📘 নবীজীর হাদীস ও ইমামগণের মতভেদ > 📄 আরবি ভাষাগত দিক থেকে হাদিস সংরক্ষণ

📄 আরবি ভাষাগত দিক থেকে হাদিস সংরক্ষণ


এবিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি যে, রসুল সল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসের শব্দটি কীভাবে বলেছেন। মারফু (পেশসহ), মানসুব (জবরসহ) নাকি মাজরুর (যেরসহ) । সকলেই অবগত যে সূক্ষ্মতার বিবেচনায় আরবি ভাষা অতুলনীয়। ব্যাকরণ বা শব্দগত সামান্য পরিবর্তনে মূলভাবের পরিবর্তন হয়। ফলে বিধি-বিধানেও ব্যাপক পরিবর্তন আসে।

এই বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তখনই প্রকট হয় যখন দুই বা ততোধিক রাবির বর্ণনায় মতানৈক্য দেখা দেয়। এক্ষেত্রে একটি শব্দের বিভিন্ন সম্ভাবনার মাঝে কোন একটাকে সুনির্দিষ্ট করা গেলে মতবিরোধের পথ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কোন একটিকে সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব না হলে ফিকহি মতানৈক্যও চলতে থাকে।

সংশিষ্ট বিষয়ে ইমাম ইবনে কুতাইবা রহ. এর অতুলনীয় একটি আলোচনা রয়েছে। বিশেষভাবে এর গুরুত্ব উপলব্ধি করার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু উদাহরণসহ আলোচনাটি তুলে ধরছি,

আল্লামা ইবনে কুতাইবা র. তাঁর 'তা'বিলু মুশকিলিল কুরআন'-এর শুরুতে লিখেছেন,

"আল্লাহ তায়ালা আরবদেরকে ই'রাবের এমন একটি নেয়ামত দান করেছেন, যা তাদের ভাষা-সৌন্দর্য এবং শব্দ-বিন্যাসের জন্য অলঙ্কার স্বরূপ। কখনও একই জাতীয় দু'টি বাক্য বা ভিন্ন দু'টি অর্থের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য এগুলো কাজে লাগে। যেমন, কর্তা ও কর্মপদ উভয়ের দিকে যখন ক্রিয়াপদের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা থাকে, তখন ই'রাবই কেবল উভয়টির মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। যদি বক্তা তানবিনসহ এভাবে বলে, هَذَا قَاتِلٌ أَخِي, তখন এ শব্দের তানবিন প্রমাণ করে যে, লোকটি তার ভাইকে এখনও হত্যা করেনি। কিন্তু যদি তানবিন ছাড়া ইযাফাতের সাথে এভাবে বলে, هَذَا قَاتِلُ أَخِي তখন তানবিন না থাকাটা প্রমাণ করে যে, এ লোকটি তার ভাইকে হত্যা করে ফেলেছে। কুরআনের এ আয়াতটির ক্ষেত্রে-

فَلَا يَحْزُنُكَ قَوْهُمْ، إِنَّا نَعْلَمُ مَا يُسِرُّوْنَ وَ مَا يُعْلِنُوْنَ

কেউ إِنَّ (ইন্না) এর স্থলে আন্না পড়লে অর্থ সম্পূর্ণ পালটে যাবে। তখন মূল ভাবও বিকৃত হবে। কউল এর পরে কেউ কেউ নসব দিয়ে থাকে যেমন যন এর পরে নসব দেয়া হয়। তখন আয়াতের অর্থ হবে, "আল্লাহ তায়ালা প্রকাশ-অপ্রকাশ্য সবকিছু জানেন" তাদের এ বক্তব্যে রসুল সল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেরেশান ও চিন্তিত। ইচ্ছাকৃত এ ধরনের পরিবর্তন কুফুরী। এ ধরনের কিরাত লাহনে জলী হওয়ার কারণে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। মুক্তাদির জন্যও এধরনের ভুলের ক্ষেত্রে চুপ থাকা বৈধ নয়।

রসুল সল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন لَا يُقْتَلُ قَرْشِيٌّ صَبْرًا بَعْدَ الْيَوْمِ যারা হাদিসটিকে যজম হিসেবে বর্ণনা করেছে, তাদের এ বর্ণনার অর্থ হবে, কুরাইশী ব্যক্তি মুরতাদ কিংবা অন্যকে হত্যা করলেও তাকে হত্যা করা হবে না। যারা এটিকে রফা হিসেবে বর্ণনা করেছে, তাদের বর্ণনা অনুযায়ী অর্থ হবে, রসুল সল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশীদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে মুরতাদ হয়ে হত্যার যোগ্য হবে না। এখানে অর্থের পরিবর্তন হয়েছে শুধু ই'রাবের পরিবর্তনের কারণে।

