকে ডেকে কখনো অখুশি হননি! অর্থাৎ এই যে এত বছর ধরে তিনি আল্লাহর কাছে দুআ করে গিয়েছেন, এই পুরো প্রক্রিয়াতে তিনি অখুশি হননি! উত্তর তার মনমতো হোক বা না হোক, তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেননি, তাড়াহুড়া করেননি! আমরা কি এভাবে বলতে পারব যে, “ইয়া রব! সারা জীবন এভাবে তোমার কাছে চেয়ে চেয়ে আমি কখনো অসন্তুষ্ট হইনি! চাওয়াটাই আনন্দ! আপনি যেভাবেই কবুল করুন না কেন!"

আল্লাহু আকবার! আল্লাহ তার দুআ কবুল করলেন এবং তাকে একজন পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিলেন। যাকারিয়া আলাইহিস সালাম ভীষণ অবাক! তিনি ভাবছেন, এত বৃদ্ধ অবস্থায় আমার স্ত্রীর জন্য জীববিজ্ঞানের সমস্ত নিয়ম অনুযায়ী সন্তান ধারণের কোনো অবস্থাই নেই, সেখানে তিনি কীভাবে সন্তানের জন্ম দিবে? আল্লাহ বললেন, আল্লাহর জন্য সবই সহজ। তিনি বলেন “হও” আর এটা হয়ে যায়। সুবহানআল্লাহ!

[দুই].
মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে দুআ করলেন যে, আল্লাহ যেন তার জিহ্বার গিঁট খুলে দেন। তিনি যেন ফিরাউনের সামনে গিয়ে স্পষ্ট এবং সুন্দরভাবে কথা বলে তাকে আল্লাহর পথে ডাকতে পারেন। মুসা আলাইহিস সালামের ছোটবেলা থেকেই মুখের কথায় জড়তা ছিল। কিছুটা আটকে যেত তার কথা, অনেকটা Stuttering বা তোতলানোর মতন। তিনি ফিরাউনের কাছে যাবার আগে আল্লাহকে বললেন, আল্লাহ যেন তার জিহ্বার সেই জড়তা কাটিয়ে দেন। মুসা আলাইহিস সালাম বলেন,
“হে আমার পালনকর্তা, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। এবং আমার পরিবারবর্গের মধ্য থেকে আমার একজন সাহায্যকারী করে দিন। আমার ভাই হারুনকে। তার মাধ্যমে আমার কোমর মজবুত করুন। এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন। যাতে আমরা বেশি করে আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি। এবং বেশি পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি। আপনি তো আমাদের অবস্থা সবই দেখছেন।” [১০৮]

আল্লাহ বললেন,
| “হে মুসা, তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হলো।” [১০৯]

সুবহানআল্লহ! এখানে একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন? যাকারিয়া আলাইহিস সালাম বা মুসা আলাইহিস সালাম কতটা আদব এবং স্বচ্ছ নিয়তের সাথে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছেন? তারা আল্লাহর কাছে দুইটা বিশেষ জিনিস চাইলেন। এবং তাদের নিয়ত হচ্ছে, তারা এই কাঙ্ক্ষিত দুআর বস্তু ব্যবহার করে আরো আন্তরিকভাবে যেন আল্লাহর কাজ করতে পারেন! যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তার সন্তানের মাধ্যমে তার বংশে আল্লাহর দ্বীনের কাজ জারি রাখবেন। মুসা আলাইহিস সালাম স্পষ্ট কথা বলার ক্ষমতা দিয়ে ফেরআউনকে আল্লাহর দিকে ডাকবেন! তারা আল্লাহর জন্য মেহনত করবেন বলে বিশুদ্ধ নিয়তে কিছু চাচ্ছেন। আল্লাহ তাদেরকে সেটাই দিলেন।

আমরা আল্লাহর কাছে যেই জিনিসগুলো চাই—আসলে কেন চাই? শুধু নিজের খায়েস মেটাতে? নাকি এর চেয়ে মহৎ কোনো উদ্দেশ্য আছে?

নিজের মনের ইচ্ছা পূরণের জন্য চাওয়াটা দোষের কিছু না। তবে, আল্লাহ আমাদেরকে শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন এটাও সত্য। নিজেদের ইচ্ছাগুলোকে আর দুআগুলোকে যখন আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী একই রেখায় নিয়ে আসতে পারব, তখন আমাদের অন্তরে না পাওয়ার হাহাকার অনেক কমে যাবে। এই আদর্শটা ঠিক রাখলে জীবনের চাওয়া-পাওয়ার অঙ্কের হিসাব অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ!

সেই সাথে আপনি যখন আপনার দুআ নিয়ে পুলকিত এবং আনন্দিত থাকবেন, তখন সেটা আপনার নামাজকেও জীবন্ত করবে! আপনার মনে হবে, ইস! সিজদায় গিয়েই এখন রবের কাছে মন খুলে চাইব। সুবহানআল্লাহ!

