📘 নামাজে মন ফেরানো 📄 নামাজ শুরু করার আগে

📄 নামাজ শুরু করার আগে


* নামাজে দাঁড়ানোর ১০ মিনিট আগেই নিজেকে দুনিয়াবী কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন (ফ্রি) করে নেয়া。
* আযানের পরে বেশি সময় পার হতে না দেয়া এবং আউয়াল ওয়াক্ত থাকতে থাকতেই নামাজ শুরু করে দেয়া。
* সুন্দরভাবে ওযু করা। ওযু করার সময় প্রত্যেকটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধোয়ার সময় চিন্তা করা যে অঙ্গটা নামাজে কীভাবে ব্যবহৃত হবে এবং তার ফলস্বরূপ সেটা কীভাবে আখিরাতে কল্যাণের কাজে আসবে。

ওযুর প্রশিক্ষণ অনেকটা এমন হতে পারে যে, আমরা মুখে পানি দেয়ার সময় ভাবতে পারি, 'আল্লাহ আপনি আমার মুখটা যেভাবে দুনিয়াতে পরিষ্কার করে দিচ্ছেন সেভাবে আখিরাতে কিয়ামতের ময়দানেও আমার মুখটা উজ্জ্বল করে বিশ্বাসীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন।' ডান হাত ধোয়ার সময় ভাবতে পারি, 'হে আল্লাহ এই ডান হাতে আপনি আমাকে আমার আমলনামা লাভের তাওফিক দিন।' বাম হাত ধোয়ার সময় ভাবতে পারি, 'হে আল্লাহ এই হাত দিয়ে যেন আমি আমার আমলনামা না পাই!' এই সম্পর্কে ওযু অধ্যায়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। দুই পা ধোয়ার সময় ভাবতে পারি যে, 'ইনশাআল্লাহ এই দুই পা দিয়ে যেন আমি জান্নাতের দিকে হাঁটতে পারি।' নাক ধোয়ার সময় ভাবতে পারি, 'ও আল্লাহ, এই নাক দিয়ে আপনি আমাকে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবার তাওফিক দিন।' এমন চিন্তার মধ্য দিয়ে ওযু শেষ করার সাথে সাথেই অন্তর এবং ঈমানের রূপটাই পরিবর্তন হয়ে যাবে এবং নামাজের দিকে খুশু উৎপাদনের একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে ইনশাআল্লাহ।

* সম্ভব হলে মিসওয়াক করা অথবা দাঁত ব্রাশ করে নেয়া। আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক করা অত্যন্ত পছন্দ করতেন। প্রিয় কারো সাথে মোলাকাতের আগে আমরা নিজেদেরকে যেমন প্রস্তুত করতে পছন্দ করি, ঠিক সেরকম তিনিও নিজেকে গুছিয়ে নিতেন নামাজের আগে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'আমার উম্মাতের জন্য যদি কষ্টসাধ্য না হতো, তাহলে অবশ্যই তাদেরকে প্রত্যেক সলাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।[৫৪] আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে ঢুকে সর্বপ্রথম কোন কাজটি করতেন? তিনি বললেন, 'সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন।'
■ জামাতে সালাত আদায় করা এবং একসাথে পরিবারের সবাই মিলে নামাজ পড়া। যদি মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করার সুযোগ থাকে, তাহলে সেটা গুরুত্ব সহকারে করা উচিত। কেননা জামাতবদ্ধভাবে সবাই মিলে একটা ভালো কাজ করলে সেই কাজের অন্যরকম উৎসাহ পাওয়া যায়, যেটা একা একা করলে পাওয়া যায় না。
■ সর্বদা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া তিনি যেন আপনার নামাজকে জীবন্ত, মধুর এবং কল্যাণকরভাবে সম্পাদন করার তাওফিক দেন。

টিকাঃ
[৫৪] সহীহ মুসলিম: ৪৭৭

📘 নামাজে মন ফেরানো 📄 নামাজরত অবস্থায় খুশু

📄 নামাজরত অবস্থায় খুশু


■ চোখদুটোকে সিজদার জায়গায় নির্দিষ্ট করে রাখা। নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় চোখকে এখানে-সেখানে যেতে না দেয়া。
■ নামাজে সোজা হয়ে দাঁড়ানো। রুকুতে এবং সিজদায় যথাযথ সময় দেয়া উচিত। রুকুতে গিয়ে পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত থামা, এরপর সোজা হয়ে দাঁড়ানো, পরে ধীরেসুস্থে সিজদার দিকে যাওয়া। মুরগির ঠোকর মেরে খাবার খাওয়ার মতো জলদি করে রুকু-সিজদা করে নামাজ পড়া একেবারেই উচিত নয়。
■ নামাজে যে জিনিসগুলো বলা হচ্ছে সেগুলো আসলেই মনোেযাগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করা। অনেক সময় আমরা শুধু রোবটের মতো কথাগুলো আওড়ে যাই এবং নিজের কথা নিজে শুনে দেখার চেষ্টা করি না。
■ নামাজে পঠিত তিলাওয়াত-তাসবীহ-রুকুর দুআ-সিজদার দুআয় বৈচিত্র্য আনুন। বৈচিত্র্য মনকে ধরে রাখে। একই সূরা বা তাসবীহ পাঠে একঘেয়েমি চলে আসে। মানুষ যান্ত্রিকভাবে এগুলো পড়ে। মুখে তিলাওয়াত-তাসবীহ চলে, আর ঐদিকে মন পড়ে থাকে আড্ডায়-দোকানে-অফিসে। এজন্য নতুন নতুন সূরা পড়ুন। কয়েকটি মাসনুন দুআ শিখুন। বার বার একই সূরা না পড়ে ভিন্ন ভিন্ন ও নতুন সূরা পাঠ করুন。
■ নামাজে খুশু-খুযু ধরে রাখার জন্য মনকে ১৪৫০ বছর পূর্বে নিয়ে যান মসজিদে নববীতে। ভাবুন, নবীজির ইমামতিতে আবু বকর, উমর বা সাহাবীদের পাশে একসাথে নামাজ পড়ছেন। দেখবেন বিক্ষিপ্ত মনটা অনেকটাই শান্ত হয়ে গেছে। এই ভাবনাটা আমার খুব কাজে দেয়。

ফন্ট সাইজ
15px
17px