কখনও কখনও একই শব্দে হরকত তথা যের, জবর ও পেশের পরিবর্তনের কারণে অর্থের পরিবর্তন হয়। যেমন আরবরা বলে থাকে, رَجُلٌ لُعْنَةٌ। আইনের উপর সাকিনসহ বললে উদ্দেশ্য হয়, অভিশপ্ত লোক। অর্থাৎ লোকেরা তাকে অভিশাপ দেয়। এখন লোকটি যদি অন্যদেরকে অভিশাপ দেয় তখন আইনের উপর জবর দিয়ে رَجُلٌ لُعَنَةٌ বলা হয়।

মানুষ যদি কাউকে গালি দেয়, যাকে গালি দেয়, তাক সুব্বাতুন বলা হয়। আর ঐ ব্যক্তি যদি অন্য কাউকে গালি দেয়, তখন তাকে সুবাবাতুন বলা হয়। একইভাবে যাকে নিয়ে ঠাট্টা করা হয়, তাকে হুজআতুন এবং কেউ যদি অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা করে তবে তাকে হুজাআতুন বলে। যাকে নিয়ে উপহাস করা হয়, তাকে সুখরাতুন বলে। যে অন্যকে নিয়ে উপহাস করে তাকে সুখারাতুন বলে। যাকে নিয়ে হাসি-তামাশা করা হয়, তাকে জুহকাতুন বলে। যে অন্যকে নিয়ে হাঁসে তাকে জুহাকাতুন বলা হয়। যাকে ধোঁকা দেয়া হয়, তাকে খুদআতুন এবং যে অন্যকে ধোঁকা দেয়, তাকে খুদাআতুন বলে।

ফিকাহ শাস্ত্রে মতবিরোধ সৃষ্টিকারী কিছু বাস্তব সম্মত উদাহরণ নীচে উল্লেখ করা হলো,

কেউ শরয়ী পদ্ধতিতে একটি ছাগল জবাই করল। এবং ছাগলের পেট থেকে একটি বাচ্চা পাওয়া গেল। এ বাচ্চা জবাই ছাড়া খাওয়া বৈধ হবে নাকি তা জবাই করতে হবে?

এ বিষয়ে রসুল সল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি হাদিস রয়েছে ذَكَاةُ الْجَنِيْنِ ذَكَاةُ أُمِّهِ | এ হাদিসের ই'রাবের ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে। মূল মতানৈক্য হাদিসের দ্বিতীয় ذ শব্দ নিয়ে। এটা কি মারফু (পেশযুক্ত) নাকি মানসুব (জবরযুক্ত) পড়া হবে?

আলামা ইবনুল আসির তাঁর 'আন-নিহায়া'-তে লিখেছেন, হাদিসটি রফা ও নসব উভয় সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। যারা একে রফাসহ পড়েছেন, তারা একে পূর্বের মুবতাদা এর খবর সাব্যস্ত করেছেন। তখন অর্থ হবে, বাচ্চার জবাই, তার মায়ের জবাই। অর্থাৎ মাকে জবাই করলে বাচ্চার জবাই এর জন্য যথেষ্ট হবে। নতুন করে জবাইয়ের কোন প্রয়োজন নেই।

যারা হাদিসটিকে নসবসহ পড়েছেন, তারা বলেন, উহ্য ইবারত এরূপ, ذَكَاةُ الْجَنِيْنِ كَذَّكَاةِ أُمِّهِ হরফে জার হযফ করে মাজরুরকে মানসুব বি-নযইল খাফেজ এর ভিত্তিতে নসব দেয়া হয়েছে। অথবা উহ্য ইবারত এরূপ, يُذَكَّيْ تَذْكِيَةً مِثْلَ ذَكَاةِ أُمِّهِ । এখানে মাসদার ও তার সিফতকে হযফ করে মুযাফ ইলাইহিকে তার কায়েম-মাকাম বানান হয়েছে। যারা নসব পড়েছেন তাদের নিকট বাচ্চা যদি জীবিত বের হয়, তবে তা জবাই করা আবশ্যক। কেউ কেউ উভয় যাকাত শব্দকে নসব পড়েছেন। তখন " ذَكُوْا الجَنِينَ ذَكَاةَ أُمه "