টিকাঃ
[১০৭] সূরা মারইয়াম ১৯ : ৩-৬ ভাবানুবাদ
[১০৮] সূরা ত্বহা ২০ : ২৫-৩৫
[১০৯] সূরা ত্বহা ২০: ৩৬

📘 নামাজে মন ফেরানো > 📄 নামাজ শেষে যিকির

📄 নামাজ শেষে যিকির


নামাজটা শেষ হলেই মনে হয় এই মুহূর্তে জায়নামাজ গুটিয়ে দৌড় দিতে হবে! ইস, দুনিয়ার কত কাজ পড়ে আছে! অথচ দুনিয়ার কোন কাজটা আল্লাহর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে জায়নামাজে কিছুক্ষণ আল্লাহর সাথে একান্ত সময় কাটানোর মাঝপথে আমরা সেই কাজকে দাঁড় করিয়ে দেই?

জায়নামাজে বসে অল্প কিছু মিনিটের যিকির বাকি পুরোটা সময় অন্তরকে ঠান্ডা রাখে। খুব মোলায়েমভাবে আল্লাহর সাথে কথোপকথন শেষ করে অন্তর দুনিয়াবী কাজে ফিরে যায়। এর বিপরীতে ঠাসঠুস করে নামাজটা শেষ করেই দুনিয়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লে পরে ঈমানে, অন্তরে আর শরীরে নামাজের মিষ্টতার আমেজ বজায় থাকে না।

আমরা কি চাই না আল্লাহর পবিত্র ফিরিশতারা আমাদের জন্য দুআ করুক? নিশ্চয়ই খুব করে চাই। কারণ, ফিরিশতারা দুআ করলে সেই দুআ কবুল হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই সীমাহীন বরকত আমরা লাভ করতে পারি নামাজের পর একটু খানি সময় নামাজের জায়গায় বসে থেকে।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“ফিরিশতাগণ তোমাদের প্রত্যেকের জন্য দুআ করেন, যতক্ষণ সে ওই স্থানে অবস্থান করে, যেখানে সে সালাত আদায় করেছে, যতক্ষণ না তার ওযু নষ্ট হয়ে যায়। তারা বলতে থাকেন, 'হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ, তার প্রতি সদয় হও'।”[১১০]

নামাজ শেষ করে জায়নামাজে বসেই খুব অল্প সময়ে এমন কিছু আমল করে ফেলা যায়। আমি এখানে আমার প্রিয় কিছু আমল উল্লেখ করছি ইনশাআল্লাহ।

টিকাঃ
[১১০] সহীহ বুখারী: ৪৪৫

📘 নামাজে মন ফেরানো > 📄 ইস্তিগফার—যে দুআ সকল মুশকিল আহসান করে দেয়

📄 ইস্তিগফার—যে দুআ সকল মুশকিল আহসান করে দেয়


আল্লাহ তাআলার কাছে কোনোকিছু চাওয়ার আগে, আমাকে এবং আপনাকে তাঁর নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। আমার-আপনার যে প্রয়োজনগুলো আছে সেগুলো চাওয়ার পূর্বে আমাদেরকে আল্লাহর নিকট পরিপূর্ণ আন্তরিকার সাথে ক্ষমা চাইতে হবে। এটা শোনার পর আপনি হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারেন, ক্ষমা চাওয়ার জন্য কোন দুআ পড়তে হবে বা ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দুআ কোনটি?

মানুষ বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বা ঘটনা উপলক্ষে বিভিন্ন রকমের দুআ করে থাকে। যেমন, একজন সন্তান-সম্ভাবা মা এসে জিজ্ঞেস করেন, কিছুদিনের মধ্যে আমার বাচ্চা হবে, এখন আমার জন্য কোন দুআ করলে ভালো হবে? অথবা কেউ একজন এসে জিজ্ঞেস করল, আমি চাকরীর পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি, কোন দুআটি আমি এখন করতে পারি? আমাকে বিশেষ সময় উপলক্ষ্যে বিশেষ দুআ বলে দিন। এমন আবদারের প্রেক্ষিতে আমরাও বিশেষ দুআর কথা বলে থাকি।

একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছি।

বিশেষ সময়ের ঐ দুআগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেগুলো পবিত্র এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদেরকে সেগুলো শিক্ষা দিয়েছেন, করতে বলেছেন। কিন্তু যদি প্রশ্ন করেন, এমন কোনো দুআ কি আছে, যেটা আমরা সকল সমস্যার সমাধানে পড়তে পারব? বলব হ্যাঁ; সকল সমস্যার ক্ষেত্রে কমন (সার্বজনীন) দুআ হলো—আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা। যে একটি দুআ আপনার সকল সমস্যা দূর করবে তা হলো, সত্যিকারভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

