📄 দুআ মাসুরা
আমরা নামাজে তাশাহুদের পরে একটা দুআ পাঠ করি যেটা আমাদের দেশে ‘দুআ মাসূরা’ নামে পরিচিত। এই দুআ নিয়ে আমার ব্যক্তিগত জীবনে একটি চমৎকার ঘটনা আছে।
সেদিন আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক শাইখ হাসিব নূরের ক্লাস করছিলাম। সেদিন ক্লাসে তিনি আমাদেরকে এই দুআটাই পড়াচ্ছিলেন। শেষের দুই লাইন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ছাত্রীদের দিকে অদ্ভুত একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন। তিনি বললেন,
‘আমার উপস্থিত ছাত্রীরা, আল্লাহ মাফ করুক, ধরো, তোমাদের স্বামীরা যদি পরকীয়া করে তোমাদের কাছে হাতে নাতে ধরা পড়ে। এরপর খুব করে মাফ চায়। কথা দেয় যে আর ঐ পথে যাবে না। কে কে আছো, যারা তাকে ক্ষমা করে দিতে পারবে?’
প্রায় ১০০ জনের ক্লাসে ৩০ জনের মতো হাত উঠাল।
শাইখ বললেন, ‘বাহ! তোমাদের মন তো অনেক বড়! আচ্ছা ঠিক আছে, ধরলাম সংসারের সুখের খাতিরে তাকে মাফ করে দিয়েছ। সংসার চলছে ভালোই। কয় মাস পরে আবার টের পেলে যে সে তার পরকীয়ার প্রেমিকাকে ভুলতে পারেনি। এখনও তোমার অজান্তে চুটিয়ে প্রেম চলছে। আবারও সে ধরা খেয়ে তোমার কাছে অনেক মাফ চাইল। আর ঐ কাজ করবে না বলে ওয়াদা দিল। তোমাদের মধ্যে কারা কারা এই পর্যায়ে এসে তার স্বামীকে ক্ষমা করে দিবে হাত তোলো।’
মোটে ১০টার মতো কাঁপা কাঁপা হাত উঠতে দেখা গেল। শাইখ বললেন, ‘তোমাদের ক্ষমা করার ক্ষমতা দেখে আমি আসলেই অবাক!’ এবার শাইখ বললেন, 'প্রিয় ছাত্রীরা, যদি দ্বিতীয় বারের মতো হাজব্যান্ডকে মাফ করে দেয়ার পরও আবারও ধরা খেয়ে মুখ লাল করে ফিরে এসে সে তোমার কাছে ক্ষমা চায়। তখন তাকে কে কে মাফ করতে পারবে?' দেখলাম এক নিকাবী বোন খুব চাপা করে তার হাতটা ধীরে ধীরে তুললেন। চারপাশে তাকিয়ে আর কোনো হাত দেখতে পেলাম না। পুরো ক্লাসে পিনপতন নীরবতা।
শাইখ এবার কথা শুরু করলেন,
'জেনে রেখো, আমাদের রব আল্লাহ হচ্ছেন গফুরুর রহীম। আমরা যেখানে প্রথমবার মাফ করতেই ১০ বার চিন্তা করি আর তৃতীয় বার মাফ করার কথা ভাবতেই পারি না, সেখানে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে মাফ করে যান। ৩ বার, ৩শ' বার, ৩ মিলিয়ন বার-যতবার ইচ্ছা আল্লাহর হক তুমি নষ্ট করে যাও না কেন-তিনি বারবার তোমাকে মাফ করবেন। পরকীয়ার থেকেও জঘন্য গুনাহ বারবার পুনরাবৃত্তি করলেও তিনি মাফ করবেন যতক্ষণ ধরে তুমি খাঁটি তাওবা করে তার দিকে ফিরে আসতে থাকবে। নিঃশ্বাস ফুরোলেই কেবল এই দরজা বন্ধ হবে। এমন একজন রবের কথা অমান্য করতে আমাদের বুকগুলো কি একটুও কেঁপে ওঠে না!'