সুতরাং শেষ দুই বর্ণনা অনুযায়ী বাচ্চা হালাল হওয়ার জন্য তা জবাই করা আবশ্যক। প্রথম বর্ণনাটি দু'টি অর্থের সম্ভাবনা রাখে। প্রথমত: মায়ের জবাই বাচ্চার জন্য যথেষ্ট হবে। বাচ্চাকে জবাই করার প্রয়োজন হবে না। দ্বিতীয়ত: মায়ের জবাই এর মতো বাচ্চাকে জবাই করা আবশ্যক হবে। এ অর্থটি তাশবিহে বালিগের এর পদ্ধতিতে সাব্যস্ত হবে। (তাশবিহে বালিগের ক্ষেত্রে হরফুত তাশবিহ এবং ওজহে শিবা উহ্য রাখা হয়)

প্রসিদ্ধ রেওয়ায়াত তথা উভয় শব্দে পেশ এর বর্ণনাটি ইমাম শাফেয়ি গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় বর্ণনাটি গ্রহণ করেছেন ইমাম আবু হানীফাসহ এক দল আলেম। ইবনে হাযাম যাহেরীও এমত গ্রহণ করেছেন। প্রত্যেকেই তার মাযহাবকে অন্যান্য দলিল দ্বারাও শক্তিশালী করেছেন।

কাজি ইয়াজ রহ. তার অতুলনীয় কিতাব 'আল-ইলমায়' শব্দের হরকত, সাকিন ও প্রকৃত রূপ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করে লিখেছেন,

"ই'রাবের ভিন্নতার কারণে উলামায়ে কেরামের মাঝে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। ১. যেমন রসুল সল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস ذَكَاةُ الْحَنِينِ ذَكَاةُ أُمِّهِ এর মাঝে মতানৈক্য হয়েছে। হানাফীগণ দ্বিতীয় যাকাত শব্দে নসব দেয়াকে প্রাধান্য দিয়ে হুকুম দিয়েছেন যে, বাচ্চাকে নতুন করে জবাই করা আবশ্যক। হানাফি আলেমগণ ছাড়া মালেকি ও শাফেয়ি আলেমগণ রফাকে প্রাধান্য দিয়ে বাচ্চার জবাইকে অপ্রয়োজনীয় সাব্যস্ত করেছেন এবং মায়ের জবাইকে বাচ্চা হালাল হওয়ার জন্য যথেষ্ট মনে করেছেন।

২. রসুল সল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস لا نُوْرَثُ مَا تَرَكْنَاهُ صَدَقَةٌ এ হাদিসে সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরাম সাদাকাতুন শব্দটি মুবতাদার খবর হিসেবে মারফু (পেশসহ) পড়েছেন। যার অর্থ হবে, নবিগণ পরিত্যক্ত সম্পদে মিরাস সাব্যস্ত হয় না, বরং তা সদকা। পক্ষান্তরে শিয়াদের ফিরকায়ে ইমামিয়া এটাকে তামীয হিসেবে মানসুব পড়ে থাকে। তখন অর্থ হবে, ঐ পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নবিদের মিরাস সাব্যস্ত হবে না, যা তারা সদকা করেছেন (বরং যে সম্পদ তাদের মালিকানায় থাকবে তাতে মিরাস সাব্যস্ত হবে)। এ অর্থ গ্রহণ করলে নবি ও অন্যান্যদের মাঝে কোন পার্থক্য থাকে না এবং নবিগণের বিশেষ বৈশিষ্ট্যও প্রমাণিত হয় না। অবশ্য ইমাম নুহাস হাল হওয়ার ভিত্তিতে একে নসব দিয়েছেন।

৩. একইভাবে রসুল সল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উক্তি, هُوَ لَكَ عبد بن زمعة | কিছু আলেম হরফে নেদা উহ্য মেনে عبد কে রফা দিয়েছেন এবং بن কে এর তাবে হিসেবে রফা ও নসব উভয়টা বৈধ বলেছেন। যেমন মুনাদা মুফরাদের সিফাতের ক্ষেত্রে জুম্মা ও ফাতাহ দুই ই'রাবই দেয়া যায়। হানাফীগণ عبد কে মুবতাদা সাব্যস্ত করে একে তানবিন দিয়েছেন, অর্থাৎ هُوَ الوَلَدُ لَكَ عَبْدٌ | এবং إبن زمعة কে মুনাদা মুযাফ হিসেবে নসব দিয়েছেন। এ ব্যাখ্যা অনুযায়ী অর্থ হবে, হে ইবনে যামআ, ছেলেটি তোমার গোলাম। আরবি ভাষায় এ জাতীয় অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।