নূহ আলাইহিস সালাম তার জাতিকে আল্লাহর দিকে ডেকেছিলেন ৯০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। তিনি তার জাতিকে অবিরাম দাওয়াত দিয়ে গেছেন। তিনি তাদের নিকট শুধু একটি বার্তা নিয়ে যাননি। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে শুধু একবার বা দুইবার কথা বলেননি। তিনি বলেন, “হে আমার পালনকর্তা, আমি আমার সম্প্রদায়কে দিবা-রাত্রি দাওয়াত দিয়েছি।”[১১১]

তিনি দিনের পাশাপাশি রাতেও কোনো বিরতি নেননি। প্রতিনিয়ত তাদের দাওয়াত দিয়ে গেছেন। পবিত্র কুরআনে তার নামে একটি সূরা নামকরণ করা হয়েছে। সূরা 'নূহ'। এই সূরাতে তিনি তার সম্প্রদায়কে গোটা সময় ধরে যে দাওয়াত দিয়ে গেছেন তার একটা সারমর্ম তুলে ধরা হয়েছে। এখানে নূহ আলাইহিস সালামের ভাষ্য হলো; আমি গোটা সময় ধরে তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, যাতে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন ইয়া রব। আল্লাহ বলেন—
"আর আমি প্রতিটি সময় তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি এই বিশ্বাসের পথে আসতে, যাতে ইয়া রব আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিতে পারেন।" [১১২]

ঠিক এই কথাগুলো আমি তাদেরকে বারবার বলেছি। বারবার বলেছি। অতঃপর বলেছি, “তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।” [১১৩] নিশ্চয়ই আল্লাহ হলেন এমন সত্তা, যিনি বারবার, বারবার এবং বারবার ক্ষমা করতে থাকেন।

এরপর তিনি যা বলছেন, তা খুবই অসাধারণ। এর আগে আমি চাই আপনারা এই বিষয়টা উপলদ্ধি করুন যে, তিনি কোন ধরনের মানুষদের উদ্দেশ্যে কথা বলছিলেন। তিনি ইতিহাসের অন্যতম মন্দ একটি সম্প্রদায়ের ব্যাপারে কথা বলছিলেন। কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে পৃথিবীর অন্যতম চরম অবাধ্য জাতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা আজ জারিয়াতে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জাতি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে অর্থাৎ তাদের নিকট প্রেরিত রাসূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। ফলে গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। তারপর সূরা আন-নাজম এ যখন নূহ আলাইহিস সালামের জাতির কথা আসলো; তখন তিনি বললেন, “এবং তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে, তারা ছিল অতিশয় সীমালঙ্ঘনকারী (জালিম) ও চরম অবাধ্য।” [১১৪]

এখানে আরো একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়। তা হলো; অন্যান্য নবীর উম্মতের মতো তাদের শুধু এক প্রজন্মের জন্য নবী ছিলেন না নূহ আলাইহিস সালাম। প্রতি শতাব্দীতে, তিন-চার প্রজন্ম মানুষের জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তাদের একজনই নবী ছিল। প্রতি বিশ বছর পর পর নতুন নতুন প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটে আর নূহ আলাইহিস সালাম এটা দেখেছিলেন শতাব্দীর পর শতাব্দী, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে! তিনি চল্লিশ-পঞ্চাশ কিংবা তার বেশি প্রজন্মের মানুষদের দেখেছিলেন আর তারা সবাই তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। আর তিনি সকল প্রজন্মকে একই দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদেরকে বারবার তিনি আশার বাণী শুনিয়েছেন? তিনি বলেছেন- “তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।”

কিন্তু তার প্রস্তাব এখানেই থেমে থাকেনি। তিনি তার জাতিকে বলেন, যদি তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, তাহলে তিনি তোমাদের জন্য আসমানের দরজা খুলে দিবেন। আর এটা তোমাদের উপর অঝোর ধারায় করুণা বর্ষণ করবে। এর দ্বারা বৃষ্টিও বোঝানো হতে পারে। পরিহাসের বিষয় হলো, এখানে বৃষ্টি দ্বারা বন্যার ইঙ্গিত করা হয়নি। যদিও শেষমেশ তারা বন্যা কবলিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

এই আয়াতে আল্লাহ ভিন্ন ধরনের বৃষ্টির কথা বলেছেন। যদি তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত, যে বৃষ্টি তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিল, সেই বৃষ্টি হতে পারত তাদের জন্য জীবন আহরণকারী। তোমরা যদি ক্ষমা প্রার্থনা করো, আকাশের দরজা তোমাদের জন্য খুলে যাবে আর তা বৃষ্টি বর্ষণ করতে থাকবে। আকাশ শুধু বৃষ্টি নয়, রহমতও বর্ষণ করতে পারে। আকাশ থেকে আসে ক্ষমা, আকাশ থেকে প্রশান্তি আসে, বিশ্বাস আসে, রিযিক আসে। সমস্যার সমাধান আসে আসমান থেকে। তিনি তোমাদের জন্য আকাশ খুলে দিবেন। আর আকাশের সকল সম্পদ তোমাদের উপর অঝোর ধারায় বর্ষিত হবে। এতদিন তোমরা রহমতের ভাগিদার হতে পারছিলে না, কারণ তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করোনি। তাই, এখন ক্ষমা চাইলে এটা খুলে যাবে।