সুবহানআল্লাহ! এই দুআটার শেষের অংশে 'গফুরুর রহীম' এর এই ব্যাখ্যা আমি কখনো ভুলতে পারিনি। আসুন এখন বিস্তারিত দুআটা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুরোধ করলেন,
'ইয়া আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটা দুআ শিখিয়ে দিন, যেটা পড়ে আমি নামাজে আল্লাহকে ডাকতে পারব।'
নবীজি বললেন, নামাজে আল্লাহর কাছে দুআ করে বলবে,
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি যুলমান কাসিরাও, ওয়ালা ইয়াগ ফিরুজ যুনুবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলি মাগফিরাতম মিন ইংদিকা ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গফুরুর রহীম। [৮১]
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِّنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيمُ
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি নিজের উপর অত্যধিক অত্যাচার করেছি এবং তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমা করার কেউ নেই। সুতরাং, আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমার প্রতি রহম করো, নিশ্চয়ই তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।
'জুলুম' বলতে আমরা সাধারণত বুঝি যে, কোনো অত্যাচারী ক্ষমতাসীন ব্যক্তি তার থেকে দুর্বল কারো সাথে অবিচার করছে। এরকম অত্যাচার করাকে আমরা মোটেও ভালো চোখে দেখি না। অথচ আমরা নিজেরাই নিজেদের উপর সবচেয়ে বড় অত্যাচারটা করি যখন আমরা আমাদের আত্মাকে আল্লাহর হক থেকে বঞ্চিত করি। যতবার আমরা পাপ করি, এর মাধ্যমে নিজেদের উপর অত্যাচার করি। আল্লাহর আদেশ অমান্য করা আত্মার উপর সবচেয়ে বড় জুলুম! নামাজের এই পর্যায়ে এসে আমরা নিজেদেরকে নিজ আত্মার অত্যাচারী হিসেবে স্বীকার করে নিচ্ছি এবং যালিমে পরিণত হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।
আমরা যখন যালিম হয়ে যাই, তখন আল্লাহ ছাড়া আমাদেরকে রক্ষা করার আর কেউ নেই। তাই আল্লাহর কাছেই 'মাগফিরাহ' এবং 'রাহমাহ' চাই। আল্লাহর কাছেই ক্ষমা ও রহমত চাই। 'ফাগফিরলি মাগফিরাতান' এবং 'ওয়ারহামনি' এই দুটো শব্দের মানে হলো আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া ও রহমত কামনা করা। কিন্তু এদের মধ্যে খুব সুন্দর একটা পার্থক্য আছে।
এখানে 'মাগফিরাহ' এর তাৎপর্য হলো, বান্দা যত বড় গুনাহই করুক না কেন, আল্লাহ মাফ করতে সক্ষম। আর 'ওয়ারহামনি' এর তাৎপর্য হলো, বান্দা যতবারই গুনাহ করুক না কেন, আল্লাহর রহমত থেকে সে দূরে সরে যায় না।
এটাও কিন্তু শয়তানের ধোঁকা যখন আমরা নিজেদের গুনাহকে আল্লাহর ক্ষমা থেকে বড় ভাবা শুরু করি। মনে রাখবেন, আপনার গুনাহর পরিমাণ এবং বৈশিষ্ট্য যতই জঘন্য লাগুক না কেন, "গফুরুর রহীম” এর রহমত থেকে সেটি বড় নয়। তাই সময় থাকতে আমাদের আল্লাহর ক্ষমার দিকে ফিরে আসা উচিত!