এ বিষয়ের সাথে সংশিষ্ট আরেকটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। রসুল সল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

فِي كُلِّ سَائِمَةِ إِبِلٍ فِي أَرْبَعِيْنَ بِنتُ لَبُوْنٍ، لَا يُفَرَّقُ إِبِلٌ عَنْ حِسَابِهَا، مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَحِرًا فَلَهُ أَجْرُهَا وَ مَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِدُوْهَا وَ شَطْرَ مَالِهِ عَزْمَةٌ مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا عَزَّ وَ جَلَّ، وَلَيْسَ لَآلِ مُحَمَّدٍ مِنْهَا شَيْءٌ

"চল্লিশটি পালিত উট থাকলে একটি বিনতে লাবুন যাকাত দিতে হবে। উটের হিসাবে কোন পার্থক্য করা হবে না। কেউ যদি সওয়াবের আশায় নিজে যাকাত আদায় করে, তবে সে সওয়াবের অধিকারী হবে। আর যে স্বেচ্ছায় যাকাত আদায় করবে না, আমরা তার থেকে যাকাত উসুল করবো। সাথে সাথে শাস্তি হিসেবে তার অর্ধেক সম্পত্তি নিয়ে নিব। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আবশ্যক বিধান। মুহাম্মাদ সল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরিবারের জন্য এর কোন অংশ নেই।"

উক্ত হাদিসে شَطْرَ مَالِهِ শব্দ নিয়ে মতানৈক্য হয়েছে। শাতরুন শব্দটির ত্ব এর উপর সাকিন, শিন ও র এর উপর জবর দিয়ে পড়লে এটি মুযাফ। এবং পরবর্তী শব্দ তার মুযাফ ইলাইহি হবে। অথবা শিনের উপর পেশ, ত্ব তাশদীদ যুক্ত যের অর্থাৎ شِطْرُ। তখন এটি মাজি মাজহুল এবং পরবর্তী অংশ তার নায়েবে ফায়েল হবে। ই'রাবের এ পার্থক্যের কারণে হাদিসের অর্থেও ভিন্নতা সৃষ্টি হবে। কেননা প্রথম ক্ষেত্রে অর্থ হবে যে যাকাত দেবে না, তার থেকে যাকাত গ্রহণ করা হবে এবং শাস্তি স্বরূপ অর্ধেক সম্পত্তি নিয়ে নেয়া হবে। এটি প্রসিদ্ধ মত। তবে অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম এর উপর আমল করেন না।

এ হাদিস থেকে শাস্তিস্বরূপ অর্থের উপর জরিমানা করার বৈধতা সাব্যস্ত হয়। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. এ হাদিসের উপর কিছুটা আমল করেছেন বলে বর্ণিত আছে। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

দ্বিতীয় ব্যাখ্যা তথা মাজি মাজহুলের ক্ষেত্রে অর্থ হবে, তার সম্পদ দু'অংশ ভাগ করা হবে। যাকাত উসুলকারী তার ইচ্ছামত দু'অংশের মাঝে সর্বোত্তম অংশ গ্রহণ করবে। এই ব্যাখ্যাকে প্রাধান্য দিয়েছেন ইমাম ইবরাহিম হারবি। তিনি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল র. এর অন্যতম ছাত্র। তাঁর ইলম, যুহদ ও তাকওয়ার উপমা দেয়া হতো। তিনি প্রথম ব্যাখ্যা তথা ইযাফাতের পদ্ধতিকে বর্ণনাকারীর ভুল সাব্যস্ত করেছেন।