আপনি সাধারণত একটা একটা করে আপনার সমস্যাগুলোর কথা আল্লাহকে বলেন। আপনার এমন সমস্যাও থাকতে পারে যার কথা আপনি নিজেও জানেন না, কিন্তু আল্লাহ জানেন। আপনি আর আমি যদি সত্যিকার অর্থে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারি, তাহলে সেই অজানা সমস্যাগুলোও স্বর্গীয় হস্তক্ষেপে সমাধান হয়ে যাবে।

আল্লাহ সুবহানু তাআলা এখানেই থেমে যাননি! আল্লাহ বলেন, “যদি তোমরা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, তাহলে তোমাদের ধন- সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিব।” [১১৫]

তিনি ধন-সম্পদ এবং সন্তান দিয়ে আপনাদের জীবন সমৃদ্ধ করে দিবেন। এমন সম্পদ নয় যা আল্লাহর কাছ থেকে আপনাকে দূরে সরিয়ে দিবে; কারণ, এই সম্পদ দেয়ার কথা এসেছে আপনার ক্ষমা চাওয়ার প্রেক্ষাপটে। তিনি আপনাকে ভালো সম্পদ দিবেন, যা আপনার জন্য দুনিয়াতে এবং আখিরাতে কল্যাণ নিয়ে আসবে। তিনি আপনাদের ভালো সন্তান দান করবেন, যারা আপনাদের জীবিত থাকা অবস্থায় ভালো কাজ করবে। তারা আপনাদের সম্মান করবে, ভালোবাসা দেখাবে, আনুগত্য করবে, আপনি তাদের দেখে গর্বিত হবেন। তারা জীবিত থাকা অবস্থায় আপনাকে সুখী করবে। এমনকি আপনি দুনিয়া থেকে চলে গেলেও ভালো কাজ করতে থাকবে, যা সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে আপনার আমল নামায় যুক্ত হতে থাকবে। আল্লাহ আপনাকে এই সবকিছু দান করবেন।

প্রসঙ্গত এই দুই শব্দ; সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি এই সূরার শেষের দিকে একটি আয়াতেও এসেছে। আল্লাহ বলেন- “নূহ বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় আমাকে অমান্য করেছে আর অনুসরণ করেছে এমন লোককে, যার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কেবল তার ক্ষতিই বৃদ্ধি করেছে।”[১১৬]

এই আয়াতে বলা হচ্ছে; ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি ক্ষতির উপকরণ। কিন্তু আপনার ক্ষমা চাওয়ার পরে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আসবে, তা আপনার জন্য কল্যাণ নিয়ে আসবে। একই সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি, পার্থক্য হলো এখন তাদের উপর আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত আছে। বিষয়টা এমন, যেন তারা দূষিত হয়ে গিয়েছে যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর ক্ষমার মাধ্যমে তাদের পরিশুদ্ধ করে দেন।

আল্লাহ বলেন, "তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও।” আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে আপনি কী কী সুবিধা পাবেন? আল্লাহ আপনার জন্য আকাশের দুয়ার এমনভাবে উন্মুক্ত করে দিবেন যা আপনার জন্য অকল্পনীয়।
■ আপনি সঠিক দিক-নির্দেশনা পাবেন।
■ আপনার বুঝ-ব্যাবস্থার উন্নতি হবে।
■ আপনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
■ আপনাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন।
■ এটাই শেষ নয়, আল্লাহর আরো বলছেন, "তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দিবেন আর দিবেন নদী-নালা।" [১১৭]

এসব আল্লাহর ওয়াদা। আল্লাহ আপনাকে এই সব দিবেন যদি আপনি শুধুমাত্র ক্ষমা প্রার্থনা পারেন। আপনি যেকোনো কিছুর জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে পারেন অথবা শুধু ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকুন, তাহলে আপনার সব চাওয়া পূরণ হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

*****
একবার হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহর কাছে সমস্যা নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি আসলো।

একজন বলল, হুজুর ক্ষেতে ফসল, ফল-ফলাদি আগের তুলনায় অনেক কম হচ্ছে। কী আমল করলে সুফল পাব? হাসান বসরি রহ. বললেন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও, বেশি বেশি ইস্তিগফার করো। লোকটা চলে গেলো।

আরেকজন এসে বলল, হুজুর বিপদে আছি। অভাব-অনটন, দুঃখ-দুর্দশা পিছু ছাড়ছে না। কী পরামর্শ দিবেন? তিনি রহ. বললেন, বেশি বেশি ইস্তিগফার করো।

আরেকজন এসে বলল, হুজুর আমাদের এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে না। আমরা কি করতে পারি? তিনি বললেন, বেশি বেশি ইস্তিগফার করো।

আরেক ব্যক্তি এসে বলল, হুজুর সন্তান-সন্ততি হচ্ছে না। কী আমল করলে আল্লাহ সন্তানাদি দান করবেন? তিনি রহ. বললেন, বেশি করে ইস্তিগফার করো। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও।

হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহর খাদিম একরাশ বিস্ময় আর কোতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হুজুর, চারজন ব্যক্তি আসলেন ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা নিয়ে। আপনি সমস্ত অভিযোগ ও অনুযোগের চিকিৎসার জন্য একই কথা বলে দিলেন এর কারণ কি? আমাকে একটু বুঝিয়ে বলবেন?