সুবহানআল্লাহ! এই 'গফুরুর রহীম' এর তাৎপর্যটুকু শাইখ হাসিব নূর ভালোভাবেই আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিলেন। আশা করি প্রিয় পাঠক এবং পাঠিকা, আপনাদেরও অন্তরে গেঁথে গেছে।
ইয়া গফুরুর রহীম! ইয়া আল-আফুও! আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন, আমাদের উপর থেকে সকল আযাবকে উঠিয়ে নিন, আমরা যে আপনারই ক্ষমা এবং রহমতের ভিখারি। আমিন。
টিকাঃ
[৮১] সহীহ বুখারী
📄 তাশাহুদ এর বিস্ময়কর তাফসীর
মুয়াজ্জিন নামাজের জন্য ডাকছেন। কল্যাণের পথে ডাকছেন। বিলাল সে ডাকে সাড়া দিল। চলে এলো মসজিদে। আল্লাহু আকবার বলে, আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা দিয়ে বিলাল সালাত শুরু করল। আল্লাহু আকবার বলে বিলাল ঘোষণা দিল আল্লাহ বিলালের চাকরির চিন্তার চেয়েও বড়। আর্থিক চিন্তার কষ্টের চেয়েও বড়। সন্তানের মৃত্যুর চেয়েও বড়। সন্তানের সর্বোচ্চ সাফল্যের চেয়েও বড়। বিলালের মায়ের হাসি, বাবার আদর, তাদের অসুস্থতার কষ্টের চেয়েও তিনি বড়। দুর্ঘটনায় অঙ্গহানির হবার কষ্টের চেয়েও বড়। বাড়ি কেনা, গাড়ি কেনার চিন্তার চেয়েও বড়। এই মহাকাশ, এই কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্রের চেয়েও বড়। সেই সত্তার কাছে বিলাল মাথা নত করছে, কথা বলছে। আর তিনি বিলালের কথার উত্তর দিচ্ছেন। তাঁর দাসের কথার উত্তর দিচ্ছেন।
কিন্তু বিলাল যে মনোযোগটা ধরে রাখতে পারছে না। অফিসের কথা চলে আসছে মাথায়। মেয়েটার স্কুলে ফোন দিতে বলেছিল। সে ভুলে গিয়েছিল। সেটাও মনে পড়ল নামাজের সময়। এসবের মধ্য দিয়েই নামাজ শেষে বিলাল প্রতিজ্ঞা করল, এখন থেকে চেষ্টা করবে কীভাবে নামাজকে আরেকটু ভালো করা যায়। সে ভেবে দেখল, নামাজের সূরাগুলোর মানে নিয়ে কিছুটা জানার চেষ্টা করার কারণে তার সেই অংশগুলোতে মনোযোগ ধরে রাখা কিছুটা সহজ হয়েছে। কিন্তু কিছু অংশ আছে যেখানে খালি কিছু মুখস্থ কথা বলে যাওয়া হয়। বিলাল সেই কথাগুলোর মানে জানার চেষ্টা কখনো করেনি। বাংলাতে যা-ই একটু-আধটু কিছুটা অর্থ পড়েছে, তা মোটামুটি কঠিন এক গদ্যের মতো মনে হয়েছে।
প্রথমেই তার যে অংশের কথা মাথায় আসলো তা হলো 'তাশাহুদ' বা নামাজে সালাম ফেরানোর আগে বসে আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলতেন সেগুলো। একটু খোঁজ নিয়ে বিলাল জানল, নামাজের শেষ অংশে বসে প্রথমেই যা পড়া হয় তাকে আত্মাহিয়্যাত অথবা তাশাহুদ বলে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচরকমভাবে এটি পড়তেন। এই পাঁচটি তাশাহুদই কোনো না কোনো সাহাবী জানিয়ে গেছেন।