টিকাঃ
৬৭ বিষয়টি উলামায়ে কেরামের বর্ণনা ও রাবীদের বক্তব্যের ভিন্নতার ব্যাপারে তাদের সতর্কীকরণ বক্তব্য থেকে অর্জন করতে হয়। সুতরাং এটি শিখার পথ হলো, উলামায়ে কেরামের মুখে শ্রবণ কিংবা তাদের লিখিত স্পষ্ট বক্তব্য। প্রেসের দেয়া যের-যবর দ্বারা এটি অর্জন করা যায় না। এটি সর্বজনবিদিত একটি বিষয়। কোন তালেবে ইলমকে এটি সতর্ক করার প্রয়োজন নেই। বিষয়টি এজন্য উল্লেখ করলাম, হেমসের বিখ্যাত শায়খ, ফকীহ, মুফাসসির আল্লামা আব্দুল আজীজ উয়ূনুস সুউদ রহ. ১৩৯৮ হি: শাওয়াল মাসে আমার কাছে একটি দু:খজনক ও হাস্যকর ঘটনা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, যোহরের আযানের আগে আমার কাছে একজন লোক এলো। আমি তাকে পূর্বে চিনতাম না। পরে জানতে পারলাম, তিনি শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী। তিনি যোহরের আযানের অপেক্ষা করতে লাগলেন। মুয়াযযিন যখন আযানে )الله أَكْبَرَ الله أكبر আল্লাহু আকবারা আল্লাহু আকবার বললো, (অর্থাৎ আকবার এর র এর উপর যবর দিয়ে বললো) এই লোকটি খুবই রাগান্বিত হয়ে বললো, এটি ভুল। এটি বেদয়াত। আমাদের শায়খ তাকে বললেন, এতে কী ভুল হয়েছে, বিদয়াতের কী হয়েছে? শায়খ আলবানী বললেন, এটি সহীহ মুসলিমের বিপরীত। আমাদের শায়খ তাকে প্রশ্ন করলেন, সহীহ মুসলিমে কী আছে? তিনি বললেন, সহীহ মুসলিমে )الله أكْبَرُ الله أكبر আল্লাহু আকবারু আল্লাহু আকবার, অর্থাৎ পেশসহ আছে। تلقيتم صحيح مسلم عن شيوخكم، عن شيوخهم إلي الإمام مسلم أنه روي الحديث بضم الراء، أو هو ضبط المطبعة ؟ অর্থাৎ "আপনি কি মুসলিম শরীফ আপনার উস্তাদ, তারা তাদের উস্তাদ এভাবে পরম্পরাসূত্রে ইমাম মুসলিম রহ. থেকে আকবার শব্দটি পেশযুক্ত অবস্থায় পড়েছেন? নাকি এটি প্রেসের দেয়া পেশ?" আমাদের শায়খ বলেন, এরপর লোকটি চুপ হয়ে গেল। আমিও চুপ করলাম। এরপর তিনি নামায আদায় করে চলে গেলেন।
এই ঘটনা থেকে জ্ঞানীদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিৎ। সত্য কথা হলো এই লোকটির মাত্র একজন শায়খ রয়েছে, যিনি আলেপ্পোর একজন আলেম। সে তার ইজাযা বা অনুমতি গ্রহণ করেছে। তার নিকট থেকে সরাসরি ইলম অর্জন, সংশ্রব বা দীর্ঘদিন অবস্থান করে অধ্যয়ন করেনি। কাযী ইয়ায রহ. এর আল-ইলমা-তে (পৃ.২৮) রয়েছে, আব্বাসী খলিফা মু'তাসিম বিল্লাহ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. কে বললেন, আপনি ইবনে আবু দাউদের সাথে কথা বলুন। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তিনি বললেন, আমি ঐ ব্যক্তির সাথে কিভাবে কথা বলবো, যাকে কখনও কোন আলেমের দরজায় দেখিনি। দেখুন, আদাবুল ইখতেলাফ, পৃ.১৬২ ও তার পরবর্তী আলোচনা।
৬৮ উস্তাদ আব্দুল ওয়াহাবের এ বিষয়ে বৃহৎ কলেবরের একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এর নাম রেখেছেন, আসারুল লুগাহ ফি ইখতিলাফিল মুজতাহিদীন।
৬৯ আন-নিহায়া, খ.২, পৃ.১৬৪।
৭০ আন-নুকাতুত ত্বরীফা, আল্লামা যাহেদ আল-কাউসারী র. পৃ.৬২।
৭১ আবু দাউদ, খ.২, পৃ.২৩৩। হাদীস নং ১৫৭৫। নাসায়ী শরীফ, খ.৫, পৃ.১৫। হাদীস নং ২৪৪৪।
৭২ আল-হিসবাতু ফিল ইসলাম, আল্লামা ইবনে তাইমিয়া র.। পৃ.৩১। শরহুল কামুস, আল্লামা মোর্তজা যাবিদি। মাদ্দা-শিন, ত্ব, র। আত-তালখীসুল হাবীর, খ.২, পৃ.১৬০। ফাতহুল বারী, খ.১৭, পৃ.১২৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00