তিনি বললেন দেখো; এই সমাধান আসলে আমি দিইনি। বহুমুখী সমস্যার বিপরীতে এই একটি সমাধান দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আলামিন। আল্লাহ বলেন-
"তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল। (তোমরা তা করলে) তিনি অজস্র ধারায় তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” [১১৮]

এক. আস্তাগফিরুল্লাহ - ৩ বার
أَسْتَغْفِرُ الله
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ শেষে সালাম ফিরিয়ে তিনবার 'আস্তাগফিরুল্লাহ' বলতেন।
এখানে প্রশ্ন হলো, আমরা এইমাত্র নামাজ পড়লাম। নেকীর একটা কাজ করলাম। তাহলে ভালো একটা কাজের শেষে কেন 'আস্তাগফিরুল্লাহ' বলছি? এটার প্রজ্ঞা এবং শিক্ষা হচ্ছে, প্রকৃত ঈমানদাররা কখনোই কোনো ভালো কাজ করে 'অনেক কিছু করে ফেললাম' এরকম মনোভাব রাখেন না। আমরা ভালো কিছু করেই সেটা নিয়ে অহংকারী হয়ে যেতে পারি না। বরং যেই কাজটা করেছি সেটার মধ্যেও যে নিজেদের অজস্র ভুলত্রুটি রয়েছে—এটা স্বীকার করে নিয়ে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে নিজেদের অপারগতার জন্য ক্ষমা চাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতন শ্রেষ্ঠ মানুষ যেখানে নামাজ শেষ হতে না হতেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন, সেখানে নামাজ শেষে আমরা কি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবার আরো বেশি মুখাপেক্ষী নই! ব্যস্ততা এবং বাস্তবতার জন্য অনেকের পক্ষে জায়নামাজে বেশিক্ষণ বসে থেকে যিকির করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের মায়েদের জন্য। তবে তিন সেকেন্ডে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ বলে এই সুন্নাহ পালন করাটা কমবেশি সবার জন্য সহজতর হবে ইনশাআল্লাহ。

*****

দুই. শান্তির দুআ নামাজ শেষে তিন বার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ' বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, "আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল-জালা-লী ওয়াল ইকরাম।”
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلامُ، وَمِنْكَ السَّلامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالْإِكْرَامِ অর্থ: 'হে আল্লাহ, আপনিই শান্তি, আপনার কাছ থেকেই শান্তি আসে। আপনি বরকতময়, পরাক্রমশালী এবং মর্যাদা প্রদানকারী।'[১১৯]

*****
তিন. আয়াতুল কুরসী

ব্যাপারটা কেমন দারুণ হবে বলুন তো, যদি আপনার এবং জান্নাতের মাঝে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর কোনো পর্দাই না থাকে? সুবহানআল্লাহ! এই অসম্ভব সাফল্য অর্জন সম্ভব প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পাঠের মাধ্যমে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে তাকে জান্নাতে যাওয়া থেকে মৃত্যু ব্যতীত কোনো কিছুই বাধা দিতে পারবে না।”[১২০]

قلے ج قلے اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهَ مَا ففِي السَّمُوتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِا ذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمُوتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهَُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
উচ্চারণ: আল্লা-হু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া আল হাইয়ুল কাইয়ূমু লা-তা'খুযুহূ ছিনাতুওঁ ওয়ালা-নাওমুন লাহু মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি মান যাল্লাযী ইয়াশফা'উ 'ইনদাহুইল্লা-বিইযনিহী ইয়া'লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা- খালফাহুম ওয়ালা-ইউহীতুনা বিশাইইম মিন 'ইলমিহীইল্লা-বিমা-শাআ ওয়াছি'আ কুরছিইয়ুহুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ালা-ইয়াউদুহু হিফজু হুমা-ওয়া হুওয়াল 'আলিইয়ূল 'আজীম।

অর্থ: 'তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর আরশ সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোর সুরক্ষা দান তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।' [১২১]