*****
বিলাল যেই তাশাহুদটি জানে সেটা ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাধ্যমে আসা। ইবনু মাসউদ রা. ছাত্রদেরকে শুধু যে এই তাশাহুদটিই শিখিয়েছেন তা কিন্ত নয়। বরং তার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চমৎকার একটি আদব সম্পর্কেও বলেছেন। এই তাশাহুদটি শেখানোর সময় ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাত ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুহাতের ভেতরে। এই ব্যাপারটি ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এত প্রিয় ছিল যে, পরে তিনি যখন তার ছাত্র আল-কামারকে এটি শিখিয়েছেন, তিনিও আল-কামার রহিমাহুল্লাহর হাতটি রেখে দিয়েছিলেন তার দুহাতের মাঝেখানে। এরপর একই আদবের সাথে আল-কামার শিখেয়েছেন তার ছাত্র ইবরাহীম আন নাখাঈকে। ইবরাহীম আন নাখাঈ একইভাবে শিখিয়েছেন হাম্মাদ ইবনু সালামাকে এবং হাম্মাদ ইবনু সালামা একই আদবের সাথে শিখিয়েছেন ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহকে।
ইসলামি ইতিহাসের আলিমদের এই চর্চাটি হাবীবুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণগত এবং চারিত্রিক সৌন্দর্যের আরেকটি উদাহরণ। উত্তম আচরণের এমন কত শত শত উদাহরণ, কত অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে আছে রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনজুড়ে। কিন্তু বিলাল যে তা পুরোপুরি মেনে চলতে পারছে না। তার মনে পড়ে গেল, ছোট্ট মেয়েটাকে পড়ানোর সময় অধৈর্য হয়ে কত বকা দিয়েছে। অথচ একটু আদর, একটু স্নেহ, ব্যাপারটাকে কত সুন্দর করে তুলতে পারত। তাশাহুদ নিয়ে এতটুকু জেনে বিলালের আগ্রহ আরো বেড়ে গেল। তার মনে হলো শেখানোর আদব যখন এত চমৎকার, না জানি এর ভেতরে থাকা অর্থ কত সুন্দর হবে। তার আফসোস হতে থাকল, এত বছর এটা সম্পর্কে জানার চেষ্টা না করার কারণে।
*****
তাশাহুদ এর বাংলা উচ্চারণ,
'আত-তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত্ব ত্বোয়্যিবাত, আস-সালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিইয়ু, ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু, আসসালামু আলাইনা ওয়ালা ইবাদিল্লাহিস সলিহীন, আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।' [৮৩]
'তাহিয়্যাত' ( ٱلتَّحِيَاتُ ) শব্দের অর্থ হলো অভিবাদন বা সম্ভাষণ। আত- তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ( ٱلتَّحِيَاتُ لِلَّهِ ) মানে হলো আল্লাহর জন্য অভিবাদন বা সম্ভাষণ। ইংরেজিতে এখানে একটি 'The' শব্দ আছে। তার মানে ইংরেজিতে বলতে গেলে 'The greetings are for Allah.' আমরা সাধারণত শুভেচ্ছা বা সম্ভাষণ জানিয়ে থাকি 'আসসালামু আলাইকুম' বলে। সালাম বা শান্তি তো আসেই আল্লাহর কাছ থেকে। তাহলে আল্লাহকে যদি শুভেচ্ছা বা সম্ভাষণ জানাতে হয় তাহলে আমরা কীভাবে আল্লাহকে সম্ভাষণ জানাব! এর উত্তরে আল্লাহকে সম্ভাষণ জানাতেই এই তাশাহুদের ব্যবস্থা।
