📄 নামাজ শুরুর আগে করণীয়
কল্পনা করুন তো, সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই যদি আপনি মুখ না ধুয়ে, দাঁত ব্রাশ না করে, রাতে যে কাপড় পড়ে ঘুমিয়েছেন সেটা না বদলিয়ে, নাস্তা না করে সোজা অফিসের দিকে রওনা দিলেন। তাহলে ব্যাপারটা কেমন হতো? সবাই আপনার দিকে তাকিয়ে হয়তো ভাববে, “ওর মাথা ঠিক আছে তো?”
নিশ্চয়ই আপনি-আমি এটা কখনোই করব না। অফিস, স্কুল বা ভার্সিটির গুরুত্বপূর্ণ কোনো মিটিং/ক্লাসের জন্য আপনি কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে ঘুম থেকে উঠে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে নিবেন। ঠিক তেমনি নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা ইবাদতে বসারও অনিবার্য কিছু প্রস্তুতি আছে। ভাবুন তো, কোনো রকমের প্রস্তুতি ছাড়া ঘুম থেকে উঠে রাতের কাপড় পরেই যদি আপনি আপনার গন্তব্যের দিকে রওনা দেন, তাহলে সারাটা দিন আপনি সফল হয়ে থাকতে পারবেন কি? অথচ আমরা নামাজের সাথে অনেকটা এই কাজটাই করে থাকি! যে যেই দুনিয়াবী কাজের মধ্যে মগ্ন ছিলাম, সেখান থেকে হঠাৎ করে কোনো রকমে উঠে গিয়ে নামাজটা পড়ে আবার ওই কাজের কাছে ফিরে যাই। এভাবে হুটহাট কাজ থেকে উঠে নামাজে দাঁড়ালে, মাথায় কেবল নিজেদের যার যার কাজের কথাই ঘুরতে থাকে। নামাজে মন বসে না। কাঙ্ক্ষিত মনোযোগ আসে না। আমার উস্তাদাকে একবার প্রশ্ন করেছিলাম, 'কী করলে নামাজে আমার খুশু-খুযু আসবে এবং মনোযোগ বাড়বে?' তিনি চমৎকার একটি উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন,
'নামাজের ভেতরে তোমার খুশু কতটা শক্ত এবং আন্তরিক থাকবে, সেটা নির্ভর করে নামাজের বাইরে তোমার কাজকর্ম-চিন্তা ভাবনার উপর।'
সুবহানআল্লাহ! অর্থাৎ, নামাজের বাইরে আমি যদি সারাক্ষণ আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে গুনাহ এবং খারাপ কাজে নিমজ্জিত হয়ে থাকি, গুনাহ থেকে বের হবার কোনো রকমের চেষ্টা না করে, ইচ্ছা করে আল্লাহর অবাধ্যতা করতে থাকি, এরপর এই অবস্থায় নামাজে গিয়ে দাঁড়াই, তাহলে আমার নামাজে খুশু কীভাবে আসবে? আর তাই নামাজের ভেতরটাকে সুন্দর করতে হলে আমাদের নামাজের বাইরের ঈমান, আমল এবং চরিত্রকেও সুন্দর করার জন্য ক্রমাগত চেষ্টা করে যেতে হবে।