*****

চার. দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দুআ
মনে পড়ে ২০২০ সালের শুরু কথা? করোনার ভয়ে সবাই তটস্থ। চাকরি হারিয়ে, প্রিয়জন হারিয়ে, জানাযা দিতে না পেরে সবাই অস্থির, এলোমেলো! জীবনে যেন বিভীষিকা নেমে এলো! আমরা অনেকেই এই কঠিন সময়ে কমবেশি ঈমান এবং তাওাক্কুলের পরীক্ষা দিয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। এই পরীক্ষারত অবস্থায় যদি কাউকে জিজ্ঞেস করি যে, আমাদের সবচেয়ে বেশি ভয়ের জায়গাগুলো কোথায়? তাহলে ঘুরেফিরে উত্তর পাব; চারপাশে এত বিশৃঙ্খলা, ফিতনা এবং অনিশ্চয়তার ভয়, মৃত্যুর ভয়, কবরের ভয় এবং শেষ পরিণাম হিসেবে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবার ভয়!

জানেন এই ভয়গুলি নিয়েই খুব প্রাসঙ্গিক এবং পাওয়ারফুল একটা দুআ আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি নামাজে তাশাহুদের পর এই দুআটি পাঠ করতেন।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“তোমাদের কেউ যখন তাশাহুদ পাঠ করবে তখন সে চারটি জিনিস থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে; জাহান্নামের শাস্তি, কবরের শাস্তি, জীবন-মৃত্যুর পরীক্ষাগুলি এবং দাজ্জালের কুফলসমূহ, তারপরে সে যা চায় নিজের জন্য প্রার্থনা করতে পারে।” [১২২]

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
উচ্চারণ: ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযা-বিল ক্বাবরি ওয়া মিন ‘আযা-বি জাহান্নামা, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামা-তি, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্টতা থেকে।’

করোনা ভাইরাসে ভীত হয়ে মানুষের যে পরিমাণ মানবিকতা লোপ এবং বিশৃঙ্খলার নজির দেখছি, দাজ্জালের ফিতনার সময়ে যে কী বিশৃঙ্খলা হবে, আল্লাহ রব্বুল আলামিনই সবচেয়ে ভালো জানেন। আমাদের বেশি বেশি এই দুআটি পাঠ করে আল্লাহর কাছে ভয়ংকর পরিণাম থেকে পানাহ চাওয়া উচিত।

*****

পাঁচ. মুয়ায ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর দুআ
ভাবুন তো, আল্লাহর খুব প্রিয় কোনো বান্দা যদি আপনার হাত তার হাতের মাঝে রেখে আপনাকে একটা দুআ শিখিয়ে যায় সেই দুআটার একটা অন্যরকম গুরুত্ব থাকবে না? ঠিক তেমনটাই হয়েছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুয়ায ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাঝে!

মুয়ায রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে আমাকে বললেন,
'হে মুয়ায, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ভালোবাসি।' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমিও আপনাকে ভালোবাসি।' তিনি বললেন, 'মুয়ায, তুমি প্রত্যেক নামাজের শেষে এই দুআটি পড়া থেকে কখনো বিরত থেকো না।'
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
উচ্চারণ: 'আল্লাহুম্মা আ-ইন্নি আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিক।' [১২৩]

অর্থ: 'হে আল্লাহ, আপনার যিকির করতে, আপনার শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে এবং সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করুন।'

*****

ছয়. জান্নাতের রত্নভান্ডার পাবার দুআ – ১ বার
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ওহে আব্দুল্লাহ ইবনু কায়েস, আমি কি জান্নাতের এক রত্নভান্ডার সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করব না?” আব্দুল্লাহ ইবনু কায়েস বললেন, “নিশ্চয়ই হে আল্লাহর রাসূল।” তিনি বললেন, “তুমি বলো,
لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَّا بِالله
উচ্চারণ: লা-হাউলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ: 'আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই।” [১২৪]

*****

সাত. সাগরের ফেনারাশি সমতুল্য গুনাহ মাফের দুআ – ১ বার
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাজের পর ৩৩ বার 'সুবহানআল্লাহ', ৩৩ বার 'আলহামদুলিল্লাহ', ৩৩ বার 'আল্লাহু আকবার' পড়ে এবং ১শ' বার পূর্ণ করার জন্য একবার 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ দাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি شাইয়িন কাদীর' পড়ে, তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়, যদিও তা সাগরের ফেনারাশির সমতুল্য হয়।” [১২৫]

প্রত্যেকটি ৩৩ বার,
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণ: সুবহানআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার।

অর্থ: 'আল্লাহ কতই না পবিত্র-মহান! সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ সবচেয়ে বড়।'

তারপর একবার,
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া 'আলা কুল্লি শাই'ইন কাদীর।

অর্থ: 'একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।'