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ বিন সালিহাল ইজলি ঠিক করলেন তিনি আত- তাহিয়্যাতু লিল্লাহি অর্থাৎ, সম্ভাষণ আল্লাহর জন্য এই কথাটির মর্মার্থ আসলে কী তা জানার চেষ্টা করবেন। তিনি প্রথমে গেলেন আল কিসাই নামের তখনকার সময়ের এক বড় ইসলামিক স্কলারের কাছে। তিনি বললেন, এই কথাটির মর্মার্থ হচ্ছে বারাকাহ বা শুভকামনা। সালিহাল ইজলি রহ. আবার প্রশ্ন করলেন শুভকামনা মানে কী? তিনি বললেন, আমি এতটুকুই জানি। স্বভাবতই উনি এই জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। তারপর তিনি গেলেন ইমাম আবু হানিফার শিষ্য, সে সময়ের একজন বড় স্কলার মুহাম্মাদ ইবনু হাসান আস শাইবানির কাছে। উনি বললেন, এই শব্দগুলো আমরা ব্যবহার করি, আল্লাহর কাছে নিজের দাসত্ব প্রমাণ করার জন্য। এবারও আব্দুল্লাহ আল ইজলি পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারলেন না।
এরপর তিনি আসলেন ইমাম আশ-শাফিই রহিমাহুল্লাহর কাছে। তিনি ইমাম আশ-শাফিই রহিমাহুল্লাহকে বললেন, আমি অমুক অমুকের কাছে গিয়েছি, কিন্তু কেউ আত-তাহিয়্যাতু লিল্লাহি এর মানে আসলে কী আমাকে ঠিকমতো বোঝাতে পারেনি। ইমাম আশ-শাফিই রহ. বললেন, উনারা বলতে পারেননি কারণ, উনারা তো কবি নন।
একটি বিষয় ইমাম আশ-শাফিই রহিমাহুল্লাহকে অন্য সব বড় স্কলারদের থেকে আলাদা করে। আর তা হলো তিনি শুধু ইসলামের স্কলারই ছিলেন না, পাশাপাশি তিনি আরবী ভাষার একজন দক্ষ কবিও ছিলেন। এই দুটি বিষয়ের গভীর জ্ঞান উনাকে দিয়েছিল এক অনন্য পারদর্শিতা।
ইমাম আশ-শাফিই রহ. বললেন, আপনি যদি কোনো রাজার দরবারে যান, আপনি নির্দিষ্ট কিছু কথা বলে রাজা আর তার সাম্রাজ্যের প্রশংসা করেন। আত-তাহিয়্যাত হলো সেই ধরনের এক রাজকীয় সম্ভাষণ বা রয়্যাল কপ্লিমেন্স। এই যেমন ইংরেজিতে Royal Highness, Your Magistrate, Your grateness. আত-তাহিয়্যাতু লিল্লাহি কথাটির মানে হলো শুধু আল্লাহর জন্যই রয়্যাল কপ্লিমেন্স বা রাজকীয় সম্ভাষণ।
***** তারপরের কথাগুলো হলো (وَالصَّلَوَاتُ، وَالطَّيِّبَاتُ) ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত্ব ত্বোয়্যিবাত।
'ওয়াস সালাওয়াত' এর আক্ষরিক মানে হলো সালাত বা নামাজ। আর ত্বোয়্যিবাত এর আক্ষরিক মানে হলো সুন্দর বা আকর্ষণীয় বস্তু। এই শব্দদুটি এখানে যে বাক্য গঠনে এসেছে তাতে কিন্তু ওয়াস সালাওয়াত এর মানে দাঁড়ায় সব ধরনের ইবাদত। আর ত্বোয়্যিবাত মানে দাঁড়ায় সুন্দর আচরণ বা ব্যবহার। অর্থাৎ, التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ، وَالطَّيِّبَاتُ
'আত-তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত্ব ত্বোয়্যিবাত' কথাটির মানে দাঁড়াল, সকল ইবাদত এবং সুন্দর আচরণ কেবল আল্লাহর জন্য। সুবহানআল্লাহ! এটা জানার পরপরই বিলাল প্রতিজ্ঞা করল, যতই কেউ তার সাথে খারাপ ব্যবহার করুক, তার বিপরীতে সে কারোর সাথেই খারাপ ব্যবহার করবে না। গতকালই পাড়ার ফলওয়ালার কাছ থেকে কেনা আপেলের অর্ধেকই ভেতরে কালো ছিল। বিলাল ভেবেছিল আজ কড়া একটা ঝারি দিবে। কিন্তু এই আত-তাহিয়্যাতু এর মানে জানার পর তার মনে হলো, প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কমপক্ষে নয়বার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই তাশাহুদ পড়তে বলে গিয়েছেন। তা এতদিন অর্থ না জানার কারণে মানা হয়নি। অথচ আজ অর্থ জেনে কীভাবে না মেনে থাকবে!
না কোনোভাবেই খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। যেই আল্লাহ বিলালের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ছোট-বড় অগণিত নিয়ামত যিনি না চাইতেই বিলালকে দিয়েছেন; তার জন্য হলো সুন্দর আচরণ। কী আসে যায় অন্য কেউ তার সাথে কী ব্যবহার করল তাতে! আর তাই বিলাল সিদ্ধান্ত নিল, পরম বন্ধুর মতন সুন্দর ভাষায় ফলওয়ালাকে নাসীহা দিবে যেন আগামী থেকে পচা ফল বিক্রি না করে।
এরপরেই আরেকটি কথা বিলালের মনে পড়ে গেল। ওজনটা বেড়ে যাচ্ছে বলে ডায়েট শুরু করার কথা ছিল। বিলাল গত বছর ভেবেছিল রোজা তো আসছেই। ইনশাআল্লাহ রোজার মাসেই ইবাদতও হবে, আর ডায়েটটাও আরম্ভ করা যাবে। এখন বিলালের মনে একটা শঙ্কা ঢুকে গেল।
এই যে বলা হলো সব ইবাদত আসলে আল্লাহর জন্য। কিন্তু তার সেই রোজাতে ডায়েট করাটাও উদ্দেশ্য হিসেবে ঢুকে গিয়েছিল। মনের এই শঙ্কা দূর করতে বিলাল ঠিক করল এটা নিয়ে আরো পড়াশোনা করবে এবং মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে কথা বলবে। প্রতি ওয়াক্তের নামাজে তাশাহুদের প্রথম লাইনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অন্যের আচরণ আমাদের সাথে যেমনই হোক না কেন, আমি সুন্দর আচরণ তো করব কেবল আল্লাহর জন্য।
*****
এর পরের লাইনটি হলো,
السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ 'আস-সালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিইয়ু।' অর্থ: হে নবী, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
এখানে রাসূল শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। যদিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিন্তু রাসূল নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। সাধারণত সাহাবীগণও তাঁকে রাসূলুল্লাহ বলেই সম্বোধন করতেন। তাহলে তাশাহুদে নবী শব্দটি কেন ব্যবহার হলো?
আলিমগণ বলেছেন আরবীতে নবী নামটি যে শব্দ থেকে এসে থাকতে পারে তা হলো 'নাবা'। যার মানে হলো এমন সংবাদ যা গুরুত্বপূর্ণ বা প্রাসঙ্গিক। এখানে নবী সম্বোধনটি যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা শিখিয়ে গেছেন তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক।
এরপর 'ওয়া রাহমাতুল্লাহি' যার অর্থ আল্লাহর রহমতও আপনার উপর বর্ষিত হোক। 'ওয়া বারাকাতুহু' যার অর্থ আল্লাহর বরকতও আপনার উপর বর্ষিত হোক।
আরবী ভাষায় বারাকাহ বা বরকত শব্দটির মানে আসলে শুধু blessings নয়, বরং এটা হচ্ছে সেই ধরনের blessings যা দীর্ঘস্থায়ী। এটা এমন রহমত, যা চিরস্থায়ী, অবিরত বর্ষিত হতেই থাকবে।
অর্থাৎ, السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ 'আস-সালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিইয়ু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু' অর্থ: 'হে নবী, আপনার উপর আল্লাহর শান্তি, তাঁর রহমত এবং দীর্ঘস্থায়ী বরকত বর্ষিত হোক।'