আট. সবকিছু চাওয়ার দুআ

*****
শেষের দুআটা আমার খুব প্রিয়। আমার মনে হয়, এই পৃথিবীতে একটা মানুষ যা যা চাইতে পারে, তার সবকিছুর নির্যাস একটি কথায় প্রকাশ করা হয়েছে এই দুআটাতে। উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালে ফজরের নামাজের সালাম ফেরানোর পরে নিয়মিত এ দুআটি পড়তেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা ‘ইলমান না-ফি’আন্ ওয়া রিক্বান ত্বায়্যিবান ওয়া ‘আমালান মুতাক্বাব্বালান।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে এমন জ্ঞান চাই যেটা কল্যাণকর, এমন রিযিক চাই যা পবিত্র ও হালাল এবং এমন আমল করার তাওফিক চাই যা তোমার দরবারে কবুল হবে।’[১২৬]

সুবহানআল্লাহ! জীবনের ১৫ থেকে ২০ বছর চলে যায় ডিগ্রি অর্জন করে ভালো একটা চাকরির পেছনে ছুটতে ছুটতে! এত সাধনার সেই জ্ঞান যদি শেষ দিবসে আমাদের উপকারী না হয় এবং সেই জ্ঞানলব্ধ রিযিক যদি পবিত্র ও হালাল না হয়, তাহলে ভয়ংকর লোকসান! এবং এই দুই অর্জনের মধ্যবর্তী সময়ে যা যা আমল করছি সেটাও যদি লোক দেখানো, হিংসা-গীবত দিয়ে ধ্বংস করে ফেলি, আর আল্লাহর দরবারে দেউলিয়া-ফকির হয়ে উপস্থিত হই, তাহলে দুনিয়া-আখিরাত দুইটাই বরবাদ! সেজন্যই এই দুআটা আমার কাছে সেরা, অনন্য। এক দুয়াতেই আল্লাহর কাছে চেয়ে নিচ্ছি ভালো জ্ঞান, আমল এবং হালাল রিজিক।

আল্লাহ আমাদের নামাজ, দুআ এবং ইবাদতগুলোর মাধ্যমে আমাদের জন্য কল্যাণের দরজা খুলে দিন, আমাদের দুনিয়া এবং আখিরাত কবুল করে নিন। আমিন।

সায়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দুআ) – বেহেশত লাভের দুআ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“আল্লাহর শপথ, নিশ্চয়ই আমি দৈনিক সত্তরের অধিকবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাওবা করি।”[১২৭]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,
“হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর কাছে দৈনিক ১শ' বার তাওবা করি." [১২৮]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“যে ব্যক্তি নিচের দুআটি বলবে আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়।” [১২৯]

أَسْتَغْفِرُ اللهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লা-হাল 'আযীমল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কায়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি
অর্থ: 'আমি মহামহিম আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া আর কোনো হক ইলাহ নেই, তিনি চিরস্থায়ী, সর্বসত্তার ধারক। আর আমি তাঁরই নিকট তাওবা করছি।'

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“রব একজন বান্দার সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয় রাতের শেষ প্রান্তে। সুতরাং, যদি তুমি সে সময়ে আল্লাহর যিকিরকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে সক্ষম হও, তবে তা-ই হও।” [১৩০]

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,
"একজন বান্দা তার রবের সবচেয়ে কাছে তখনই থাকে, যখন সে সিজদায় যায়। সুতরাং, তোমরা তখন বেশি বেশি করে দুআ করো।” [১৩১]

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,
“নিশ্চয়ই আমার অন্তরেও ঢাকনা এসে পড়ে, আর আমি দৈনিক আল্লাহর কাছে ১শ' বার ক্ষমা প্রার্থনা করি।” [১৩২]

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,
“আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার সবচেয়ে ভালো দুআ হলো সায়্যিদুল ইস্তিগফার। যে ব্যক্তি সকালবেলা অথবা সন্ধ্যাবেলা এটি (সায়্যিদুল ইস্তিগফার) অর্থ বুঝে দৃঢ় বিশ্বাস সহকারে পড়বে, সে ঐ দিন রাতে বা দিনে মারা গেলে অবশ্যই জান্নাতে যাবে।” [১৩৩]

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খলাক্বতানী ওয়া আনা 'আব্দুকা।

অর্থ: 'হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া আর কোনো হক ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা।'

وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ
উচ্চারণ: ওয়া আনা 'আলা 'আহদিকা ওয়া ওয়া'দিকা মাস্তাত্বা'তু। আ'উযু বিকা মিন শাররি মা সানা'তু।

অর্থ: 'আর আমি আমার সাধ্যমতো আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির উপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই।'

أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوْءُ بِذَنْبِي
উচ্চারণ: আবূউলাকা বিনি'মাতিকা 'আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্বী।
অর্থ: 'আপনি আমাকে আপনার যে নিয়ামত দিয়েছেন তা আমি স্বীকার করছি, আর আমি স্বীকার করছি আমার অপরাধ।'

فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ: ফাগফির লী, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা。
অর্থ: 'অতএব, আপনি আমাকে মাফ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করে না।'