বিলালের মাথায় প্রশ্ন আসলো, এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সরাসরি সম্বোধন করা হচ্ছে আপনার উপর বলে। একথা কি এভাবে বলা যায়, রাসূলুল্লাহর উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত এবং দীর্ঘস্থায়ী বরকত বর্ষিত হোক। বিলাল জানতে পারল, সে একাই কেবল এ প্রশ্ন করেনি। অনেকেই এ প্রশ্ন করেছে এবং আলিমরা এ প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন। সাহাবীরা সবাই বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা যেভাবে শেখাতেন ঠিক সেভাবেই গুরুত্ব সহকারে তাশাহুদ শিখিয়েছেন।
স্কলাররা বলেন, ঠিক যেমন কুরআনের সূরা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিকৃতভাবে মুখস্থ করতে হয়। সাহাবীদের কথা, ঠিক তেমনভাবে তাশাহুদকেও মুখস্থ করতে হবে। কেউ একা একা নামাজ পড়ার সময় সূরা ফাতিহাতে ইয়্যা কানা'বুদুকে ইয়্যাকা' আবুদু পড়তে পারেন না। অর্থাৎ, 'আমরা আপনারই উপাসনা করি' না বলে 'আমি আপনারই উপাসনা করি' বলা যাবে না। ঠিক তেমনিভাবে তাশাহুদও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যেভাবে শিখিয়ে গেছেন, আমাদেরও সেভাবে পড়তে হবে।
*****
এর পরের লাইনটি হলো,
السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ 'আসসালামু আলাইনা ওয়ালা ইবাদিল্লাহিস সলিহীন'
এখানে ইবাদ শব্দটির মানে হলো স্রেফ আল্লাহর দাস। আরবীতে আবেদ শব্দটি ব্যবহৃত হয় সাধারণ অর্থে দাস বোঝাতে। ইবাদ তার বহুবচন। কিন্তু এখানে ইবাদ ব্যবহার করে শুধু আল্লাহর দাস বোঝানো হয়েছে। তাহলে তাশাহুদের এই বাক্যটির অর্থ হলো, 'আমাদের উপর এবং সৎকর্মশীল বান্দাদের উপরও আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক।' এই একটি বাক্য থেকে আলিমগণ যে কত গভীর এবং অর্থপূর্ণ দুটি পয়েন্ট বের করে এনেছেন তা জেনে এতদিন তাশাহুদের অর্থ না জেনে পড়ার আক্ষেপটা বিলালের মনে আরো বেড়ে গেল।
প্রথমত আলিমগণ বলেন,
এই একবচন তথা আমি ব্যবহার না করে বহুবচন তথা আমরা বলাটা মুসলিম উম্মতের একতা বোঝাচ্ছে। ইঙ্গিত করা হচ্ছে, নামাজ বা সালাত হলো মুসলিম উম্মতের একতা বা ইউনিটির একটি সুশৃঙ্খল প্লাটফর্ম। ধনী-গরিব, সাদা-কালো অফিসের বস থেকে শুরু করে দারোয়ান পর্যন্ত, ক্লিনার থেকে শুরু করে বড় কোনো কর্তা, মসজিদ কমিটির প্রধান থেকে শুরু করে একেবারে স্বল্প শিক্ষিত লোক যেমনভাবে পাশাপাশি দাঁড়াচ্ছে, তেমনি একজন কুরআনের হাফেযও হয়তো এমন একজনের পাশে একই কাতারে দাঁড়াচ্ছে যে হয়তো শুধু একটি সূরাই জানে। এক কাতারে কাঁধে কাঁধ রেখে, পায়ে পা মিলিয়ে আল্লাহর ইবাদত করে সেই সালাতের ভেতরে ও শুরুতেই সূরা ফাতিহাতে বহু বচনের ব্যবহার দিয়ে মুসলিমদের ভেতর ঐক্যতার যে গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে, আবার সালাতের শেষে তাশাহুদেও যেন সেই একই কথা মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত যে পয়েন্টটি আলিমগণ বুঝেছেন তা হলো,
এ লাইনটি প্রতিটি মুসলিমদের জন্য সলিহীন বা আল্লাহর পুণ্যবান দাস হবার বা ইবাদত হবার জন্য একটি চমৎকার মোটিভেশান। প্রতিদিন কমপক্ষে প্রতি ফরজ সালাতে একবার করে হলেও কমপক্ষে পাঁচবার কোটি কোটি মানুষ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের উপর শান্তির জন্য দুআ করছে। সেই নির্দিষ্ট লোকেরা কারা—যারা সলিহীন অর্থাৎ, যারা ভালো কাজ করে। বিলাল চিন্তা করে দেখল যে, কেউ যদি আল্লাহর কথা মেনে চলে, ভালো কাজ করে, সময়মতো মনোযোগ দিয়ে নামাজ আদায় করে তারাই এই গ্রুপের মেম্বার হতে পারবে, যাদের জন্য প্রতিদিন কোটি কোটি লোক কমপক্ষে পাঁচবার করে দুআ করছে। সুবহানআল্লাহ।
এ যেন অবারিত এক সম্পদের ভান্ডার পেল বিলাল। সে ঠিক করল এখন থেকে যখনই কিছু তাকে কষ্ট দিবে, বা কোনো বিপদে পড়বে সে আরো আরো ভালো কাজ করা বাড়িয়ে দিবে। যাতে করে সে কোটি কোটি মানুষের দুআর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
*****
তাশাহুদের পরের অংশ হলো,
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ
যার অর্থ হলো, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।'
এখানে দুটো জিনিস লক্ষণীয়। 'লা' মানে হলো না বা এক্ষেত্রে নেই। আরবীতে 'লা' শব্দটির মানে কিন্তু যেনতেন 'না' নয়। এই 'লা' বা 'না' হলো স্পষ্ট না। যেখানে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আর ইলাহ শব্দটির মানে হলো এমন এক সত্তা যার ইবাদত বা উপাসনা করা হয়। অর্থাৎ, এই কথাটির অর্থ হলো, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে নিশ্চিতভাবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্তা নেই যার ইবাদত করা যায়।'
বিলালের মনে পড়ে গেল সূরা কাফিরূনের তাফসীর জানতে যেয়ে আরবীতে ইবাদত শব্দটির মানে সম্পর্কে সে নতুন একটি বিষয় জানতে পেরেছিল। ইংরেজিতে আমরা Warship বা বাংলায় উপাসনা কথাটির অর্থ ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে কিছু কাজ করা বা নামাজ পড়াকে বোঝাই। কিন্তু আরবীতে ইবাদাহ শব্দটির অর্থ আরো ব্যাপক। ইবাদাহ শব্দের মানে হলো যেই সত্তার ইবাদাহ করা হচ্ছে তার দাস হিসেবে নিজেকে স্বীকার করা এবং তার উপর বিশ্বাস থেকে কিছু কাজ করা এবং কিছু বিধান পালন করা।
যখন কেউ নামাজ পড়ছে আবার চাকরিতে ঘুষ খাচ্ছে সে আল্লাহর উপাসনা করছে কিন্তু সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর দাস হতে পারেনি। তাই আরবী ভাষায় ইবাদাহ বলতে যা বোঝায় সে তা পুরোপুরি করতে পারেনি। ইলাহ শব্দটির মানে জেনেই বিলালের আবারও মনে পড়ে গেল নামাজ, রোজা, যাকাতের পাশাপাশি আল্লাহর দাসত্ব সম্পূর্ণরূপে স্বীকার করে না নিতে পারলে ইবাদত যে সম্পূর্ণরূপে করা হয় না।
*****
তাশাহুদ এর শেষ অংশটি হলো,
وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ
'ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।'
যার অর্থ হলো, 'আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দাস এবং রাসূল।'
পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষটির প্রথম পরিচয় হলো তিনি হচ্ছেন আল্লাহর দাস। এই দাসত্ব যে সম্মানের দাসত্ব। এই দাসত্ত্বেই যে চিরশান্তির পথ লুকিয়ে আছে। ভেজা চোখে বিলাল তার বাবার বুক সেলফ ঘাঁটতে থাকে। যদি এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরুদ শরীফের উপর কোনো লেখা পাওয়া যায়!
টিকাঃ
[৮২] বিলাল। নতুন দ্বীনে এসেছে। ইসলামকে নতুন করে চিনতে শিখছে। নামাজে মনোযোগী হবার জন্য তাশাহুদ নিয়ে লেখাপড়া করছে। তাশাহুদ নিয়ে তার মুখেই বিস্তারিত শোনা যাক。
[৮৩] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ১/১৩, নং ৮৩১; মুসলিম ১/৩০১, নং ৪০