টিকাঃ
[১১১] সূরা নূহ ৭১ : ৫
[১১২] সূরা নূহ ৭১ : ৭
[১১৩] সূরা নূহ ৭১ : ১০
[১১৪] সূরা আন-নাজম ৫৩ : ৫২
[১১৫] সূরা নূহ ৭১ : ১২ [ভাবানুবাদ]
[১১৬] সূরা নূহ ৭১ : ২১
[১১৭] সূরা নূহ ৭১: ১২
[১১৮] সুরা নূহ ৭১ : ১০-১২
[১১৯] মুসলিম ১/২১৮, আবু দাউদ ১/২২১, তিরমিজি ১/৬৬
[১২০] মুসলিম, নাসাঈ
[১২১] সূরা বাকারা ২ : ২৫৫
[১২২] নাসাঈ বর্ণনা করেছেন, ১২৯৩
[১২৩] মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, মিশকাত
[১২৪] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ১১/২১৩, নং ৪২০৬; মুসলিম ৪/২০৭৬, নং ২৭০৪
[১২৫] মুসলিম ১২২৮
[১২৬] ইবনু মাজাহ ৯২৫, নাসাঈ, সুনানে কুবরা ৯৯৩০
[১২৭] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১১/১০১, নং ৬৩০৭
[১২৮] মুসলিম, ৪/২০৭৬, নং ২৭০২
[১২৯] আবু দাউদ ২/৮৫, নং ১৫১৭; তিরমিজি ৫/৫৬৯, নং ৩৫৭৭; আল-হাকিম এবং সহীহ বলেছেন, তার সাথে ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন, ১/৫১১, আর শাইখুল আলবানীও সহীহ বলেছেন। দেখুন, সহীহুত তিরমিজি ৩/১৮২, জামেউল উসূল লি আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৪/৩৮৯-৩৯০, আরনাউত এর সম্পাদনাসহ।
[১৩০] তিরমিজি নং ৩৫৭৯, নাসায়ী, ১/২৭৯ নং ৫৭২; হাকেম ১/৩০৯। আরো দেখুন, সহীহুত তিরমিজি, ৩/১৮৩; জামে'উল উসূল, আরনাউতের তাহকীকসহ ৪/১৪৪
[১৩১] মুসলিম, ১/৩৫০; নং ৪৮২
[১৩২] মুসলিম, ৪/২০৭৫, নং ২৭০২ ইবনুল আসীর বলেন, »ليغان على قلبى« এর অর্থ হচ্ছে, ঢাকা পড়ে যায়, পর্দাবৃত হয়ে যায়। উদ্দেশ্য ভুলে যাওয়া; কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা যিকির, নৈকট্য ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকতেন। তাই যখন কোনো সময় এ ব্যাপারে সামান্যতম ব্যাঘাত ঘটত অথবা ভুলে যেতেন, তখনি তিনি এটাকে নিজের জন্য গুনাহ মনে করতেন, সাথে সাথে তিনি ইস্তিগফার বা ক্ষমাপ্রার্থনার দিকে দ্রুত ধাবিত হতেন। দেখুন, জামে'উল উসূল ৪/৩৮৬।
[১৩৩] বুখারী, ৭/১৫০, নং ৬৩০৬।

📘 নামাজে মন ফেরানো > 📄 তাসবীহ-তাকবীর-তাহলীল-তাহমীদ পাঠের ফযিলত

📄 তাসবীহ-তাকবীর-তাহলীল-তাহমীদ পাঠের ফযিলত


কিছু দরিদ্র সাহাবী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অভিযোগ করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল, সম্পদশালী ব্যক্তিরা তো সব সওয়াব নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেমন সালাত আদায় করি, তারাও করে। আমরা যেমন সিয়াম পালন করি, তারাও করে। কিন্তু তারা তাদের উদ্ধৃত সম্পদ দান করে সওয়াব লাভ করছে অথচ আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না।”

নবীজি উত্তরে বললেন, “কিন্তু আল্লাহ কী তোমাদেরকে তা দান করেননি যা তোমরা সাদাকাহ করতে পারো?”
■ প্রতিটি তাসবীহ ('সুবহানাল্লাহ'-'আল্লাহ পবিত্র' পাঠ করা) হলো সাদাকাহ;
■ প্রতিটি তাকবীর ('আল্লাহু আকবার'-'আল্লাহ মহান' পাঠ করা) হলো সাদাকাহ;
■ প্রতিটি তাহলীল ('লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' - 'আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই' পাঠ করা) হলো সাদাকাহ;
■ প্রতিটি তাহমীদ ('আলহামদুলিল্লাহ'- 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য' পাঠ করা) হলো সাদাকাহ; [১৩৪]

কাজেই, যারা সম্পদে আমাদের থেকে এগিয়ে, ইচ্ছে করলেই বেশি বেশি তাসবীহ-তাকবীর-তাহলীল-তাহমীদ পাঠ করে আমরা তাদের সমকক্ষ হতে পারব সওয়াবের দিক থেকে, ইনশাআল্লাহ。

টিকাঃ
[১৩৪] সহীহ মুসলিম

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00